অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই

গণতন্ত্র চাইনা, বাঁচার অধিকার চাই

25 May, 2015 Super Admin 1226 ভিউ
গণতন্ত্র চাইনা, বাঁচার অধিকার চাই

এস. এম. সামসুল হুদা:
বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোচ্ছে এখানে জনতার নামে, গণতন্ত্রের নামে যার যা খুশি তাই করাকে বৈধতা দান করা হয়। এমনকি জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা, ঘর-বাড়ি, দোকানপাট, পরিবহন ভাঙচুর ও জ্বালিয়ে দেওয়া এখন নিত্য-নৈমত্তিক ও সাধারণ ব্যাপার বলে গণ্য করা হয়। ফলে এদেশের অর্থনীতি, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা, সামাজিক স্থিতিশীলতা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোচ্ছে। গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৩-১৪ দ্বিতীয় অন্তবর্তীকালীন পর্যালোচনা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র গত ছয় মাসের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ৪ খাতে ৪৯ হাজার ১৮ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হোয়েছে। এর পাশাপাশি সহিংসতায় হতাহতের ভয়াবহ চিত্র রোয়েছেই। কিন্তু রাজনীতির নামে, গণতন্ত্রের নামে যার যা খুশি করার লাইসেন্স দেওয়ার গণতন্ত্র আর কতকাল চোলতে পারে? যে গণতন্ত্র আমাদের জীবনকে কষ্টদায়ক কোরে তোলে, যে গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, জীবন সম্পদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন করাটা আমাদের জন্য কতটা জরুরি? আদৌ কি পশ্চিমাদের অনুকরণ কোরতে গিয়ে আমাদের এমন গণতন্ত্রর মেনে চলার প্রয়োজন রোয়েছে? হ্যা, আমাদের কাছে কোন বিকল্প জীবনব্যবস্থা না থাকলে না হয় একটা কথা ছিলো। কিন্তু আমাদেরকে স্রষ্টা একটি উত্তম জীবন বিধান দান করেননি?
আমাদের অতীতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই এদেশে মোসলেম শাসকদের আগমনের আগে এদেশের হিন্দু (প্রকৃতপক্ষে সনাতন) রাজাগণ শাস্ত্র অনুযায়ী রাজ্য চালাতেন। এরপরে যখন মোসলেমগণ এই উপমহাদেশে আসেন তখন তারাও রাজ্য চালিয়েছেন স্রষ্টার দেওয়া বিধান অনুসারেই। ঐ সময়ে রাজা/ সুলতানগণ যদি তা না কোরতেন তবে উভয় আমলেই রাজ্য পরিচালনার কাজে নিয়োজিত পুরোহিত এবং কাজীগণ রাজাকে বাধ্য কোরতেন স্রষ্টার দেওয়া আইন দিয়ে শাসন কাজ চালাতে। এর ব্যত্যয় ঘোটলে তারা রাজ্য পরিচালনার অধিকার হারাতেন। ফলস্বরূপ সে সময় ধনে-বলে এদেশ অনেক সমৃদ্ধ ছিলো। সমৃদ্ধির পরিমাণ এমনি ছিলো যে, বহু বিদেশি শক্তির কাছেই তা ছিলো অত্যন্ত লোভনীয়। লোভাতুর সুদূর ইউরোপীয় ব্রিটিশগণ এদেশের সাথে বাণিজ্য করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে এক প্রতিষ্ঠান চালু করে। পরে ধীরে ধীরে তারা এদেশের মানুষকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিভক্ত কোরে এদেশ দখল কোরে নেয়। দীর্ঘ দু’শো বছর শাসন-শোষণের পর বিদায়ের সময় এলে তাদেরই শিক্ষায় শিক্ষিত একশ্রেণির গোলামি মানসিকতাপূর্ণ ও নিজেদের সম্বন্ধে হীনমন্য লোকেদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা দিয়ে যায়। অবশ্য এর আগেই তারা ভবিষ্যতে আমাদেরকে প্রত্যক্ষভাবে শাসন না কোরতে পারলেও পরোক্ষভাবে যাতে আজীবন গোলাম কোরে রাখতে পারে সে জন্য আমাদেরকে গোলামির মন্ত্র অর্থাৎ গণতন্ত্র শিক্ষা দিয়ে যায়।
পরিতাপের বিষয় এই যে ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর অর্ধশত বছর অতিবাহিত হোয়ে গেলেও আজও আমরা তাদের শেখানো গণতন্ত্র আকড়ে ধরে নিজেদের মধ্যে সীমাহীন অনৈক্য, মারামারি ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত আছি। অথচ ব্রিটিশদের এদেশে আসার আগে আমাদের মধ্যে শান্তি-সমৃদ্ধি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোন ঘাটতি ছিলো না। এদেশের অতীত ইতিহাস যারা ভাসা-ভাসাভাবেও পাঠ কোরবেন তারা তা কিছুতেই এ সত্যকে অস্বীকার কোরতে পারবেন না। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাশ্চাত্যের শেখানো গণতন্ত্রের তত্ত্ব বাস্তবায়ন কোরতে গিয়ে এর সবকিছুই হারিয়ে বসেছি। অনেকে বলতে পারেন অতীতের চেয়ে আমরা এখন যান্ত্রিক প্রগতি, ভোগ-বিলাসে এগিয়ে গেছি। হ্যা, এই যুক্তিকে অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু তারপরও ভোগ-বিলাসের সাথে যে আতঙ্ক, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যোগ হোয়েছে তাকে কিছুতেই মানুষের সভ্যতা বলা যায় না। আর এ জাতি যদি এখন পর্যন্ত তাদের অতীত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারতো তবে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি তারা অবশ্যই এই প্রগতি অর্জন কোরতে পারত। কেননা সে সময়ে প্রযুক্তিতে এই উপমহাদেশ যতটা এগিয়ে গিয়েছিল তা কোন অংশেই পাশ্চাত্যের চেয়ে কম ছিলো না। কিন্তু জাতি যখন জাতীয়ভাবে গোলামিতে ডুবে গেলো তখন তাদের একূল ওকূল দু’কূলই হারিয়ে বসলো। গোলামির চূড়ান্ত অবস্থায় তারা এমনকি পাশ্চাত্যের তৈরি করা জীবনব্যবস্থা পর্যন্ত ধার কোরে চলতে বাধ্য হোচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হোল এদেশীয়দের জীবনধারার সাথে পাশ্চাত্য সৃষ্ট গণতন্ত্র কোনভাবেই মানানসই নয়। তবুও জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এই গণতন্ত্রের কারণেই আজ আমাদের এই দুরাবস্থা।
তাই প্রশ্ন হোল এখনও কি আমরা প্রভুদের চাপিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রকে আকড়ে ধরে নিজেরা নিজেরা মারামারি, হানাহানিতে লিপ্ত হোয়ে এভাবে তিলে তিলে নিঃশ্বেস হবো? এখনো কি আমাদের হুশ ফিরে আসবেনা? ভোগ-বিলাস ও আরাম-আয়েশ নয়, অন্তত শান্তিতে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য আমাদের শপথ হোক গণতন্ত্র নয়, আগে আমরা ভালোভাবে বাঁচতে চাই।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1652 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 103 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 19 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 25 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 61 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি #সংবাদ-সম্মেলন