হেযবুত তওহীদ

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কারা করে, কেন করে?

এম এম রহমান:
প্রত্যেক আদর্শেরই পাল্টা আদর্শ ও আদর্শিক প্রতিপক্ষ থাকতেই পারে। সভ্য সমাজে আশা করা হয়, এ ধরনের প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধমতের গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করবে। কিন্তু হেযবুত তওহীদের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। আমাদের বিরুদ্ধে দুটি শ্রেণির প্রতিপক্ষ আদর্শিক সমালোচনা না করে ডাহা মিথ্যা, গুজব এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। এই শ্রেণি দুটি হল: এক) ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি এবং দুই) ইসলামবিদ্বেষী শ্রেণি।

ধর্মব্যবসায়ীরা কেন অপপ্রচার করে? 
আমাদের বিরুদ্ধে তাদের এই শত্রুতার প্রধান দুটি কারণ-

১. অহংকারে আঘাত: 
তাদের অহংকারে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে আলেম হয়েছেন। তারা তাই নিজেদেরকে নায়েবে নবী ও দীনের কর্তৃপক্ষ বলে বিশ্বাস করেন। এখন আমরা সাধারণ মানুষ যখন দীনের কথা বলছি, তখন সেটা তাদের অহংকারে লাগছে।

২. আর্থিক স্বার্থে আঘাত: 
তারা ইসলামকে ব্যবহার করে রুজি-রোজগার করছেন, ইসলামকে জীবিকায় পরিণত করেছেন। কিন্তু আমরা এ মহাসত্যটি তুলে ধরেছি যে, আল্লাহর দীনের বিনিময় নেওয়া আল্লাহ হারাম করেছেন এবং যারা বিনিময় নেয় তাদেরকে অনুসরণ করতেও আল্লাহ নিষেধ করেছেন (সুরা বাকারা ১৭৪, সুরা ইয়াসিন ২১)। অর্থাৎ এক কথায় ধর্মের কাজের বিনিমেয় কোনো প্রকার অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটা আমাদের কথা নয়, একটা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কথা, আমরা শুধুমাত্র তুলে ধরেছি।

আমাদের এই বক্তব্যে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণিটির স্বার্থে আঘাত লেগেছে। ফলে তারা আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তারা হাটে বাজারে, মাদ্রাসা মসজিদে, ওয়াজ মাহফিলে, জুমার খুতবায়, অনলাইনে আমাদের বিরুদ্ধ ডাহা মিথ্যা কথা প্রচার করে যাচ্ছে, আমাদেরকে খ্রিষ্টান, কাফের, মুরতাদ, নাস্তিক, ইসলামের শত্রু, ইহুদির দালাল বলে জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করছে ও হুমকি দিচ্ছে। এডিট করে অনলাইনে আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করা হয়েছে। যেমন দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার সংবাদে ভারতের কেরালা রাজ্যের একটি মসজিদে একজন নারীকে ইমামতি করতে দেখা যায়। কেউ একজন মুসল্লির ছবি এডিট করে সেখানে মাননীয় এমামের চেহারা বসিয়ে দেয় আর অপপ্রচার চালায় যে হেযবুত তওহীদে নারীরা নামাজের ইমামতি করে। অগণিত মানুষ সেটা বিশ্বাস করে এবং প্রচার করে। শুধু অপপ্রচারের মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ থাকেনি, তারা গত ৩০ বছরে অন্তত পাঁচ শতাধিকবার ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে হামলা চালিয়ে আমাদের বাড়িঘরে হামলা করেছে, বহু সদস্যকে পৈত্রিক ভিটা থেকে উৎখাত করেছে, শত শত সদস্যকে আহত রক্তাক্ত করেছে, পাঁচ জনকে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলেছে। অপরদিকে হাজারো সত্যনিষ্ঠ, হক্কানি আলেম আমাদের কাজকে সমর্থন দিচ্ছেন, দোয়া ও সহযোগিতা করছেন।

ধর্মবিদ্বেষীরা কেন অপপ্রচার করে?
উপরে বলে এসেছি যে ব্রিটিশ খ্রিষ্টানরা তাদের তৈরি করা সাধারণ ইংরেজি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মকে গৌণ ও অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসাবে শিক্ষা দিয়েছে। এ শিক্ষায় শিক্ষিতদের অধিকাংশই ধর্মের বিষয়ে চরম অবজ্ঞা পোষণ করেন এবং একে অকল্যাণকর মনে করেন। এই শ্রেণিটির হাতেই মুসলিম বিশ্বের দেশচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, বিশেষ করে গণমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। যেহেতু আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার প্রতি তাদের মনোভাব শত্রুভাবাপন্ন, তাই তারা আন্দোলন প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথম অন্তত ২০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে গেছেন। তারা হাজার হাজার মিথ্যা রিপোর্ট আমাদের বিরুদ্ধে লিখেছেন যেগুলোতে তারা হেযবুত তওহীদকে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত, কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি, সন্ত্রাসী, চরমপন্থী সংগঠন ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করেছেন। এদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা। গত শতাব্দীতে জার্মানির চ্যান্সেলর এডলফ্ হিটলারের জনসংযোগ ও প্রচারমন্ত্রী ভন গোয়েবলসের নীতি ছিল এই যে যদি একটা মিথ্যাকে ক্রমাগত একশ’ বার বলে যাও তবে সেটা মানুষ সত্য বলে বিশ্বাস করবে। পশ্চিমা সভ্যতা তার এই নীতিকে গ্রহণ করে নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বময় অপপ্রচার ছড়াচ্ছে এবং মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী জাতি হিসাবে চিত্রিত করে যাচ্ছে। পশ্চিমা ভাবধারার অনুসারী এক শ্রেণির দেশীয় মিডিয়াগুলোও বাংলাদেশে সক্রিয় কতিপয় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হেযবুত তওহীদকেও এক কাতারে ফেলে বানেয়াট সংবাদ প্রচার করতে থাকে। সেগুলোর প্রতিবাদ জানালেও সেটা তারা প্রকাশ করে না। কারণ আমাদের দলের নাম আরবিতে রাখা হয়েছে, আমরা ইসলামকে জাতীয় রাষ্ট্রীয় জীবনে দেখতে চাই যা তাদের কাছে অসহ্য, তারা কিছুতেই তা চান না। তাদের এই অবিশ্রান্ত মিথ্যাচারের ফলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় বহু কর্মকর্তা মিডিয়ার এসব মিথ্যা সংবাদ দ্বারা প্রভাবিত হন। ফলে আমাদের সদস্যরা প্রচারকাজ করতে গিয়ে অগণিতবার গ্রেফতার হন এবং অন্তত পাঁচ শতাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হন।

আলহামদুল্লিাহ, গত দশ বছরে আমরা মিডিয়া, প্রশাসনসহ দেশের অন্যান্য দায়িত্বশীল পর্যায়ে যারা আছেন তাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে হেযবুত তওহীদ কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়, বরং আইনমান্য করায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই আন্দোলন। তবে এখনও বহু মানুষ সেই অপপ্রচারের কারণে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। আর ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি এখনও তাদের ওয়াজে, খোতবায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মিথ্যা কথা প্রচার করেই যাচ্ছে। তাই সকলের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, আমাদের বিষয়ে কোথাও নেতিবাচক কোনো কথা শুনলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমাদের বই পড়ুন, অনলাইনে আমাদের বক্তব্য দেখুন। তৃতীয় পক্ষের কথাকে আমাদের কথা বলে গ্রহণ করবেন না।

যোগাযোগ: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৫৭১৫৮১, ০১৭১১২৩০৯৭৫]

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Email
Facebook
Twitter
Skype
WhatsApp
সার্চ করুন

যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে...