নিবন্ধ ও সম্পাদকীয়

সময় এসেছে প্রচলিত সিস্টেমকে পরিবর্তন করার

29 May, 2015 Super Admin 633 ভিউ
সময় এসেছে প্রচলিত সিস্টেমকে পরিবর্তন করার

Saif-vaiসাইফুর রহমান, হেযবুত তওহীদ:
আমরা অনেক দেখেছি অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর আর ককটেল আতঙ্ক। অপরপক্ষে সমানুপাতিকহারে গ্রেফতার, রিমান্ডের নামে বিরোধী দলের উপর দমন-পীড়ন। ঊভয়পক্ষের ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে সাধারণ জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত। এ যেন রাজনীতিকদের স্বাধীন বাংলা, সাধারণ জনগণের নয়। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান বাংলাদেশ কঠিনতম সময় অতিক্রম করছে। সহিংসতা ও বর্বরতার দৃশ্য দেখতে দেখতে দেশের জনগণ অনেকটাই বিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। এমন সহিংসতা বাঙ্গালির স্বাধীনতা পরবর্তী জাতীয় ইতিহাসে খুব কমই এসেছে। কাজেই এটাকে চিরাচরিত নিয়ম বলে উড়িয়ে দেবার কোনো কারণ নেই। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে এই সিদ্ধান্তে আসা কষ্টকর হবে না যে, এই সবগুলো ঘটনারই মূল হলো একটাই, তথাকথিত গণতন্ত্র। বলা হয়ে থাকে ১৯৭১ সালের অর্জিত স্বাধীনতার পরিপূর্ণতা এসেছে ১৯৯১ সালে। রক্তে রঞ্জিত রাজপথের উপর দিয়ে দেশ কাঁপানো আন্দোলনের ফলশ্র“তিতে গণতন্ত্র কার্যকর করার পরই নাকি এদেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে। কথাটির সাথে বাস্তবতাকে হয়তবা অনেকেই মেলাতে পারবেন না। তাই তাদের সেই মতবাদকে স্বপ্রণোদিত হয়ে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ কোরছি। এ বিষয়ে আশা করি সকলেই একমত হবেন যে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। যেহেতু আমাদের রাজনীতিকরা গণতন্ত্রকেই স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হিসেবে বিশ্বাস করেন হয়তোবা এই কারণেই গণতন্ত্র রক্ষা কোরতে ব্যস্ত হোয়ে পোড়েছেন। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত একথার সাথে দ্বিমত পোষণ করা মোটেও সম্ভব নয়। আর এই দুই ভাগের দৃষ্টিতে গণতন্ত্রও দুই রকমের। তারা উভয়ভাগই গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী সেজে পরস্পরকে গণতন্ত্র বিধ্বংসী হিসেবে চিহ্নিত কোরতে ব্যস্ত। সরকার বোলছেন- গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে বিরোধীদল হরতাল, অবরোধ, হামলা, ভাংচুর, জালাও-পোড়াও কোরছে। তারা নিরীহ মানুষদেরকে হত্যা কোরছে, জনসাধারণের জীবনজীবিকাকে হুমকীর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সারা দেশে বোমা, ককটেল আর লাঠি-সোটা দিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষকে জিম্মি করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। তারা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। তাদেরকে রুখে দেওয়া এখন সরকারের মানবিক দায়িত্ব। তাই দেখা যায় জাতির স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারও হার্ডলাইনে যাচ্ছে। যত্রতত্র লাশ পড়ছে। যাদের লাশ পড়ছে তারাতো কর্তৃপক্ষের চোখে সমাজবিরোধী আগে থেকেই প্রমাণিত।
বিরোধীদলের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা মোটেও সরকারকে বৈধ মনে করে না। তারা বহু পূর্বে থেকেই সরকারকে স্বৈরশাসক, ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে রেখেছে। তাদের চোখে গণতন্ত্র হারিয়েছে অনেক আগেই। কাজেই তারা বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে পুণরুদ্ধার করার জন্য আন্দোলন-সহিংসতা কোরছেন। আর তাই এরশাদ আমলে যেমন কোমর বেঁধে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেমেছিলেন আজও ঠিক একই উদ্দেশ্যে নেমেছেন। তারা দেশবাসীর জন্য আন্দোলন কোরছেন, জীবন দিচ্ছেন। তাদের কথা যুক্তিও ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
