আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

মানবতার কল্যাণে কাজ করাই হচ্ছে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা

31 Jan, 2016 Super Admin 1092 ভিউ
মানবতার কল্যাণে কাজ করাই হচ্ছে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা
মোহাম্মদ ইয়ামিন খান

ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাই কেবল মানবসমাজে অনাবিল শান্তি পূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এটা মানুষের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই ধর্ম আসলে কী এবং ধর্মের প্রকৃত শিক্ষায় বা কোথায় পাওয়া যাবে? ধর্ম হচ্ছে বস্তুর অভ্যন্তরস্থ সেই নীতি যা সে মেনে চলতে বাধ্য থাকে। যেমন আগুণের ধর্ম পোড়ানো, পানির ধর্ম ভেজানো। আগুন বা পানির এই গুণ সনাতন, শাশ্বত। লক্ষ বছর আগে আগুন যেমন পোড়াত, লক্ষ বছর পরেও পোড়াবে। ঠিক মানুষেরও প্রকৃতিগত কিছু বৈশিষ্ট্য বা গুণ রয়েছে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব; সেই হিসেবে মানুষের ধর্ম হলো তার মানবিক গুণাবলী। সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি, দয়া, মায়া, ভালবাসা, মনুষ্যত্ব, মানবতা, সৌহার্দ্য , বিবেক, সহমর্মিতা, ঐক্য আর শৃঙ্খলা ইত্যাদি মানবীয় গুণাবলী হলো মানুষের ধর্ম। যতক্ষণ একজন মানুষ অন্যের ব্যথায় ব্যথিত হয়, অন্যের দুঃখে দুঃখী হয়, অন্যের আনন্দে আনন্দিত হয়, অপরকে সহযোগিতা করে, আর্ত-পীড়িতের পাশে দাঁড়ায় ততক্ষণ সে ধার্মিক হিসেবেই পরিগণিত হওয়ার যোগ্য। ধর্ম এসেছে মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য। ধর্ম এসেছে মানবতার কল্যাণ, শান্তি ও মুক্তির জন্য। ধর্ম মানুষকে নিজের ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করা শেখায়, আর এটিই হলো ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা। ধর্মের এই প্রকৃত শিক্ষা এখন আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত নেই, এটা এখন ধর্মব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক পুঁজি এবং পার্থিব স্বার্থ হাসিলের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ধর্মব্যবসায়ীরা মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে হ্যাইজাক করে তাদের মনে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে দাঙ্গা, ফাসাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটায়। এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে ধর্মের নামে উন্মাদনা সৃষ্টি করে জননিরাপত্তা ও দেশকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়, দেশে এক ভয়াবহ অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এভাবে তিউনেশিয়া, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, সিরিয়া, মিশর ও পাকিস্তানে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনেও কিন্তু ধর্মের প্রকৃত শিক্ষার অভাবই দায়ী। আজ পৃথিবীব্যাপী মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মকে উপাসনালয়ের চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ করেছে। উপাসনালয়ের চার দেয়ালের মধ্যে উপাসনায় মশগুল থাকলে স্রষ্টাকে পাওয়া যাবে না। মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে সঠিক পথে ব্যবহার করে দেশ ও জাতির উন্নতি, প্রগতি ও সমৃদ্ধি সৃষ্টিতে কাজে লাগাতে হবে। আসুন, আমাদের যার যার ধর্মবিশ্বাসকে সঠিক পথে পরিচালিত করি। কোন পথে? যে কাজ করলে মানুষ শান্তি পাবে, উপকৃত হবে, যে কাজে মানুষ মুক্তি পাবে, অভাব-অনটন দূর হবে, অনৈক্য দূর হবে, হানাহানি দূর হবে, কষ্ট-দুঃখ-দারিদ্র্য, অশিক্ষা-কুশিক্ষা দূর হবে সেই কাজ করি। সেটাই ধর্মের (দীনের) কাজ।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1628 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 188 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 102 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 19 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 24 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 60 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4