অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কারা করে, কেন করে?

03 Apr, 2025 Super Admin 415 ভিউ
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কারা করে, কেন করে?

এম এম রহমান:
প্রত্যেক আদর্শেরই পাল্টা আদর্শ ও আদর্শিক প্রতিপক্ষ থাকতেই পারে। সভ্য সমাজে আশা করা হয়, এ ধরনের প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধমতের গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করবে। কিন্তু হেযবুত তওহীদের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। আমাদের বিরুদ্ধে দুটি শ্রেণির প্রতিপক্ষ আদর্শিক সমালোচনা না করে ডাহা মিথ্যা, গুজব এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। এই শ্রেণি দুটি হল: এক) ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি এবং দুই) ইসলামবিদ্বেষী শ্রেণি।

ধর্মব্যবসায়ীরা কেন অপপ্রচার করে? 
আমাদের বিরুদ্ধে তাদের এই শত্রুতার প্রধান দুটি কারণ-

১. অহংকারে আঘাত: 
তাদের অহংকারে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে আলেম হয়েছেন। তারা তাই নিজেদেরকে নায়েবে নবী ও দীনের কর্তৃপক্ষ বলে বিশ্বাস করেন। এখন আমরা সাধারণ মানুষ যখন দীনের কথা বলছি, তখন সেটা তাদের অহংকারে লাগছে।

২. আর্থিক স্বার্থে আঘাত: 
তারা ইসলামকে ব্যবহার করে রুজি-রোজগার করছেন, ইসলামকে জীবিকায় পরিণত করেছেন। কিন্তু আমরা এ মহাসত্যটি তুলে ধরেছি যে, আল্লাহর দীনের বিনিময় নেওয়া আল্লাহ হারাম করেছেন এবং যারা বিনিময় নেয় তাদেরকে অনুসরণ করতেও আল্লাহ নিষেধ করেছেন (সুরা বাকারা ১৭৪, সুরা ইয়াসিন ২১)। অর্থাৎ এক কথায় ধর্মের কাজের বিনিমেয় কোনো প্রকার অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটা আমাদের কথা নয়, একটা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কথা, আমরা শুধুমাত্র তুলে ধরেছি।

আমাদের এই বক্তব্যে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণিটির স্বার্থে আঘাত লেগেছে। ফলে তারা আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তারা হাটে বাজারে, মাদ্রাসা মসজিদে, ওয়াজ মাহফিলে, জুমার খুতবায়, অনলাইনে আমাদের বিরুদ্ধ ডাহা মিথ্যা কথা প্রচার করে যাচ্ছে, আমাদেরকে খ্রিষ্টান, কাফের, মুরতাদ, নাস্তিক, ইসলামের শত্রু, ইহুদির দালাল বলে জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করছে ও হুমকি দিচ্ছে। এডিট করে অনলাইনে আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করা হয়েছে। যেমন দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার সংবাদে ভারতের কেরালা রাজ্যের একটি মসজিদে একজন নারীকে ইমামতি করতে দেখা যায়। কেউ একজন মুসল্লির ছবি এডিট করে সেখানে মাননীয় এমামের চেহারা বসিয়ে দেয় আর অপপ্রচার চালায় যে হেযবুত তওহীদে নারীরা নামাজের ইমামতি করে। অগণিত মানুষ সেটা বিশ্বাস করে এবং প্রচার করে। শুধু অপপ্রচারের মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ থাকেনি, তারা গত ৩০ বছরে অন্তত পাঁচ শতাধিকবার ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে হামলা চালিয়ে আমাদের বাড়িঘরে হামলা করেছে, বহু সদস্যকে পৈত্রিক ভিটা থেকে উৎখাত করেছে, শত শত সদস্যকে আহত রক্তাক্ত করেছে, পাঁচ জনকে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলেছে। অপরদিকে হাজারো সত্যনিষ্ঠ, হক্কানি আলেম আমাদের কাজকে সমর্থন দিচ্ছেন, দোয়া ও সহযোগিতা করছেন।

ধর্মবিদ্বেষীরা কেন অপপ্রচার করে?
উপরে বলে এসেছি যে ব্রিটিশ খ্রিষ্টানরা তাদের তৈরি করা সাধারণ ইংরেজি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মকে গৌণ ও অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসাবে শিক্ষা দিয়েছে। এ শিক্ষায় শিক্ষিতদের অধিকাংশই ধর্মের বিষয়ে চরম অবজ্ঞা পোষণ করেন এবং একে অকল্যাণকর মনে করেন। এই শ্রেণিটির হাতেই মুসলিম বিশ্বের দেশচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, বিশেষ করে গণমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। যেহেতু আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার প্রতি তাদের মনোভাব শত্রুভাবাপন্ন, তাই তারা আন্দোলন প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথম অন্তত ২০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে গেছেন। তারা হাজার হাজার মিথ্যা রিপোর্ট আমাদের বিরুদ্ধে লিখেছেন যেগুলোতে তারা হেযবুত তওহীদকে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত, কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি, সন্ত্রাসী, চরমপন্থী সংগঠন ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করেছেন। এদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা। গত শতাব্দীতে জার্মানির চ্যান্সেলর এডলফ্ হিটলারের জনসংযোগ ও প্রচারমন্ত্রী ভন গোয়েবলসের নীতি ছিল এই যে যদি একটা মিথ্যাকে ক্রমাগত একশ’ বার বলে যাও তবে সেটা মানুষ সত্য বলে বিশ্বাস করবে। পশ্চিমা সভ্যতা তার এই নীতিকে গ্রহণ করে নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বময় অপপ্রচার ছড়াচ্ছে এবং মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী জাতি হিসাবে চিত্রিত করে যাচ্ছে। পশ্চিমা ভাবধারার অনুসারী এক শ্রেণির দেশীয় মিডিয়াগুলোও বাংলাদেশে সক্রিয় কতিপয় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হেযবুত তওহীদকেও এক কাতারে ফেলে বানেয়াট সংবাদ প্রচার করতে থাকে। সেগুলোর প্রতিবাদ জানালেও সেটা তারা প্রকাশ করে না। কারণ আমাদের দলের নাম আরবিতে রাখা হয়েছে, আমরা ইসলামকে জাতীয় রাষ্ট্রীয় জীবনে দেখতে চাই যা তাদের কাছে অসহ্য, তারা কিছুতেই তা চান না। তাদের এই অবিশ্রান্ত মিথ্যাচারের ফলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় বহু কর্মকর্তা মিডিয়ার এসব মিথ্যা সংবাদ দ্বারা প্রভাবিত হন। ফলে আমাদের সদস্যরা প্রচারকাজ করতে গিয়ে অগণিতবার গ্রেফতার হন এবং অন্তত পাঁচ শতাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হন।

আলহামদুল্লিাহ, গত দশ বছরে আমরা মিডিয়া, প্রশাসনসহ দেশের অন্যান্য দায়িত্বশীল পর্যায়ে যারা আছেন তাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে হেযবুত তওহীদ কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়, বরং আইনমান্য করায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই আন্দোলন। তবে এখনও বহু মানুষ সেই অপপ্রচারের কারণে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। আর ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি এখনও তাদের ওয়াজে, খোতবায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মিথ্যা কথা প্রচার করেই যাচ্ছে। তাই সকলের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, আমাদের বিষয়ে কোথাও নেতিবাচক কোনো কথা শুনলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমাদের বই পড়ুন, অনলাইনে আমাদের বক্তব্য দেখুন। তৃতীয় পক্ষের কথাকে আমাদের কথা বলে গ্রহণ করবেন না।

যোগাযোগ: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৫৭১৫৮১, ০১৭১১২৩০৯৭৫]

ট্যাগসমূহ:

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1652 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 103 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 20 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 25 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 61 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি #সংবাদ-সম্মেলন