হেযবুত তওহীদ

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত

জুমাতুল বিদায় মানবজাতিকে তওহীদে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিনিধি:
পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষীরহাটে অবস্থিত শহীদী জামে মসজিদে জুমা অনুষ্ঠিত হয়। জুমাতুল বিদা’র এই জামাতে ইমামতি করেন হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। এ সময় তিনি মুসলমানসহ সমগ্র মানবজাতিকে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীতে মুসলমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় দুশো কোটি। বিশ্বের ৫৬ টি দেশে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই দেশগুলোসহ সমগ্র পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মসজিদে প্রতিদিন কোটি কোটি মুসল্লি নামাজ পড়ছে, লক্ষ লক্ষ মাদ্রাসায় কোর’আন তেলাওয়াত ও হেফজ করা হচ্ছে। রমজান আসলে প্রায় সমগ্র মুসলমান জনগোষ্ঠী রোজা পালন করছে, প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ হজ ও ইজতেমা করছে, ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে, পীরের দরবারে উরশ ও জিকির আজকার হচ্ছে। কিন্তু তারপরও এই মুসলিম জনগোষ্ঠী সকল জাতির দ্বারা লাঞ্ছিত, অপমানিত, পরাজিত কেন?

তিনি বলেন, এই প্রশ্নের বহুরকম উত্তর পাওয়া যাবে। কিন্তু এর মূল কারণ হলো- সমগ্র মুসলিম জাতি ইসলামের ভিত্তি ‘তওহীদ’ থেকে সরে গেছে। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ হাজারো রকম আমলের পূর্বশর্ত যে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতি ঈমান, সেই ঈমান থেকে তারা সরে গেছে। কলেমা তথা তওহীদের অঙ্গীকারে তারা সদা- সর্বদা ঘোষণা দিচ্ছে যে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা, বিধানদাতা (ইলাহ) নেই। কিন্তু বাস্তবে তারা আল্লাহর হুকুম অর্থাৎ কোর’আনের হুকুম প্রত্যাখ্যান করে মানুষের তৈরি হুকুম মানছে, এক কথায় আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকে তারা ইলাহ হিসাবে গ্রহণ করেছে। এই কাজ করে তারা কলেমা তওহীদের অঙ্গীকার থেকে বের হয়ে গেছে, ইসলাম থেকেও বের হয়ে গেছে।

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, এই অবস্থায় তাদের নামাজ রোজার কোনো মূল্য আল্লাহর কাছে নেই। কারণ নামাজ রোজাসহ যে কোনো আমলের পূর্বশর্ত হচ্ছে ঈমান তথা কলেমা, তওহীদ। যারা এ কলেমাতেই নেই তাদের নামাজ রোজা সবই অর্থহীন। এই তওহীদের ঘোষণা হচ্ছে সমগ্র মুসলিম জাতির ঐক্যসূত্র। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তির আনুগত্য ও দাসত্ব না করার এই ঘোষণাই তাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেছিল। সুতরাং মানুষের হুকুম বিধান জীবনে কার্যকর করে আল্লাহকে যতই উপাসনা করা হোক না কেন, তা এ জাতির দুর্দশা দূর করতে কোনো কাজেই আসবে না। আখেরি নবীসহ সকল নবী-রসুল মানুষকে এই তওহীদের দিকে আহ্বান করেছেন, আমরাও শেষ নবীর উম্মত হিসাবে মানবজাতিকে আল্লাহকে একমাত্র হুকুমদাতা হিসাবে মেনে নেওয়ার জন্য। সবশেষে তিনি বলেন, তওহীদের এই ডাকে যদি কারো হৃদয়তন্ত্রীতে হেদায়াতের ঝংকার ওঠে আজই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং পৃথিবীতে সত্যদীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সামিল হোন। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর তওহীদের রজ্জু ধারণ করার তওফিক দান করুন। আমিন।

সার্চ করুন

যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে...