অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই

হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে অপপ্রচারের জবাব

29 Sep, 2026 Admin User 103 ভিউ
হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে অপপ্রচারের জবাব
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত পর্দা, নবী দাবি, কুফরি সংগঠন, মহিলা ইমাম ও আলেম-বিরোধিতা সংক্রান্ত অপপ্রচারের জবাব ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ছড়ানো কিছু প্রচলিত অপপ্রচার ও তার জবাব নিচে তুলে ধরা হলো।
পর্দার বিধান সংক্রান্ত অপপ্রচার

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার চালানো হয়েছে নারীদের পর্দা সংক্রান্ত বিষয়ে। যেহেতু আমাদের নারী সদস্যরা মুখ ঢেকে পর্দা করেন না, তাই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই বিষয়টি নিয়ে লাগাতার মিথ্যা রটিয়ে আসছে। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বলে- ‘হেযবুত তওহীদ নাকি পর্দার বিধানই মানে না, আর নারী-পুরুষের পর্দার কোনো দরকার নেই বলে মনে করে।’ এ ধরনের নানা ভিত্তিহীন কথা বলে তারা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

এসব অপপ্রচারের জবাবে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য- হেযবুত তওহীদ কখনোই নারীর পর্দার বিধান অস্বীকার করে না। এটি আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি অপপ্রচার। পর্দা প্রতিটি মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য ফরজ এবং আল্লাহ নির্ধারিত একটি বিধান। পর্দা ছাড়া কোনো মুমিন চলতে পারে না। আল্লাহ নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শালীনতা ও পর্দার সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন (সুরা আন-নূর: ৩০-৩১)।

তবে যেকোনো বিধান নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ইসলামে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। যা আল্লাহ বলেননি এবং রাসুল (সা.) করেননি- ধর্মের নামে সে বিষয়ে অহেতুক কঠোরতা বা বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ খোদ আল্লাহই দিয়েছেন (সুরা আল-মায়িদা: ৭৭)। অতীতে বহু জাতি ধর্মের বিষয়ে এমন সীমা লঙ্ঘন করতে গিয়েই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ বিধান মেনে চলাই আমাদের মূল লক্ষ্য (সুরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)।

অথচ আমরা দেখছি, নারীদের পর্দার এই সহজ বিধানকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের নামে একশ্রেণির মানুষ এত কঠিন ও জটিল করে তুলেছে যে, নারীদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ নারীদের পর্দার ব্যাপারে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানে চাদর দিয়ে এমনভাবে শালীন পোশাক পরতে বলা হয়েছে যাতে তাঁদের চেনা সহজ হয় এবং কেউ যেন তাঁদের উত্ত্যক্ত না করে (সুরা আল-আহযাব: ৫৯)।

কোরআনে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা বা নির্দিষ্ট কোনো পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়নি। এগুলো মূলত পরবর্তী সময়ে মানুষের অতিরিক্ত ব্যাখ্যার ফলে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রখ্যাত আলেম ও ইমামদের অনেকেই মত দিয়েছেন যে, মুখমণ্ডল খোলা রেখে পর্দা করা সম্পূর্ণ জায়েজ। কাজেই আমাদের কথা খুব সহজ- পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পর্দার বিষয়ে যতটুকু নির্দেশ দিয়েছেন, ঠিক ততটুকু মেনে চলাই সবার জন্য যথেষ্ট।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই বইটি পড়ুন
২. এই ভিডিওটি দেখুন

‘নবী দাবি’ সংক্রান্ত অপপ্রচারের জবাব

কোনো ব্যক্তি বা আদর্শিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তোলার সবচেয়ে মোক্ষম উপায় হলো তার উপর নবী দাবির মিথ্যা অপবাদ চাপিয়ে দেওয়া। এই একটি স্পর্শকাতর বিষয় ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত করে। হেযবুত তওহীদের অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে স্বার্থান্বেষী ধর্মব্যবসায়ী মহল ঠিক এই পথটিই বেছে নিয়েছে। মানুষকে উত্তেজিত করে তুলতে তারা এমন সব জঘন্য মিথ্যা রটিয়েছে, যা শুনলে যেকোনো সাধারণ মুসলমানের ক্ষুব্ধ হওয়াই স্বাভাবিক।

তারা হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়জীদ খান পন্নীর বিরুদ্ধে এমন এক ডাহা মিথ্যা ছড়িয়েছে যে, তিনি নাকি নিজেকে ‘নবী’ দাবি করেছেন। অথচ এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন একটি অপবাদ। এ দাবির সপক্ষে তারা আজ পর্যন্ত বিন্দুমাত্র প্রমাণ বা দলিল দেখাতে পারেনি, পারবেও না। হেযবুত তওহীদের কোনো বই-পুস্তক, পুস্তিকা, বক্তৃতা কিংবা কার্যক্রমে এমন কোনো প্রমাণ নেই যাতে তিনি নিজেকে নবী বলেছেন, কিংবা সংগঠনের কোনো সদস্য তাঁকে নবী বলে দাবি করেছেন।

বরং প্রকৃত সত্য হলো, তিনি তাঁর বহু বক্তব্য ও লেখায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে গেছেন: তিনি কোনো নবী নন, রাসুল নন, জ্যোতিষী নন, এমনকি পীর বা ফকিরও নন; তিনি নিতান্তই একজন সাধারণ মানুষ। যিনি নিজে প্রকাশ্যে ও লিখিতভাবে নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গেছেন, তাঁর নামেই এমন জঘন্য মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে।

