হেযবুত তওহীদ আকিদা ও বিশ্বাস
হেযবুত তওহীদের আকিদা ও দৃষ্টিভঙ্গি
সংখ্যায় ২০০ কোটি হয়েও আজ সারা বিশ্বে মুসলিমরা লাঞ্ছিত, অপমানিত ও নির্যাতিত। এর মূল কারণ - ইসলাম সম্পর্কে সঠিক আকিদা ও দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। হাজারো ফেরকা ও মতভেদের ভিড়ে আজ ইসলামের মূল আদর্শ হারিয়ে গেছে। ফলে জাতি অজস্র ভাগে বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। ধর্মের এই বিকৃতি ও অপব্যাখ্যার সুযোগেই একদিকে মাথাচাড়া দিচ্ছে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অযাচিত ইসলামভীতি।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক আকিদা ও সামগ্রিক রূপরেখা তুলে ধরছে হেযবুত তওহীদ। এই সেকশনে ইসলামের মৌলিক বিভিন্ন বিষয়ের মূল শিক্ষা সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের মূল বক্তব্যের পাশাপাশি বিস্তারিত জানার জন্য যুক্ত রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিডিও, বই এবং গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ।
কেন আমাদের এই পৃথিবীতে আসা?
এই বিশাল মহাবিশ্বের কোনো কিছুই আল্লাহ উদ্দেশ্য ছাড়া সৃষ্টি করেননি (সুরা দুখান: ৩৮)। মহান স্রষ্টার কেবল এক ‘কুন’ (হও)- শব্দ দিয়ে সমগ্র নিখিল বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন (সুরা নাহল: ৪০)। আসমান ও জমিনের সবকিছুকে তিনি নিয়োজিত করেছেন মানুষের সেবায় (সুরা জাসিয়াহ: ১৩)। যেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি ধূলিকণার সৃষ্টির উদ্দেশ্য রয়েছে, সেখানে সৃষ্টির সেরা মানুষের জীবন কি কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া হতে পারে? অবশ্যই নয়। কিন্তু কী সেই উদ্দেশ্য?
মানুষ সৃষ্টির প্রাক্কালে আল্লাহ মালায়েকদের সামনে এই সৃষ্টির লক্ষ্য স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন: “নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে খলিফা সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।” (সুরা বাকারা: ৩০)
‘খলিফা’ শব্দের অর্থ প্রতিনিধি। অর্থাৎ মানুষ এই জমিনে স্বয়ং আল্লাহর প্রতিনিধি। একজন প্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হলো তাঁর কর্তৃপক্ষের ইচ্ছামতো কাজ পরিচালনা করা। আল্লাহ যেমন পুরো মহাবিশ্বকে পরম শৃঙ্খলা ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করছেন, ঠিক তেমনি পৃথিবীতে তাঁর দেয়া বিধান মেনে ন্যায়বিচার ও শান্তি বজায় রাখাই মানুষের প্রধান কাজ।
আল্লাহ কোরআনে মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, “আমি জ্বিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (সুরা যারিয়াত: ৫৬)
আমরা সাধারণত ইবাদত বলতে কেবল নামাজ, রোজা বা কিছু আনুষ্ঠানিক উপাসনা বুঝি। কিন্তু বাস্তবে ইবাদতের তাৎপর্য আরও গভীর। সহজ কথায়- আল্লাহ যাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই হলো ইবাদত।
সূর্য আলো দিয়ে কিংবা বাতাস মেঘ বয়ে নিয়ে অবিরত আল্লাহর হুকুম মানছে অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত করছে (সুরা আন-নাহল: ৪৮-৪৯)। কিন্তু অন্যান্য সৃষ্টির চেয়ে মানুষের তফাত হলো, মানুষকে দেয়া হয়েছে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। তাই নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে জমিনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই মানুষের মূল ইবাদত।
নামাজ-রোজা তবে কীসের জন্য?
নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত হলো খেলাফত বা প্রতিনিধিত্বের সেই বিরাট দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি ও আত্মিক শক্তি অর্জনের প্রশিক্ষণ বা মাধ্যম। এই আমলগুলো মানুষকে ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং নেতার প্রতি অবিচল আনুগত্য শেখায়। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক আমলগুলো হলো খেলাফতের কাজের জন্য যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া, আর আল্লাহর প্রতিনিধি হয়ে সমাজে শান্তি ও সুবিচার কায়েম করাই হলো তার জীবনের আসল লক্ষ্য।
আজ মুসলিম জাতি লাঞ্ছিত, কারণ আমরা খেলাফতের মূল দায়িত্ব ভুলে গিয়ে ধর্মকে কিছু উপাসনায় সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি। মানুষ সৃষ্টির এই গোড়ার ইতিহাস ও উদ্দেশ্য নতুন করে উপলব্ধি করাই হচ্ছে এই লাঞ্ছনা থেকে মুক্তির পথে চলার প্রথম ধাপ।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন-
https://hezbuttawheed.org/book/overview-of-hezbut-tawheed/
কালেমা তওহীদ: উপাসনা নয়, আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ঘোষণা
ইসলামের মূল ভিত্তি হলো কালেমা তওহীদ - ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, যার ওপর একজন মানুষের মুসলিম হওয়া এবং সমগ্র মানবজাতির মুক্তি নির্ভর করে। কিন্তু আজ এই কালেমার সবচেয়ে মৌলিক শব্দ ‘ইলাহ’-এর অর্থ ও দাবি সম্পর্কেই তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি।
বর্তমানে আরবি ‘ইলাহ’ শব্দটিকে ‘মাবুদ’ বা ‘উপাস্য’-এর প্রতিশব্দ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ইলাহ ও মাবুদ কোনোভাবেই এক শব্দ নয়, দুটোর অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইলাহ শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে- তিনি সেই সত্তা যার আনুগত্য করতে হবে অর্থাৎ যিনি হুকুমদাতা, বিধানদাতা, সার্বভৌমত্বের মালিক। ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য/মাবুদ নেই’ কালেমার এই অর্থ করলে তওহীদের প্রকৃত অর্থ প্রকাশ পায় না। কাজেই কালেমার প্রকৃত অর্থ হবে- আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই (ঞযবৎব রং হড়হব ঃড় নব ড়নবুবফ ড়ঃযবৎ ঃযধহ অষষধয)।
ইলাহ শব্দের অর্থ ভুল করার কারণে আমরা গত কয়েক শতাব্দী ধরে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহকে মাবুদ বা উপাস্য মেনে নামাজ, রোজা, হজসহ বিভিন্ন আমল করে যাচ্ছি। লক্ষ লক্ষ মসজিদ তৈরি করা হচ্ছে আল্লাহর উপাসনার জন্য। কিন্তু সমাজে শান্তি আসছে না।
কারণ শান্তির জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, জাতীয় সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম-বিধান মান্য করা। অথচ আমাদের সামষ্টিক জীবনের সকল ক্ষেত্রেই আমরা মানছি মানুষের তৈরি বিধান অর্থাৎ ইবলিসের হুকুম। এর পরিণামই হচ্ছে বিশ্বজুড়ে চলমান অন্যায়, অবিচার ও রক্তপাত।
এখন এই অশান্ত পৃথিবীকে শান্তিপূর্ণ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে আল্লাহর দেখানো সেই হেদায়াহ- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ বা হুকুমদাতা হিসাবে মেনে নেওয়া। তাহলেই মানুষ পৃথিবীতে সুখে বাস করবে, পরকালে জান্নাতে ফিরে যাবে।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন-
আকিদা ভুল হলে ঈমান ও আমল কেন অর্থহীন?
