আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

ধর্মহীন মনুষ্য সমাজ

04 Mar, 2023 Super Admin 1051 ভিউ
ধর্মহীন মনুষ্য সমাজ

ধর্ম কথাটির অর্থ হলো ধারণ করা। অর্থাৎ কোনো বস্তুর অন্তর্নিহিত গুণই হল সেই বস্তুর ধর্ম। যেমন-আগুনের ধর্ম পোড়ানো, পানির ধর্ম ভেজানো। আগুন যদি তার পোড়ানোর ক্ষমতা হারায় তাহলে সেটা আর আগুন থাকে না, পানি যদি তার ভেজানোর ক্ষমতা হারায় তবে তা আর পানি থাকে না। কারণ, তারা তাদের নিজ ধর্ম বা গুণ ত্যাগ করেছে। ঠিক তেমনি মানুষের ধর্ম হলো মানবতা, মনুষ্যত্ব। একজন মানুষের দুঃখে অন্যজন দুঃখিত হবে, তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবে এবং অন্যের আনন্দে সে আনন্দিত হবে, এটাই মানুষ হিসেবে তার অšত্মর্নিহিত গুণ বা ধর্ম। মানুষের এই ধর্মই তাকে পশুর থেকে আলাদা করে। মানুষ হলো স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। কারণ মানুষ জ্ঞান, বিবেক, মানবতা ও মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন প্রাণী। তাই সে স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক হতে পারে না। পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের ছোট থেকে বড় যে কোনো সংকট, অন্যায়, অশান্তি, ঐক্যহীনতা তাকে ভাবিয়ে তুলবে। আর তাই তার অন্তর্নিহিত মনুষ্য ধর্মের তাড়নাতেই সে এগিয়ে যায় সমাজের সকল অন্যায় অশান্তি দূর করে এক শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণের মানসে। যেখানে থাকবে না কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্ব, অন্যায়, অশান্তি, মানুষের জীবন ও সম্পদের অনিরাপত্তা। যেখানে নিরাপদ থাকবে প্রতিটি নারী ও শিশু। যেখানে প্রতিটি মানুষের মনের মূল মন্ত্রই হবে সমাজের উন্নতি সাধন। অপর দিকে পশু হলো জ্ঞান-বুদ্ধিহীন হিংস্র প্রাণী।

একটা পশুর জীবন পরিক্রমায় জন্মের পর থেকে শুধু মাত্র বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য সংগ্রহই তার জীবনের মূল লড়্গ্য। বয়স হলে সন্তান জন্ম দিবে, তার আহার যোগান দিতে সারা দিন পরিশ্রম করবে এবং একটা পরিণত বয়স হলে মারা যাবে। আর এই কাজের জন্য একে অপরকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনা বরং পশুর সমাজে এক পশু আরেক পশুকে হত্যা করা, এক পশু আরেক পশুর মাংস খাওয়াটাই সাধারণ চিত্র। যেটা মানব ধর্মের তথা মনুষ্য সমাজের সম্পূর্ণ বিপরীত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আজকে আমাদের পৃথিবীব্যাপী কোথাও এমন একটি জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে প্রতিদিন কোনো না কোনো অন্যায় সংঘটিত হয় না। পশুর সমাজে যাওয়ার সময় মানুষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে যায়, বন্য পশুর হাত থেকে রড়্গা পাওয়ার জন্য সাথে অস্ত্র রাখেন। ঠিক তেমনি এই মনুষ্য সমাজেও মানুষ নিজের নিরাপত্তার জন্য সাথে অস্ত্র রাখেন, দেহরড়্গী নিয়োগ করেন মানুষেরই হাত থেকে রড়্গা পাওয়ার জন্য।

যারাই মোটামুটি পত্রিকা, টেলিভিশনে খবরের চ্যানেলগুলোতে চোখ রাখেন তারা সকলেই জানেন যে প্রতি সেকেন্ডেই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ লুট, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাদাকে কালো, কালোকে সাদা করা হচ্ছে। যেখানে এক বাংলাদেশের মতো ছোট আয়তনের দেশে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাহলে পুরো পৃথিবীর পরিসংখ্যান কী হতে পারে তা ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। এখন এই সকল অপরাধ কোনো এলাকা, সমাজ, বা রাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখনতো বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এক দেশ আরেক দেশের সম্পদ লুট করা, নিরীহ মানুষকে কচুকাটা করা, নারী ও শিশুকে তারই পিতা, ভাই বা স্বামীর সামনে ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজেরও রেওয়াজ শুরম্ন হয়ে গেছে। এত কিছুর পরও যারা নিরাপদে এসির বাতাসে জীবন যাপন করছেন, যাদের ঘরের চালে কোনো শত্রম্নর শকুন দৃষ্টিপরেনি, যেই ঘরের মেয়েরা কোনো বখাটের লালসার শিকার হয়নি এখনো তারা বলে, সমাজে তো শান্তি  অবারিত, আমরাতো ঐক্যবদ্ধ। সরকারপক্ষ বলে এই সরকার যতদিন থাকবে ততদিন কেউ কোনো ড়্গতি করতে পারবে না, বিরোধীপড়্গ বলে যতদিন এই সরকার থাকবে ততদিন মানুষ শান্তি পাবে না।

আমি বলি ভাই, আর কত নিরীহ মানুষের রক্ত দিলে, আর কত নারী ও শিশু ধর্ষিতা হলে একটি সমাজের আর কতটুকুু অধঃপতন হলে আমরা বুঝতে পারবো যে, আমরা আর মানুষ নেই, আমরা সবাই পশু হয়ে গেছি। মানুষ তার মনুষ্য ধর্ম হারিয়েছে। এই পৃথিবীতে মানবতা আজ ভুলুণ্ঠিত, এটা মনুষ্যধর্মহীন এক পশুর সমাজে পরিণত হয়েছে। কান পাতলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শত শত অনাথ, ক্ষধার্ত শিশুর কান্না, হাজার হাজার ধর্ষিতা নারীর হৃদয়ের আর্তনাদ এখনো যারা শুনতে পাই না, এখনো যারা ঐক্যবদ্ধ একটা জাতি তৈরির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছি না তাদের এই উদাসীনতার  খেসারত হয়তো আমাদের ১৬ কোটি বাঙালির জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জত দিয়েই চুকাতে হবে। আর সমস্ত অনৈক্য ভুলে যদি মানবতাবাদী এক জাতি, এক দেশ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ হতে পারি, তবে এই ষোল কোটি বাঙালি হয়তো পাল্টে দিতে পারে পৃথিবীর এই ঘৃণিত প্রেড়্গাপট। যার জন্য প্রয়োজন কিছু নিস্বার্থ, মানবতাবাদী মানুষের একটা ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত। যারা এই সমাজকে পরিবর্তনের জন্য গড়ে তুলবে আরেকটি রেনেসা। যার ফলে মানুষের মনের জগতে ঘটবে পরির্তন। সমাজের প্রতিটি  স্তরে বিরাজ করবে মানবতা , মনুষ্যত্যবোধ, ন্যায়, সততা, ঐক্য। যার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে মনুষ্যধর্মসম্পন্ন একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ।

ট্যাগসমূহ:

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1652 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 103 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 20 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 25 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 61 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি #সংবাদ-সম্মেলন