আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী রাজপরিবারের ইতিকথা

27 Jan, 2016 Super Admin 733 ভিউ
পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী রাজপরিবারের ইতিকথা
শারমিন সুলতানা রুমকি

সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘ইনসাইডার মাংকি’। সেখানে দাবি করা হয়েছে- বিশ্বের ধনী পরিবারগুলোর মধ্যে সবার শীর্ষে আছে সৌদি রাজপরিবার। মোট ৫০ নম্বরের মধ্যে পুরো ৫০ নম্বর নিয়ে তালিকায় এ শীর্ষস্থান লাভ করেছে সৌদ পরিবারটি। খবরটি মুসলিম বিশ্বের জন্য আনন্দদায়ক হতে পারতো যদি এই পর্বতপ্রমাণ সম্পদ থেকে এ জাতি কিছুটা হলেও লাভবান হতো। কিন্তু না, আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক সম্পদকে, জনগণের সম্পদকে নিজেদের পারিবারিক সম্পদে পরিণত করে অমানবিক ভোগ-বিলাসিতায় মত্ত থাকা সৌদি রাজ পরিবার পৃথিবীর কোটি কোটি অভুক্ত, অর্ধভুক্ত, দারিদ্র্যপীড়িত মুসলমানের কোনো কাজে আসে নি। উপরন্তু সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বহুল উত্থাপিত একটি অভিযোগ হচ্ছে, তারা বিশাল ওই সম্পদের একটি বড় অংশ ব্যয় করে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা তৈরি, বিভিন্ন উগ্রপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীকে অর্থায়ন ও ইউরোপ-আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যনীতি বাস্তবায়ন করার কাজে। বিগত কয়েক বছর ধরে সিরিয়ায় যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে তাতে অর্থনৈতিকভাবে সৌদি আরব ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে জোর অভিযোগ আছে। সুতরাং সৌদি রাজপরিবারের এই বিশাল সম্পদের পাহাড় মুসলিম জাতির জন্য যতটা আনন্দদায়ক হতে পারতো, বাস্তবে ততটাই যন্ত্রণাদায়ক বললে অত্যুক্তি হয় না।
অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে সৌদি আরব শাসন করা এই রাজপরিবারের শাসকরা পরিচিত আল সৌদ নামে। পরিবারটির বর্তমান সম্পদের বাজারমূল্য ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার! পুরো সৌদি আরব রাষ্ট্রটিই আল সৌদ পরিবারের অঢেল স¤পত্তি ও আয়ের উৎস, যেটিকে তারা মনে করে ‘পরিবার নিয়ন্ত্রিত পারিবারিক স¤পত্তি’। তেলের খনি, মূল্যবান জায়গা, বড় বড় ব্যবসায়িক চুক্তি থেকে শুরু করে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সবকিছু থেকেই আয় করে এই রাজপরিবার।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তারা কত জঘন্যভাবে ব্যয় করে তা বলে শেষ করা যায় না। ভোগ-বিলাসিতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে থাকে সৌদি প্রিন্সরা। একদিকে যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত মুসলিম দেশগুলোর মানুষ ঘাস লতা পাতা খেয়ে প্রাণ রক্ষা করছে, সেখানে মুসলিম জাহানের স্বঘোষিত অভিভাবক সৌদি রাজপরিবারের সদস্যরা হীরাখচিত ও সোনা দিয়ে মোড়ানো গাড়িতে যাতায়াত করেন, স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো খাট-পালংক ও টয়লেট ব্যবহার করেন, ইউরোপ-আমেরিকার বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর একাই ভাড়া করে অবসর যাপন করেন। সিরিয়ার লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু মুসলমানরা যখন আশ্রয়ের খোঁজে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাচ্ছে, হাজারে হাজারে পানিতে ডুবে মরছে, খোলা আকাশের নীচে অভুক্ত দিনাতিপাত করছে, তাদের অসহায়ত্ব দেখে ইউরোপের খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলো সাহায্যের হাত বাড়ালেও বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, সৌদি রাজপরিবারের কাউকে সহানুভূতিসূচক ‘আহ’ শব্দটিও করতে শোনা যায় নি। এরাই নিজেদেরকে আল্লাহর রসুলের উত্তরসূরী দাবি করে।
আল্লাহর রসুল ভবিষ্যদ্বাণী করেন- ‘যখন আমার উম্মাহ দশটা কাজ করবে, তখন তাদের উপর বিপদ নেমে আসবে।’ সেই দশটা কাজের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনি যেটা উল্লেখ করেন তাহলো- রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করা (আলী (রা.) থেকে, তিরমিযী)। আল্লাহর রসুলের সেই ভবিষ্যদ্বাণী বহু পূর্বেই বাস্তবায়িত হয়ে গেছে, রাজতন্ত্রের ধারকরা রাষ্ট্রীয় সম্পদকে নিজেদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পদ বানিয়ে নিয়েছে, আর ওদিকে সমগ্র মুসলিম জাতির জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় বিপদ।
অনেকে মনে করেন ভোগ-বিলাসিতায় ব্যস্ত থাকলেও সৌদি আরব অন্যদের থেকে ভালো মুসলিম কারণ প্রথমত, সৌদি আরব হচ্ছে সেই পবিত্র ভূমি যেখানে আল্লাহর রসুল জন্মগ্রহণ করেছিলেন, দ্বিতীয়ত, সেখানে আল্লাহর দেওয়া দণ্ডবিধি অনুযায়ী দেশ শাসিত হয়। যারা এই দুইটি অজুহাত দাঁড় করিয়ে দেশটির ভোগবাদী রাজা-বাদশার অপকর্মকে জায়েজ করতে চান তারা ভুল করেন। প্রকৃত সত্য হলো- আরবদের জাতীয় জীবনে শরীয়াহ আইন (অবশ্য তাও বিকৃত) প্রচলিত থাকলেও ইসলামের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি ব্যবস্থা অন্যান্য ভাগের মতই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং প্রাক ইসলামিক যুগের মত রাজতন্ত্র, বংশতন্ত্র, গোষ্ঠিতন্ত্র ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেহেতু তারা গোষ্ঠিতন্ত্র, বংশতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে সুতরাং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সেখানে অচল হয়ে পড়েছে, কারণ ঐসব তন্ত্রে জাতীয় সম্পদের, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের মালিক হল রাজা বাদশাহরা। আর ইসলামে সরকারি কোষাগারের মালিক হলো সমস্ত জাতি। খলিফা শুধু রক্ষক, তত্ত্বাবধানকারী ও এই জীবনব্যবস্থার নিয়মানুসারে ব্যবহারকারী। অর্থাৎ , শুধু দণ্ডবিধি ছাড়া এই আরবরা অন্যান্য জাতীয় ব্যাপারে গায়রুল্লাহর অনুসারী অর্থাৎ মোশরেক। আর তাদের ওই বিকৃত দণ্ডবিধিও রাজপরিবারের কারও উপর প্রয়োগ হবে এমন চিন্তাভাবনা অলীক। সেগুলো কেবল ক্ষমতাহীন, প্রতিপত্তিহীন, সাধারণ আরবদের জন্য ও অনারব শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য।

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1652 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 103 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 20 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 25 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 61 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি #সংবাদ-সম্মেলন