তাহোলে কী অবস্থা দাঁড়ালো? সরকার আর বিরোধীদল উভয়ই গণতন্ত্রের জন্য মারামারি, কাটাকাটি, গোলাগুলি, বোমাবাজি, হরতাল, গ্রেফতার বা রিমান্ড ইত্যাদি কোরছেন। তারা প্রত্যেকেই নিজেদেরকে জনগণের পক্ষের শক্তি দাবি করে পরস্পরকে ঘায়েল কোরতে আপ্রাণ চেষ্টা কোরে চোলেছেন। কিন্তু এতে জনগণের কি উপকার হচ্ছে? এক পক্ষ জনতার দাবির কথা বলে হরতাল দিচ্ছে, বোমা মারছে, ককটেল ফাটাচ্ছে, যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিচ্ছে আবার আরেক পক্ষও সেই একই দাবি, গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলে তাদেরকে দমন করছে। দু:খের বিষয় হোল এই অমানবিক কাজগুলো জনতার কল্যাণে, জনতার স্বাধীনতা আনয়নের জন্য চালানো হোলেও পরিণাম ভোগ করতে হচ্ছে জনতাকেই। সাধারণ রিক্সাচালক থেকে শুরু কোরে ১৪ বছরের শিশুও এই নৃশংস কর্মকাণ্ডের ফল ভোগ করা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যাদের একদিন কাজ বন্ধ থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে উপোস থাকতে হোচ্ছে। সকল ভয়-ডর পশ্চাতে ফেলে যারা রাস্তায় জীবিকার সন্ধানে বের হোচ্ছেন তারাও প্রতিটি মুহূর্তে তাদের জীবন নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন, জীবন দিচ্ছেন, আহত হচ্ছেন, অঙ্গ হারাচ্ছেন। কারণ, রাজপথ এখন আর জনসাধারণের অবাধ বিচরণের উপযুক্ত নয়, রাজপথ এখন রাজনৈতিক কর্মীদের যুদ্ধ ময়দান। গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধ! জনসাধারণের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ! জনকল্যাণের এই যুদ্ধে ৫/১০ টা জনতার লাশ তাদের কাছে আনুষঙ্গিক ক্ষয়ক্ষতি মাত্র!
-সরকার ও বিরোধীদল উভয়েই গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নেমেছেন, কারণ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। তারা গণতান্ত্রিক সিস্টেমের ফাঁদে পড়ে একের পর এক জীবন হারিয়ে চোলেছে কিন্তু তবুও গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কোনো কিছুকে গ্রহণ করার কথা ভুলেও চিন্তুা করে না। তাদের চাওয়ার বাস্তবায়নেই মূলত সরকার ও বিরোধীদল গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নেমেছেন। কাজেই এটা জনগণের জন্য একটি আশার আলো।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য অনেকে বোলছেন তৃতীয় শক্তির উত্থানের কথা। কিন্তু প্রশ্ন হোচ্ছে তৃতীয় শক্তি অন্য কোন দল যদি ক্ষমতায় আসে তবে সে যে একই আচরণ করবে না তার কী নিশ্চয়তা আছে? যে দলই ক্ষমতায় আসুক তার নাম হবে সরকারি দল, বাকিরা হবে বিরোধী দল। সুতরাং দৃশ্যপটে শুধু নায়ক পরিবর্তন হবে, ঘটনা প্রবাহের বিশেষ কোন পরিবর্তন আসবে না এটা নিশ্চিত বলা যায়। এখানে বি. এন. পি বা আওয়ামীলীগ কোন বিষয় নয়, বিষয় হোল সিস্টেম। প্রচলিত গণতান্ত্রিক সিস্টেমে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, আর যে পক্ষই বিরোধী দলে থাকুক তাদের তো এই গণতান্ত্রিক আচরণ (হরতাল, অবরোধ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ; গ্রেফতার, রিমান্ড, মিথ্যা মামলা, হয়রানি ইত্যাদি) কোরতেই হবে।
সুতরাং আজ সময় এসেছে দলাদলি ও বিভেদের এই প্রচলিত সিস্টেম তথা গণতন্ত্রকে নির্বাসন দিয়ে ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হবার। যদি আমরা শান্তি, প্রগতি, উন্নতি চায় তবে অবশ্যই সত্য, ন্যায় ও হকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আল্লাহর দেওয়া সিস্টেম গ্রহণ কোরতে হবে।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1652 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 103 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 19 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 25 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 61 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি #সংবাদ-সম্মেলন