আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

ধর্মহীন মনুষ্য সমাজ

04 Mar, 2023 Super Admin 1015 ভিউ
ধর্মহীন মনুষ্য সমাজ

ধর্ম কথাটির অর্থ হলো ধারণ করা। অর্থাৎ কোনো বস্তুর অন্তর্নিহিত গুণই হল সেই বস্তুর ধর্ম। যেমন-আগুনের ধর্ম পোড়ানো, পানির ধর্ম ভেজানো। আগুন যদি তার পোড়ানোর ক্ষমতা হারায় তাহলে সেটা আর আগুন থাকে না, পানি যদি তার ভেজানোর ক্ষমতা হারায় তবে তা আর পানি থাকে না। কারণ, তারা তাদের নিজ ধর্ম বা গুণ ত্যাগ করেছে। ঠিক তেমনি মানুষের ধর্ম হলো মানবতা, মনুষ্যত্ব। একজন মানুষের দুঃখে অন্যজন দুঃখিত হবে, তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবে এবং অন্যের আনন্দে সে আনন্দিত হবে, এটাই মানুষ হিসেবে তার অšত্মর্নিহিত গুণ বা ধর্ম। মানুষের এই ধর্মই তাকে পশুর থেকে আলাদা করে। মানুষ হলো স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। কারণ মানুষ জ্ঞান, বিবেক, মানবতা ও মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন প্রাণী। তাই সে স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক হতে পারে না। পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের ছোট থেকে বড় যে কোনো সংকট, অন্যায়, অশান্তি, ঐক্যহীনতা তাকে ভাবিয়ে তুলবে। আর তাই তার অন্তর্নিহিত মনুষ্য ধর্মের তাড়নাতেই সে এগিয়ে যায় সমাজের সকল অন্যায় অশান্তি দূর করে এক শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণের মানসে। যেখানে থাকবে না কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্ব, অন্যায়, অশান্তি, মানুষের জীবন ও সম্পদের অনিরাপত্তা। যেখানে নিরাপদ থাকবে প্রতিটি নারী ও শিশু। যেখানে প্রতিটি মানুষের মনের মূল মন্ত্রই হবে সমাজের উন্নতি সাধন। অপর দিকে পশু হলো জ্ঞান-বুদ্ধিহীন হিংস্র প্রাণী।

একটা পশুর জীবন পরিক্রমায় জন্মের পর থেকে শুধু মাত্র বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য সংগ্রহই তার জীবনের মূল লড়্গ্য। বয়স হলে সন্তান জন্ম দিবে, তার আহার যোগান দিতে সারা দিন পরিশ্রম করবে এবং একটা পরিণত বয়স হলে মারা যাবে। আর এই কাজের জন্য একে অপরকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনা বরং পশুর সমাজে এক পশু আরেক পশুকে হত্যা করা, এক পশু আরেক পশুর মাংস খাওয়াটাই সাধারণ চিত্র। যেটা মানব ধর্মের তথা মনুষ্য সমাজের সম্পূর্ণ বিপরীত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আজকে আমাদের পৃথিবীব্যাপী কোথাও এমন একটি জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে প্রতিদিন কোনো না কোনো অন্যায় সংঘটিত হয় না। পশুর সমাজে যাওয়ার সময় মানুষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে যায়, বন্য পশুর হাত থেকে রড়্গা পাওয়ার জন্য সাথে অস্ত্র রাখেন। ঠিক তেমনি এই মনুষ্য সমাজেও মানুষ নিজের নিরাপত্তার জন্য সাথে অস্ত্র রাখেন, দেহরড়্গী নিয়োগ করেন মানুষেরই হাত থেকে রড়্গা পাওয়ার জন্য।

যারাই মোটামুটি পত্রিকা, টেলিভিশনে খবরের চ্যানেলগুলোতে চোখ রাখেন তারা সকলেই জানেন যে প্রতি সেকেন্ডেই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ লুট, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাদাকে কালো, কালোকে সাদা করা হচ্ছে। যেখানে এক বাংলাদেশের মতো ছোট আয়তনের দেশে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাহলে পুরো পৃথিবীর পরিসংখ্যান কী হতে পারে তা ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। এখন এই সকল অপরাধ কোনো এলাকা, সমাজ, বা রাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখনতো বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এক দেশ আরেক দেশের সম্পদ লুট করা, নিরীহ মানুষকে কচুকাটা করা, নারী ও শিশুকে তারই পিতা, ভাই বা স্বামীর সামনে ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজেরও রেওয়াজ শুরম্ন হয়ে গেছে। এত কিছুর পরও যারা নিরাপদে এসির বাতাসে জীবন যাপন করছেন, যাদের ঘরের চালে কোনো শত্রম্নর শকুন দৃষ্টিপরেনি, যেই ঘরের মেয়েরা কোনো বখাটের লালসার শিকার হয়নি এখনো তারা বলে, সমাজে তো শান্তি  অবারিত, আমরাতো ঐক্যবদ্ধ। সরকারপক্ষ বলে এই সরকার যতদিন থাকবে ততদিন কেউ কোনো ড়্গতি করতে পারবে না, বিরোধীপড়্গ বলে যতদিন এই সরকার থাকবে ততদিন মানুষ শান্তি পাবে না।

আমি বলি ভাই, আর কত নিরীহ মানুষের রক্ত দিলে, আর কত নারী ও শিশু ধর্ষিতা হলে একটি সমাজের আর কতটুকুু অধঃপতন হলে আমরা বুঝতে পারবো যে, আমরা আর মানুষ নেই, আমরা সবাই পশু হয়ে গেছি। মানুষ তার মনুষ্য ধর্ম হারিয়েছে। এই পৃথিবীতে মানবতা আজ ভুলুণ্ঠিত, এটা মনুষ্যধর্মহীন এক পশুর সমাজে পরিণত হয়েছে। কান পাতলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শত শত অনাথ, ক্ষধার্ত শিশুর কান্না, হাজার হাজার ধর্ষিতা নারীর হৃদয়ের আর্তনাদ এখনো যারা শুনতে পাই না, এখনো যারা ঐক্যবদ্ধ একটা জাতি তৈরির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছি না তাদের এই উদাসীনতার  খেসারত হয়তো আমাদের ১৬ কোটি বাঙালির জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জত দিয়েই চুকাতে হবে। আর সমস্ত অনৈক্য ভুলে যদি মানবতাবাদী এক জাতি, এক দেশ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ হতে পারি, তবে এই ষোল কোটি বাঙালি হয়তো পাল্টে দিতে পারে পৃথিবীর এই ঘৃণিত প্রেড়্গাপট। যার জন্য প্রয়োজন কিছু নিস্বার্থ, মানবতাবাদী মানুষের একটা ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত। যারা এই সমাজকে পরিবর্তনের জন্য গড়ে তুলবে আরেকটি রেনেসা। যার ফলে মানুষের মনের জগতে ঘটবে পরির্তন। সমাজের প্রতিটি  স্তরে বিরাজ করবে মানবতা , মনুষ্যত্যবোধ, ন্যায়, সততা, ঐক্য। যার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে মনুষ্যধর্মসম্পন্ন একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ।

ট্যাগসমূহ:

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1628 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 188 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 102 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 19 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 24 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 60 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#আইয়্যামে জাহেলিয়াত #অর্থনীতি #শিক্ষাব্যবস্থা #চলমান সঙ্কট #জীবনব্যবস্থা #ঐক্য #৫ দফা কর্মসূচি #ইসলাম #তাকওয়া #সাম্প্রদায়িকতা #তওহীদ #লানত #পর্দা #সংস্কৃতি #প্রকৃত ইসলাম #শহীদ #খেলাধুলা #এমামুযযামান #হেযবুত তওহীদ #ধর্মব্যবসা #নারী #নারী স্বাধীনতা #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদের নারী #উগ্রবাদ #গুজব #রাজনীতি #ঈমান #আকিদা #মোনাফেক #বিস্ময়কর আন্দোলন #রিজিক #অপপ্রচার #দাজ্জাল #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #কর্মজীবন #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #গণজোয়ার #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #বাস্তব সমস্যা #মণীষীদের জীবনী #প্রশ্নোত্তর #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #প্রশ্ন #রাগ #কর্মফল #মুসলিমদের ইতিহাস #রাজনৈতিক ইসলাম #ইসলামের ইতিহাস #মানবজীবন #দোয়া #জান্নাতি ফেরকা #প্রশ্ন উত্তর #মহানবীর (সা.) #বাঙালি #সুফিবাদ #ধর্মজীবিকা #হারাম #পুঁজিবাদ #মার্কস #ইসলামের অপব্যাখ্যা #তারেক বিন যিয়াদ #ওমর (রা.) #খলিফা #ধর্মবিশ্বাসী #ঔপনিবেশিক যুগ #চরমোনাই #ইতিহাস ও ইসলাম #দাসপ্রথার #ইসলামবিদ্বেষী #নবুয়তপূর্ব জীবন #কোর’আন #শিক্ষা #উম্মতে মোহাম্মাদি #বাংলাদেশ #স্বাধীনতা #বিশ্ব মুসলমান #ইসলামি ইতিহাস #সাম্যবাদ ও ইসলাম #মানুষ সৃষ্টি #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #হজ #মহানবীর লড়াই #জ্ঞান-বিজ্ঞান #ধর্ম #নির্বাচন #আইনের উৎস #দৈনিক বজ্রশক্তি #পাকিস্তান #শান্তি #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #ইসলাম অর্থ #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #গণমাধ্যম #বাংলার সুলতানী যুগ #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #যোদ্ধাসুফি #মসজিদে নারী #খোলাফায়ে রাশেদীন #বস্তুবাদী সভ্যতা #সংগীত #জেহাদ #দাউদ খান পন্নী #মাননীয় এমাম #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #ইমাম মাহদী #জ্ঞান #জঙ্গিবাদ #রিয়াদুল হাসান #আশুরা #কবিতা #বাণী #আমল #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #কোরবানি #ত্যাগ #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #democratic system #economic system #politics #হেযবà§�ত তওহীদ #religious extremists #workplace #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #hossain mohammad salim #islam world #lifestyle ##MarathonHT #Marathon #hezbuttawheed #Resolving the Global Crisis #Students #হেযবুত তওহীদের #civilized’ #deterrent #world #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #মো’জেজা: #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #দাজ্জালকে চিনতে হবে #মো’মেনদের #দেশকে রক্ষা #মদিনার #রাকীব আল হাসান #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #লা’নত নাকি পরীক্ষা #আদিবা ইসলাম #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #মুখলেছুর রহমান সুমন #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #মুস্তাফিজ শিহাব #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #নোয়াখালীত #কোরবানি কখন কবুল হবে? #muchleka #মামলার অব্যাহতি #হাইকোর্টের রায় #গোলটেবিল বৈঠক #সংবাদ-সম্মেলন