আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

শব-এ-বরাতের প্রকৃত তাৎপর্য

02 Nov, 2023 Super Admin 606 ভিউ
শব-এ-বরাতের প্রকৃত তাৎপর্য

ইসলামে ঈদুল ফেতর, ঈদুল আযহা, শবে কদর ইত্যাদি বড় বড় কয়েকটি পর্ব এবং উৎসবের পরেই আরেকটি বড় আনুুষ্ঠানিকতা পালন করতে দেখা যায়, আর তা হলো শব-এ-বরাত। তবে এই পর্বটি প্রধানত ইরান তথা শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই ব্যাপক আকারে পালিত হতে দেখা যায়। পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশ তথা ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অঞ্চলেও এর ব্যাপক প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। ইরানীদের ধর্মীয় জীবনে শব-এ-বরাত রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। এই রাতে পুরো ইরান জুড়ে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হয়। দেশটিকে সুন্দর পরিপাটি করে নয়নাভিরাম শোভায় সাজানো হয়। রাস্তায় রাস্তায় মিষ্টি, শরবত, নাশতা ইত্যাদি বিলানো হয়। যদিও ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ মুসলিম জনসংখ্যা সুন্নী মযহাবের অনুসারী, তথাপি তারা কিছু কিছু ব্যাপারে পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার সুন্নীদের চেয়ে আলাদা কিছু ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ পালন করে থাকে। এর কারণ এই যে, এই অঞ্চলে ইসলাম প্রবেশ করেছে মূলত আরব থেকে পারস্য হয়ে। আর তাই পারস্যবাসীদের ইসলামপূর্ব অগ্নি উপাসনা যুগের অনেক ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় পরিভাষা এবং চিন্তা চেতনাসহ এই উপমহাদেশে প্রবেশ করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় অগ্নি উপাসনা যুগে পারস্যবাসীরা যাকে উপাস্য হিসাাবে মানতো তাকে তারা ডাকতো‘খোদা’ নামে। পারস্য হয়ে  এ উপমহাদেশে ইসলাম প্রবেশের সময় মহান আল্লাহর আরেকটি নাম হয়ে গেল ‘খোদা’। অথচ কোর’আন কিংবা মহানবীর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণীগুলির কোথাও মহান আল্লাহর নাম ‘খোদা’ ব্যবহৃত হয়নি। পারস্যবাসীরা তাদের ‘খোদার’ সামনে নত হয়ে যে এবাদত করত তার নাম ‘নামায’। আর ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ন দৈনন্দিন জীবনে প্রতিদিন পাঁচবার যে এবাদত করা হয়, আল্লাহ তার কোর’আনে বিরাশি বারের অধিক সালাহ্ নামে যা উল্লেখ করেছেন তার নাম হয়ে গেলো ‘নামায’। পরিতাপের বিষয় হলো এই উপমহাদেশীয় অধিকাংশ মানুষের সামনে ‘সালাহ’ শব্দটি উচ্চারণ করলে তারা তার কোন মানেই বুঝতে পারে না। পাশাপাশি ইসলামের পরিভাষা সওম শব্দটি হয়ে গেছে ‘রোযা’, যা তারা তাদের ‘খোদার’ সন্তুষ্টির লক্ষ্যে উপবাস থেকে পালন করত। এমনি করে পারস্য ধাঁচের ইসলাম এই উপমহাদেশে প্রবেশের ফলে আরো বহু চিন্তা চেতনারও পরিবর্তন ঘটেছে, এর মধ্যে বিকৃত সুফীবাদ অন্যতম। যেহেতু পারস্যবাসীরা মহা ধুমধামের সাথে শব-এ-বরাত পালন করে, সেহেতু এরাও তাই করে থাকে। অথচ এই এলাকার বাইরে অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এর কোন গুরুত্বই নেই। ইসলামে যদি সত্যিকার অর্থে এর কোন অবস্থান থেকে থাকত তবে বিকৃতভাবে হলেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ ও সৌদি আরবে এই নামে কিছু না কিছু পালিত হতো। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায় এর কোন পরিচিতিই সেখানে নেই।

শিয়া মতবাদের অনুসারীরা বিশেষ করে এই দিনটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার ব্যাপারে একটি কারণ উল্লেখ করে থাকে, আর তা হলো “তারা মনে করেন এই দিনে এমাম মাহদী (আ.) এর জন্ম দিন। তাদের অধিকাংশ আলেমের মতানুসারে এই দিনে ২৫৫ হিজরির রাতে এমাম মাহদী (আ.) জন্মগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে অবস্থান করছেন এবং যথাসময়ে তিনি আবির্ভূত হবেন”। আরবের মুসলিমরা এই দিনটি না পালন করার ব্যাপারে শিয়াদের অভিমত হলো এমাম মাহদীর (আ.) জন্মের মাধ্যমে আব্বাসীয়দের (সুন্নী) পরাজয় ঘটবে বিধায় তারা তাঁকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলো এবং শত্রুতাবশত তারা এই দিনটিকে অবজ্ঞা করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে ২৫৫ হিজরিতে এমাম মাহদীর জন্ম হয়নি। হতে পারে আল্লাহর রসুল ১৫ শাবান ঐ মহামানবের জন্মদিন বলে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের কাছে শিয়াদের বিশ্বাস ছাড়া কোন স্পষ্ট দলিল নেই।

যদিও ইসলামে শব-এ-বরাত সম্বন্ধে নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায়না, তবুও শব-এ-বরাত পালনে এটি একটি বিশেষ কারণ হতে পারে। এ সম্বন্ধে আল্লাহর রসুলের বাণী পাওয়া যায় যেখানে আল্লাহর রসুল বলছেন, “তোমরা এ রাতে জাগ্রত থাকো, এবং দিনের বেলায় সওম পালন কর”।

শব-এ-বরাতকে মনে করা হয় সৌভাগ্য রজনী হিসাবে। সত্যিকারের ভাগ্যরজনী হলে এই সৌভাগ্য শুধু মুসলিমদের সৌভাগ্য নয়, এ সৌভাগ্য সমস্ত মানবজাতির। কেননা আল্লাহর সর্বশেষ রসুলের ভবিষ্যতবাণীগুলির মধ্যে অন্যতম একটি ভবিষ্যতবাণী হলো তার ওফাতের পরে একজন মহামানবের আগমন ঘটবে যার আগমনের মাধ্যমে দূর নক্ষত্রে হারিয়ে যাওয়া ইসলাম পুনর্জীবন পাবে। যার নেতৃত্বে আবার শান্তির সুশীতল বাতাস প্রবাহিত হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বিচার, ন্যায়নীতি, শান্তি ও নিরাপত্তা। যাকে আল্লাহর রসুল আখ্যায়িত করেছেন নিজের ভাই হিসাবে। যার মাধ্যমে তাঁর মিশন পূর্ণতা পাবে, তার রসুলের উপর আল্লাহ প্রদত্ত উপাধি রহমাতাল্লিল আলামিন সার্থকতা পাবে এবং আল্লাহর চূড়ান্ত অভিপ্রায় ইবলিসের দেয়া চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হয়ে সমগ্র মানবজাতির মধ্যকার অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, মারামারি, কাটাকাটি অর্থাৎ ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা সম্পূর্ণভাবে দূরীভূত হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, সমস্ত ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে, সমস্ত  প্রকার ভেদাভেদ ভুলে সমগ্র মানবজাতি একটি মাত্র জাতিতে পরিণত হবে। সুতরাং যে রাতে তার জন্ম সে রাত অবশ্যই এক মর্যাদাবান রাত। এ রাত উৎসবের রাত, আধ্যাত্মিকতায় সমৃদ্ধ হওয়ার রাত।

ট্যাগসমূহ:

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি