হেযবুত তওহীদ

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত

হেযবুত তওহীদ: সত্যদীন প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী কাফেলা

মোখলেছুর রহমান সুমন:
উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী পন্নী বংশীয় জমিদার পরিবারের সন্তান এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী ১৯৯৫ সালে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর জন্ম ১৯২৫ সনে যখন ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের অধীন ছিল। বুদ্ধি হবার পর থেকেই তিনি দেখতে পান সমস্ত মুসলিম জগৎ কোনো না কোনো পাশ্চাত্য প্রভুর গোলাম। অথচ মুসলিমরাই এক সময় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সামরিক, অর্থনৈতিক শক্তিতে সমগ্র দুনিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। কিন্তু আজ তাদের এই করুণ পরিণতি কেন? একটু একটু করে, সারা জীবন ধরে তিনি তাঁর এ প্রশ্নের উত্তর পেতে থাকলেন। জীবনের পরিণত বয়সে এসে তিনি বুঝতে পারলেন কী সেই শুভঙ্করের ফাঁকি, যে ফাঁকিতে পড়ে আজ যাদের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি হবার কথা, তারা পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জাতিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বুঝলেন, চৌদ্দশ বছর আগে মহানবী (সা.) যে দীনকে সমস্ত জীবনের সাধনায় আরবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সে দীনটি আর আজ আমরা ‘ইসলাম ধর্ম’ বলে যে দীনটি অনুসরণ করি এ দু’টি দীন পরস্পর-বিরোধী, বিপরীতমুখী দু’টো ইসলাম। ফলে রসুলের নিজ হাতে গড়া জাতিটি এবং বর্তমানের মুসলিম জনসংখ্যাটিও সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ইসলামের সঠিক আকিদা, তওহীদের মর্মবাণী, এবাদতের অর্থ, মো’মেন, মুসলিম, উম্মতে মোহাম্মদী হবার শর্ত, হেদায়াহ-তাকওয়ার পার্থক্য, সালাতের (নামাজের) সঠিক উদ্দেশ্য, দাজ্জালের পরিচয়, দীন প্রতিষ্ঠার তরিকা, পাঁচ দফা কমসূচি এবং কীভাবে তাকে প্রয়োগ করতে হয় ইত্যাদিসহ আরো বহু বিষয় তিনি আল্লাহর দয়ায় বুঝতে পারলেন। মানবজাতিকে তিনি আবারও আল্লাহর তওহীদের উপরে ঐক্যবদ্ধ করে সত্যদীন প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯৫ সনে ‘হেযবুত তওহীদ’ আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। এ আন্দোলনের কর্মসূচি আল্লাহর দেওয়া কর্মসূচি যা ইতঃপূর্বে বলে এসেছি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত হেযবুত তওহীদ লক্ষ লক্ষ সভা সেমিনার, আলোচনা সভা, ঘরোয়া মিটিং, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পত্রিকা প্রকাশ, বই হ্যান্ডবিল পোস্টার ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও আল্লাহর তৈরি জীবনব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব ও তার প্রকৃত রূপরেখা তুলে ধরছে। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তিনি তাঁর নিজের সমস্ত সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন এবং সামাজিক অবস্থানকে নির্দ্বিধায় পরিত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সারাদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলে উগ্রবাদী ধর্মান্ধ শ্রেণী। ফলে একাধিকবার তাঁকে বৃদ্ধ বয়সে গ্রেফতারও করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আল্লাহর প্রত্যক্ষ সাহায্যে হেযবুত তওহীদ নিরন্তরভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাজার বছরের ফিকাহ, তাফসির আর ফতোয়ার পাহাড়ের নিচে যে সহজ-সরল (সিরাতুল মুস্তাকিম) ইসলাম চাপা পড়ে রয়েছে সে ইসলামকে তার মৌলিক, অনাবিল রূপে উদ্ধার করে মানুষের সামনে উপস্থিত করতে।

চেইন অব কমান্ড: বর্তমান এমাম
পরিবার থেকে সরকার যে কোনো সংগঠনের একজন চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ থাকতেই হবে যার সিদ্ধান্তকে সবাই চূড়ান্ত বলে মেনে নেবে। উম্মাহর এই কর্তৃপক্ষকে ইসলামের পরিভাষায় বলা হয় ‘ইমাম’ বা নেতা। সকল নবী-রসুলগণও তাঁদের স্ব স্ব উম্মাহর ইমাম ছিলেন। আল্লাহ বলেন, স্মরণ কর, যেদিন (হাশরের দিন) আমি প্রত্যেক কওমকে তাদের ইমামসহ  আহ্বান করব। (বনী ইসরাইল ৭১)।

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা প্রাকৃতিক নিয়মসিদ্ধ (Conformed to Natural Law)। নেতা ছাড়া কখনোই দুজন ব্যক্তির মধ্যেও শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। তাই ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে, দুজন মানুষই হোক বা দু লক্ষ মানুষই হোক, তারা জামাতে নামাজ পড়লে একজন ব্যক্তিকেই ইমাম মানতে হয়। নামাজের উদ্দেশ্য কেবল দোয়া বা প্রার্থনা করা নয়, এর অন্যতম উদ্দেশ্য হল জাতিকে ইমামের নিঃশর্ত আনুগত্যের চর্চা করানো। মুসল্লিদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে, নামাজে যেমন তারা ইমামের আনুগত্য করছে, বাস্তব জীবনেও তাদেরকে ইমামের আনুগত্য করতে হবে। এই আনুগত্যের শপথকে ইসলামের পরিভাষায় বলা হয়- বায়াত (Promise of Obedience)। রসুলাল্লাহ এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘যে ব্যক্তি ইমামের প্রতি আনুগত্যের শপথ ছাড়া (বায়াতহীন) মারা যায়, সে জাহিলিয়াতের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।’ (মুসলিম- ১৮৫১)।

ইসলামের চেইন অব কমান্ড মোতাবেক, ইমামের পরে থাকেন আমির আর আমিরের অধীনে থাকেন মো’মেন-মোজাহেদগণ। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর আদেশ পালন কর, রসুলের আদেশ পালন কর, আর তোমাদের মধ্যে যারা আমির (আদেশ দানকারী, উলিল আমর) তাদের আদেশ পালন কর। (সুরা নিসা ৪:৫৯)। আমিরের আদেশ মান্য করার বিষয়ে রসুলাল্লাহ বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, যদি কোনো বিকলাঙ্গ, কুৎসিত, কানকাটা, হাবশি গোলামকেও তোমাদের আমির নিযুক্ত করা হয়, আর সে আল্লাহ তা’আলার কিতাব অনুযায়ী তোমাদেরকে পরিচালিত করে, তাহলে অবশ্যই তোমরা তার কথা শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে। (উম্মুল হুসায়ন রা. থেকে মুসলিম ১২৯৮)।

হেযবুত তওহীদ কোনো ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন নয়, এটি আল্লাহ ও রসুলের প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছে। তাই এখানে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব কাঠামো বা চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী হচ্ছেন আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এমাম। তিনি আন্দোলনের পরিচালনার জন্য তাঁর সার্বক্ষণিক সহকারী জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমকে আমিরের (সমন্বয়কারী) দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাঁর অধীনে বিভিন্ন জেলায় আমির নিয়োগ করা হয়। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠাতা এমামের ইন্তেকালের পর সর্বসম্মতিক্রমে আন্দোলনের এমাম মনোনীত হন জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। সকল সদস্য লিখিত ফরমে স্বাক্ষর করে তাঁর বায়াত গ্রহণ করেন।

আমরা মনে করি, হেযবুত তওহীদের এমাম আল্লাহর মনোনীত। তিনি আন্দোলনের সদস্যদের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় দিকের নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। আন্দোলনের কার্যক্রম ব্যাপক বিস্তৃত হওয়ায় তিনি বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এর মধ্যে রয়েছে: প্রচার বিভাগ, তথ্য বিভাগ, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ, চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনা বিভাগ, আইনী সহায়তা বিভাগ, নারী বিভাগ, সাহিত্য ও গবেষণা বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ, রাজনৈতিক যোগাযোগ বিভাগ, প্রকাশনা বিভাগ, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিভাগ ইত্যাদি। এই ডিপার্টমেন্টগুলোর পরিচালক ও প্রধান আমিরদের নিয়ে মাননীয় এমাম একটি কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি করেন। কার্যক্রম নির্বাহের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপিত হয়েছে। তবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সকল সদস্য শাখা আমিরের নির্দেশ মেনে চলে।

যোগদানের শর্তাবলি ও আন্দোলনের নীতিমালা:
কোনো মানুষ যদি জ্ঞান দ্বারা এ সত্যটি বুঝতে পারেন এবং হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারেন যে, একমাত্র আল্লাহর তওহীদ মানুষকে জান্নাতে নিতে পারে এবং তওহীদভিত্তিক সত্যদীন জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মানবজীবনে শান্তি আনতে পারে, তখন তিনি এ আন্দোলনে যোগদান করতে পারেন। যোগদানের সময় অবশ্যই  তিনি কারো দ্বারা প্ররোচিত বা প্রভাবিত হবেন না বা কোনো প্রলোভনের শিকার হবেন না। নিজের বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি কাজে লাগাবেন। কারণ আল্লাহ বলেছেন, যে সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তার অনুসরণ করবে না (সুরা বনি ইসরাইল ৩৬)। তারপর নির্দিষ্ট অঙ্গীকারপত্র পূরণ করে তিনি  আন্দোলনে যোগদান করবেন। অঙ্গীকারপত্রটি আল্লাহ প্রদত্ত ও রসুল বর্ণিত পাঁচদফা কর্মসূচির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। যোগদানের পর সকলকে কয়েকটি বিষয় পালন করতে হবে। যেমন:

  • প্রচলিত কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না।
  • অবৈধ অস্ত্রের সংস্পর্শে যাবে না, দেশের আইন ভঙ্গ হয় এমন কিছু করা যাবে না।
  • ধর্মীয় কাজ করে কেউ কোনোরূপ স্বার্থ হাসিল বা বিনিময় গ্রহণ করতে পারবে না, বিনিময় নিবে আল্লাহর কাছ থেকে। কারণ আল্লাহ তাদের অনুসরণ করার আদেশ দিয়েছেন দীনের বিনিময় গ্রহণ করে না। (সুরা ইয়াসিন ৩৬:২১)।
  • কর্মক্ষম কেউ বেকার থাকতে পারবে না। সকলে হালাল উপায়ে উপার্জন করবে এবং উপার্জন থেকে আল্লাহর রাস্তায় দান করবে।
  • প্রত্যেকের আমির থাকবে। আমিরের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
  • আন্দোলনের ভিতরে ঐক্য নষ্ট হয় এমন কোনো কথা বলা যাবে না, কাজও করা যাবে না।
  • আন্দোলনের কোনো গোপন কার্যক্রম থাকবে না, সবকিছু হবে প্রকাশ্য, স্পষ্ট, দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
  • কোনো শ্রেণিবৈষম্য করা যাবে না। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-নিরক্ষর, ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করবে।
    যারা হেযবুত তওহীদের সদস্য বা সমর্থক নয় তাদের কাছ থেকে আন্দোলন পরিচালনার কাজে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হবে না।
  • কেউ অন্য কোনো ধর্মের অবমাননা করতে পারবে না এবং অন্য কোনো ধর্মের প্রবর্তক, অবতার, ধর্মগুরু, ধর্মগ্রন্থ বা উপাসনালয়ের সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করবে না।

পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার:
যারা হেযবুত তওহীদের সকল নীতিমালা মান্য করবেন এবং আন্দোলনের কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবেন তাদের প্রতি আমাদের আন্দোলনের সকলের পক্ষ থেকেও কিছু অঙ্গীকার রয়েছে, যেগুলো পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কারণ আল্লাহ বলেছেন, মো’মেনরা পরস্পর ভাই-ভাই (সুরা হুজরাত ১০)। মহানবী (সা.) বলেছেন, সমগ্র মো’মেন একটি দেহের ন্যায় যার এক অঙ্গে আঘাত পেলে সমস্ত দেহ পীড়িত হয় (মুসলিম)। কাজেই এক মো’মেন আরেক মো’মেনের উপর ঈমানি কর্তব্যবোধ থেকে আমরা নিম্নোক্ত দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

  • কেউ খাদ্যের অভাবে মারা যাবে না।
  • কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।
  • কেউ বস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাবে না।
  • কেউ বাসস্থানের অভাবে কষ্ট পাবে না।
  • কেউ জীবনের জন্য অপরিহার্য শিক্ষা ও জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হবে না।

আলহামদুলিল্লাহ বিগত ৩০ বছরে হেযবুত তওহীদের একজন সদস্যকেও খাদ্যের অভাবে থাকতে হয়নি বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হয়নি। শিক্ষার আলো থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে আমরা দীনি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও প্রযুক্তি শিক্ষার সমন্বয়ে আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নির্মাণ করেছি।

আয়ের উৎস ও ব্যয়ের খাত:
যে কোনো আন্দোলন পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। হেযবুত তওহীদ আন্দোলন যখন গঠন করা হয় তখন এ বিষয়টি সামনে আসে যে, আন্দোলন পরিচালনার অর্থ কোথা থেকে আসবে। এজন্য প্রথম দিকে চিন্তা করা হয়েছিল যে সাধারণ মানুষের থেকে চাঁদা তুলে ইসলাম প্রচারের জন্য কাজ করা হবে। কিন্তু মাননীয় এমামুয্যামান ভাবলেন যে, বহু মানুষের হারাম উপার্জনের টাকাও থাকতে পারে। আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার কাজ তো হারাম টাকা দিয়ে হবে না। সেটা হতে হবে মো’মেনদের হালাল রাস্তায় উপার্জিত অর্থে। তাই তিনি শুরু থেকেই এই নীতি ঠিক করে দেন যে, হেযবুত তওহীদের সদস্য নয় এমন কারো থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করা যাবে না। সেই থেকে আন্দোলনের দরিদ্র থেকে দরিদ্র সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কষ্টার্জিত রোজগার থেকে যে অর্থ আল্লাহর রাস্তায় দান করেন সেটা দিয়েই আন্দোলনের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হয়। বিভিন্ন প্রকাশনা সামগ্রী বিক্রয় করেও কিছু অর্থ আন্দোলনে আসে।

ব্যয়ের খাত:
আন্দোলনের তহবিল সাধারণত বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: (১) দেশের বিভিন্ন স্থানে অফিস ভাড়া, যাতায়াত, যোগাযোগ রক্ষা, অতিথি আপ্যায়ন, অফিসের কাজের জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয় ও মেরামত; (২) আন্দোলনের প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত বই, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, ক্যালেন্ডার, ডায়েরি ইত্যাদি প্রকাশনা খরচ; (৩) সভা, সেমিনার, সমাবেশ, র‌্যালি ও ঘরোয়া বৈঠক আয়োজনের জন্য খরচ; (৪) মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা এবং প্রতিপক্ষের দ্বারা হয়রানির শিকার সদস্যদের সহায়তা; (৫) দরিদ্র ও অভাবীদের সহায়তা এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান; (৬) মসজিদ নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি উন্নয়ন ইত্যাদি।

হেযবুত তওহীদের সঙ্গে যোগাযোগ-
ইমেইল: hezbuttawheed.official@gmail.com
ফোন: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৫৭১৫৮১

সার্চ করুন

যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে...