আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

খলিফা ওমর (রা.) এর দু’টো চিঠি

08 Feb, 2023 Super Admin 911 ভিউ
খলিফা ওমর (রা.) এর দু’টো চিঠি

খলিফা ওমরের (রা.) সময় আলা ইবনে হাজরামী (রা.) বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে খলিফার নির্দেশে তাঁকে অনেকবার অঞ্চল পরিবর্তন করতে হয়েছে। এমনই দুটো নির্দেশমূলক চিঠি এখানে উল্লেখ করা হলো।

প্রথম চিঠি: আলা ইবনে হাযরামী (রা.)- এর প্রতি
প্রাচীন লেখকদের মাঝে শুধুমাত্র ইবন সা’আদ এ চিঠিটির উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীদের মাঝে কেবলমাত্র আলী আল-মুত্তাকী বুরহানপুরী ইবন সা’আদের উদ্ধৃতিতে কানযুল উম্মালে এটির উল্লেখ করেছেন। এর বর্ণনাকারী হিসেবে ইমাম শা’বীর নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁর মতে আলা (রা.) এর ইন্তেকাল হয়েছে ১৪ হিজরিতে। তবে অন্যান্য ঐতিহাসিক, যেমন সাইফ ইবন ওমর বলেছেন, এর কয়েক বছর পর পর্যন্তও তিনি জীবিত ছিলেন। কেউ কেউ তাঁর মৃত্যুর সন ২১ হি. বলে উল্লেখ করেছেন।

এ চিঠি আলা (রা.) এর কাছে বাহরাইনের গভর্নর থাকাকালে পৌঁছেছিল। আবু বকর (রা.) এর আমলে বাহরাইনের ধর্মান্তর বিদ্রোহ তিনিই দমন করে ছিলেন এবং তখন থেকেই তিনিই প্রধান শাসনকর্তা ছিলেন। যা হোক, ওমর (রা.) লিখেছিলেন:
“বসরায় উতবা ইবন গায্ওয়ানের কাছে চলে যাও। আমি তার স্থলে তোমাকে গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেছি। মনে রেখো, তুমি এমন এক ব্যক্তির কাছে যাচ্ছ যিনি মুহাজিরিনে আওওয়ালিনের অন্যতম। যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ পূর্বাহ্নেই শুভ পরিণামের শুভ সংবাদ দিয়ে রেখেছেন। আমি তাঁকে এজন্য বদলি করছি না যে, তাঁর মাঝে দিয়ানতদারী, সত্যের ব্যাপারে কঠোরতা ও সাহসিকতার অভাব রয়েছে। বরং আমার ধারণা যে, বসরা যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে তুমি বেশি ভালো হবে এবং তুমিই বেশি কাজে আসবে। অতএব উতবার অধিকার ও সম্মানের প্রতি লক্ষ রেখো। তোমার পূর্বে আমি আর একজনকে গভর্নর নিযুক্ত করেছিলাম। কিন্তু বসরা পৌঁছার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। আল্লাহর ইচ্ছা যদি তুমি সেখানের ক্ষমতাসীন হতে পার, তাহলে তো হলোই। আর যদি তিনি উতবাকেই বহাল রাখতে ইচ্ছা করেন তাহলে ক্ষমতাসীন সেই থাকবে। কেননা, সব ব্যাপারের এখতিয়ার আল্লাহ রাব্বুল আলামিনেরই রয়েছে। জেনে রাখো, আল্লাহর হুকুম কী হবে তা আঁচ করা যায় না। তবে হুকুমের সংরক্ষণ সে-ই করেছে বলে ধরা হবে, যে আল্লাহর নির্দেশের বাস্তবায়ন করেছে। সেই মহান সত্তার প্রতি তোমার দৃষ্টিকে নিবদ্ধ রাখ, যাঁর সন্তুষ্টি কামনার জন্য তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমার সকল শ্রম ও পরিশ্রম হবে তাঁরই জন্য; তাঁকে ছাড়া অন্য কিছুতে মন লাগিও না। দুনিয়া নিঃসন্দেহে ক্ষণস্থায়ী ও ভঙ্গুর, আর আখিরাত চিরস্থায়ী এবং অক্ষয়। অতএব এমন বস্তু, যার কল্যাণ ও পরিণাম অস্থায়ী, তা যেন তোমাদেরকে এমন বস্তু থেকে গাফেল না করে দেয়, যার পরিণাম ও কল্যাণ চিরস্থায়ী।
আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও, যেন তোমার পক্ষ থেকে এরূপ কাজ না হয় যাতে তিনি নারাজ হয়ে যান। নিঃসন্দেহে আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন তাকে জ্ঞান ও হিকমত দান করে থাকেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন তোমাদেরকে ও আমাদেরকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দান করেন এবং আযাব থেকে বাঁচিয়ে রাখেন।” (শা’বী বর্ণিত, তাবাকাত ইবন সা’আদ, ৪:৭৮; কানযুল উম্মাল, ৩:১৪৯)

দ্বিতীয় চিঠি: আলা ইবন হাযরামী (রা.)- এর প্রতি
নাসিখুত তাওয়ারিখ-এ আলা (রা.) কর্তৃক ফারিস আক্রমণ ১৯ হিজরিতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন বসরার গভর্নর ছিলেন আবু মুসা আশ’আরী। কিন্তু সাইফ ইবনে ওমর থেকে ১৭ হিজরির ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতানুসারে তখন বসরার গর্ভনর ছিলেন উতবা (রা.)। ঘটনার বিবরণের মাঝেও দুজনের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য এই যে ‘নাসিখুত তাওয়ারিখ’ এর মতে আক্রমণকারীদের জাহাজ ফারিসবাসীরা জ্বালায়নি বরং সামুদ্রিক তুফানে তা বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যা হোক ওমর (রা.) লিখেছিলেন:
“আল্লাহ তা’আলা শাসকদের এজন্যই ক্ষমতা দেন যে সাধারণ মানুষ যেন তাদের আনুগত্য করে। কেননা আনুগত্যের অভাবে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তুমি আমার অনুমতি ব্যতিরেকে একটি বাহিনী তৈরি করেছ, আর তাদের নিয়ে ফারিস আক্রমণ করে মুসলমানদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছ। আমি বসরার গভর্নরকে তোমার সহায়তার জন্য একটি বাহিনী প্রেরণ করতে লিখে দিয়েছি। বর্তমানে তুমি গভর্নর নও। আর তোমাকে বাহরাইনও যেতে হবে না। তুমি অবিলম্বে সা’আদ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের কাছে চলে যাও। যদি আমি জানতাম যে, তার অধীনস্থতার চেয়েও তোমার কাছে অপছন্দনীয় কিছু আছে তাহলে তোমাকে তাই করার নির্দেশ দিতাম। (সূত্র: নাসিখুত তাওয়ারিখ, ৪ঃ৩৬৮)

[সংগ্রহ: শাকিলা আলম, খুরশিদ আহমদ ফারিক বিরচিত ওমর (রা.)-এর সরকারী পত্রাবলি বই থেকে]

ট্যাগসমূহ:

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি