Rising Extremist Threats Against Hizbut Tawheed in Bangladesh: An Appeal to the Global Community
ঢাকা ০২ আগস্ট ২০২৬ নোয়াখালীতে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে মিথ্যা অপপ্রচার, প্রকাশ্য হুমকি এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার (০২ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদ।
জানা যায়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে আয়োজিত একটি সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান করা হয়। এর প্রতিবাদেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান ও এস. এম. শামসুল হুদা, ঢাকা মহানগর ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমন এবং যুগ্ম নারী সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা।
বক্তারা বলেন, হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক একটি গোষ্ঠী ইসলামী মাহফিলের নামে যে সমাবেশ করেছে, সেটি ছিল উগ্রবাদী ও উসকানিমূলক। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে নোয়াখালীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনকে কবর দেওয়া, উচ্ছেদ করা এবং দেশ থেকে বের করে দেওয়ার মতো প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সমাবেশে নারী-বিদ্বেষী ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে একটি আইন মান্যকারী বৈধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি দেওয়া হয়েছে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমাল, বাড়িঘর ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। এ সময় তারা ২০১৬ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে মাননীয় ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে হামলা, দুইজন সদস্য নিহত হওয়া, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, একই ধরনের সহিংস পরিস্থিতি পুনরায় সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
কর্মসূচি থেকে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান, সহিংসতায় উসকানি, মিথ্যা অপপ্রচার এবং নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদানকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা উগ্রবাদ, ধর্মব্যবসা ও সহিংস উসকানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং উসকানিদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
ঢাকা, ১ আগস্ট ২০২৬: ওয়াজ মাহফিলের নামে নোয়াখালীতে হেফাজতে ইসলামের উসকানিমূলক সমাবেশ আয়োজন, অনবরত মিথ্যাচার ও ধারাবাহিক হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেযবুত তওহীদ। একইসঙ্গে এসব চক্রান্ত বন্ধ এবং সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম শামসুল হুদা ও ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ।
লিখিত বক্তব্যে ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ বলেন, নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে একটি কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক গোষ্ঠী প্রশাসন থেকে অনুমোদিত ওয়াজ মাহফিলের শর্ত ভঙ্গ করে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বেআইনি ও দাঙ্গা সৃষ্টিকারী সমাবেশ করছে। নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের অনুমোদনপত্রে নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা আইন ও শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরও জানান, সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের ইমামের গ্রামের বাড়িতে অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গত ১০-১৫ দিন ধরে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে মসজিদে মসজিদে উসকানিমূলক বয়ান এবং উগ্র হ্যান্ডবিল প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি ঢাকার উত্তরায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও উসকানিমূলক মিছিল ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
হেযবুত তওহীদ নেতৃবৃন্দ বলেন, সংগঠনটি ইসলাম ও এর মৌলিক আকিদায় পূর্ণ বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তুলতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ‘কাফের’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং নিষিদ্ধের দাবি তোলা হচ্ছে। অথচ বিগত ৩১ বছরে পাঁচ শতাধিক মামলায় আদালতে বেকসুর খালাস পাওয়া হেযবুত তওহীদ কখনো আইন অমান্য করেনি। পক্ষান্তরে নিষিদ্ধের দাবি তোলা ওই গোষ্ঠী পরিচালিত বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসাতেই শিশু বলাৎকার, নির্যাতন ও মব সৃষ্টির মতো ভয়াবহ অপকর্ম সংঘটিত হতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন তারা।
অতীতে ২০১৬ সালে সোনাইমুড়ীতে ওয়াজ মাহফিলের নামে সমাবেশ থেকে হামলা চালিয়ে সংগঠনের দু’জন সদস্যকে জবাই করে হত্যা ও বাড়িঘর ধ্বংসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক উসকানি ও হুমকির কারণে সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনতিবিলম্বে এসব উসকানিমূলক তৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে।