আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের অতীত ও বর্তমান

24 Aug, 2015 Super Admin 1039 ভিউ
জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের অতীত ও বর্তমান

Untitled-126-300x249রিয়াদুল হাসান

প্রকৃত ইসলাম পৃথিবীর কোথাও নেই। আল্লাহর রসুলের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসা দীনুল হক, সত্য জীবনব্যবস্থা তার প্রকৃত আদর্শ, স্বকীয়তা এবং যথার্থতা হারিয়ে তথাকথিত একটি ধর্মবিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। শত মত-পথ-তরীকার আড়ালে সত্যদীন হারিয়ে গেছে। সেই সাথে হারিয়ে গেছে মহামূল্যবান আকিদা যে আকিদা ছাড়া ঈমানের কোনো দাম নেই। প্রকৃত ইসলামের জ্ঞান অর্জনের যে গুরুত্ব সেই সম্পর্কেও আকিদা বিকৃত হয়ে গেছে। গোঁড়ামীর কারণে জ্ঞানকে সীমিত রাখা হয়েছে আরবী ভাষা ও ব্যাকরণের ভেতরে। ধর্মের তথাকথিত আলেম মাওলানারা মাদ্রাসা-মক্তবে যে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন তাই তারা প্রকৃত ও একমাত্র জ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সেটাকে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। শুধু তাই নয়, তাদের একটি বিরাট অংশ রয়েছেন যারা এই সীমিত জ্ঞানের বাইরে অন্য কোনো জ্ঞান যেমন- ভূগোল, গণিত, বিজ্ঞান, সাম্প্রতিক বিশ্ব ইত্যাদিকে শয়তানের জ্ঞান হিসেবে প্রচার করেন। তাদের সেই বিকৃত আকিদার কবলে পড়ে বর্তমান মুসলিম নামধারী জাতিটির একটি বিরাট অংশ আজ অজ্ঞতা, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, কুসংস্কার ইত্যাদিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। পৃথিবী যেখানে নতুন নতুন আবিষ্কার, প্রযুক্তিতে একের পর এক ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে, মানুষ লক্ষ লক্ষ মাইল দূরের চাঁদের দেশ থেকে ঘুরে আসছে, গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ছোটাছুটি করছে, নদীর স্রোতকে বেঁধে চাকরের মতো কাজ করাচ্ছে, সমুদ্রের তলদেশ থেকে খনিজ সম্পদ বের করে আনছে তখন মুসলিম নামধারী এই জাতিটি মসজিদে, হুজরায়, খানকায়, মাদ্রাসার চার দেয়ালের অভ্যন্তরে বসে প্রশ্ন করছে টিভি দেখা, গান শোনা জায়েজ কি নাজায়েজ! এটাই কি প্রকৃত ইসলামের আকিদা? আল্লাহর রসুল মোহাম্মদ (সা.) কি ধর্মীয় জ্ঞান তালাশ করাকেই ফরদ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি কি তাঁর জাতিকে এরকম ধর্মান্ধ, গোঁড়া, অজ্ঞ, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন থাকার শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিলেন?
জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মুসলিমদের অবদান:

মুসলিম হিসেবে অবশ্যই হাদিস-কোরআনের জ্ঞান থাকতে হবে, কিন্তু বাইরের জ্ঞানার্জনকে প্রত্যাখ্যান করে নয়। আমাদের আদর্শ হচ্ছেন রসুলাল্লাহ, আর আদর্শ জাতি হলো রসুলাল্লাহর হাতে গড়া জাতিটি যারা রসুলাল্লাহর সাথে থেকে প্রকৃত ইসলাম শিক্ষা করেছিলেন। রসুলাল্লাহর সাথে থেকে যারা ইসলাম শিখেছিলেন তাদের ইতিহাস তো অন্য রকম। আল্লাহর রসুলের ওফাতের পরপরই তাঁর অর্পিত দায়িত্ব যখন তাঁর হাতে গড়া জাতিটির কাঁধে এসে পড়ল তখন তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আরব থেকে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাইরে বেরিয়ে পড়লেন এবং একের পর এক অসম সামরিক যুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে লাগলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তৎকালীন অর্ধপৃথিবীতে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ভিত্তিক সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। উম্মতে মোহাম্মদী তখন সমস্ত পৃথিবীর মডেল। সত্যদীন তখন ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে দিগবিদিক আমোদিত করে তুলছে। শিক্ষা-দীক্ষা, চিকিৎসা, দর্শন, বিজ্ঞান সর্বদিক দিয়ে মুসলিমরা সমস্ত পৃথিবীর শিক্ষকের আসনে অধিষ্ঠিত হন। ক্রমেই নতুন নতুন আবিষ্কার, শিক্ষা-দীক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ইত্যাদিতে তারা অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করতে থাকেন। তাদের তৈরি করা ভিত্তির উপর গড়ে ওঠা মুসলিম সভ্যতা বিশ্বের উন্নতির সর্ববিভাগে বহু আবিষ্কারের জনক হয়ে আছে।
বিজ্ঞান বিভাগে দৃষ্টি দিলেই দেখা যায়, রসায়ন বা কেমিষ্ট্রির জন্মদাতা মুসলিম। রসায়নের ইতিহাসে জাবিরের (৭২২-৮০৪) নাম সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। বীজগণিতের জন্মদাতা বলা হয় আল খোয়ারেজমীকে (৭৮০-৮৫০)। বন্দুক, বারুদ, কামান, প্রস্তর নিক্ষেপণ যন্ত্রের আবিষ্কারও মুসলিমদেরই অবদান। যুদ্ধের উন্নত কৌশল ও বারুদ বা আগ্নেয়াস্ত্র সম্বন্ধে বিখ্যাত আরবী গ্রন্থ তাঁরাই লিখেছেন বিশ্ববাসীর জন্য। সেটির নাম ‘আলফুরুসিয়া ওয়াল মানাসিব উল হারাবিয়া’। ভূগোলেও মুসলিমদের অবদান এত বেশি যা জানলে অবাক হতে হয়। ৬০ জন মুসলিম ভূগোলবিদ পৃথিবীর প্রথম যে মানচিত্র এঁকেছিলেন তা আজও বিশ্বের বিস্ময়। এর আরবী নাম হচ্ছে ‘সুরাতুল আরদ’ অর্থাৎ বিশ্বের আকৃতি। এবনে ইউনুসের অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা মণ্ডল নিয়ে গবেষণার ফল ইউরোপ মাথা পেতে নিয়েছিল। ফরগানী, বাত্তানি (৮৫৮-৯২৯) ও আল খোয়ারেজমী প্রমুখের ভৌগোলিক অবদান স্বর্ণমণ্ডিত বলা যায়। কম্পাস যন্ত্রের আবিষ্কারকও মুসলিমরাই। তাঁর নাম এবনে আহমদ। জলের গভীরতা ও সমুদ্রের স্রোত-মাপক যন্ত্রের আবিষ্কারক এবনে আবদুল মাজিদ। বিজ্ঞানের উপর যে সব মূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ পাওয়া যায় আজও তা বিজ্ঞান জগতের পুঁজির মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। বিজ্ঞানের উপর গবেষণামূলক ২৭৫ টি পুস্তক যিনি একাই লিখেছেন তিনি হচ্ছেন আলকিন্দি (৮০১-৮৭৩)। প্রাচীন বিজ্ঞানী হাসান, আহমদ ও মুহম্মদ সম্মিলিতভাবে ৮৬০ সনে বিজ্ঞানের একশত রকমের যন্ত্র তৈরির নিয়ম ও ব্যবহার প্রণালী এবং তাঁর প্রয়োজন নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে গেছেন।
রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের এক হাজার বছর আগে মুসলিম কবি, জ্যোতির্বিদ, সঙ্গীত শিল্পী এবং প্রকৌশলী আব্বাস ইবনে ফারনাস নিজস্ব আবিস্কৃত বিমানের সাহায্যে আকাশে ওড়ার চেষ্টা করেন। ৮৫২ সনে তিনি স্পেনের কর্ডোবা মসজিদের মিনারের উপর থেকে তার আবিস্কৃত যন্ত্রসহ লাফিয়ে পড়েন। উড়তে না পারলেও ধীর গতিতে মাটিতে অবতরণ করেন। তার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্যারাস্যুট আবিস্কৃত হয়।  ৮৭৫ সনে ৭০ বছর বয়সে তিনি আরেকবার লাফিয়ে পড়েন পাহাড়ের চূড়া থেকে এবং বেশ খানিকটা দূরত্ব উড়তে সক্ষম হন। তিনি ১০ মিনিট আকাশে ভেসে থাকেন। ইবনে ফারনাসের নামে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের একটি অগ্নিগিরির জ্বালামুখের নাম করা হয়েছে।
চার্লস ডারউইন পশু-পাখি, লতা-পাতা নিয়ে গবেষণা করে পৃথিবীতে প্রচার করেছেন ‘বিবর্তনবাদ’। কিন্তু তারও পূর্বে যিনি এ কাজ করার রাস্তা করে গেলেন এবং ইতিহাসে সাক্ষ্য রেখে গেলেন, তিনি হচ্ছেন আল আসমাঈ। তাঁর বইগুলো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। মুসলিমরাই প্রথম চিনি তৈরি করেন। তাছাড়া তুলা থেকে তুলট কাগজ প্রথম সৃষ্টি করেছেন ইউসুফ এবনে উমর। তার দু’বছর পর বাগদাদে কাগজের কারখানা তৈরি হয়।
জাবীর ইবনে হাইয়ান একাই ইস্পাত তৈরি, ধাতুর শোধন, তরল বাষ্পীকরণ, কাপড় ও চামড়া রং করা, ওয়াটার প্র“ফ আস্তরণ তৈরি করা, লোহার বার্নিশ, চুলের কলপ ও লেখার পাকা অমোচনীয় কালী আবিষ্কার করে অমর হয়ে রয়েছেন। ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড থেকে কাচ তৈরির প্রথম ধারণা দেন মুসলিম বিজ্ঞানী ‘আল রাজী’ (৮৬৫-৯২৫)। ইংরেজদের ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর নাম লেখা হয় Razes. একদিকে দীনের জ্ঞানে তিনি ছিলেন বিরাট আলেম অপরদিকে ছিলেন গণিতজ্ঞ ও চিকিৎসা বিশারদ। সোহাগা, লবণ, পারদ, গন্ধক, আর্সেনিক ও সালমিয়াক নিয়ে তাঁর লেখা ও গবেষণা উল্লেখযোগ্য। আরও মজার কথা, পৃথিবীতে প্রথম পানি জমিয়ে বরফ তৈরি করাও তাঁর অক্ষয় কীর্তি। ইউরোপ পরে নিজের দেশে বরফ প্রস্তুত কারখানা চালু করে।
পৃথিবী বিখ্যাত গণিত বিশারদের ভিতর ওমর খৈয়ামের (১০৪৮-১১৩১) স্থান উজ্জ্বল রতেœর মতো। ঠিক তেমনি নারিরুদ্দিন তুসী এবং আবু সিনার নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আকাশ জগত পর্যবেক্ষণ করার জন্য বর্তমান বিশ্বেরর মানমন্দির আছে ব্রিটেনে এবং আমেরিকায় কিন্তু কে বা কারা এগুলোর প্রথম আবিষ্কারক প্রশ্ন উঠলে উত্তর আসবে হাজ্জাজ ইবনে মাসার এবং হুনাইন ইবনে এসহাক। এঁরাই পৃথিবীর প্রথম মানমন্দির আবিষ্কারক। সেটা ছিল ৭২৮ খ্রিস্টাব্দ। ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জন্দেশপুরে দ্বিতীয় মানমন্দির তৈরি হয়। বাগদাদে হয় তৃতীয় মানমন্দির। দামেস্ক শহরে চতুর্থ মানমন্দির তৈরি করেন আল-মামুন।
আর ইতিহাসের ঐতিহাসিকদের কথা বলতে গেলে মুসলিম অবদান বাদ দিয়ে তা কল্পনা করাই মুশকিল। এমনকি, মুসলিম ঐতিহাসিকরা কলম না ধোরলে ভারতের ইতিহাস হয়তো নিখোঁজ হয়ে যেত। অবশ্য ইংরেজ ঐতিহাসিকদের সংখ্যাও কম নয়। তবে একান্তভাবে মনে রাখা দরকার: ইতিহাসের স্রষ্টা বিশেষতঃ মুসলিমরা। তার অনুবাদক দল ইংরেজ ঐতিহাসিকরা। মুসলিম ঐতিহাসিকদের মধ্যে আল বিরুনি, ইবনে বতুতা, আলী বিন হামিদ, বায়হাকীম, উতবি, কাজী মিনহাজ উদ্দিন সিরাজ, মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ ঘুরী, জিয়াউদ্দিন বারনী আমীর খসরু, শামসী সিরাজ, বাবর, ইয়াহিয়া-বিন-আহমদ, জওহর, আব্বাস শেরওয়ানী, আবুল ফজল, বাদাউনি, ফিরিস্তা, কাফি খাঁ, মীর গোলাম হোসাইন, হুসাইল সালেমী, সাঈদ আলী প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এঁদের লিখিত মূল ইতিহাস গ্রন্থগুলির নামের তালিকা এত দীর্ঘ যে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতির আশঙ্কায় উল্লেখ করলাম না।
জ্ঞানসাধনায় মুসলিম নারীদের অবস্থান:
রসুলাল্লাহর সময়ের নারীরা যে কবিতা, কাব্য সাহিত্য এবং কোরআন-হাদিসের যে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন সেকথা অনেকেরই জানা আছে। যেমন রসুলাল্লাহর স্ত্রী আয়েশা (রা.) ছিলেন একজন উচ্চস্তরের হাদিসবিদ ও বিদূষী। স্পেন দেশে ইসলামী সভ্যতা যখন পৌঁছালো তখন শুধু পুরুষরাই জ্ঞানচর্চায় এগিয়ে ছিলেন তাই নয় বরং মেয়েরাও অনগ্রসর ছিলেন না। যেমন বিখ্যাত মহিলা লাবানা, ফাতেমা, রাজেয়া, আয়েশা, খাদেজা প্রভৃতি। কেউ যেন মনে না করেন যে তাঁরা রসুলাল্লাহর স্ত্রী-কন্যা। তাঁরা ছিলেন তাঁর সত্যনিষ্ঠ অনুসারী, মুসলিম। রসুলাল্লাহর ভক্ত হিসেবেই তাঁদের পিতা-মাতারা তাদের ঐ নামগুলো রেখেছিলেন। অর্থাৎ তাঁরা তাদের নেতার আদেশকে বাস্তবায়নের জন্যই জ্ঞানচর্চা করতেন। এমনিভাবে রাদেয়া নামের এক সুপণ্ডিত মহিলা ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। যেহেতু তখনও বই ছাপার প্রেস আবিষ্কৃত হয়নি তাই হাতে লেখার উপরই নির্ভর করতে হোত জ্ঞান অনুসন্ধানকারীদের। জ্ঞানী পুরুষদের বাড়ির মেয়েরা সে কাজে সহযোগিতা করতেন। এতে করে পুরুষদের চেয়েও মেয়েদের লেখার দক্ষতা তৈরি হোত অনেক বেশি। তাছাড়া একই জিনিস বারবার লেখার কারণে তা খুব ভালোভাবে স্মরণে থাকতো যা তারা পরবর্তীতে কাজে লাগাতেন। সে যুগে মেয়েরা বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া কোরত যার প্রমাণও ইতিহাসে রয়েছে। এখানে মনে রাখতে হবে তখন বর্তমানের মতো বিদ্যালয় ছিল না। পুরো জনপদ মিলে হয়তবা একটিমাত্র বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা ছিল আর সেখানেই ছেলে-মেয়ে সকলেই লেখাপড়া কোরত। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারীশিক্ষার ভিত্তি রচনা হয় সেই যুগের মুসলিমদের হাত ধরেই। পুরাতন আরবী সাহিত্য ও পুঁথিতে তার প্রমাণ আছে। যেমন- সালমা নামে এক বালিকার বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং দোয়াতে কলম ডুবিয়ে কালি নিয়ে খেলার উল্লেখ আছে। সুতরাং বোঝা যায় বিদ্যালয়ে, কলম ও দোয়াতের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল। (ডক্টর হামিদুল্লাহর লেখা ‘আহদে নববী কা নেযামে তালিম’ পৃষ্ঠা ৯)
এই ইতিহাস আর বর্তমানে সঠিক জায়গায় নেই। কুচক্রীদের চক্রান্তের শিকারে এবং মুসলিমদের হীনমন্যতার সুযোগে এই ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। মুসলিমরা তার স্বর্ণযুগে যে জ্ঞানবিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণ করে গেছেন তার উপরেই যে আজকের পশ্চিমা সভ্যতার যান্ত্রিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে তা আজকের মুসলিম নামধারী জাতির ক’জনই বা বিশ্বাস করবে। খ্রিস্টানদের তৈরি শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশুনা করে তাদের ভিতরে সৃষ্টি হয়েছে স্বীয় জাতির প্রতি নিদারুণ হীনম্মন্যতা আর পাশ্চাত্য প্রভুদের শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা। তারা বিশ্বাস করেন, মুসলিম জাতির ইতিহাস বর্বরতার ইতিহাস, পাশবিক ভোগবিলাস আর শিয়াল কুকুরের মতো রাজ্য নিয়ে কামড়া-কামড়ির ইতিহাস। পশ্চিমারা তাদেরকে এর বেশী কিছু জানতে দেয় নি। তবে যারা সত্যানুসন্ধী হৃদয় নিয়ে বিজ্ঞানের ইতিহাস পড়বেন তারা আজও জ্ঞানের প্রতিটি অঙ্গনে মুসলিম শিক্ষকদের পদচিহ্ন খুঁজে পাবেন। এ জাতিকে মাথা এখন উঁচু করে দাঁড়াতে হলে নিজেদের প্রকৃত অতীত জানা অত্যন্ত জরুরি।
[তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট এবং আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজার ‘চেপে রাখা ইতিহাস’]

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1652 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 103 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 20 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 25 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 61 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি #সংবাদ-সম্মেলন