তাই সচেতন দেশবাসীর প্রতি আমাদের আন্তরিক আহ্বান: অপপ্রচারকারীদের গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে জানতে হলে সরাসরি আমাদের বক্তব্য শুনুন এবং আমাদের বই-পুস্তক ও প্রকাশনাগুলো নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পড়ে দেখুন। সত্য যাচাই করলে ইনশাল্লাহ কোনো বিবেকবান মানুষই এই মিথ্যাবাদীদের প্রতারণার শিকার হবেন না।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন
২. এই লেখাটি পড়ুন

‘কাফের ফতোয়া ও কুফরি সংগঠন’ সংক্রান্ত অপপ্রচারের জবাব

সাধারণ মানুষকে হেযবুত তওহীদ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় চক্রান্ত হলো কুফরির অপবাদ দেওয়া। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে: ‘হেযবুত তওহীদ ঈমানবিধ্বংসী এক কুফরি সংগঠন।’ সাধারণ মানুষ যেন আমাদের কোনো কথাই না শোনে, সেজন্য তারা ফতোয়া দিচ্ছে: ওদের কথা শোনা যাবে না, শুনলেই নাকি ঈমান চলে যাবে! কিন্তু কাউকে কাফের বলা কোনো ছেলেখেলা বা মুখের কথা নয়। শরিয়তের স্পষ্ট মূলনীতি অনুযায়ী, আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ বা হুকুমদাতা হিসেবে না মানলে, তাঁর কিতাব, রাসুল, মালাইকা কিংবা পরকাল অস্বীকার করলেই মানুষ কাফের হয়। হেযবুত তওহীদ এগুলোর কোনটি অস্বীকার করেছে? আমরা তো সবসময়ই আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের সাক্ষ্য দিয়ে আসছি।

দ্বিতীয়ত, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর যত হুকুম আছে, যেমন নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত কিংবা হালাল-হারামের সীমারেখা, আমরা কি তার একটিও অস্বীকার করেছি? ‘কুফর’ মানে হলো কোনো সত্যকে জেনেবুঝে গোপন করা, ঢেকে রাখা কিংবা অস্বীকার করা। আমরা আল্লাহর হুকুম বা কোরআনের কোনো শিক্ষাকে কখনোই গোপন করিনি। বরং খোদ আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন: যারা আল্লাহর হুকুম দিয়ে বিচার-ফয়সালা করে না, তারাই কাফের (সুরা আল-মায়িদা: ৪৪)। আমরা যেখানে জাতীয় জীবনে আল্লাহর সেই হুকুম কায়েমের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি, সেখানে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই তোলা হচ্ছে কুফরির অপবাদ!

এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সোজা কথা: হেযবুত তওহীদ যদি সত্যিই কুফরি সংগঠন হতো, তবে আমাদের কথা বিকৃত করে আলাদা হ্যান্ডবিল ছাপানোর এত অপচেষ্টা কেন? এত কষ্ট করে শত শত পৃষ্ঠার বইয়ের ভেতর থেকে খণ্ডিত লাইন, এমনকি একটা বাক্যের অর্ধেকটা কেটে নিয়ে হ্যান্ডবিল বিলি করতে হচ্ছে কেন? একটা পূর্ণাঙ্গ বাক্যের মাঝখান থেকে দু-একটি শব্দ বাদ দিলে তো পুরো বক্তব্যের অর্থই উল্টে যায়! ঠিক এই নোংরা জালিয়াতি করে আপনারা হ্যান্ডবিল বানিয়ে ফতোয়া দিচ্ছেন: ‘অতএব হেযবুত তওহীদ আগাগোড়া কাফের!’ কোনো প্রসঙ্গের আগে-পিছে বাদ দিয়ে এভাবে কাউকে কাফের বলে ফতোয়া দেওয়ার অধিকার ইসলাম কাউকে দেয়নি।

আমাদের কথা অত্যন্ত পরিষ্কার: এসব মিথ্যে হ্যান্ডবিল বিলি না করে আমাদের মূল বইগুলো জনগণের হাতে তুলে দিন। পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায়, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সব পাঠকের জন্য আমাদের বই উন্মুক্ত করে দিন। মানুষ নিজের চোখে পড়ুক, বুঝুক, তারপর লাইন ধরে দাগ দিয়ে আমাদের ভুল ধরিয়ে দিক। মানুষের নিজস্ব বিবেক, মেধা আর ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা আছে। জনগণের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার সামর্থ্য আপনাদের না থাকলে আমাদের জানান, আমরা নিজেরা মানুষের ঘরে ঘরে বই পৌঁছে দেব; কিন্তু আমাদের প্রচারের কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি করবেন না। সরাসরি সত্যের মোকাবিলা করার সাহস থাকলে মানুষকে মূল বই পড়তে দিন, জালিয়াতিপূর্ণ হ্যান্ডবিলের আশ্রয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন
২. এই বইটি পড়ুন

‘মহিলা ইমামের পেছনে নামাজ’ সংক্রান্ত অপপ্রচারের জবাব

আদর্শিকভাবে হেযবুত তওহীদের কাছে পরাজিত হয়ে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি কতটা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলবে এই অপপ্রচারে। ঘটনার সূত্রপাত ভারতের কেরালা রাজ্যের একজন মহিলা ইমামের নামাজের ইমামতি নিয়ে। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত হয়। এই খবর প্রকাশের পর মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই নারী ইমামের জামাতের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ২০১৮ সালের হলেও বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।

আর এতেই যেন হালে পানি পায় আমাদের দেশের কিছু হুজুর। তারা ভারতের সেই মহিলা ইমামের জামাতের ছবি এডিট করে একজন মুসল্লির মাথা কেটে সেখানে হেযবুত তওহীদের ইমামের মাথা বসিয়ে দেয়। এরপর সেই বিকৃত ছবি হেযবুত তওহীদের বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ তো আর ছবির সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে যায়নি। তারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়েছে এবং ধরে নিয়েছে যে হেযবুত তওহীদের ইমাম বুঝি মহিলা ইমামের পেছনে নামাজ পড়েছেন। এটি একেবারেই নির্জলা মিথ্যাচার ও নোংরা প্রোপাগান্ডা।

প্রকৃতপক্ষে এই জালিয়াতির কোনো ভিত্তি নেই। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘নিউজচেকার’ (Newschecker) তথ্য যাচাই করে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দেখানো হয়েছে যে ঘটনাটি বাংলাদেশেরই নয়, বরং ভারতের পুরনো একটি ছবিতে মাথা কেটে বসিয়ে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আদর্শিক লড়াইয়ে দাঁড়াতে না পেরে যারা অন্যের ছবিতে মাথা জোড়াতালি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, ধর্মের নামে চালানো তাদের এই জালিয়াতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করুন।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন
২. এই লেখাটি পড়ুন
৩. সূত্র: The Guardian

‘হেযবুত তওহীদ আলেমদের বিরোধিতা করে’ অপপ্রচারের জবাব

সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে আরেকটি যে অপপ্রচার করে তা হলো, ‘হেযবুত তওহীদ নাকি আলেমদের বিরোধিতা করে!’ যেহেতু সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ আলেম-ওলামাদের ইসলামের ধারক-বাহক মনে করেন, তাই ‘আলেম-ওলামাদের বিরোধিতা করলে সেটা প্রকারান্তরে ইসলামেরই বিরোধিতা হয়’ এটা সাধারণ জনগণকে বোঝানো সহজ। তাই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদকে দমাতে না পেরে প্রোপাগান্ডা চালায় যে, হেযবুত তওহীদ নাকি আলেমদের বিরোধিতা করে।

এ ব্যাপারে আমাদের পরিষ্কার কথা হচ্ছে, হেযবুত তওহীদ কখনোই আলেমদের বিরোধিতা করে না। আমাদের বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। আমরা বলেছি আলেম দুই প্রকার: এক. হক্কানি আলেম, দুই. ধর্মব্যবসায়ী আলেম। যারা নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের জীবন-সম্পদ দিয়ে এলেমকে কাজে লাগিয়ে দীনের খেদমত করেন, তারা হলেন হক্কানি আলেম। তারা জ্ঞান অর্জন করেছেন মানুষের শান্তির জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য; কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নয়, মানুষের ক্ষতি করার জন্য নয়। তারা হলেন সত্যনিষ্ঠ আলেম, ওরাসাতুল আম্বিয়া। সেই সত্যনিষ্ঠ আলেমদের আমরা সালাম জানাই, শ্রদ্ধা করি।

আর যারা নিজেদের জ্ঞানকে স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বানায়, ধর্মকে ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহার করে, ধর্মের কাজের বিনিময়ে তুচ্ছমূল্য গ্রহণ করে, তারা হলেন ধর্মব্যবসায়ী আলেম। তাদের কাছে ধর্ম কেবলই ব্যবসার হাতিয়ার। আমরা সেসকল ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কিন্তু আমাদের কথাকে বিকৃত করে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।

কাজেই আমাদের বিরুদ্ধে করা এই অপপ্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। হেযবুত তওহীদ হক্কানি আলেমদের বিরোধিতা তো করেই না, বরং শ্রদ্ধা জানায় এবং দীন প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামে আমাদের সাথে একাত্ম হতে উদাত্ত আহ্বান জানায়। আমাদের এই আহ্বানে ইতিমধ্যেই শত শত আলেম আমাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং তারা ‘হেযবুত তওহীদ ওলামা ফোরাম’-এর মাধ্যমে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন
২. এই লেখাটি পড়ুন

নামাজ নিয়ে অপপ্রচারের জবাব

হেযবুত তওহীদের কাছে আদর্শিকভাবে পরাজিত হয়ে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি এমন কোনো জালিয়াতি নেই যা হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে করেনি। তাদের বিভিন্ন প্রোপাগান্ডার অন্যতম হলো নামাজ নিয়ে অপপ্রচার। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার নেগেটিভ কনটেন্ট বানিয়ে আমাদের ব্যাপারে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। যেমন: ভারতের কেরালা রাজ্যের এক মহিলা ইমামের ঘটনাই ধরুন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাতেও এসেছে। কেরালার সেই মহিলা ইমাম কিছু পুরুষের নামাজের ইমামতি করেছেন। তাঁর সেই ইমামতির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে অপপ্রচারকারীরা মহিলার পেছনে থাকা একজন মুসল্লির মাথা কেটে সেখানে হেযবুত তওহীদের এমামের মাথা বসিয়ে দেয়। আর প্রচার করে এটা হেযবুত তওহীদের ছবি; আমাদের এমাম নাকি মহিলা ইমামের পেছনে নামাজ পড়েন! পরে যখন এটা প্রমাণ হলো যে, এটা হেযবুত তওহীদের নয় বরং সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মিথ্যাচার, তখন তারা নতুন অপপ্রচারে লিপ্ত হলো।

এবার তারা আমাদের নামাজের ভিডিও এডিট করে সালাম ফেরানোর দৃশ্য উল্টে দিল। আর প্রচার শুরু করল আমরা নাকি বাম দিক ফিরে সালাম ফেরাই। কী সাংঘাতিক জালিয়াতি! সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের জামে মসজিদ; সারা বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ পড়তে আসেন। কেউ কি কখনো বলতে পারবে যে, আমরা বাম দিক ফিরে সালাম ফেরাই? না, কখনোই না। অথচ ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের কাছে আদর্শিকভাবে পরাজিত হয়ে এমনই ডাহা মিথ্যাচার করেছে। এখানেই শেষ নয়, এরপর তারা আমাদের নামাজের ভিডিও এডিট করে স্পিড বাড়িয়ে রুকু-সেজদাকে দ্রুত করে সোশ্যাল মিডিয়াতে আরেকটা অপপ্রচার শুরু করল। আমরা যা করিনি, সেটাই তারা আমাদের বিরুদ্ধে চালিয়ে দিয়েছে।

আমাদের পরিষ্কার কথা হচ্ছে: নামাজ কোনো আবিষ্কারের ব্যাপার না। এটা নতুন কিছু না। এই ব্যাপারে হাদিসে পরিষ্কার বর্ণনা আছে। নামাজের কাতার হবে সোজা ধনুকের ছিলার মতো; কাতার বাঁকা হলে নামাজ হবে না [হাদিস: নোমান বিন বশীর (রা.) থেকে মুসলিম এবং আবু মাসউদ আল আনসারী (রা.) থেকে মুসলিম, মেশকাত]। আপনি যখন দাঁড়াবেন, তখন কেবলামুখী হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবেন। পিঠ, মেরুদণ্ড ও মাথা একটা রডের মতো সোজা থাকবে। রুকু যখন দেবেন, তখনও মেরুদণ্ড ও পিঠ সোজা থাকবে [হাদিস: আলী বিন শায়বান (রা.) থেকে ইবনে মাজাহ]। ইমাম যখন তাকবির দেবেন, তাকবিরের আগেও আপনি যেতে পারবেন না, দেরিতেও যেতে পারবেন না। তাকবিরের সঙ্গে সঙ্গেই আপনি রুকু-সেজদা দেবেন (ঠিক যেভাবে খোদ আল্লাহ জামাতে ইমামের সঙ্গে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন: সুরা আন-নিসা: ১০২)। অর্থাৎ সালাতের পূর্ণাঙ্গ চিত্রই আমরা হাদিসে পাই। আমরা হাদিস মোতাবেক নামাজকে হুবহু এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখি। আমরা নতুন কোনো নামাজ আবিষ্কার করিনি।

এখন কেউ যদি বাঁকা হয়ে দাঁড়ায় আর আমাদের সোজা সালাত দেখে বলে ‘এরকম নামাজ জীবনে দেখিনি’, তবে সেটা তাদের নিজস্ব অজ্ঞতা ও চরম মূর্খতা, ইসলামের কোনো শিক্ষা নয়। হাদিসে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যদি আমরা সেটা প্র্যাকটিস করতে যাই, তবে নামাজটা হবে একটি ডিসিপ্লিন, মোমেনদের শৃঙ্খলা শিক্ষার একটি অনুপম ব্যবস্থা; যেটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রেখেছেন। কিন্তু এখন আমাদের নামাজ কেমন হচ্ছে? ইমাম সাহেব তাকবির দিয়ে চলে যাচ্ছেন; কোনো মুসল্লি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাড়ি চুলকাচ্ছেন, কোনো কোনো মুসল্লি মাত্র রুকু দিচ্ছেন, কোনো কোনো মুসল্লি মাত্র সেজদায় যাচ্ছেন। এটি কোনো শৃঙ্খলার সংজ্ঞায় পড়ে না; এটি চরম বিশৃঙ্খলা। আমরা এই বিশৃঙ্খলারই তীব্র বিরোধিতা করছি। আমাদের কথা হচ্ছে: রসুলাল্লাহ একটা জাতি তৈরি করেছেন সুশৃঙ্খল জাতি, যারা বিশ্বের তৎকালীন বড় বড় আর্মিদেরকে পরাজিত করে দিয়েছে। কোরআনে তো আল্লাহ সেই সিসাঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল বাহিনীর কথাই বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, যেন তারা সিসাঢালা প্রাচীর’ (সুরা আস-সাফ: ৪)। সেটা এ ধরনের বিশৃঙ্খলা দিয়ে নয়। কাজেই ইসলামের প্রকৃত নামাজ আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়, আনুগত্য শেখায়, নিয়মানুবর্তিতা শেখায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেখায়, আল্লাহর হুকুম পালন করা শেখায়। আমরা রসুলাল্লাহর (সা.) শেখানো সেই নামাজই কায়েম করতে চাই।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন
২. এই বইটি পড়ুন

‘হাদিস অস্বীকার’ নিয়ে অপপ্রচার

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে আরেকটি অপপ্রচার হলো: ‘হেযবুত তওহীদ নাকি হাদিস মানে না, হাদিসের অনুসরণ করে না!’ এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা। এ ব্যাপারে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা কোরআন ও রসুলাল্লাহর হাদিস দুটোই মানি। আমাদের বইপত্রে ও বক্তব্যে শত শত হাদিসের উল্লেখ থাকে। এমনকি হেযবুত তওহীদের কর্মসূচিটাও সরাসরি একটি হাদিস থেকে হুবহু সংগৃহীত। সুতরাং আমরা হাদিস মানি না এমন অভিযোগ অজ্ঞতাপ্রসূত। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, আমরা সব হাদিস মানি কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আমরা বলব, আসলে সব হাদিস মানা আদৌ কারও পক্ষে সম্ভব কি না?

ইতিহাসের সত্য হলো, রসুলাল্লাহর ওফাতের একশ বছর পর্যন্ত হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন নিষিদ্ধ ছিল। এরপর দ্বিতীয় ওমর নামে পরিচিত উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজের হুকুমে হাদিস সংকলন ও শিক্ষা প্রদান শুরু হয়। প্রথম হাদিস সংকলক ছিলেন ইবনে শিহাব আল জুহরি, যিনি এরপর হাদিস সংগ্রহ, সংকলন ও শিক্ষা দেওয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে লক্ষ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু যাচাই-বাছাই করার পর দেখা যায় এসব হাদিসের অধিকাংশই ছিল জাল ও বানোয়াট হাদিস। বোখারি শরিফের ব্যাখ্যাকার ইমাম কুস্তালানীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইমাম বোখারি তাঁর সারাজীবনে ছয় লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেন। সেগুলো থেকে অনির্ভরযোগ্য হাদিসগুলো বাদ দেওয়ার পর মোট হাদিস থাকে মাত্র ৭,২৭৫টি। এগুলোর মধ্যে আবার একই হাদিস বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। পুনরাবৃত্তি ছাড়া একবার বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা মাত্র ২,২৩০টি।

একইভাবে মুসলিম শরিফে পুনরাবৃত্তি ছাড়া হাদিসের মোট সংখ্যা চার হাজার। ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিজি, ইমাম মালিক প্রমুখ হাদিস সংগ্রাহকগণও লক্ষ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন, যার অধিকাংশই ছিল বানোয়াট ও জাল হাদিস। ইমামগণই যাচাই করে সেগুলো বাদ দিয়ে দিয়েছেন। আবার এই বাদ পড়ে যাওয়া হাদিসগুলোর অনেকগুলোই অন্য হাদিসগ্রন্থে খুঁজে পাওয়া যায়। ইমাম বোখারি যেগুলো বাদ দিয়েছেন, সেগুলো ইমাম মুসলিম গ্রন্থবদ্ধ করেছেন। সুতরাং ইমাম বোখারীর বিচারে যেটা বাতিল, ইমাম মুসলিমের বিচারে সেটা সহিহ হাদিস। এই কথাগুলো আমরা বলছি এটা বোঝানোর জন্য যে, সব হাদিসই অন্ধভাবে মানতে হবে এমন গোঁড়ামিপূর্ণ ধারণা থেকে আগে সরতে হবে।

হাদিস আল্লাহর নাজিলকৃত বাণী নয় এবং আল্লাহ হাদিস সংরক্ষণের দায়িত্বও নেননি। আল্লাহ সংরক্ষণ করেছেন একমাত্র কোরআন। স্বয়ং আল্লাহ ঘোষণা করেছেন: ‘নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক’ (সুরা আল-হিজর: ৯)। আর এই কোরআনই হচ্ছে ইসলামের শরিয়ত, সত্য-মিথ্যা ও হক-বাতিল যাচাইয়ের একমাত্র মানদণ্ড বা ফুরকান (সুরা আল-ফুরকান: ১)। এখন হাদিস সহিহ না জাল, তা যাচাই করার মানদণ্ড স্বয়ং কোরআন। কোরআনের সাথে যেটা সংগতিশীল, আমরা সেটা গ্রহণ করব। আর যা সরাসরি কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সকল ফকিহ ও ইমামগণ এই কথার সঙ্গে একমত যে, কোনো হাদিস যদি কোরআনের কোনো বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তবে সেই হাদিসটি নিশ্চিতভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। ফিকাহ শাস্ত্রের সকল গ্রন্থে ফতোয়ার সর্বসম্মত নীতিমালার মধ্যে এই অকাট্য নীতি লিপিবদ্ধ আছে। সুতরাং কোরআন যেটাকে অকাট্যভাবে ফরজ করেছে আমরা আগে তা মানি, সেই কথার উপর জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করি এবং যে হাদিসগুলো কোরআনের সাথে সংগতিশীল সেগুলো আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করি।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন
২. এই লেখাটি পড়ুন

দাড়ি-টুপি সংক্রান্ত অপপ্রচার

হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটির সীমাহীন অপপ্রচারের আরেকটি হলো: ‘হেযবুত তওহীদ নাকি বলে, দাড়ি-টুপির সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই!’ অথচ আমাদের কোনো বই বা বক্তব্যে তারা দেখাতে পারবে না যে আমরা এমন কথা বলেছি। তারপরও এই ডাহা মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে তারা প্রতিনিয়ত হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য হলো, এ ধরনের কোনো কথা আমরা বলিনি। বরং ইসলামে কোন কাজের গুরুত্ব বেশি, কোন কাজের গুরুত্ব কম আমরা কেবল সেই বিষয়টি তুলে ধরেছি।

আমরা বলেছি, নবী করিম (সা.) আরবের মানুষ ছিলেন। তিনি আরবের শুদ্ধ সংস্কৃতিকে ধারণ করেছেন। যেমন: ভাষা, খাবার, পোশাক এগুলো সংস্কৃতির অংশ। আরবের লোকেরা জোব্বা পরত। কাফেররাও জোব্বা পরত। আল্লাহর রসুলও (সা.) পরতেন। রসুল (সা.) পুরুষ মানুষ ছিলেন। পুরুষ মানেই পুরুষের দাড়ি গজাবে। তাই আল্লাহর রসুল (সা.)-এরও দাড়ি ছিল। এমনকি রসুলের (সা.) যারা চরম শত্রু, সেই আবু জেহেলেরও দাড়ি ছিল। তিনি আরবের লোক ছিলেন তাই পাগড়ি পরতেন। অন্য আরবরাও পাগড়ি পরত। আরবের খাবার হিসেবে তিনি খেজুর খেয়েছেন, ছাতু খেয়েছেন। তিনি ঘুমানোর সময় ডান কাতে ঘুমাতেন, ডান পাশ দিয়ে হাঁটতেন, মসজিদে ঢোকার সময় ডান পা দিয়ে ঢুকতেন। এগুলো রসুলাল্লাহর ব্যক্তিগত সুন্নত। বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও এগুলোর উপকারিতা এখন স্বীকৃত। এখন রসুলকে (সা.) যত বেশি অনুসরণ করা হবে, তত উপকার ও সওয়াব হবে। তবে এগুলো কারও জন্য বাধ্যতামূলক নয়। মানে ফরজ না। কেউ চাইলে পালন করতে পারে, আবার নাও পালন করতে পারে।

কিন্তু আমাদের জন্য যা অকাট্যভাবে বাধ্যতামূলক, তা হলো আল্লাহর দেওয়া হুকুম। তা হলো: একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও সার্বভৌমত্ব ও হুকুম-বিধান না মানা; কারণ চূড়ান্ত হুকুমদাতা একমাত্র আল্লাহ। সমগ্র জমিনে আল্লাহর সেই হুকুম-বিধান কায়েম করা। আর এই হুকুম-বিধান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আল্লাহর রসুল (সা.) যে কর্মনীতি ও কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন, সেটাই হচ্ছে তাঁর মূল সুন্নাহ।

আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে: আমরা তথাকথিত মুসলমান জাতি আজ ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহকে বিশ্বাস করি। হাজার রকমের ইবাদত করি, নফল নামাজ পড়ি, আমল করি। কিন্তু আমাদের জাতীয়, অর্থনৈতিক ও সামষ্টিক জীবনে আমরা আল্লাহর হুকুম-বিধান সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছি। আর আল্লাহর হুকুম-বিধান এভাবে সামষ্টিক জীবন থেকে বাদ দেওয়ার কারণেই আমরা মূল ফরজ থেকেই খারিজ হয়ে গেছি (সুরা আল-মায়িদাহ: ৪৪)। এখন আমাদের মুখ্য ও প্রথম কর্তব্য হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও হুকুমকে নিঃশর্তভাবে মেনে নিয়ে, আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠা করে মানবজাতির জন্য শান্তি কায়েম করা। এটি চূড়ান্ত বাধ্যতামূলক, এটি মূল ফরজ এবং আল্লাহর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা অনুযায়ী এই দীন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই রসুলের (সা.) আগমন হয়েছে: ‘তিনিই তাঁর রসুলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সমস্ত জীবনব্যবস্থার উপর বিজয়ী করেন’ (সুরা আত-তওবা: ৩৩)। এটি আমাদের সবার উপর অলঙ্ঘনীয় কর্তব্য। এবার বাকিটুকু আপনি ব্যক্তিগত জীবনে রসুলকে (সা.) যত অনুসরণ করতে পারেন, তত আপনি উপকৃত হবেন, আপনার সওয়াব হবে। ব্যস, এইটুকুই আমাদের বক্তব্য।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন

‘হেযবুত তওহীদে যোগ দিলেই জান্নাত নিশ্চিত!’ অপপ্রচারের জবাব

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটির আরেকটি জঘন্য অপপ্রচার হলো: আমরা নাকি বলেছি, ‘কেউ হেযবুত তওহীদ করলেই সে নিশ্চিত জান্নাতি!’ নিজেদের এই মিথ্যা দাবির পক্ষে তারা আমাদের বইয়ের উদ্ধৃতি খণ্ডিতভাবে হাজির করে। একশো পৃষ্ঠার একটি বই থেকে কয়েকটি শব্দ বা বাক্য বিচ্ছিন্ন করে তুলে এনে, তার আগের ও পিছের বক্তব্য সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে প্রচার করলে যে মূল বক্তব্যের বিকৃতি ঘটবে, সেটাই স্বাভাবিক। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তারা ঠিক এই অপকৌশলই বেছে নিয়েছে। আমাদের বইয়ে প্রকৃতপক্ষে কী বলা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট করার জন্য ‘আল্লাহর মোজেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা’ বই থেকে সংশ্লিষ্ট অংশটি নিচে তুলে ধরা হলো:

“হেযবুত তওহীদে যারা আছ, তারা এটার সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ রাখবে না। সন্দেহই মোনাফেকী। ১০০%-এর ভেতর যার মনে ৫% সন্দেহ আছে, সে ৫% মোনাফেক; যার ১০% সন্দেহ আছে, সে ১০% মোনাফেক। সন্দেহই মোনাফেকী। আল্লাহ কোরআনে বলছেন, ‘যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে’, অর্থাৎ অসুখ; এই অসুখ বলতে আল্লাহ বোঝাচ্ছেন এই মোনাফেকী। যে ঘটনা ২ ফেব্রুয়ারি ’০৮ তারিখে হয়ে গেছে, তোমরা এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহ রাখবে না, বিন্দুমাত্র না। কী সন্দেহ রাখবে না? তিনটা জিনিস: প্রথমত, হেযবুত তওহীদ হক, প্রকৃত সত্য কথা হচ্ছে হেযবুত তওহীদ আল্লাহর, আমার না। দুই, এমাম হক। তিন, এই হেযবুত তওহীদ দিয়ে আল্লাহ তাঁর দীনুল হক প্রতিষ্ঠিত করবেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ১৪ বছর পর্যন্ত আমি জানতাম না যে কী হবে আর কী হবে না। ওই দিন আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে হবে। এ এক মাইলফলক। এরপরে কবে হবে এই জ্ঞান আল্লাহর কাছে, আমি জানি না। কিন্তু হবে। শুধু হবে নয়, হয়ে গেছে। ইট'স আ ম্যাটার অব টাইম, শুধু সময়ের ব্যাপার। কোনো সন্দেহ রাখবে না এবং এই সময়ের ভেতরে যে যা পার গুছিয়ে নাও, যাতে নাকি তোমরা জান্নাতের উপরের স্তরে যেতে পার। হেযবুত তওহীদে যারা সত্যিকারভাবে এসেছ তাদের জন্য জান্নাত তো নিশ্চিত। এখানেও যেন কারও মনে কোনো সন্দেহ না থাকে যে জান্নাত নিশ্চিত। এখন কে কোথায় যাবে, কোন স্তরে উন্নীত হবে, সেটা তোমাদের আমলের উপরে নির্ভর করবে; যে যতখানি করবে সে ততখানি।”

বইয়ের মূল বক্তব্য ছিল এটি। এ ব্যাপারে আমাদের পরিষ্কার কথা: একটি দল যদি আল্লাহর দীনের দিকে মানুষকে ডাকে এবং সেই দলের আহ্বানকারী যদি নিষ্ঠাবান অনুসারীদের জান্নাতের সুসংবাদ দিতে না পারে, তবে সেই দলের দিকে মানুষকে ডাকার কোনো নৈতিক অধিকারই তাদের থাকে না। আহ্বানকারীরা নিজেরাই যদি নিজেদের হক ও সত্য হওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান থাকে, তবে অন্যদের কাছে তারা কোন মুখে দীনের দাওয়াত দেবে?

সবাই গভীরভাবে খেয়াল করুন: আমরা ডাক দিচ্ছি নির্ভেজাল তওহীদের দিকে। মানুষকে জান্নাতে নেবে এই তওহীদ; কোনো দল বা সংগঠন মানুষকে জান্নাতে নেবে না। হেযবুত তওহীদ হলো সেই তওহীদের দিকে আহ্বানকারী দল মাত্র। কাজেই হেযবুত তওহীদের এই আহ্বানে যারা সাড়া দিয়ে আসবে এবং নিখাদ তওহীদে অটল ঈমান আনবে, তারা জান্নাতে যাবে না তো জাহান্নামে যাবে? বিবেকবান মানুষ আপনারাই বলুন।

শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা দুনিয়ায় যত ধর্মীয় দল আছে, তারা সবাই তো বলে: ‘আমাদের দলে এসো, এটিই জান্নাতের পথ।’ যত পীর আছে, সব পীর সাহেব বলেন: ‘আমার হাতে বায়াত নাও, আমার হাতে বায়াত নিলে জান্নাতে যাবে।’ অথচ আমরা যখন তওহীদের প্রতি অবিচল ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের সেই অকাট্য সুসংবাদ বইয়ের ভেতর তুলে ধরলাম, তখন সেই কথার ভিন্ন অর্থ করে তারা অপপ্রচার ছড়াল যে, হেযবুত তওহীদে যোগ দিলেই নাকি নিশ্চিত জান্নাতি! আস্তাগফিরুল্লাহ!

এখন আমরা যদি তাদের পাল্টা প্রশ্ন করি: হেযবুত তওহীদের ডাকে তওহীদ গ্রহণ করলে মানুষ জান্নাতে যাবে না, এই কথা তাদের কে বলেছে? এর সপক্ষে তাদের কাছে কোরআন বা হাদিসের কোনো একটা দলিল আছে কি? কোনো দলিল নেই। সুতরাং ভিত্তিহীন মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ হবে না। সাধারণ মানুষ এখন সচেতন হচ্ছে; অপপ্রচার দিয়ে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন

‘পন্নীর কথা ও কুরআন সমপর্যায়’ সংক্রান্ত অপপ্রচারের জবাব

ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করতে এমন সব অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছে যা সরাসরি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। উদ্দেশ্য একটাই: সাধারণ মানুষকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলা। সম্প্রতি তারা আমাদের বিরুদ্ধে নতুন অপপ্রচার শুরু করেছে যে, আমরা নাকি বলেছি হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামের কথা ও কোরআন সমপর্যায়!

এ ব্যাপারে তারা আমাদের যে বইয়ের রেফারেন্স ব্যবহার করেছে, পাঠকের সামনে সত্য তুলে ধরার জন্য সেই বইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশের সরাসরি উদ্ধৃতি নিচে তুলে ধরছি:

‘এই সাংঘাতিক বিষয়টি উপলব্ধি করার পর এর গুরুত্ব অনুধাবন করে এটি মানুষের কাছে প্রকাশ করা উচিত হবে কি হবে না তা নিয়ে এমামুয্যামান খুবই দ্বিধান্বিত (Dilemma) হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দ্বিধার কারণ, হেযবুত তওহীদের ত্রুটি সন্ধানকারী লোকের কোনো অভাব নেই। কথায় বলে, তিলকে তাল করা। তিল থাকলে অপপ্রচার করে কিছু নীতিহীন মানুষ সেটাকে তাল বানিয়ে ফেলে, কিন্তু আমাদের বেলায় যেখানে কোনো তিলও নেই সেটাকেও যারা আমাদের বিরোধী অর্থাৎ ধর্মের ধ্বজাধারী আলেম-ওলামা শ্রেণি এবং ইসলামবিরোধী গণমাধ্যমগুলি (Print and Electronic Media) তাল বানিয়ে ফেলে। আমাদেরকে নিয়ে বলা হয়, আমরা নাকি কালো কাপড়ের কাফন পরিয়ে মুর্দাকে দাফন করি, মুর্দাকে বসিয়ে কবর দেই, পুব দিকে ফিরে সালাহ কায়েম করি, এমন আরও অনেক জঘন্য মিথ্যা কথা তারা আমাদের নামে প্রচার করে যার বিষয়ে আমরা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি, যা আমাদের আত্মাও জানে না। এমামুয্যামান ভাবলেন, এখন যদি তিনি এই কথা বলেন যে ওই দিনের ভাষণের মধ্যে কোরআনের মতো সংখ্যাতাত্ত্বিক মিল রয়েছে তখন সবাই বলে বসবে, “কী বেয়াদবি, কী ধৃষ্টতা (Audacity)! কী স্পর্ধা! কোরআনের সাথে তুলনা!” অন্যদিকে যে ঘটনা আল্লাহ স্বয়ং ঘটিয়েছেন, যেটা সত্য, সেটা প্রকাশ না করাও মহা অপরাধ। এমামুয্যামান এই উভয়সংকটে পড়ে আল্লাহর শরণাপন্ন হয়ে তাঁর কাছে সাহায্য চাইলেন।’

বইয়ের মূল বক্তব্য ছিল এটি। তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনকে ১৯ সংখ্যা দিয়ে এক সংখ্যাতাত্ত্বিক জালে আবদ্ধ করেছেন। ডক্টর রাশেদ খলিফা কম্পিউটার সায়েন্স ব্যবহার করে তা বের করে দেখিয়েছেন যে কোরআনের ভেতরে যেন কেউ কোনো শব্দ ঢোকাতে না পারে, কোনো কিছু প্লাস-মাইনাস বা বিকৃত করতে না পারে, সেজন্যই আল্লাহ তায়ালা কোরআনে এমন সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাবের ব্যবস্থা রেখেছেন।

আমাদের আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এমামুয্যামান যে ভাষণটি দিয়েছিলেন, সেই ভাষণের ভেতরের বিষয়গুলো হিসাব করে দেখা গেছে সেখানে অনেকগুলো ঘটনা ঠিক তিনবার করে ঘটেছে। তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই বলেছেন যে, সংখ্যাতাত্ত্বিক এরকম মিল কোরআনেও আছে। অর্থাৎ তিনি কেবল এই গাণিতিক মিলের কথাটিই বলেছেন।

অথচ পুরো পৃষ্ঠার এই এতগুলো কথা বাদ দিয়ে অপপ্রচার করার জন্য তারা প্রচার করে দিল যে, ‘পন্নীর কথা কোরআনের কথার সমপর্যায়ের!’ ব্যস, এবার ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির সস্তা ইস্যু তারা পেয়ে গেল। আমরা এই মিথ্যাবাদী অপপ্রচারকারীদের প্রশ্ন করতে চাই: এই মিথ্যাচারটা কেন করছেন? তিনি কি বলেছেন যে ‘আমার কথা কোরআন’? তিনি কি বলেছেন ‘আমার কথা কোরআন থেকে বেশি’ বা ‘আমার উপর কোরআন নাজিল হয়েছে’? এমন কিছুই তিনি বলেননি। তিনি বলেছেন কোরআন হলো সংখ্যাতত্ত্বের উপরে, আর তাঁর ভাষণেও সংখ্যাতত্ত্বের এমন জাল পরিলক্ষিত হয়েছে। অথচ এই কথাকে বিকৃত করে কী জঘন্য অপপ্রচারটাই না করা হয়েছে!

কাজেই যারা হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সীমাহীন অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা অবিলম্বে বিরত হোন। আমাদের বিরুদ্ধে খণ্ডিত লাইন তুলে অপপ্রচার না করে পূর্ণাঙ্গ বইটা মানুষকে পড়তে দিন। মানুষ নিজে পড়ুক, সত্য জানুক, তারপর মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা সত্য নিয়ে দাঁড়িয়েছি, কোনো অন্যায়ের আশ্রয় আমরা নিইনি। যারা আমাদের কাছে আদর্শিকভাবে পরাজিত হয়ে মিথ্যার পথ বেছে নিয়েছে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে।

এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য জানতে-
১. এই ভিডিওটি দেখুন

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1652 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 103 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 20 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 25 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 61 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4