আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

মানুষের বিধাতা (এলাহ) কেন মানুষ হতে পারে না?

31 May, 2018 Super Admin 639 ভিউ
মানুষের বিধাতা (এলাহ) কেন মানুষ হতে পারে না?

রিয়াদুল হাসান
Laws are for survivors- আইন জীবিতদের জন্য। মৃত ব্যক্তির জন্য আইনের দরকার নেই। বর্তমান বলে আসলে কিছু নেই, কারণ যে মুহূর্ত এখনও আসে নি, তা ভবিষ্যৎ আর যেটা এসে গেল সেটা চোখের নিমেষ ফেলার আগেই অতীত হয়ে গেল। তাই আইন যা কিছুই করা হয় সবই ভবিষ্যতের জন্য। মানুষের ব্যক্তিগত, জাতীয় ও সামষ্টিক জীবন পরিচালনার জন্য একটি জীবনব্যবস্থা থাকতে হয়, একে বলা হয় System of life। মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী হলেও তার একটি বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে সে ভবিষৎ জানে না। আল্লাহ তাকে কিছু অনুমানশক্তি দিয়েছেন, কার্যকারণের জ্ঞান দিয়েছেন, সেই জ্ঞান অনুসারে সে কেবল একটি তত্ত্ব (Theory) দাঁড় করাতে পারে যদিও আল্লাহ বলে দিয়েছেন, “তাদের অধিকাংশ ব্যক্তিই নিজেদের আন্দাজ অনুমানের অনুসরণ করে, আর সত্যের বিপরীতে অনুমান তো কোনো কাজে আসে না; আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই ওদের কর্মকা- স¤পর্কে পূর্ণাঙ্গ ওয়াকেবহাল রয়েছেন।” [সুরা ইউনুস -৩৬]। ব্যক্তি মানুষ জানে না, এখন থেকে এক মিনিট পরে তার জীবনের কী পরিবর্তন হবে, কাজেই সমাজের সকল মানুষের ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা তার জানার প্রশ্নই আসে না। যে কোন আকষ্মিক ঘটনায় কোন সমাজের, জাতির, দেশের বিরাট পরিবর্তন হয়ে যায় যা মাথায় রেখে বিধান রচনা করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। আশ্চর্য ও হাস্যকর বিষয় হল, যে তার ভবিষৎই জানে না অথচ সে তার ভবিষ্যৎ চলার পথ, বিধান রচনা করে। মেলা হুলুস্থুল করে সে একটি আইন তৈরি করে, কিন্তু কিছুদিন না যেতেই সেই আইনের অসংগতি, অপ্রযোজ্যতা তার চোখে ধরা পড়ে, তখন আবার তাড়াহুড়া করে সেটা সংশোধনের জন্য বসে। তাছাড়া এমন এক জীবনব্যবস্থা তৈরি করা কি কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব যে জীবন ব্যবস্থা একসঙ্গে পৃথিবীর সকল মানুষের সকল সমস্যার সমধান করবে?
পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থা এমন যে মরু এলাকার মানুষদের চিন্তা ভাবনা, মন মেজাজ, রুচি, সংস্কৃতি, আর কৃষিনির্ভর সমভূমির এলাকার মানুষের মন মেজাজ রুচি অভিরুচি এক নয়, পাহাড়ী এলাকার আর বরফাচ্ছন্ন এলাকার মানুষের চরিত্রও এক নয়, বৈচিত্র্য আছে, বিভিন্নতা আছে। এক কথায় পৃথিবীর সকল মানুষের মন মেজাজ রুচি অভিরুচি একত্রে বিবেচনা করে এমন একটা জীবন ব্যবস্থা যা সর্বত্র কার্যকর হবে, প্রযোজ্য হবে সেটা কি মানুষের পক্ষে তৈরি করা সম্ভব? সম্ভব নয়। কারণ একটাই যুক্তি, যে তার ভবিষ্যৎ জানে না, সে কোনো প্রকারেই ভবিষ্যতের জন্য আইন প্রণয়ন করতে পারে না। এটা করতে পারেন একমাত্র আল্লাহ যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন, মানবজাতির পৃথক মন মানসিকতাও তিনি সৃষ্টি করেছেন। কাজেই কী ভাবে পৃথিবীতে জীবন যাপন করলে মানুষ অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি সবকিছু থেকে বেঁচে পরম নিরাপত্তা ও সুখে থাকতে পারবে তা আল্লাহর পক্ষেই জানা সম্ভব। তিনিই বলছেন, যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানেন না? তিনি সূক্ষ্মতম বিষয়ও জানেন (সুরা মুল্ক ১৪)। এই কথার কোন জবাব আছে কি? তদুপরি আল্লাহ বলেছেন, আমি তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দিয়েছি (সুরা বনী ইসরাঈল ৮৫)। ক্ষুদ্র জ্ঞানের অধিকারী মানুষের পক্ষে কি অসীম জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহর মত নিখুঁত কোন কাজ করা সম্ভব? এই ধারণাতীত বিশাল বিশ্বজগৎ যিনি সৃষ্টি করেছেন, যার একটি পরমাণুতেও কোন খুঁত নেই, মানুষ জাতির জন্য তাঁর তৈরি জীবনব্যবস্থার চেয়ে অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা নিখুঁত হওয়া কি সম্ভব? তবুও যিনি আমাদের স্রষ্টা, যিনি সমস্ত ভুল-ত্রুটির ঊর্দ্ধে, তাঁর দেওয়া জীবনবিধান প্রত্যাখ্যান করে আমরা নিজেরাই নিজেদের জন্য জীবনব্যবস্থা তৈরি করে নিয়ে জীবনযাপন করছি। ফলে আজ সমস্ত মানবজাতি অশান্ত, অস্থির। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, বিচারিক ইত্যাদি অন্যায়ের পরিণাম ভোগ করছে; মানুষে মানুষে সংঘাতে, রক্তপাতে মানবজাতি ভারাক্রান্ত।
এই নির্বুদ্ধিতা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে গত কয়েক শতাব্দী। মানুষ ব্যর্থ হয়েছে তার সামগ্রিক, ব্যক্তিগত ও আত্মিক ভারসাম্য রক্ষাকারী শান্তি প্রদানকারী একটি জীবনব্যবস্থা তৈরি করতে। একে একে সবগুলো মানবরচিত জীবনব্যবস্থার ব্যর্থতার পর এখন মানবজাতি চূড়ান্ত আদর্শিক শূন্যতায় আক্রান্ত হয়েছে। তারা তো ধর্মকে বাদ দিয়েছে বহু আগেই, কারণ প্রচলিত ধর্মগুলো মানুষকে শান্তি দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। কোথাও কোথাও জোর করে জঙ্গিবাদী দলগুলো তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল নিকট অতীতে কিন্তু সেখানে ইসলামের নামে যে শরা-শরিয়ত চালু করা হয়েছিল সেগুলো মানুষকে বিন্দুমাত্রও শান্তি দিতে পারে নি। উল্টো মানুষ ইসলামের নামে হিংস্র, উগ্রতার চর্চা দেখে ভীত হয়েছে, ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত চলে গেছে। এমতাবস্থায় যদি মানবজাতিকে শান্তি দিতে হয় তাহলে এই প্রচলিত বিকৃত ধর্মগুলো দিয়ে হবে না, প্রয়োজন পড়বে সেই প্রকৃত ইসলামের যা আল্লাহ তাঁর আখেরী নবী (সা.) এর উপর নাজেল করেছিলেন। সেই প্রকৃত ইসলামের রূপরেখা আল্লাহর অশেষ রহমতে হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা মাননীয় এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী মানবজাতির সামনে তুলে ধরেছেন। হেযবুত তওহীদ ইসলামের সেই সঠিক রূপটি সর্বান্তকরণে চেষ্টা করে যাচ্ছে মানুষকে বোঝানোর জন্য।
[কলামিস্ট: লেখক ও সাংবাদিক; ফেসবুক:riyad.hassan.ht]

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

ক্যাটাগরি সমূহ
আকিদা ও আদর্শ 1 হামলা 0 আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 1628 লাইভ আপডেট 5 সেবামূলক ও সচেতনতা কার্যক্রম 8 অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি 189 অপপ্রচারের জবাব ও আইনি লড়াই 102 নির্যাতনের ইতিহাস ও মানবাধিকার 19 কার্যক্রমের অনুমোদন ও বৈধতা 29 নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় 122 English Articles 1 সাধারণ আলোচনা 89 প্রেস রিলিজ ও বিবৃতি 9 সাংস্কৃতিক নীতিমালা 25 সাংস্কৃতিক চর্চা 18 আমাদের নারী নীতি 31 নারী বিষয়ক কার্যক্রম 24 মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম 15 ঈদের জামাত 13 উন্নয়ন কর্মকাণ্ড 20 সভা সমাবেশ 60 সর্বধর্মীয় অনুষ্ঠান 16 সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি 45 জেলা ও কার্যালয় উদ্বোধন 32 ইফতার মাহফিল 26 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় দিবস উদযাপন 6 ছাত্র ও যুব সম্মেলন 4
জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি #সংবাদ-সম্মেলন