আলেম ও ফকিহদের স্পষ্ট মত হলো - আকিদা ঠিক না থাকলে ঈমানের কোনো দাম নেই। আর ঈমান না থাকলে নামাজ, রোজা, হজ বা জাকাত - কোনো আমলই কাজে আসবে না।
আকিদা মানে কোনো ব্যবস্থার আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা। যেমন একটি গাড়ির মূল কাজ মানুষকে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া; কিন্তু কেউ যদি গাড়ি চালানো বাদ দিয়ে শুধুই সিটে বসে আরাম করে বা ধোয়ামোছা নিয়ে পড়ে থাকে, তবে তার কাছে গাড়িটি থাকাটাই অর্থহীন।
ঠিক তেমনি, আল্লাহও উদ্দেশ্যহীনভাবে ইসলাম দেননি। সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী ইসলামের আকিদা হলো- আল্লাহর দেওয়া সত্যদীনকে জেহাদ ও কেতালের মাধ্যমে মানবজীবনে প্রতিষ্ঠা করা; সব ধরনের অন্যায়, ফেতনা ও রক্তপাত বন্ধ করে পৃথিবীতে শান্তি কায়েম করা এবং এর মাধ্যমে ইবলিসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জে আল্লাহকে বিজয়ী করা। এটিই ইসলামের মূল উদ্দেশ্য ও বিশ্বনবীর আগমনের আসল লক্ষ্য। আর নামাজ, রোজা, হজের মতো বাকি সমস্ত আমল হলো এই উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যম ও প্রস্তুতি।
আজ মুসলিম জাতি সেই আসল লক্ষ্য ছেড়ে কেবল আনুষ্ঠানিকতা আঁকড়ে ধরেছে। এই আকিদাগত ভুলের কারণেই এত আমল সত্ত্বেও মুসলিমরা বিশ্বজুড়ে লাঞ্ছিত। তাই আকিদা সংশোধন করে দ্বীনের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ধারণ করাই এখন একমাত্র মুক্তির পথ।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন-
মহানবীর (সা.) আগমনের উদ্দেশ্য
আল্লাহ কেন শেষ নবীকে দুনিয়ায় পাঠালেন, কোরআনের অন্তত তিনটি আয়াতে তা পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই তাঁর রসুলকে হেদায়াহ ও সত্যদীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, যেন তিনি একে অন্য সব মতবাদের ওপর বিজয়ী করেন’ (সুরা তওবা: ৩৩, সুরা ফাতাহ: ২৮, সুরা সফ: ৯)।
এখানে ‘হেদায়াহ’ মানে হলো চলার সঠিক পথনির্দেশ - অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে একমাত্র আল্লাহর আদেশ ও বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার। আর ‘সত্যদীন’ হলো মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের যাবতীয় সমস্যা সমাধানের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এই জীবনব্যবস্থা যদি মানুষের বাস্তব জীবনে কায়েমই না হয়, তবে তা পাঠিয়ে কোনো লাভ নেই। এই কারণেই আল্লাহ কোরআনে সরাসরি দীন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন (সুরা শুরা: ১৩)।
দুনিয়া থেকে সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, জুলুম আর রক্তপাত দূর করে একটি নিরাপদ সমাজ গড়াই ছিল মহানবীর মূল লক্ষ্য। আর আল্লাহর দেওয়া সেই সত্যদীন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই তিনি সারা জীবন চরম ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং শতাধিক যুদ্ধ করেছেন।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন-
দীন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া কী?
মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার জন্য ব্যক্তিগত থেকে রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রে তার একটি জীবনব্যবস্থা (ঝুংঃবস ড়ভ ষরভব) থাকতেই হবে। এই জীবনব্যবস্থা হতে পারে দুই প্রকার- আল্লাহর তৈরি ও মানুষের তৈরি। মানুষ যদি আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা পরিপূর্ণরূপে গ্রহণ করে নেয় তাহলে সে হবে মো’মেন, মুসলিম (সুরা নিসা ৬৫)। যদি আংশিকভাবে আল্লাহর দীন গ্রহণ করে তাহলে সে হবে মোশরেক (সুরা বাকারা ৮৫)। আর যদি সে আল্লাহর দীনকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে তাহলে সে হবে কাফের (সুরা মায়েদা ৪৪)। আলাহ তো জীবনবিধান দিলেন, এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই দীন প্রতিষ্ঠা হবে কীভাবে? এটা আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন- দীন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া হবে জেহাদ ও কেতাল। তিনি বলেন, তোমাদের জন্য কেতাল (সশস্ত্র সংগ্রাম) ফরজ করে দেওয়া হল যদিও তোমরা তা অপছন্দ কর। (সুরা বাকারা ২১৬)।
কেতাল চালিয়ে যাও যতদিন না ফেতনা নির্মূল হয় এবং দীন সামগ্রিকভাবে আল্লাহর হয়ে যায় (সুরা আনফাল ৩৯)।
তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় কেতাল (যুদ্ধ) করছ না! অথচ দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা বলছে, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে উদ্ধার করুন এ জনপদ থেকে যার অধিবাসীরা অত্যাচারী এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করুন। আর নির্ধারণ করুন আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী। (সুরা নিসা ৭৫)।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন-
দীন প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি কী?
দুনিয়াতে আল্লাহর দেওয়া দীনুল হক বা জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া হচ্ছে জেহাদ বা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। এখন জেহাদ করার জন্য লাগবে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি। সেটাও আল্লাহ তাঁর রসুলকে দান করেছেন আর রসুল তা আমাদেরকে দিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের আদেশ দিয়েছেন। আমি তোমাদেরকে সেই পাঁচটি কাজের আদেশ দিচ্ছি। সেগুলো হচ্ছে- ১. ঐক্যবদ্ধ হওয়া, ২. নেতার আদেশ শোনা (শৃঙ্খলা), ৩. নেতার আনুগত্য, ৪. হিজরত (শেরক ও কুফর পরিত্যাগ), ৫. জেহাদ।
যে ব্যক্তি (কর্মসূচির) এই ঐক্যবন্ধনী থেকে এক বিঘত পরিমাণও বহির্গত হল, সে নিশ্চয় তার গলদেশ থেকে ইসলামের বন্ধন খুলে ফেলল- যদি না সে তওবা করে ফিরে আসে; এবং যে ব্যক্তি অজ্ঞানতার যুগের কোনো কিছুর দিকে আহ্বান করল, সে নিজেকে মুসলিম বলে বিশ্বাস করলেও, নামায পড়লেও এবং রোজা রাখলেও নিশ্চয়ই সে জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে [আল হারিস আল আশয়ারি (রা.) থেকে আহমদ, তিরমিযি, বাব উল ইমারাত, মেশকাত]।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/JrAoH
উম্মতে মোহাম্মদী কারা ছিল?
আল্লাহর রসুল যখন কালেমা তওহীদের দিকে আহ্বান শুরু করলেন, তখন অল্প কিছু মানুষ তাঁর প্রতি ঈমান আনল, আর অধিকাংশই প্রত্যাখ্যান করল। যারা ঈমান আনলেন তারা হলেন মো’মেন ও উম্মতে মুহাম্মদী। আর যারা প্রত্যাখ্যান করল তারা কাফের মোশরেকই রয়ে গেল। রসুলাল্লাহ সেই গুটি কয়েক মোমেন বান্দা নিয়েই আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থাকে সমগ্র পৃথিবীতে জেহাদ (সর্বাত্মক সংগ্রাম) ও কেতালের (সশস্ত্র সংগ্রাম) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার কাজ চালিয়ে গেলেন। কিন্তু এত বিরাট ও সময়সাপেক্ষ কাজ একজন ব্যক্তির পক্ষে এক জীবনে করা অসম্ভব। তাই তিনি একটি উম্মাহ বা জাতি গঠন করলেন যারা তাঁর ইন্তেকালের পরও কাজটি চালিয়ে যাবে। তিনি সেই উম্মাহকে সঙ্গে নিয়ে শতাধিক ছোট বড় যুদ্ধ করে জাজিরাতুল আরবের সাড়ে ১২ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা এক কথায় শান্তি (ইসলাম) প্রতিষ্ঠা করলেন। তাদেরকে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনসম্পদ উৎসর্গ করার প্রেরণা যোগালেন। তাঁরাও রসুলের সঙ্গে খেয়ে না খেয়ে, গাছের লতাপাতা খেয়ে, পেটে পাথর বেঁধে, শত্রুর আঘাত আঘাতে জর্জরিত হলেন, বাড়িঘর, স্ত্রী-পুত্র, ক্ষেত খামার, ব্যবসা-বাণিজ্য ফেলে দেশান্তরিত হলেন। রণাঙ্গনে আহত রক্তাক্ত হলেন, শেষ পর্যন্ত জীবন উৎসর্গ করে শহীদ হলেন। তারা ছিলেন নেতার আদেশে সমস্ত কিছু কোরবান করার জন্য প্রস্তুত।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/uKv1j
ইসলাম আরবে কী পরিবর্তন ঘটিয়েছিল?
এটা সর্বসম্মত ইতিহাস যে, ইসলামপূর্ব আরবরা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, কুসংস্কার, অশ্লীলতা, অন্ধবিশ্বাস তাদেরকে এমনভাবে পেয়ে বসেছিল যে সেই যুগটিকেই বলা হয় অন্ধকারের যুগ, আইয়্যামে জাহেলিয়াত। অন্যান্য জাতিগুলো এজন্য তাদেরকে প্রচণ্ড অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখত। কিন্তু দীনুল হক ইসলাম সেই আরবদেরকে পুরোপুরি পাল্টে দিল। তারা হয়ে গেল মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা, সর্বদিকে সর্বসেরা। আরবদের এই অভূতপূর্ব উত্থান আজও গবেষকদের কাছে বিস্ময় ও কৌতূহলের বিষয়। ইতঃপূর্বে গোত্রীয় স্বার্থই ছিল তাদের সকল সিদ্ধান্তের ভিত্তি, সেখানে ইসলাম তাদেরকে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করল। যারা বংশানুক্রমে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দাঙ্গায় লিপ্ত থাকত তারাই পরস্পরের ভাই হয়ে গেল। যারা ছিল চরম উশৃঙ্খল, ইসলাম এসে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অভ্যাস অনভ্যাস, পোশাক-আশাক, পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, সামরিক, জাতীয় সকল কর্মকাণ্ডে অনন্য শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে দিল। তারা হয়ে উঠল অন্য জাতির সামনে দৃষ্টান্ত। ইসলাম এসে আরবদের মধ্য থেকে শ্রেণি বৈষম্য, বংশীয় আভিজাত্য ও দাস প্রথাকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/YxBNV
মো’মেন মুসলিম বনাম কাফের মোশরেকের সংজ্ঞা
মো’মেন: মো’মেন কারা তা পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মো’মেন শুধু তারা যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি ঈমান আনে, অতঃপর কোনো সন্দেহ করে না এবং সম্পদ-জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে। (সুরা হুজরাত ১৫)। এ সংজ্ঞার আলোকে দেখা যায় মো’মেন হওয়ার দুটো শর্ত।
এক) আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি ঈমান অর্থাৎ তওহীদ; ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনের কোনো অঙ্গনে আল্লাহর হুকুম-বিধান ছাড়া আর কারো হুকুম-বিধান না মানার অঙ্গীকার। দুই) আল্লাহর নাজিলকৃত সত্যদীন ইসলামকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করে জেহাদ, সর্বাত্মক সংগ্রাম করা।
মুসলিম: আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন, হে মো’মেনগণ! তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (সুরা ইমরান ১০২)। এখানে পরিষ্কার হয়ে গেল যে মো’মেন ও মুসলিম আলাদা বিষয়। মুসলিম শব্দটি এসেছে তসলিম থেকে যার অর্থ বশ্যতা স্বীকার করা, আত্মসমর্পণ করা। সুতরাং বোঝা গেল, যারা আল্লাহর দেওয়া দীন ‘ইসলাম’- এর বশ্যতা স্বীকার করে নেয়, তারা হচ্ছে মুসলিম। ইসলামের সমস্ত পণ্ডিতদের সংজ্ঞা মোতাবেক, যারা বিনা শর্তে, বিনা প্রশ্নে আল্লাহর সমস্ত হুকুমের প্রতি গর্দান পেতে দেয় (অর্থাৎ আনুগত্য করে) তারা হচ্ছে মুসলিম।
কাফের: আল্লাহ বলেছেন, মানুষ দুই প্রকার- মো’মেন ও কাফের (সুরা তাগাবুন ২)। তাই মো’মেনের সংজ্ঞায় যারা পড়ে না তারা স্বভাবতই কাফের। তথাপি আল্লাহ স্পষ্ট করে কাফেরের সংজ্ঞাও জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা দিয়ে যারা হুকুম (শাসন) করে না তারা কাফের, জালেম, ফাসেক (সুরা মায়েদা ৪৪, ৪৫, ৪৭)। এ থেকেও বোঝা যায়, আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থাকে জাতীয়, রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রত্যাখ্যান করে এবং মানুষের তৈরি বা পাশ্চাত্য সভ্যতার তৈরি আইন-কানুন, জীবনবিধান দিয়ে শাসন ও বিচারকার্য পরিচালনা করায় এই মুসলিম জনগোষ্ঠী কার্যত কাফেরে পরিণত হয়েছে।
মোশরেক: ‘মোশরেক’ শব্দটি এসেছে ‘শিরক’ থেকে যার মানে হচ্ছে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক বা অংশীদার করা। যারা জীবনের কোনো ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম মানলো আর কোনো ক্ষেত্রে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষের তৈরি হুকুম বিধান মানলো তারা শিরক করল অর্থাৎ মোশরেক হয়ে গেল। আল্লাহ বলেন, তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ মানো আর কিছু অংশ মানো না? যারা এমনটা করে তাদের একমাত্র প্রতিফল দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ও অপমান এবং কেয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি। (সুরা বাকারা ৮৫)।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
https://youtu.be/Wcf375ksbYc?si=7DKju4AaZBoY3DcR
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/5z1Aa
ইসলামের শরিয়াহ ও মারেফত কী?
মানুষ অন্যান্য প্রাণীর মতো শুধুমাত্র দেহসর্বস্ব জীব নয়। তার দেহ যেমন আছে, তেমনি আত্মাও আছে। দেহের যেমন চাহিদা রয়েছে, তেমনি আত্মারও চাহিদা রয়েছে। দেহ ও আত্মা মিলেই একজন পরিপূর্ণ মানুষ। তাই আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ রসুলের (সা.) মাধ্যমে যে জীবনব্যবস্থা পাঠিয়েছেন, তা শরিয়াহ (বিধিবিধান) ও মারফতের (আধ্যাত্মিকতা) নিখুঁত ভারসাম্যযুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানবরচিত যে কোনো জীবনব্যবস্থার সঙ্গে এর বড় পার্থক্য হল, এতে আইন-কানুন, অর্থনীতি, দণ্ডবিধি প্রভৃতি জাগতিক বিষয়ের পাশাপাশি মানুষের আধ্যাত্মিক সংকটের সমাধানও রয়েছে। কালেমা তওহীদ ঘোষণার মাধ্যমে একজন মানুষ তার আত্মা, হৃদয় ও অন্তরে আল্লাহর উপস্থিতি এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের উপলব্ধি ধারণ করেন। তিনি আল্লাহকে একমাত্র জীবনবিধাতা ও ইলাহ হিসেবে সর্বান্তকরণে মেনে নেন। পরবর্তীতে, যখন তিনি আল্লাহর বিধানগুলো একে একে মানতে শুরু করেন, তখন শরিয়াহ বাস্তবায়ন শুরু হয়।
আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর উম্মাহর চরিত্রে শরিয়াহ ও মারফতের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুতরাং, প্রকৃত ইসলামে আধ্যাত্মিকতা বলতে বুঝায় অন্তরে, আত্মায় আল্লাহর উপস্থিতি এবং জীবনের প্রতি পদক্ষেপে আল্লাহর উপস্থিতিকে গণ্য করে নিজেকে যাবতীয় অন্যায় ও অপকর্ম থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি, নিজের জীবন ও সম্পদের, পুত্র-পরিবারের মায়া ত্যাগ করে আল্লাহর হুকুম-বিধান মানবজীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাওয়া হচ্ছে ইসলামের মারেফত বা আধ্যাত্মিকতা।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/G6MCl
সালাহ কিভাবে মো’মেনের চারিত্রিক প্রশিক্ষণ?
সমগ্র মানবজাতির জীবনব্যবস্থা পাল্টে দেওয়ার মত এত বিরাট কাজ যে জাতি করবে তাদের সেই চরিত্র সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। ইসলামে সেই প্রশিক্ষণ কোথায়? পূর্বে বলে এসেছি, দীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ রসুলকে একাকী ছেড়ে দেননি, দীন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া হিসাবে জেহাদ এবং সেই জেহাদ করার জন্য পাঁচ দফা কর্মসূচিও তিনিই দান করেছেন। কিন্তু কর্মসূচি মোতাবেক কাজ করার জন্য লাগবে তার উপযোগী চরিত্র ও গুণাবলি (অঃঃৎরনঁঃবং)। সেই চরিত্র অর্জনের প্রশিক্ষণ হিসাবে আল্লাহ সালাহ, যাকাত, হজ ও সওম ইত্যাদি আমলের ব্যবস্থা দিয়েছেন। সালাহ হচ্ছে মো’মেনের কাঙ্ক্ষিত চরিত্র অর্জনের প্রশিক্ষণ। এ কারণেই সালাতের বাহ্যিক দৃশ্য পৃথিবীতে কেবল একটি দৃশ্যের সঙ্গেই মিলে, সেটা হচ্ছে সেনাবাহিনীর প্যারেড বা কুচকাওয়াজের দৃশ্য। কারণ একটি সেনাবাহিনীর যে কাজ অর্থাৎ সংগ্রাম, উম্মতে মোহাম্মদীরও সেই একই কাজ। তাই সালাহ একটি ছাঁচ বা ডাইসের মত বিভিন্ন চরিত্রের মানুষকে জেহাদের উপযোগী চরিত্র দান করে। এ কারণেই রসুলাল্লাহ বলেছেন, ইসলাম একটি ঘর, সালাহ হচ্ছে খুঁটি, জেহাদ তার ছাদ (হাদিস- মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে ইবনে মাজাহ, মেশকাত)।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/ZqA5Y
হজ কেন মুসলিম উম্মাহর মহাসম্মেলন?
প্রচলিত ধারণামতে দীনের অন্যতম বুনিয়াদ হজে উদ্দেশ্য হচ্ছে পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধি। কিন্তু ইসলামের সকল আমলের মত হজও আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় বিষয়ের ভারসাম্যযুক্ত। হজ যদি নিছক আধ্যাত্মিক বিষয় হত, তাহলে সেটার জন্য হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। কারণ আল্লাহ তো সর্বত্র আছেন।
হজের মাধ্যমে আল্লাহ এ জাতিকে নানামুখী শিক্ষা দিয়ে থাকেন। কিন্তু হজের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলার দরুন সেসব শিক্ষা আমরা অনুধাবন করতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতির সমস্ত কর্মকাণ্ড হচ্ছে এক অবিচ্ছিন্ন এবাদত। যেমন জামাতে নামাজের উদ্দেশ্য হলো মুসলিম পাঁচবার তাদের স্থানীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র মসজিদে একত্র হবে, তাদের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা পরামর্শ করবে। তারপর সপ্তাহে একবার বৃহত্তর এলাকার জামে মসজিদে জুমার নামাজে একত্র হয়ে ঐ একই কাজ করবে। তারপর বছরে একবার আরাফাতের মাঠে পৃথিবীর সমস্ত মুসলিম জাতির নেতৃত্বস্থানীয়রা, একত্র হয়ে জাতির সর্বরকম সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে, পরবর্তী বছরের জন্য কর্মপরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেবে। সেখানে জাতির ইমাম জাতির উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দিবেন। এভাবে স্থানীয় পর্যায় থেকে ক্রমশ বৃহত্তর পর্যায়ে বিকাশ করতে করতে জাতির কেন্দ্রবিন্দু মক্কায় একত্রিত হবে। এটা হচ্ছে সংক্ষেপে এই মহাসম্মেলনের জাগতিক উদ্দেশ্য।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/eCjNt
দীনের বিনিময় কেন নেওয়া যাবে না?
ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হচ্ছে, দীনের কাজ করে বিনিময় গ্রহণ করা হারাম। যদিও আমাদের সমাজে দীনের বিভিন্ন কাজ করে এক শ্রেণির আলেম ওলামা জীবিকা হাসিল করে থাকে। কিন্তু ইসলাম আল্লাহ ও বান্দার মধ্যখানে কোনা যাজক বা পুরোহিতের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। ধর্মীয় কাজের বিনিময়ে যেমন নামাজ পড়িয়ে, আজান দিয়ে, কোর’আন খতম করে, ওয়াজ মাহফিল করে, কোর’আন হাদিস তথা দীন শিক্ষা দিয়ে, মিলাদ পড়িয়ে, বিয়ে পড়িয়ে, দোয়া-মোনাজাত করে, জানাজা ও দাফন পরিচালনা করে, কবর জিয়ারত করে অর্থাৎ পৌরোহিত্য করে অর্থ গ্রহণ করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। আল্লাহ তাঁর দীনের জ্ঞান, হেদায়াতের জ্ঞানের বিনিময়ে পার্থিব বিনিময়, অর্থমূল্য, স্বার্থসিদ্ধিকে সামানান ক্বালিলা বা তুচ্ছমূল্য বলে বহু আয়াতে উল্লেখ করেছেন এবং মজুরি (উজরান) গ্রহণ করাকে নিষিদ্ধ করেছেন (সুরা বাকারা ১৭৪)। ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা জীবনব্যবস্থা যার উদ্দেশ্য মানব সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। এটার মালিক কোনো মানুষ নয়, এটা কোনো ব্যবসায়িক পুঁজি বা পণ্য নয়, এটা কোনো গোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পত্তি নয় যে কেউ তা বিক্রি করে ভোগ করতে পারে। দীন মানুষের কল্যাণের জন্য এসেছে, তাই এর কোনো পার্থিব বিনিময় চলে না।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/tJWVt
ইসলাম কি নারীদের ঘরের বাইরে যেতে অনুমতি দেয়?
মানবজাতির অর্ধেক নারী। কাজেই জনগোষ্ঠীর অর্ধেককে বাদ দিয়ে কোনো জাতির উন্নতি কল্পনা করা যায় না। যে সমাজে নারীরা পশ্চাৎপদ, অশিক্ষা-কুশিক্ষায় আচ্ছন্ন সে সমাজের অগ্রগতি কোনোদিন সম্ভব নয়। নারী বা পুরুষ কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তারা একে অপরের পরিপূরক। প্রতিকূল পরিবেশে পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জনের জন্য প্রয়োজন পেশীবহুল শক্তিশালী শরীর। আল্লাহ পুরুষকে সেই কাঠামো দিয়ে তৈরি করেছেন এবং তাকে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আর নারীকে করেছেন সেবাপরায়ণ ও মমতাময়ী। তার শরীর ও মনকে করেছেন সন্তান ধারণ ও লালন-পালনের উপযুক্ত। তাই প্রাকৃতিকভাবেই নারী ও পুরুষের দায়িত্বের ক্ষেত্র আলাদা হয়েছে। তবে ইসলাম নারীকে সন্তান লালন ও গৃহস্থালী কাজ ছাড়াও জাতীয়, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক এবং সামরিকসহ সকল অঙ্গনে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেছে।
ইসলামপূর্ব আরবে নারীর কোনো মানবাধিকার ছিল না। বহু পিতা তার কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দিয়ে দিত। সেই সমাজকে রসুলাল্লাহ এমন একটি সমাজে রূপান্তরিত করলেন যেখানে নারীরা সকল জাতীয় রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিল। নারীরা পুরুষের পাশপাশি ঈদ, জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সামিল হতেন। সকল আলোচনা অনুষ্ঠানে নারীরা অংশ নিতেন, তারাও রসুলকে পরামর্শ দিতেন। তারা রসুলের সঙ্গে যুদ্ধে যেতেন, আহতদের সেবা ও চিকিৎসা দিতেন। যুদ্ধের ময়দানে তারা শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতেও লড়াই করেছেন। মক্কা ও মদিনার মত দুইটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাজার নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেছেন নারীরা। হেযবুত তওহীদ এই সমাজব্যবস্থাটি ফিরিয়ে এনে তাদের আল্লাহ-প্রদত্ত, রসুলপাক (সা.) এর শিক্ষা অনুসারে তাদের প্রাকৃতিক অধিকার ও সম্মান-মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/mz0Yp
আরও বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/pPTQy
সঙ্গীত ও শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা কি ইসলামে বৈধ?
শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা মানুষের প্রাকৃতিক প্রবণতা। তাই আল্লাহর দীন এগুলোকে হারাম করেনি, বরং এগুলোর সঠিক চর্চার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। ইসলামপূর্ব আরবে অশ্লীল কাব্যচর্চা হত। রসুলাল্লাহ কাব্যচর্চা নিষিদ্ধ করেননি, শুধু অশ্লীলতা পরিহার করতে বলেছেন। এমনকি আল্লাহও কোর’আন নাজিল করেছেন কাব্যিক ভাষায়। একইভাবে আরবের নাচ-গানে, জীবনাচরণে অশ্লীলতা মিলে মিশে একাকার ছিল। ইসলাম এই অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু গান হারাম করেনি। হালাল ও হারাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইসলামের নীতি হল, আল্লাহ যা হারাম করেন নি তা হালাল। আল্লাহ কোর’আনে গুটিকয় কাজ, খাদ্য ও বিষয় হারাম করেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি বলে দিন: আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, হারাম করেছেন আল্লাহর নাফরমানি, অন্যায়-অত্যাচার চালানো, আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোনো সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জানো না (সুরা আরাফ ৭:৩৩)।
এখানে তিনটি বিষয়কে হারাম করা হচ্ছে। এক- অশ্লীলতা। দুই- আল্লাহর নাফরমানি অর্থ আল্লাহর সুস্পষ্ট বিধানের লংঘন করা, তিন- আল্লাহর সঙ্গে শেরক করা। আল্লাহ প্রদত্ত হালাল হারামের বিধি-নিষেধ মেনে যে কোনো কাজ, সেটা শিল্পচর্চা হোক কি দৈনন্দিন জীবনের যে কোনো কাজ তা ইসলাম পরিপন্থী বা নাজায়েজ কাজ হতে পারে না। রসুলাল্লাহর উপস্থিতিতেও মদীনায় সাহাবীদের বিয়ে শাদি বা অন্য যে কোনো উৎসবে দফ বাজিয়ে গান গাওয়া হতো। আল্লাহর রসুল বলেছেন, ‘তোমরা এই বিবাহের ঘোষণা দাও। এটা মসজিদে সম্পন্ন করো এবং বিবাহ উপলক্ষে দফ (বাদ্য) বাজাও।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ।)
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/Wz5nE
ইসলাম কি খেলাধুলার অনুমোদন দেয়?
জাতির প্রাণশক্তি হল যুব সমাজ। যুবসমাজকে গতিশীল, আদর্শবান, সুস্থ দেহমনের অধিকারী করে গড়ে তোলা এবং তাদেরকে মাদক ও ডিভাইস আসক্তি, জুয়া, অপরাজনীতি, উগ্রবাদ ও অপসংস্কৃতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন সুস্থ বিনোদন ও নানা ধরনের খেলাধুলা। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঐক্যচেতনা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও যে কোনো সংকট মোকাবেলার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু অনেকেই খেলাধুলাকে হারাম বলে ফতোয়া দেন এবং সময় নষ্ট বলে নিরুৎসাহিত করেন। যদিও আমরা ইসলামের ইতিহাসে দেখি আল্লাহর রসুল শরীর গঠনমূলক ও জাতির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিশীল খেলাধুলাকে উৎসাহিত করেছেন এমনকি নিজেও তাতে অংশগ্রহণ করেছেন। অলস, অকর্মণ্য ব্যক্তিদের ইসলাম পছন্দ করে না। হাদিসে আছে, আল্লাহ পছন্দ করেন কর্মচঞ্চল, সজীব, প্রাণবন্ত ও সুঠাম দেহের মো’মেনকে। (সহীহ মুসলিম)। তাই রসুলাল্লাহ সাহাবিদের মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা, কুস্তি, তীর নিক্ষেপ, বল্লম ও তলোয়ার চালানো, ঘোড় দৌড় ইত্যাদির খেলার আয়োজন করেছেন। তবে যে খেলাগুলো জাতিকে সংগ্রামবিমুখ ও অন্তর্মুখী করে সেগুলোকে ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন পাশা, লুডো, ক্যারম, ভিডিও গেমস ইত্যাদি। আবার জুয়া খেলাও হারাম কারণ এতে অনৈক্য ও অশান্তি সৃষ্টি হয়। (সুরা বাকারা ২:২১৯, সুরা মায়েদা ৫:৯০)। ইসলামের এই দৃষ্টিভঙ্গি হেযবুত তওহীদ ধারণ করে। তাই এখানে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা আন্দোলনের সকল নারী ও পুরুষের জন্য বাধ্যতামূলক।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/in7QN
অন্য ধর্মের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?
পৃথিবীতে পাঁচটি বিশ্বধর্মসহ প্রায় সাড়ে চার হাজার ধর্মের অনুসারী রয়েছে। আল্লাহ যখন আদম ও হাওয়াকে (আ.) পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন তখন তিনি বলেছিলেন যে তিনি আদম সন্তানদের জন্য দিক নির্দেশনা (হেদায়াহ) পাঠাবেন (সুরা বাকারা ৩৮)। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে বিভিন্ন যুগে হেদায়াহ দিয়ে লক্ষ লক্ষ নবী রসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁরা সকলেই একই শিক্ষা নিয়ে এসেছেন। সেটা হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহকে জীবনবিধাতা, ইলাহ হিসাবে মেনে নেওয়া এবং তাঁর হুকুম দিয়ে জীবন পরিচালনা করার আহ্বান। আল্লাহর তাঁদের বহুজনকে লিখিত কেতাব দিয়েছেন। অর্থাৎ ধর্ম একটাই কিন্তু সেটা পৃথিবীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ভাষায় এসেছে। উপরন্তু নবীগণের বিদায়ের পর একটি ধর্মব্যবসায়ী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মগ্রন্থ ও সেগুলোর শিক্ষাকে বিকৃত করে ফেলেছে। ফলে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
এই সকল ধর্মের মানুষকে এক পিতা-মাতার সন্তান হিসাবে একজাতিতে পরিণত করে একটি জীবনব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসার জন্য এসেছেন আখেরি নবী মোহাম্মদ (সা.)। ইসলাম অর্ধপৃথিবী জুড়ে এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিল যেখানে সকল ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম পালনের অধিকার লাভ করেছিল, সকলের দূরত্ব ঘুচিয়ে ঐক্য, সমন্বয় ও সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আমরা হেযবুত তওহীদ বিশ্বনবীর সেই কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করে সকল ধর্মের প্রতিনিধি ও অনুসারীদের সঙ্গে সহস্রাধিক আলোচনা অনুষ্ঠান করেছি। সেখানে আমরা সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে প্রতিটি ধর্মের মূল শিক্ষার মধ্যে যে অনুপম একতা রয়েছে সেটা তুলে ধরছি।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/JWJCA
দাজ্জাল সম্পর্কে হেযবুত তওহীদের ধারণা কী?
দাজ্জাল সম্পর্কে নানা ধারণা মুসলিম বিশ্বে চালু আছে। বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আখেরি যামানায় বিরাট বাহনে চড়ে এক চক্ষুবিশিষ্ট মহাশক্তিধর এক দানব পৃথিবীতে আবির্ভূত হবে; তার নাম দাজ্জাল। সে আল্লাহর বদলে নিজেকে মানবজাতির প্রভু (রব) বলে দাবী করবে। দাজ্জালের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো দুইটি জিনিস থাকবে। সে যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা আসলে হবে জাহান্নাম, আর যেটাকে জাহান্নাম বলবে সেটা আসলে হবে জান্নাত। দাজ্জাল শব্দের অর্থ চাকচিক্যময় প্রতারক, যেটা বাইরে থেকে দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু ভেতরে কুৎসিত, যেমন মাকাল ফল। আল্লাহর অশেষ করুণায় হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী সেই দাজ্জালকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, পাশ্চাত্য বস্তুবাদী ইহুদি খ্রিষ্টান যান্ত্রিক সভ্যতাই (ঔঁফবড়-ঈযৎরংঃরধহ গধঃবৎরধষরংঃরপ ঈরারষরুধঃরড়হ) হচ্ছে বিশ্বনবী বর্ণিত সেই দাজ্জাল, যে দানব প্রায় পাঁচশো বছর আগেই জন্ম নিয়ে তার শৈশব, কৈশোর পার হয়ে বর্তমানে যৌবনে উপনীত হয়েছে এবং দোর্দণ্ড প্রতাপে সারা পৃথিবীকে পদদলিত করে চলেছে; আজ মুসলিমসহ সমস্ত মানবজাতি তাকে প্রভু বলে মেনে নিয়ে তার পায়ে সাজদায় পড়ে আছে।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/dZNRC
মো’জেজা: হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা
ইসলামী পরিভাষায় মো’জেজা হল অলৌকিক ঘটনা (গরৎধপষব), যা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ সংঘটন করতে পারে না। যেমন- মৃতকে জীবিত করা, নবজাতককে দিয়ে কথা বলানো ইত্যাদি। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো মানুষের পক্ষে এ ধরনের অলৌকিক কাজ সম্ভব নয়, এমনকি নবী-রসুলদের পক্ষেও সম্ভব নয়। তবে কোর’আনে মো’জেজা শব্দটি নেই। কোর’আনে অলৌকিক ঘটনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে দুটো শব্দ- আয়াত বা নিদর্শন (সুরা শু’আরা ১৫২) এবং বোরহান বা প্রমাণ (সুরা কাসাস ৩২)। আল্লাহ তাঁর মনোনীত বান্দাদের সত্যায়নের জন্য মো’জেজা ঘটিয়ে থাকেন। তাই গত ২ ফেব্রুয়ারী, ২০০৮ তারিখে হেযবুত তওহীদ ও তাঁর এমামকে সত্যায়ন করার জন্য আল্লাহ নিজে ১০ মিনিট ৯ সেকেন্ডের মধ্যে অন্তত ৯টি মো’জেজা সংঘটিত করলেন। মোবাইল ফোন যোগে মাননীয় এমামুয্যামানের একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণের সময় ৩১৮ জন নরনারীর উপস্থিতিতে আল্লাহ এ মো’জেজাগুলি সংঘটিত করেন। গত ১৪০০ বছরে, বিশেষ করে গত এক শতাব্দীতে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে। তাই এ মো’জেজার ঘটনাটিও সেই অগ্রসর বুদ্ধিবৃত্তির উপযোগী করেই আল্লাহ সংঘটন করেছেন। আল্লাহর এই মো’জেজা বুঝতে হলে পাঠককে অবশ্যই অভিনিবেশ সহকারে বিষয়টি অধ্যয়ন ও চিন্তা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য সংবলিত একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে যার নাম “আল্লাহর মো’জেজা: হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা”।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/AKDiu
মাদ্রাসা শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষা
পূর্বে বলে এসেছি যে, রসুলের হাতে গড়া উম্মতে মোহাম্মদী একদেহ এক প্রাণ হয়ে সংগ্রাম করে অর্ধ পৃথিবীতে এক সোনালি সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু ইতিহাসের একটা পর্যায়ে যখন তারা দীন প্রতিষ্ঠান সংগ্রাম ত্যাগ করল এবং দীনের খুঁটিনাটি মাসলা-মাসায়েল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল তখন তারা হাজারো ফেরকা-মাজহাবে বিভক্ত হয়ে পড়ল। তখন শত্রুরা সহজেই মুসলিম ভূখণ্ডগুলোকে সামরিক শক্তিবলে দখল করে নিল এবং তাদেরকে পদানত করে রাখার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করল। এরই অংশ হিসাবে তারা দুই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করল - সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষা। এই দুটো শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দুই ধরনের মনোভাব শিক্ষা দেওয়া হল যার ফলে আমাদের শিক্ষিত সমাজ আদর্শিক ও মানসিকভাবে বিভক্ত হয়ে গেল।
এই দুইপ্রকার শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষিতজনেরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। মাদ্রাসা শিক্ষিতরা মনে করছেন সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতরা জাহান্নামে যাবে আর সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতরা তাদেরকে কাঠমোল্লা, দুনিয়া সম্পর্কে বেখবর, অজ্ঞ বলে চরম অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখেন। একই জাতির মধ্যে এই যে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব - এর মূল কারণ এই ষড়যন্ত্রমূলক জাতিবিনাশী শিক্ষাব্যবস্থা।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/ymOfd
হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা
উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী পন্নী বংশীয় জমিদার পরিবারের সন্তান এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী ১৯৯৫ সালে হেযবুত তওহীদ আন্দোলনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর জন্ম ১৯২৫ সনে যখন ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের অধীন ছিল। বুদ্ধি হবার পর থেকেই তিনি দেখতে পান সমস্ত মুসলিম জগৎ কোনো না কোনো পাশ্চাত্য প্রভুর গোলাম। অথচ মুসলিমরাই এক সময় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সামরিক, অর্থনৈতিক শক্তিতে সমগ্র দুনিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। কিন্তু আজ তাদের এই করুণ পরিণতি কেন? একটু একটু করে, সারা জীবন ধরে তিনি তাঁর এ প্রশ্নের উত্তর পেতে থাকলেন। জীবনের পরিণত বয়সে এসে তিনি বুঝতে পারলেন কী সেই শুভঙ্করের ফাঁকি, যে ফাঁকিতে পড়ে আজ যাদের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি হবার কথা, তারা পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জাতিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বুঝলেন, চৌদ্দশ বছর আগে মহানবী (সা.) যে দীনকে সমস্ত জীবনের সাধনায় আরবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সে দীনটি আর আজ আমরা ‘ইসলাম ধর্ম’ বলে যে দীনটি অনুসরণ করি এ দু’টি দীন পরস্পর-বিরোধী, বিপরীতমুখী দু’টো ইসলাম। ফলে রসুলের নিজ হাতে গড়া জাতিটি এবং বর্তমানের মুসলিম জনসংখ্যাটিও সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ইসলামের সঠিক আকিদা, তওহীদের মর্মবাণী, এবাদতের অর্থ, মো’মেন, মুসলিম, উম্মতে মোহাম্মদী হবার শর্ত, হেদায়াহ-তাকওয়ার পার্থক্য, সালাতের (নামাজের) সঠিক উদ্দেশ্য, দাজ্জালের পরিচয়, দীন প্রতিষ্ঠার তরিকা, পাঁচ দফা কমসূচি এবং কীভাবে তাকে প্রয়োগ করতে হয় ইত্যাদিসহ আরো বহু বিষয় তিনি আল্লাহর দয়ায় বুঝতে পারলেন। মানবজাতিকে তিনি আবারও আল্লাহর তওহীদের উপরে ঐক্যবদ্ধ করে সত্যদীন প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯৫ সনে ‘হেযবুত তওহীদ’ আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/Uhow4
চেইন অব কমান্ড: বর্তমান এমাম
পরিবার থেকে সরকার যে কোনো সংগঠনের একজন চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ থাকতেই হবে যার সিদ্ধান্তকে সবাই চূড়ান্ত বলে মেনে নেবে। উম্মাহর এই কর্তৃপক্ষকে ইসলামের পরিভাষায় বলা হয় ‘ইমাম’ বা নেতা। সকল নবী-রসুলগণও তাঁদের স্ব স্ব উম্মাহর ইমাম ছিলেন। আল্লাহ বলেন, স্মরণ কর, যেদিন (হাশরের দিন) আমি প্রত্যেক কওমকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করব। (বনী ইসরাইল ৭১)।
ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা প্রাকৃতিক নিয়মসিদ্ধ (ঈড়হভড়ৎসবফ ঃড় ঘধঃঁৎধষ খধ)ি। নেতা ছাড়া কখনোই দুজন ব্যক্তির মধ্যেও শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। তাই ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে, দুজন মানুষই হোক বা দু লক্ষ মানুষই হোক, তারা জামাতে নামাজ পড়লে একজন ব্যক্তিকেই ইমাম মানতে হয়। ইসলামের চেইন অব কমান্ড মোতাবেক, ইমামের পরে থাকেন আমির আর আমিরের অধীনে থাকেন মো’মেন-মোজাহেদগণ। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর আদেশ পালন কর, রসুলের আদেশ পালন কর, আর তোমাদের মধ্যে যারা আমির (আদেশ দানকারী, উলিল আমর) তাদের আদেশ পালন কর। (সুরা নিসা ৪:৫৯)।
হেযবুত তওহীদ কোনো ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন নয়, এটি আল্লাহ ও রসুলের প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছে। তাই এখানে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব কাঠামো বা চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী হচ্ছেন আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এমাম। তিনি আন্দোলনের পরিচালনার জন্য তাঁর সার্বক্ষণিক সহকারী জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমকে আমিরের (সমন্বয়কারী) দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাঁর অধীনে বিভিন্ন জেলায় আমির নিয়োগ করা হয়। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠাতা এমামের ইন্তেকালের পর সর্বসম্মতিক্রমে আন্দোলনের এমাম মনোনীত হন জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। সকল সদস্য লিখিত ফরমে স্বাক্ষর করে তাঁর বায়াত গ্রহণ করেন।
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/saYNR
যোগদানের শর্তাবলি ও আন্দোলনের নীতিমালা
কোনো মানুষ যদি জ্ঞান দ্বারা এ সত্যটি বুঝতে পারেন এবং হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারেন যে, একমাত্র আল্লাহর তওহীদ মানুষকে জান্নাতে নিতে পারে এবং তওহীদভিত্তিক সত্যদীন জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মানবজীবনে শান্তি আনতে পারে, তখন তিনি এ আন্দোলনে যোগদান করতে পারেন। নির্দিষ্ট অঙ্গীকারপত্র পূরণ করে তিনি আন্দোলনে যোগদান করবেন। অঙ্গীকারপত্রটি আল্লাহ প্রদত্ত ও রসুল বর্ণিত পাঁচদফা কর্মসূচির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। যোগদানের পর সকলতে কয়েকটি বিষয় পালন করতে হবে। যেমন:
১. প্রচলিত কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না।
২. অবৈধ অস্ত্রের সংস্পর্শে যাবে না, দেশের আইন ভঙ্গ হয় এমন কিছু করা যাবে না।
৩. ধর্মীয় কাজ করে কেউ কোনোরূপ স্বার্থ হাসিল বা বিনিময় গ্রহণ করতে পারবে না, বিনিময় নিবে আল্লাহর কাছ থেকে। কারণ আল্লাহ তাদের অনুসরণ করার আদেশ দিয়েছেন দীনের বিনিময় গ্রহণ করে না। (সুরা ইয়াসিন ৩৬:২১)।
৪. কর্মক্ষম কেউ বেকার থাকতে পারবে না। সকলে হালাল উপায়ে উপার্জন করবে এবং উপার্জন থেকে আল্লাহর রাস্তায় দান করবে।
৫. প্রত্যেকের আমির থাকবে। আমিরের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
৬. আন্দোলনের ভিতরে ঐক্য নষ্ট হয় এমন কোনো কথা বলা যাবে না, কাজও করা যাবে না।
৭. আন্দোলনের কোনো গোপন কার্যক্রম থাকবে না, সবকিছু হবে প্রকাশ্য, স্পষ্ট, দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
৮. যারা হেযবুত তওহীদের সদস্য বা সমর্থক নয় তাদের কাছ থেকে আন্দোলন পরিচালনার কাজে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হবে না।
৯. কেউ অন্য কোনো ধর্মের অবমাননা করতে পারবে না এবং অন্য কোনো ধর্মের প্রবর্তক, অবতার, ধর্মগুরু, ধর্মগ্রন্থ বা উপাসনালয়ের সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করবে না।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/6KjKs
পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার
যারা হেযবুত তওহীদের সকল নীতিমালা মান্য করবেন এবং আন্দোলনের কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবেন তাদের প্রতি আমাদের আন্দোলনের সকলের পক্ষ থেকেও কিছু অঙ্গীকার রয়েছে, যেগুলো পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কারণ আল্লাহ বলেছেন, মো’মেনরা পরস্পর ভাই-ভাই (সুরা হুজরাত ১০)। মহানবী (সা.) বলেছেন, সমগ্র মো’মেন একটি দেহের ন্যায় যার এক অঙ্গে আঘাত পেলে সমস্ত দেহ পীড়িত হয় (মুসলিম)। কাজেই এক মো’মেন আরেক মো’মেনের উপর ঈমানি কর্তব্যবোধ থেকে আমরা নিম্নোক্ত দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
কেউ খাদ্যের অভাবে মারা যাবে না।
কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।
কেউ বস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাবে না।
কেউ বাসস্থানের অভাবে কষ্ট পাবে না।
কেউ জীবনের জন্য অপরিহার্য শিক্ষা ও জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হবে না।
আলহামদুলিল্লাহ বিগত ৩০ বছরে হেযবুত তওহীদের একজন সদস্যকেও খাদ্যের অভাবে থাকতে হয়নি বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হয়নি। শিক্ষার আলো থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে আমরা দীনি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও প্রযুক্তি শিক্ষার সমন্বয়ে আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নির্মাণ করেছি।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
আয়ের উৎস ও ব্যয়ের খাত
যে কোনো আন্দোলন পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। হেযবুত তওহীদ আন্দোলন যখন গঠন করা হয় তখন এ বিষয়টি সামনে আসে যে, আন্দোলন পরিচালনার অর্থ কোথা থেকে আসবে। এজন্য প্রথম দিকে চিন্তা করা হয়েছিল যে সাধারণ মানুষের থেকে চাঁদা তুলে ইসলাম প্রচারের জন্য কাজ করা হবে। কিন্তু মাননীয় এমামুয্যামান ভাবলেন যে, বহু মানুষের হারাম উপার্জনের টাকাও থাকতে পারে। আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার কাজ তো হারাম টাকা দিয়ে হবে না। সেটা হতে হবে মো’মেনদের হালাল রাস্তায় উপার্জিত অর্থে। তাই তিনি শুরু থেকেই এই নীতি ঠিক করে দেন যে, হেযবুত তওহীদের সদস্য নয় এমন কারো থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করা যাবে না। সেই থেকে আন্দোলনের দরিদ্র থেকে দরিদ্র সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কষ্টার্জিত রোজগার থেকে যে অর্থ আল্লাহর রাস্তায় দান করেন সেটা দিয়েই আন্দোলনের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হয়। বিভিন্ন প্রকাশনা সামগ্রী বিক্রয় করেও কিছু অর্থ আন্দোলনে আসে।
ব্যয়ের খাত: আন্দোলনের তহবিল সাধারণত বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: (১) দেশের বিভিন্ন স্থানে অফিস ভাড়া, যাতায়াত, যোগাযোগ রক্ষা, অতিথি আপ্যায়ন, অফিসের কাজের জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয় ও মেরামত; (২) আন্দোলনের প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত বই, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, ক্যালেন্ডার, ডায়েরি ইত্যাদি প্রকাশনা খরচ; (৩) সভা, সেমিনার, সমাবেশ, র্যালি ও ঘরোয়া বৈঠক আয়োজনের জন্য খরচ; (৪) মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা এবং প্রতিপক্ষের দ্বারা হয়রানির শিকার সদস্যদের সহায়তা; (৫) দরিদ্র ও অভাবীদের সহায়তা এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান; (৬) মসজিদ নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি উন্নয়ন ইত্যাদি।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কারা করে, কেন করে?
প্রত্যেক আদর্শেরই পাল্টা আদর্শ ও আদর্শিক প্রতিপক্ষ থাকতেই পারে। সভ্য সমাজে আশা করা হয়, এ ধরনের প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধমতের গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করবে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। আমাদের বিরুদ্ধে দুটি শ্রেণির প্রতিপক্ষ আদর্শিক সমালোচনা না করে ডাহা মিথ্যা, গুজব এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। এই শ্রেণি দুটি হল: এক) ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি এবং দুই) ইসলামবিদ্বেষী শ্রেণি।
ধর্মব্যবসায়ীরা কেন অপপ্রচার করে? আমাদের বিরুদ্ধে তাদের এই শত্রুতার প্রধান দুটি কারণ-
১) অহংকারে আঘাত: তাদের অহংকারে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে আলেম হয়েছেন। তারা তাই নিজেদেরকে নায়েবে নবী ও দীনের কর্তৃপক্ষ বলে বিশ্বাস করেন। এখন আমরা সাধারণ মানুষ যখন দীনের কথা বলছি, তখন সেটা তাদের অহংকারে লাগছে।
২) আর্থিক স্বার্থে আঘাত: তারা ইসলামকে ব্যবহার করে রুজি-রোজগার করছেন, ইসলামকে জীবিকায় পরিণত করেছেন। কিন্তু আমরা এ মহাসত্যটি তুলে ধরেছি যে, আল্লাহর দীনের বিনিময় নেওয়া আল্লাহ হারাম করেছেন এবং যারা বিনিময় নেয় তাদেরকে অনুসরণ করতেও আল্লাহ নিষেধ করেছেন (সুরা বাকারা ১৭৪, সুরা ইয়াসিন ২১)। অর্থাৎ এক কথায় ধর্মের কাজের বিনিমেয় কোনো প্রকার অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটা আমাদের কথা নয়, এটা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কথা, আমরা শুধুমাত্র তুলে ধরেছি।
ধর্মবিদ্বেষীরা কেন অপপ্রচার করে?
উপরে বলে এসেছি যে ব্রিটিশ খ্রিষ্টানরা তাদের তৈরি করা সাধারণ ইংরেজি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মকে গৌণ ও অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসাবে শিক্ষা দিয়েছে। এ শিক্ষায় শিক্ষিতদের অধিকাংশই ধর্মের বিষয়ে চরম অবজ্ঞা পোষণ করেন এবং একে অকল্যাণকর মনে করেন। এই শ্রেণিটির হাতেই মুসলিম বিশ্বের দেশচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, বিশেষ করে গণমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। যেহেতু আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার প্রতি তাদের মনোভাব শত্রুভাবাপন্ন, তাই তারা আন্দোলন প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথম অন্তত ২০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে গেছেন। তারা হাজার হাজার মিথ্যা রিপোর্ট আমাদের বিরুদ্ধে লিখেছেন যেগুলোতে তারা হেযবুত তওহীদকে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত, কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি, সন্ত্রাসী, চরমপন্থী সংগঠন ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করেছেন। এদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা। তাদের এই অবিশ্রান্ত মিথ্যাচারের ফলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় বহু কর্মকর্তা মিডিয়ার এসব মিথ্যা সংবাদ দ্বারা প্রভাবিত হন। ফলে আমাদের সদস্যরা প্রচারকাজ করতে গিয়ে অগণিতবার গ্রেফতার হন এবং অন্তত পাঁচ শতাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হন।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন- https://shorturl.at/2vWLV
জেহাদ, কেতাল ও সন্ত্রাস
মানুষের জীবনের সর্ব অঙ্গনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ আসলেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশ ভীত ও চিন্তিত হয়ে পড়েন। তারা হচ্ছে সেই অংশটি যারা কিছুতেই জাতীয় জীবনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা হোক তা চান না। যারাই আল্লাহর দেওয়া দীন প্রতিষ্ঠার কথা বলে, এই শ্রেণিটি তাদের সবাইকে এক পাল্লায় ফেলে তাদের কর্ম-প্রচেষ্টাকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি বলে প্রচার করে মানুষের কাছে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চান। ইসলামে জেহাদ, কেতালের যে আলোচনা রয়েছে সেটাকেই তারা সন্ত্রাস বলে চিহ্নিত করতে চান। কিন্তু জেহাদ আর সন্ত্রাস এক জিনিস নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
জেহাদ শব্দের অর্থ সংগ্রাম, সর্বাত্মক সংগ্রাম, প্রচেষ্টা। দীন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা মানুষকে মুখে বলে, লিখে, বক্তৃতা করে, যুক্তি উপস্থাপন করে, বুঝিয়ে ইত্যাদি সবই জেহাদের অন্তর্ভুক্ত। আর কেতাল একেবারে ভিন্ন শব্দ যার অর্থ সশস্ত্র যুদ্ধ। জেহাদ ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী ইত্যাদির পর্যায়ে এবং কেতাল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা দল যদি দীন প্রতিষ্ঠার জন্য অস্ত্র হাতে নেয় তবে সেটা হবে মারাত্মক ভুল। তাদের কাজ হবে মানুষকে যুক্তি দিয়ে কোর’আন-হাদিস দেখিয়ে, বই লিখে, বক্তৃতা করে মানুষকে এ কথা বোঝানো যে পৃথিবীতে নিরংকুশ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের মধ্যে বাস করতে হলে একমাত্র পথ- যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর দেয়া জীবন বিধান মোতাবেক আমাদের জীবন পরিচালনা করা। এই কাজ কি জোর করে করাবার কাজ? এটাতো সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায় যে জোর করে, শক্তি প্রয়োগ করে মানুষকে কোন কিছু বিশ্বাস করানো অসম্ভব।
হেযবুত তওহীদ এই কাজটাই করার সংকল্প করেছে এবং করছে মানুষকে বুঝিয়ে, যুক্তি দিয়ে। প্রকৃত ইসলামের স্বরূপ তুলে ধরাই হচ্ছে বিকৃত ইসলামের কুফল থেকে সমাজকে রক্ষা করার একমাত্র পথ। হেযবুত তওহীদ তাই আল্লাহর সার্বভৌমত্বে মানুষকে ফিরে আসার আহ্বান করছে এবং জঙ্গিবাদের ভ্রান্তিগুলো রসুলের জীবন থেকে, কোর’আন হাদিস থেকে তুলে ধরছে।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/VpbjJ
প্রতিষ্ঠাতা এমামের পরিচয়
হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর এমন এক ঐতিহ্যমণ্ডিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান যাদের রয়েছে হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাস। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন আফগান বংশীয় বাংলার স্বাধীন সুলতান যাদের শাসনামলকে ‘কররানি যুগ’ বলে অভিহিত করা হয়। তাঁরই পূর্বপুরুষ সুলতান দাউদ খান কররানি ১৫৭৬ সনে বাংলায় মুঘল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজমহলের যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর উত্তরসূরীরা মুঘল যুগে আটিয়া পরগনার প্রশাসক হন এবং ব্রিটিশ যুগে করটিয়ার জমিদার পরিবার প্রতিষ্ঠা করেন যে পরিবার বাংলাদেশে শিক্ষাবিস্তার, রাজনীতি, ধর্মপ্রচার, সংস্কৃতির লালন, মুসলিম রেনেসাঁয় সর্বোপরি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বিপুল অবদান রেখেছে।
এমায্যামানের পিতৃনিবাস টাঙ্গাইলের করটিয়া জমিদারবাড়ি। জন্ম ১৫ শাবান ১৩৪৩ হিজরী মোতাবেক ১৯২৫ সনের ১১ মার্চ। শৈশব কাটে নিজ গ্রামে। এইচ. এম. ইনস্টিটিউশন থেকে তিনি ১৯৪২ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর সা’দাত কলেজে এবং বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষ শেষ করে দ্বিতীয় বর্ষে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। এখানে শিক্ষালাভের সময় তিনি ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী সংগঠন তেহরিক ই খাকসারে যোগদান করেন এবং নিজ সহজাত নেতৃত্ব ও যোগ্যতাবলে সংগঠনের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে উন্নীত হন। ছোটবেলায় মুসলিম জাতির অতীত গৌরব আর বর্তমানের অবস্থার মধ্যে তিনি বিরাট পার্থক্য লক্ষ করে এর কারণ অনুসন্ধানে ব্রতী হন। ধীরে ধীরে তিনি আল্লাহর দয়ায় বুঝতে পারেন যে, কীসের পরশে এই জাতি ১৪০০ বছর পূর্বে একটি মহান উম্মাহয় পরিণত হয়েছিল, আর কীসের অভাবে আজকে তাদের এই চরম দুর্দশা? সেটা হচ্ছে ইসলামের প্রকৃত আকিদা। ১৯৯৫ সনে তিনি ইসলামের প্রকৃত রূপটি মানবজাতির সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সূচনা করেন। সত্য প্রচার করতে গিয়ে তিনি নিজের সকল সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেন। ১৬ জানুয়ারী ২০১২ তারিখে এ মহান ব্যক্তিত্ব পরলোকগমন করেন।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/puLc0
হেযবুত তওহীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
বিশ্বব্যাপী প্রগতিশীল শান্তিময় সভ্যতা নির্মাণের দৃষ্টান্ত হিসেবে হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমাম নিজ গ্রাম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার পোরকরাকে মডেল গ্রাম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিছুদিন আগেও গ্রামটি ছিল অজ পাড়া গাঁ যেখানে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অথচ বর্তমানে এটি একটি উপশহরে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। হেযবুত তওহীদের সদস্যরা এখানে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন এবং অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার পরিবর্তন করছেন।
(১) শহীদী জামে মসজিদ: মাননীয় এমামের বাড়ির আঙিনায় প্রতিষ্ঠিত চারতলাবিশিষ্ট শহীদী জামে মসজিদ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও সংস্কৃতির চর্চাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
(২) চাষীরহাট নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়: বস্তুগত জ্ঞান ও নৈতিক চরিত্রে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হেযবুত তওহীদ একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা প্রস্তাব করছে যার চর্চার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে চাষীরহাট নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়
(৩) কৃষি প্রকল্প: জাতির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চাষীরহাটে বহুসংখ্যক কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রকল্পে ধান, ভুট্টা, পাট, গম ইত্যাদি ফসল ছাড়াও নানাপ্রকার ফলমূল, শাক-সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
(৪) মৎস্য চাষ প্রকল্প: এখানে বর্তমানে নয়টি পুকুর খনন ও সংস্কার করে মাছ চাষ করা হচ্ছে, যার মোট আয়তন প্রায় ২০ একর। এসব পুকুরে বছরে দুশো টনের বেশি মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে মৎস্য প্রজনন প্রকল্প যা ইতোমধ্যেই অধিক ডিম ও পোনা উৎপদনের জন্য সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের পুরস্কার লাভ করেছে।
(৫) পোশাক শিল্প কারখানা: এখানে স্থাপিত তৈরি পোশাক কারখানা কররানি ফ্যাশনস-এ কর্মরত আছেন তিন শতাধিক নারী পুরুষ। এখানে বাচ্চাদের পোশাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের পোশাক, মশারি ইত্যাদি উৎপাদন করা হচ্ছে।
(৬) গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প: দুধ ও মাংসজাত আমিষের চাহিদা পুরণের জন্য এম এম এগ্রো ফার্ম নামে চাষীরহাটে তিনটি গরুর খামার স্থাপন করা হয়েছে। বছরে এসব খামার থেকে পাঁচ শতাধিক গরুকে স্টেরয়েড প্রয়োগ না করে পুরোপুরি অর্গানিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যবান ও হৃষ্টপুষ্ট করে বিক্রি করা হয়। গরুর খাওয়ার জন্য প্রায় ২০ একর জমিতে উন্নতজাতের ঘাসের চাষ করা হয়। দানাদার গোখাদ্য ও ভুট্টার সাইলেজ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়। ফলে এই খামারের গরুর মাংস সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর।
(৭) খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-প্রতিষ্ঠান: এখানে কররানি ব্র্যান্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যা সরিষার তেল, লাল আটা, গুড়া মসলা, সাবান, ডিটার্জেন্ট, মশার কয়েলসহ ৮০টির বেশি পণ্য উৎপাদন করছে।
(৮) তাঁতশিল্প: এখানে স্থাপন করা হয়েছে একটি তাঁত শিল্প কারখানা যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী বয়নশৈলী মিশিয়ে শাড়ি, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, গামছা, টেবিলক্লথ, বিছানার চাদর ইত্যাদি তৈরি করা হয়।
(৯) হাসপাতাল: নোয়াখালীর প্রত্যন্ত জনপদে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে চলছে হেযবুত তওহীদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সেলিমস ক্লিনিক। এতে এলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাপদ্ধতির অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
(১০) আবাসন প্রকল্প: চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা শ্রম দিচ্ছেন তাদের আবাসনের জন্য সেখানে প্রতিনিয়ত সেখানে চলছে ভবন নির্মাণ। ইতোমধ্যে স্থাপিত আবাসন প্রকল্প ‘মেম্বার কলোনিতে’ ৫০ টি পরিবার বাস করতে পারছে।
(১১) ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রকল্প: বেকার যুবকদের সাবলম্বী করে তোলার জন্য এখানে অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।
(১২) বাণিজ্য মেলা: চাষিরহাট নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতি বছর সপ্তাহব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে আমাদের প্রকল্পসমূহে উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রি করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয় এই মেলায়। তারা মেলার অনবদ্য শৃঙ্খলা, উৎসবমুখর পরিবেশ, অটুট নিরাপত্তা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তুষ্ট হন।
নোয়াখালী ছাড়াও দেশের অন্যান্য অর্ধশতাধিক জেলায় অবস্থিত আমাদের শাখাগুলোতে একই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। যদিও এই মডেল স্থাপনে আমরা সময় খুব বেশি পাইনি, মাত্র পাঁচ বছর, যার মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারী, বন্যা, ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডাসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদের উপর দিয়ে গেছে। তারপরও আমরা প্রমাণ করেছি, আদর্শ দ্বারা যদি মানুষের আত্মার উন্নয়ন ঘটানো যায়, চেতনার পরিবর্তন সাধন করা যায় তবে এ ব্যবস্থায় নিশ্চিতভাবেই সমাজের সব সমস্যার নিরসন করা সম্ভব।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে - https://www.hezbuttawheed.org/research
তওহীদে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
বর্তমানে পৃথিবীতে মুসলমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় দুশো কোটি। বিশ্বের ৫৬ টি দেশে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই দেশগুলোসহ সমগ্র পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মসজিদে প্রতিদিন কোটি কোটি মুসল্লি নামাজ পড়ছে, লক্ষ লক্ষ মাদ্রাসায় কোর’আন তেলাওয়াত ও হেফজ করা হচ্ছে, রমজান আসলে প্রায় সমগ্র মুসলমান জনগোষ্ঠী রোজা পালন করছে, প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ হজ ও ইজতেমা করছে, ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে, পীরের দরবারে উরশ ও জিকির আজকার হচ্ছে। কিন্তু তারপরও এই মুসলিম জনগোষ্ঠী সকল জাতির দ্বারা লাঞ্ছিত, অপমানিত, পরাজিত কেন?
এই প্রশ্নের বহুরকম উত্তর প্রচলিত আছে। কিন্তু আমরা হেযবুত তওহীদ বলছি, এর কারণ সমগ্র মুসলিম জাতি ইসলামের ভিত্তি ‘তওহীদ’ থেকে সরে গেছে। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ হাজারো রকম আমলের পূর্বশর্ত যে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতি ঈমান, সেই ঈমান থেকে তারা সরে গেছে। কলেমা তওহীদের অঙ্গীকারে তারা কোর’আনের হুকুম প্রত্যাখ্যান করে মানুষের তৈরি হুকুম মানছে, এক কথায় আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকে তারা ইলাহ হিসাবে গ্রহণ করেছে। এই কাজ করে তারা কলেমা তওহীদের অঙ্গীকার থেকে বের হয়ে গেছে, ইসলাম থেকেও বের হয়ে গেছে। আখেরি নবীসহ সকল নবী-রসুল মানুষকে এই তওহীদের দিকে আহ্বান করেছেন, আমরাও শেষ নবীর উম্মত হিসাবে মানবজাতিকে আল্লাহর তওহীদের দিকে আহ্বান করছি। তওহীদের এই ডাকে যদি কারো হৃদয়তন্ত্রীতে হেদায়াতের ঝংকার ওঠে আজই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং পৃথিবীতে সত্যদীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সামিল হোন। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর তওহীদের রজ্জু ধারণ করার তওফিক দান করুন। আমিন।
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন-
বিস্তারিত জানতে এই বইটি পড়ুন- https://shorturl.at/lO8xe
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত দিন
ক্যাটাগরি সমূহ
জনপ্রিয় নিবন্ধ
-
আসুন জান্নাতের রাস্তা চিনে নিই
28 Dec, 2017 -
ইসলাম কীভাবে দাসত্বপ্রথাকে নির্মূল করেছে?
22 Nov, 2023 -
যে সভ্যতা তেলা মাথায় তেল দেয় ওই সভ্যতাকে ঘৃণা...
27 Aug, 2015 -
শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র...
01 May, 2026 -
দাঙ্গাকারীদের স্বর্গ নেই
22 Jan, 2016
সাম্প্রতিক নিবন্ধ
-
হেযবুত তওহীদ আকিদা ও বিশ্বাস
20 Sep, 2026 -
রাজধানীতে হেযবুত তওহীদ ওলামা ফোরামের মানববন্ধ...
16 Sep, 2026 -
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও উসকানির প্...
15 Sep, 2026 -
কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠ...
14 Sep, 2026 -
দীন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের ডাক ইমাম সেলিমের
11 Sep, 2026
বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!