সময় এসেছে প্রচলিত সিস্টেমকে পরিবর্তন করার

Saif-vaiসাইফুর রহমান, হেযবুত তওহীদ:
আমরা অনেক দেখেছি অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর আর ককটেল আতঙ্ক। অপরপক্ষে সমানুপাতিকহারে গ্রেফতার, রিমান্ডের নামে বিরোধী দলের উপর দমন-পীড়ন। ঊভয়পক্ষের ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে সাধারণ জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত। এ যেন রাজনীতিকদের স্বাধীন বাংলা, সাধারণ জনগণের নয়। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান বাংলাদেশ কঠিনতম সময় অতিক্রম করছে। সহিংসতা ও বর্বরতার দৃশ্য দেখতে দেখতে দেশের জনগণ অনেকটাই বিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। এমন সহিংসতা বাঙ্গালির স্বাধীনতা পরবর্তী জাতীয় ইতিহাসে খুব কমই এসেছে। কাজেই এটাকে চিরাচরিত নিয়ম বলে উড়িয়ে দেবার কোনো কারণ নেই। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে এই সিদ্ধান্তে আসা কষ্টকর হবে না যে, এই সবগুলো ঘটনারই মূল হলো একটাই, তথাকথিত গণতন্ত্র। বলা হয়ে থাকে ১৯৭১ সালের অর্জিত স্বাধীনতার পরিপূর্ণতা এসেছে ১৯৯১ সালে। রক্তে রঞ্জিত রাজপথের উপর দিয়ে দেশ কাঁপানো আন্দোলনের ফলশ্র“তিতে গণতন্ত্র কার্যকর করার পরই নাকি এদেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে। কথাটির সাথে বাস্তবতাকে হয়তবা অনেকেই মেলাতে পারবেন না। তাই তাদের সেই মতবাদকে স্বপ্রণোদিত হয়ে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ কোরছি। এ বিষয়ে আশা করি সকলেই একমত হবেন যে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। যেহেতু আমাদের রাজনীতিকরা গণতন্ত্রকেই স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হিসেবে বিশ্বাস করেন হয়তোবা এই কারণেই গণতন্ত্র রক্ষা কোরতে ব্যস্ত হোয়ে পোড়েছেন। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত একথার সাথে দ্বিমত পোষণ করা মোটেও সম্ভব নয়। আর এই দুই ভাগের দৃষ্টিতে গণতন্ত্রও দুই রকমের। তারা উভয়ভাগই গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী সেজে পরস্পরকে গণতন্ত্র বিধ্বংসী হিসেবে চিহ্নিত কোরতে ব্যস্ত। সরকার বোলছেন- গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে বিরোধীদল হরতাল, অবরোধ, হামলা, ভাংচুর, জালাও-পোড়াও কোরছে। তারা নিরীহ মানুষদেরকে হত্যা কোরছে, জনসাধারণের জীবনজীবিকাকে হুমকীর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সারা দেশে বোমা, ককটেল আর লাঠি-সোটা দিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষকে জিম্মি করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। তারা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। তাদেরকে রুখে দেওয়া এখন সরকারের মানবিক দায়িত্ব। তাই দেখা যায় জাতির স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারও হার্ডলাইনে যাচ্ছে। যত্রতত্র লাশ পড়ছে। যাদের লাশ পড়ছে তারাতো কর্তৃপক্ষের চোখে সমাজবিরোধী আগে থেকেই প্রমাণিত।
বিরোধীদলের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা মোটেও সরকারকে বৈধ মনে করে না। তারা বহু পূর্বে থেকেই সরকারকে স্বৈরশাসক, ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে রেখেছে। তাদের চোখে গণতন্ত্র হারিয়েছে অনেক আগেই। কাজেই তারা বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে পুণরুদ্ধার করার জন্য আন্দোলন-সহিংসতা কোরছেন। আর তাই এরশাদ আমলে যেমন কোমর বেঁধে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেমেছিলেন আজও ঠিক একই উদ্দেশ্যে নেমেছেন। তারা দেশবাসীর জন্য আন্দোলন কোরছেন, জীবন দিচ্ছেন। তাদের কথা যুক্তিও ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
