হেযবুত তওহীদ

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত

রংপুরে গুজব রটিয়ে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের উপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

রংপুরের পীরগাছায় গুজব ছড়িয়ে হেযবুত তওহীদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় হেযবুত তওহীদের ২০ সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ইং তারিখ, রোজ: সোমবার, সকালে পীরগাছা উপজেলার ২নং পারুল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ছিদামবাজার সংলগ্ন আব্দুল কুদ্দুস শামীমের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আব্দুল কুদ্দুস শামীম হেযবুত তওহীদের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি। আমরা এই নগ্ন হামলা ও মবোক্র্যাসির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশের আইন মান্য করে গত ৩০ বছর ধরে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে এই আন্দোলন।

সম্প্রতি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের ছিদাম বাজার সংলগ্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস শামীমকে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় আমির (বিভাগীয় সভাপতি) পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। দাযিত্ব পাওয়ার পর আব্দুল কুদ্দুস শামীম তার নিজ বাড়িতে এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজন ও সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি সৌজন্য প্রীতিভোজ ও পরিচিতি অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই মোতাবেক ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ইং মঙ্গলবার সেখানে এই অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং জেলার এসপি ও পীরগাছা থানার ওসির কাছে এ ব্যাপারে অবগত করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি জানানো হয় নি, বরং প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সফল করতে অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে থেকেই অর্থাৎ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে হেযবুত তওহীদের ২৫-৩০ জন স্থানীয় কর্মী আব্দুল কুদ্দুস শামীমের বাড়িতে অবস্থান করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছিলেন। একই দিনে বাড়ির উঠানে সামিয়ানা-প্যান্ডেলের কাজ শুরু করে স্থানীয় একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু সন্ধ্যার পর ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের লোকজন জানায়, স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নুর আলম তাকে জানিয়েছেন আগামীকাল এখানে হামলা করা হবে, ডেকোরেটরের মালামাল যেন সরিয়ে নেয়া হয়। অন্যথায় সেগুলো পুড়িয়ে দেয়া হবে। এ কথা বলে তারা তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর আব্দুল কুদ্দুস শামীমসহ হেযবুত তওহীদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তা দাবি করেন। বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়।

পরের দিন সকাল বেলা নাগদহ গ্রামের ‘নোয়াখালী পাড়া’র চৌরাস্তা মোড়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নেতৃত্বে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। সেখানে সাধারণ জনগণকে এই মিথ্যা কথা বলে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হয় যে, “আব্দুল কুদ্দুস শামীমের বাড়িতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতারা একত্রিত হয়েছে, তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসরদের জড়ো করার চেষ্টা করছে।” পাশাপাশি “হেযবুত তওহীদের সদস্যরা মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (স) নিয়ে কটূক্তি করেছে” এমন ডাহা মিথ্যা অভিযোগ তুলেও তারা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদেরকে ক্ষিপ্ত করে তোলার চেষ্টা করে এবং উত্তেজিত জনতাকে সাথে নিয়ে মিছিলসহ নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে ‘তওহীদী জনতা’র ব্যানার নিয়ে আব্দুল কুদ্দুস শামীমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হয়। এসময় তারা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘আল কোরআনের আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো’, ‘দীন ইসলাম জিন্দাবাদ’ সহ আরো বেশি কিছু স্লোগান দিতে থাকে এবং আব্দুল কুদ্দুস শামীমের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এই হামলার উস্কানি ও নেতৃত্ব দেয় জামায়াতে ইসলামীর পারুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নূর আলম, সাবেক সভাপতি আলী আহমদ, সাবেক শিবির সদস্য ও বর্তমান জামাত নেতা আব্দুর রহিমসহ আরও অনেকে। হামলাকারী ব্যক্তিরা কুঠার, রামদা, তলোয়ার দিয়ে কুপিয়ে আব্দুল কুদ্দুস শামীম ও তার ভাইদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং লন্ডভণ্ড করে দেয়। এসময় অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে নিয়োজিত যে ২৫-৩০ জন হেযবুত তওহীদ কর্মী বাড়িটিতে অবস্থান করছিলেন তারা এই হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে স্থানীয় মসজিদে পাল্টা মিথ্যা অভিযোগ করে মাইকিং করা হয়, “হিন্দুরা মুসলমানদের উপর হামলা করেছে, আপনারা মুসলমানদেরকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন। এটা আপনাদের ঈমানী দায়িত্ব।” এই ঘোষণার পর পাশ্ববর্তী ‘নোয়াখালী পাড়া’ থেকে দলে দলে শত শত মানুষ লাঠি, দা সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং দ্বিতীয় দফায় হেযবুত তওহীদ কর্মীদের উপর ব্যাপক হামলা চালায় এবং তাদের ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এমনকি গরু, ছাগল, গোয়ালের ধানসহ সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরবর্তীতে আনুমানিক ১২টার দিকে পুলিশ ও সেনা-সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত হতে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে এসময় হামলাকারীরা ভাঙচুরকৃত ও লুণ্ঠিত ঘরবাড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে দেয়। এসময় আশ্চর্যজনকভাবে প্রশাসন নিরব দর্শদের ভূমিকা পালন করে।

এই নজিরবিহীন তান্ডব চলতে থাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে। এই ঘটনায় হেযবুত তওহীদের ২০ জন সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭জনের অবস্থা গুরুতর। তাছাড়া তারা ২ জন সদস্যকে বেধে রেখে বেধরক মারধর করতে থাকলে মুমূর্ষু অবস্থায় পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে। হামলাকারীরা হেযবুত তওহীদ সদস্যদের ৫ টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

এই নৃশংস হামলায় আহত হেযবুত তওহীদ সদস্যরা বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। ভিটেমাটি-হারা পরিবারগুলো বাস্তুহারা হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পৃথিবীর কোনো ধর্ম, এই নৃশংসতাকে সমর্থন করে না। অথচ সম্পূর্ণ এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে মানুষের মধ্যে একটি ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা রটিয়ে দিয়ে এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে। আর এই কাজটি করেছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শী গোষ্ঠী, যারা নিজেদেরকে সর্বোত্তম ও ধার্মিক বলে প্রচার করে বেড়ায়। অতি দুঃখের বিষয়, আমাদের আহত সদস্যরা যখন রক্তাক্ত, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তখন পুলিশ সদস্যরা সেই নিপীড়িত মানুষগুলোর হাতে হাতকড়া পড়িয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখায়।

আমরা হেযবুত তওহীদ সদস্যদের উপর এহেন বর্বরোচিত হামলা ও অন্যায় আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আমাদের দাবিসমূহ:
১. নজিরবিহীন এই হামলার সাথে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, যারা গুজব রটিয়েছে এবং ধর্মবিশ্বাসী মুসল্লিদেরকে ক্ষিপ্ত করে এই অন্যায় কাজে প্ররোচিত করেছে তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
২. এই ঘটনায় হেযবুত তওহীদের যে সদস্যরা আহত হয়েছে প্রশাসনকে নিজ দায়িত্বে তাদের উন্নত ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. বাস্তুহারা পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৪. ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. রংপুরে এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

ধন্যবাদান্তে-
নিজাম উদ্দীন,
কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী,

হেযবুত তওহীদ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

 

রংপুরে গুজব রটিয়ে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের উপর নৃশংস হামলা সংক্রান্ত বিবৃতি: PDF Download

 

সার্চ করুন

যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে...