আমাদের গঠনতন্ত্র
হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, মূলনীতি ও সাংগঠনিক কাঠামো সংবলিত অফিশিয়াল ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র
হেযবুত তওহীদের অফিশিয়াল গঠনতন্ত্র
হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, মূলনীতি, সাংগঠনিক কাঠামো ও পরিচালনা নীতি সংবলিত অফিশিয়াল ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র।
অধ্যায় সূচিপত্র
6 টি অধ্যায়১ম অধ্যায়: নাম, এলাকা ও প্রধান কার্যালয়
১.১ নাম:
এই আন্দোলনের নাম হবে "হেযবুত তওহীদ" (Hezbut Tawheed)।
১.২ লক্ষ্য ও চরিত্র:
হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক, সংস্কারমুখী এবং শান্তিময় বিশ্ব গড়ার আন্দোলন। সকল প্রকার অন্যায়, অসত্য, উগ্রবাদ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
১.৩ এলাকা ও বিস্তৃত:
এই আন্দোলনের কাজের এলাকা হবে সমগ্র বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিপ্রিয় সকল মানুষের সমাজ।
১.৪ প্রধান কার্যালয়:
আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হবে এবং কেন্দ্রীয় এমামের সিদ্ধান্তক্রমে দেশের যেকোনো স্থানে আঞ্চলিক ও শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।
২য় অধ্যায়: লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূলনীতি
২.১ তওহীদের ডাক:
একমাত্র স্রষ্টা মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব (তওহীদ) প্রতিষ্ঠা করা এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাঁর দেওয়া হুকুম ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
২.২ শান্তিময় সমাজ গঠন:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ, সত্য ও সুসংহত সমাজ গঠন করা যেখানে মানুষের জান, মাল ও সম্মানের পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে।
২.৩ মূলনীতিসমূহ:
- শান্তিময় পদ্ধতি: সকল কার্যক্রম হবে সম্পূর্ণ প্রকাশ্য, গঠনমূলক এবং দেশের আইন ও সংবিধানকে পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক।
- অরাজনৈতিক চরিত্র: হেযবুত তওহীদ কোনো রাজনৈতিক দল নয় এবং সংসদীয় বা দলীয় রাজনীতিতে অংশ নেয় না।
- আত্মত্যাগ ও সেবা: নিঃস্বার্থভাবে মানবজাতির কল্যাণে কাজ করা এবং যেকোনো প্রকার উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা।
৩য় অধ্যায়: সদস্যপদ, যোগ্যতা ও শর্তাবলী
৩.১ সদস্যপদের যোগ্যতা:
যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের নাগরিক যিনি হেযবুত তওহীদের আদর্শ, লক্ষ্য ও মূলনীতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করবেন, তিনি সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
৩.২ সদস্যপদের প্রকারভেদ:
- প্রাথমিক সদস্য (মোজাহেদ/মোজাহেদা): যারা আন্দোলনের আদর্শ গ্রহণ করে সক্রিয়ভাবে তবলিগ ও প্রচার কাজে অংশ নেন।
- অঙ্গীকারাবদ্ধ সদস্য: যারা আন্দোলনের আদর্শ সমর্থন করেন এবং নিয়মকানুনের প্রতি আনুগত্য জ্ঞাপন করেন।
- শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থক: যারা আন্দোলনের সততা ও কল্যাণমুখী কার্যক্রমকে বস্তুগত বা মানসিকভাবে সমর্থন জানান।
৩.৩ সদস্যপদ বাতিল:
কোনো সদস্য আন্দোলনের শৃঙ্খা ভঙ্গ করলে, উগ্রবাদী বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বা গঠনতন্ত্রবিরোধী আচরণ করলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে।
৪র্থ অধ্যায়: সাংগঠনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৪.১ এমামুযযামান ও এমামতি ব্যবস্থা:
হেযবুত তওহীদ একক ও সুসংহত নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হয়। আন্দোলনের প্রধানকে 'এমাম' হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী আন্দোলন পরিচালিত হয়।
৪.২ সাংগঠনিক স্তরবিন্যাস:
- কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: মাননীয় এমাম এবং কেন্দ্রীয় শূরা কমিটি ও উপকমিটিসমূহ।
- বিভাগীয় ও জেলা আমীর: বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে কাজ সুসংগঠিত করার জন্য মনোনীত প্রতিনিধি।
- উপজেলা ও স্থানীয় ইউনিট: স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা ব্যবস্থা।
৫ম অধ্যায়: অর্থায়ন ও পরিচালনা নীতি
৫.১ আয়ের উৎস:
আন্দোলনের যাবতীয় ব্যয় সদস্যদের নিজস্ব হালাল উপার্জন থেকে প্রদত্ত স্বেচ্ছাদানে (এয়ানত) পরিচালিত হয়। হেযবুত তওহীদ কোনো বিদেশী অনুদান বা কোনো অবৈধ উৎসের অর্থ গ্রহণ করে না।
৫.২ হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা:
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল আয়ের স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ ও নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ও নিরীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
৬ষ্ঠ অধ্যায়: সাধারণ নিয়মাবলী ও সংশোধনী
৬.১ গঠনতন্ত্র সংশোধনী:
সময়ের প্রয়োজন ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের আলোকে গঠনতন্ত্রের যেকোনো পরিবর্তন, সংযোজন বা পরিমার্জন করার পূর্ণ এখতিয়ার মাননীয় এমাম ও কেন্দ্রীয় শূরা কমিটির থাকবে।
৬.২ বাস্তবায়নের তারিখ:
এই গঠনতন্ত্র অনুমোদনের তারিখ থেকে সকল শাখা ও মোজাহেদদের জন্য কার্যকরী ও বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হবে।