আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

ধর্মহীনতা যে কারণে অযৌক্তিক

07 Apr, 2018 Super Admin 315 ভিউ
ধর্মহীনতা যে কারণে অযৌক্তিক

মোহাম্মদ আসাদ আলী
ধর্ম এখন এক নম্বর ইস্যু। ধর্মকে পণ্য বানিয়ে চলছে বেচাকেনা। কেউ ধর্মকে বানিয়ে নিয়েছে রাজনীতির হাতিয়ার। কেউবা সৃষ্টি করছে জঙ্গিবাদ। ধর্মের কথা বলে পশ্চাদপদতা, গোড়ামী ও অন্ধত্বের চর্চা তো শত শত বছর ধরেই চলে আসছে। সব মিলিয়ে ধর্মবিশ্বাসের অপব্যবহার আজকের একবিংশ শতাব্দীর এমনই এক করুণ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, চিন্তাশীল-যুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ ধর্ম থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, এমনকি ধর্মবিদ্বেষী হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বলেই ফেলছে যে, ধর্মকে নিয়েই যখন এত আতঙ্ক, এত দুশ্চিন্তা, এত ভয়, তখন ধর্মকে মানবসমাজ থেকে বিতাড়িত করা গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ধর্মই যত অধর্মের মূল! কিন্তু আসলেই কি তাই? ধর্মকে মানবসমাজ থেকে বিতাড়িত করার চিন্তা কি আদৌ বাস্তবসম্মত?
প্রথমত- ধর্ম গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র বা সমাজতন্ত্রের মত নিছক একটি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক মতবাদ নয় যে, তৈরি করলাম, প্রয়োগ করলাম, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলাম, অতঃপর ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। এত সহজ নয়। ধর্ম এমন একটি বিষয়, যার সাথে মানুষের রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, পরিবারনীতি, দেহ-আত্মা, জন্ম-মৃত্যু, ইহকাল-পরকাল সবকিছু জড়িত। গাছের ডাল ভাঙ্গলে, পাতা ঝরলেও গাছ বেঁচে থাকে, কিন্তু শিকড় উপড়ালে বাঁচে না। মানবসমাজের শেকড় প্রোথিত আছে ধর্মে। ধর্মই সমাজের অক্সিজেন। এই অক্সিজেন কেড়ে নিলে সমাজ নিষ্প্রাণ হতে বাধ্য।
দ্বিতীয়ত- ধর্মকে বিতাড়িত করা সম্ভব নয় তার আরও কারণ আছে। সবচাইতে বড় কারণ আজ পর্যন্ত ধর্মের কোনো বিকল্প কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি। মানবজাতির ইতিহাসে সোনালী অধ্যায়গুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ধর্ম। একমাত্র ধর্মের বিধান মেনেই মানুষ শান্তি পেয়েছে। এটা ইতিহাস। ফলে আজকে মানবসমাজে অশান্তি যত বাড়ছে মানুষের কাছে ধর্মের আবেদনও তত বাড়ছে। বলতে পারেন- ধর্ম তো অশান্তি, রক্তপাতও ঘটিয়েছে অনেক। হ্যাঁ, সেটা হয়েছে ধর্মের অপব্যবহারের কারণে। তবে তার চেয়েও বেশি রক্তপাত ঘটিয়েছে হালের গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি। ধর্মের স্থলাভিষিক্ত হতে চাচ্ছে যে মতবাদ, তাকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মের চাইতেও অনেক বেশি ফলপ্রসূ হতে হবে, অন্তত ধর্মের সমপর্যায়ের তো হতেই হবে। সেটা যেহেতু গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ইত্যাদি ধর্মবিযুক্ত মতবাদ দিয়ে সম্ভব হচ্ছে না কাজেই ধর্মকে বিতাড়িত করার চিন্তা অযৌক্তিক।
তার মানে কি ধর্মের নামে চলমান যত পশ্চাদপদতা, অসহিষ্ণুতা ও অন্যায়কেই স্বীকার করে নিতে হবে? সে কথা কিন্তু বলছি না। প্রকৃত ধর্ম বুঝতে হবে। যেটা ধারণ করে মানবসমাজ উপকৃত হবে সেটাই ধর্ম। মানুষের ধর্ম হচ্ছে মানবতা। ধর্ম ঐক্য শেখায়, ভ্রাতৃত্ব শেখায়, মানবতা শেখায়, ত্যাগ শেখায়। এই মৌলিক শিক্ষাগুলোই মূল ধর্ম। বাকি যে আচার-আনুষ্ঠানিকতা, প্রথা-পরম্পরা, ওসব মানুষের আত্মিক ও মানসিক পরিশুদ্ধি অর্জনের পদ্ধতিমাত্র। সেই আচার-প্রথার অতি বাড়াবাড়ি দেখে ভ্রমটাকে রুখতে গিয়ে আমরা যেন সত্যের প্রবেশপথও রুদ্ধ করে না ফেলি।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1628 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 103 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 19 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 24 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 60 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4