তাহোলে কী অবস্থা দাঁড়ালো? সরকার আর বিরোধীদল উভয়ই গণতন্ত্রের জন্য মারামারি, কাটাকাটি, গোলাগুলি, বোমাবাজি, হরতাল, গ্রেফতার বা রিমান্ড ইত্যাদি কোরছেন। তারা প্রত্যেকেই নিজেদেরকে জনগণের পক্ষের শক্তি দাবি করে পরস্পরকে ঘায়েল কোরতে আপ্রাণ চেষ্টা কোরে চোলেছেন। কিন্তু এতে জনগণের কি উপকার হচ্ছে? এক পক্ষ জনতার দাবির কথা বলে হরতাল দিচ্ছে, বোমা মারছে, ককটেল ফাটাচ্ছে, যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিচ্ছে আবার আরেক পক্ষও সেই একই দাবি, গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলে তাদেরকে দমন করছে। দু:খের বিষয় হোল এই অমানবিক কাজগুলো জনতার কল্যাণে, জনতার স্বাধীনতা আনয়নের জন্য চালানো হোলেও পরিণাম ভোগ করতে হচ্ছে জনতাকেই। সাধারণ রিক্সাচালক থেকে শুরু কোরে ১৪ বছরের শিশুও এই নৃশংস কর্মকাণ্ডের ফল ভোগ করা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যাদের একদিন কাজ বন্ধ থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে উপোস থাকতে হোচ্ছে। সকল ভয়-ডর পশ্চাতে ফেলে যারা রাস্তায় জীবিকার সন্ধানে বের হোচ্ছেন তারাও প্রতিটি মুহূর্তে তাদের জীবন নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন, জীবন দিচ্ছেন, আহত হচ্ছেন, অঙ্গ হারাচ্ছেন। কারণ, রাজপথ এখন আর জনসাধারণের অবাধ বিচরণের উপযুক্ত নয়, রাজপথ এখন রাজনৈতিক কর্মীদের যুদ্ধ ময়দান। গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধ! জনসাধারণের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ! জনকল্যাণের এই যুদ্ধে ৫/১০ টা জনতার লাশ তাদের কাছে আনুষঙ্গিক ক্ষয়ক্ষতি মাত্র!
-সরকার ও বিরোধীদল উভয়েই গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নেমেছেন, কারণ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। তারা গণতান্ত্রিক সিস্টেমের ফাঁদে পড়ে একের পর এক জীবন হারিয়ে চোলেছে কিন্তু তবুও গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কোনো কিছুকে গ্রহণ করার কথা ভুলেও চিন্তুা করে না। তাদের চাওয়ার বাস্তবায়নেই মূলত সরকার ও বিরোধীদল গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নেমেছেন। কাজেই এটা জনগণের জন্য একটি আশার আলো।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য অনেকে বোলছেন তৃতীয় শক্তির উত্থানের কথা। কিন্তু প্রশ্ন হোচ্ছে তৃতীয় শক্তি অন্য কোন দল যদি ক্ষমতায় আসে তবে সে যে একই আচরণ করবে না তার কী নিশ্চয়তা আছে? যে দলই ক্ষমতায় আসুক তার নাম হবে সরকারি দল, বাকিরা হবে বিরোধী দল। সুতরাং দৃশ্যপটে শুধু নায়ক পরিবর্তন হবে, ঘটনা প্রবাহের বিশেষ কোন পরিবর্তন আসবে না এটা নিশ্চিত বলা যায়। এখানে বি. এন. পি বা আওয়ামীলীগ কোন বিষয় নয়, বিষয় হোল সিস্টেম। প্রচলিত গণতান্ত্রিক সিস্টেমে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, আর যে পক্ষই বিরোধী দলে থাকুক তাদের তো এই গণতান্ত্রিক আচরণ (হরতাল, অবরোধ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ; গ্রেফতার, রিমান্ড, মিথ্যা মামলা, হয়রানি ইত্যাদি) কোরতেই হবে।
সুতরাং আজ সময় এসেছে দলাদলি ও বিভেদের এই প্রচলিত সিস্টেম তথা গণতন্ত্রকে নির্বাসন দিয়ে ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হবার। যদি আমরা শান্তি, প্রগতি, উন্নতি চায় তবে অবশ্যই সত্য, ন্যায় ও হকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আল্লাহর দেওয়া সিস্টেম গ্রহণ কোরতে হবে।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