আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

ধর্ম ও নাস্তিক্য: দান ও পুঁজিবাদ

11 Jan, 2016 Super Admin 390 ভিউ
ধর্ম ও নাস্তিক্য: দান ও পুঁজিবাদ
রিয়াদুল হাসান

খ্রিস্ট ধর্ম মানুষের জাতীয় জীবনে শান্তি আনতে ব্যর্থ হওয়ার ফলশ্রুতিতে সংঘটিত রেনেসাঁর পর থেকে স্রষ্টার অস্তিত্বে অবিশ্বাস বা সন্দেহ করা ইউরোপ-প্রভাবিত শিক্ষিত সমাজের একটি ফ্যাশনে রূপ নিয়েছে। আধুনিকতা আর ধর্মকে বিদ্রুপ করা যেন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই নিজেকে নাস্তিক হিসাবে প্রচার করতে গর্বিত বোধ করেন, তবে তার মানে এই নয় যে তারা সত্যিই নাস্তিক হতে পেরেছেন। নাস্তিকতার রকমফের আছে যেমন ডগমাটিক বা গোঁড়া নাস্তিক, স্কেপটিক্যাল বা সংশয়বাদী নাস্তিক, ক্রিটিক্যাল বা সমালোচনামূলক নাস্তিক, প্র্যাকটিক্যাল বা বাস্তবমুখী নাস্তিক, অ্যাগনোস্টিক বা অজ্ঞেয়বাদী, ডায়ালেক্টিকেল বা দ্বান্দ্বিক নাস্তিক, সেমান্টিকেল, মার্কসিসটিক, মনস্তাত্ত্বিক ইত্যাদি ইত্যাদি। সন্দেহবাদীদের ভিড়ে প্রকৃত নাস্তিক খুঁজে পাওয়া খুবই দুরূহ। তাদের লক্ষণ সম্পর্কে সংক্ষেপে শুধু এটুকু বলতে পারি, যারা প্রকৃতই নাস্তিক তারা নিজ জন্মদাত্রী জননীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেও কোনো আত্মগ্লানী অনুভব করবেন না। কারণ ওই কাজ করতে ধর্মের নিষেধাজ্ঞা আছে, গণতন্ত্রে বা সমাজতন্ত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, আর প্রকৃত নাস্তিকরা ধর্মকে তথা ঈশ্বরকে বিশ্বাসই করেন না।
যারা প্র্যাকটিক্যাল নাস্তিক তাদের অভিমত হলো আল্লাহ থাকা বা না থাকায় মানুষের কিছু নেই। আল্লাহ ছাড়াও মানুষ চলতে সক্ষম, সবচেয়ে বড় ধর্ম মানবধর্ম- যার সঙ্গে ঈশ্বরের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও চলবে। এরাই ধর্মের সব বিধিব্যবস্থাকে তুলে দিয়ে নিজেদের মনগড়া বিধান দিয়ে মানবসমাজ পরিচালনা করতে চান। আজকের যে বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে আমরা বসবাস করছি সেটা মূলত এই প্রকার নাস্তিকতা থেকেই উৎসারিত ধর্মনিরপেক্ষতা।
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা জীবনের সকল অঙ্গনকে ধর্মের প্রভাবমুক্ত করতে চায়। তারা কি কখনো ভেবে দেখেছে যে সমাজের হতদরিদ্র মানুষগুলির জীবনযাপনের কথা যারা নিজেরা অধিক অর্থ উপার্জনে সক্ষম নয় এবং যারা অচল? সমাজের একটি বিরাট অংশের মানুষ অন্যের দানের উপর নির্ভরশীল। দরিদ্রকে অর্থ দান সকল ধর্মের শিক্ষা, মহামানব তথা নবী-রসুল-অবতারদের শিক্ষা। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নির্বিশেষে সকল ধর্মমনা ব্যক্তিই দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কম বেশি অর্থ দান করে থাকে। তারা এই দান করে প্রধানত মানবসেবা এবং পরকালীন মুক্তির আশায়। নাস্তিকদের প্রতি আমাদের কথা হলো, এই যে তারা ধর্মকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, স্রষ্টা ও পরকালের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, তাহলে এই অভাবগ্রস্ত, আশ্রয়হীন, অন্নহীন বস্ত্রহীনদেরকে তারা কী করবে? তারা কি পারবে রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে এই কোটি কোটি মানুষকে বহন করতে? এই যে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা আজ কায়েম করা হয়েছে তা দিন দিন মানুষকে আত্মাহীন পশুতে পরিণত করে ফেলছে, উপার্জনে অক্ষম বৃদ্ধ পিতাকে, বৃদ্ধা মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অনাত্মীয় দরিদ্র মানুষকে দয়া করার তো প্রশ্নই আসে না। বেশি দিন হয় নি সমাজের মধ্যে কিছু দানশীল লোক থাকতেন যারা নিজের অর্থে সমাজের মানুষের জন্য বহু শিক্ষালয়, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, সরাইখানা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে দিতেন। হাজী মোহাম্মদ মোহসীন, রণদা প্রসাদ সাহার নাম আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ধনীরা দান করবে এটাই ছিল স্বাভাবিক, অথচ পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতা মানুষকে এমন পুঁজিবাদী কৃপণে পরিণত করছে যে, যে যত ধনী সেই ততো অর্থ-কাঙাল। দান তো দূরের কথা। তারা যদি কোনো হাসপাতাল বা স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তার পেছনেও থাকে অর্থলিপ্সা। দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ার চিন্তা এখন আর তাদের চিন্তা-চেতনায় উদয় হয় না। অথচ একেই বলা হচ্ছে কল্যাণ রাষ্ট্র, কী বিদ্রুপ। এই কল্যাণ রাষ্ট্র কি পারবে সব দরিদ্র মানুষকে একদিনের আহার যোগাতে? পারবে না। অথচ মানুষ ধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে পরকালের মুক্তির আশায় দান করে এই কোটি কোটি মানুষকে দান-খয়রাতের মাধ্যমে প্রতিপালন করে যাচ্ছে। এই অভাবী মানুষকে একদিন খাওয়ানোর তো সাধ্য নেই তার উপর পুঁজিবাদী অর্থনীতির প্রভাবে মানুষের মধ্যে অর্থনীতিক বৈষম্য ও ভারসাম্যহীনতা দিন দিন চূড়ান্ত আকার নিচ্ছে। এক জায়গায় কিছু মানুষ পাহাড় সমান সম্পদের মালিকে পরিণত হচ্ছে, আরেক জায়গায় মানুষ না খেয়ে মরছে। এটা সৃষ্টি করেছে বস্তুবাদ, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা। এটা পাশ্চাত্য সভ্যতার সৃষ্টি। ধর্মের কারণেই প্রতিদিন কোনো রকমে এই দরিদ্র মানুষের অন্নসংস্থান হচ্ছে, সমাজটা এখনো মরতে মরতে টিকে আছে। তা না হলে তো মানুষের গোশত আজ মানুষ খেত।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি