সাধারণ আলোচনা

“মানবরচিত জীবনব্যবস্থা কী দিয়েছে আমাদের?”

27 Sep, 2025 Super Admin 1174 ভিউ
“মানবরচিত জীবনব্যবস্থা কী দিয়েছে আমাদের?”

শাহাদৎ হোসেন:

জনগণের শাসন’ গণতন্ত্রের নামে এই মোহনীয় শব্দযুগল আমাদের পাঠ্যপুস্তক ও রাজনৈতিক বক্তৃতার মঞ্চে যতটা আবেদন তৈরি করে, বাংলাদেশের নিষ্ঠুর বাস্তবতা তার থেকে শত যোজন দূরে। সুদীর্ঘ সময় ধরে এই ভূখণ্ডে গণতন্ত্র নামক ব্যবস্থার যে চর্চা হয়ে আসছে, তা কি আদৌ জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটিয়েছে? নাকি এটি কেবল শাসকের খোলস বদলের এক পঞ্চবার্ষিকী উৎসবে পরিণত হয়েছে? ঔপনিবেশিক শাসনের যে জনবিচ্ছিন্ন উত্তরাধিকার আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি, তা স্বাধীন বাংলাদেশেও জনগণকে শাসনের অধিকার দেয়নি, দিয়েছে শুধু ভোটদানের এক মৌসুমী অধিকার।

সাদা চামড়ার ব্রিটিশরা তাদের শাসনব্যবস্থার আদলে যে গণতন্ত্রের বীজ এ মাটিতে বপন করেছিল তার শিকড় কখনোই সাধারণ মানুষের গভীরে প্রবেশ করতে পারেনি। এটি ছিল ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া এক ব্যবস্থা এবং শাসনের নামে শোষণকে দীর্ঘায়িত করার এক অভিনব কৌশল। ফলে জনগণ বরাবরই ক্ষমতার বৃত্তের বাইরে থেকেছে; তাদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থেকেছে কেবল করদাতা আর ভোটদাতা হিসেবে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শাসকের গায়ের রং বদলেছে, কিন্তু শাসনের শোষণমূলক চরিত্রের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটি বাংলাদেশে যা দিয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্বের উত্থান। এই রাজনৈতিক ব্যর্থতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এর অর্থনৈতিক দর্শন পুঁজিবাদ। গণতন্ত্র এখানে এক ধরনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে, যার ছায়াতলে একটি ক্ষুদ্র পুঁজিপতি শ্রেণি রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। এর দুটি নগ্ন উদাহরণ হলো ব্যাংকিং খাত ও মেগা প্রকল্প।

এই ব্যবস্থার অর্থনৈতিক শোষণের সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে দেশের ব্যাংকিং খাতে। এখানে প্রভাবশালী খেলাপিরা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। জনগণের আমানতের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেলেও তাঁদের জবাবদিহি করতে হয় না। অন্যদিকে, মাত্র কয়েক হাজার টাকার ঋণের জন্য যখন একজন সাধারণ কৃষককে কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে তোলা হয়, তখন এই ব্যবস্থার দ্বৈত চরিত্র উন্মোচিত হয়। এটি প্রমাণ করে, আইন এখানে সবার জন্য সমান নয়; বরং এটি একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সম্পদ লুণ্ঠনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

একইভাবে, উন্নয়নের নামে গৃহীত মেগা প্রকল্পগুলো প্রায়শই দুর্নীতির মহোৎসবে পরিণত হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে একই ধরনের প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় কয়েকগুণ বেশি দেখানো হয়। রাজনীতিবিদ, আমলা এবং ঠিকাদারদের এক অশুভ আঁতাত জনগণের করের টাকাকে স্ফীত বাজেটের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এই তথাকথিত উন্নয়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন না করে, বরং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রকে আরও ধনী বানানোর মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্যকে তীব্রতর করে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকও এই বাস্তবতার সাক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ২০২৩ সালের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০০ এর মধ্যে মাত্র ২৪। পরের বছর ২০২৪ সালে তা আরও বেড়ে দাড়িয়েছে ১০০ স্কোর এর মধ্যে ২৩। অর্থাৎ তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৪তম। ২০২৩ সালে এই অবস্থান ছিল ১০ম।

এই সীমাহীন দুর্নীতি জন্ম দিয়েছে এক বিচারহীনতার সংস্কৃতি, যা এই মানবসৃষ্ট ব্যবস্থার সবচেয়ে বিষাক্ত ফসল। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বহু আলোচিত ঘটনার এক দশক পেরিয়ে গেলেও যখন তদন্ত শেষ হয় না, কিংবা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটা হত্যাকাণ্ডের আসামিরা ক্ষমতার ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ রাষ্ট্র ও আইনের শাসনের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে। এই আস্থাহীনতা সমাজে জন্ম দেয় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা। যখন নাগরিকেরা বোঝে যে ক্ষমতাধরদের জন্য বিচার এক জিনিস আর তাদের জন্য আরেক, তখন খুন, ধর্ষণ ও রাহাজানির মতো সামাজিক অপরাধ লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে।

এই ব্যবস্থার মৌলিক ত্রুটি বহু আগেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন বিশ্বসেরা দার্শনিকেরা। প্লেটো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য রিপাবলিক’-এ গণতন্ত্রকে ‘মূর্খদের শাসন’ বলে অভিহিত করতেও দ্বিধা করেননি। তাঁর মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার মতো জটিল কাজের জন্য প্রয়োজন জ্ঞানী ও যোগ্য নাবিক, জনপ্রিয়তার জোয়ারে ভেসে আসা অদক্ষ মাঝি নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্লেটোর এই প্রশ্নটি আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এখানে অর্থ, পেশিশক্তি আর পারিবারিক পরিচয়ের জোরে যখন কেউ সংসদে প্রবেশ করে, তখন রাষ্ট্রের জাহাজ যে বিপথগামী হবে, তা-ই তো স্বাভাবিক।

বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, মানবসৃষ্ট কোনো জীবনব্যবস্থাই নিখুঁত নয়। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের মতো ব্যবস্থাগুলো মানুষের সীমিত জ্ঞান, লোভ এবং প্রবৃত্তির দ্বারা কলুষিত হতে বাধ্য। যখন মানবসৃষ্ট সকল মতবাদ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তখন অনিবার্যভাবে সেই প্রশ্নটি সামনে আসে তবে কি সমাধান নিহিত আছে মানুষের ঊর্ধ্বে কোনো সত্তার বিধানে?

মানুষ তার নিজের জন্য আইন তৈরি করতে গিয়ে বারবার ভুল করেছে, সৃষ্টি করেছে অবিচার আর অসাম্য। অন্যদিকে যিনি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, যিনি মানুষের দুর্বলতা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত, তাঁর দেওয়া জীবনব্যবস্থাই হলো একমাত্র ত্রুটিমুক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান। স্রষ্টার বিধানে যোগ্যতার মাপকাঠি হয় নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা, ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়। সেখানে আইনের শাসন হয় নিরপেক্ষ এবং বিচার হয় নিখুঁত, কারণ তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে রচিত নয়।

সুতরাং গণতন্ত্রের মরীচিকার পেছনে ছুটে ক্লান্ত এই জাতির জন্য এখন সময় এসেছে বিকল্প নিয়ে ভাবার। যে মানবসৃষ্ট ব্যবস্থা আমাদের সীমাহীন দুর্নীতি, অনাচার আর বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে, তা আঁকড়ে ধরে রাখার মধ্যে কোনো মুক্তি নেই। প্রকৃত শান্তি, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের ফিরতে হবে সেই চিরন্তন উৎসের দিকে স্রষ্টার দেওয়া নিখুঁত ও শাশ্বত জীবনবিধানের ছায়াতলে। সেখানেই নিহিত আছে মানবজাতির প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1628 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 188 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 102 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 19 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 24 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 60 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি #সংবাদ-সম্মেলন