সনাতন কথা: ভারতবর্ষে আগত আল্লাহর রসুল মনু (আ:)

Monu-asm

হুমায়ূন কবির:

[মাননীয় এমামুযযামান তাঁর বিভিন্ন লেখায় মনু, কৃষ্ণ, যুধিষ্ঠির, মহাবীর, বুদ্ধসহ ভারতবর্ষের বেশ কয়েকজন মহামানবের সম্পর্কে বোলেছেন যে, তাঁরা প্রত্যেকে আল্লাহর রসুল ছিলেন। তিনি বইতে লিখেছেন যে তাঁর এই অভিমত তাঁর ব্যক্তিগত গবেষণার ফল, তিনি এই অভিমত অন্য কাউকে গ্রহণ কোরতে জোর করেন নি। দেশেরপত্রের পাঠকদের জন্য ইতোপূর্বে আমরা রাজা রামচন্দ্র ও শ্রীকৃষ্ণের নবী/রসুল হওয়ার বিষয়ে বেশ কিছু যুক্তি ও প্রমাণ তুলে ধোরেছি। এবারে আমরা লিখছি মহর্ষি মনুকে নিয়ে যিনি আমাদের সকলের কাছে নুহ নবী হিসাবে পরিচিত।]

মানুষের ইতিহাসে নুহ (আ:) একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। কোর’আন হাদীস তো বটেই, পৃথিবীর অন্যান্য প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলিতে নুহের প্লাবন সম্পর্কিত ঘটনার উল্লেখ রোয়েছে এবং স্থান-কাল-পাত্র অনুসারে চরিত্রের নামের ভিন্নতা আর কাহিনীর ছোট-খাট পরিবর্তন নিয়ে পৃথিবীর প্রায় সকল অঞ্চলেই নুহের (আ:) মহাপ্লাবনের কাহিনী প্রচলিত রোয়েছে। তওরাত ও বাইবেলে এই ঘটনাবলী সবিস্তারে বর্ণিত আছে এই সব গ্রন্থে তাঁকে নোহ (Noah, Nukh) নামে আখ্যায়িত করা হোয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে সেমিটিক অ্যামোনাইট জাতির মধ্যে প্রচলিত সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কিত উপকথা ‘ইনুমা এলইশ’-এও সেই মহাপ্লাবনের উল্লেখ আছে। সেখানে নুহ (আ:)-কে বলা হোয়েছে রাজা জিউসুদ্র। একইভাবে গ্রীক পৌরাণিক কাহিনী, রোমান পৌরাণিক কাহিনী, আসামের আদিবাসী লুসাইদের লোকগাঁথায়, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ললোবাসীদের লোকগাঁথায়, পূর্ব আফ্রিকার মাসাইদের আঞ্চলিক গাঁথায়, উত্তর আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান উপজাতিদের লোকগাঁথায় পর্যন্ত নুহের (আ:) মহাপ্লাবনের (Deluge) কথা উল্লেখিত আছে।

এছাড়া মহর্ষি বেদব্যাস কর্তৃক সংস্কৃত ভাষায় লিখিত হিন্দুধর্মের প্রাচীনতম গ্রন্থ মৎস্যপুরাণের মূল প্রেক্ষাপটই হোচ্ছে এই মহাপ্লাবনের ঘটনা। প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতেও এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত বিবরণ রোয়েছে। কোর’আন, হাদিস ও বাইবেলের বর্ণিত ঘটনা থেকে এই বিবরণের কিছুটা তারতম্য থাকলেও মূল বিষয়গুলি সম্পূর্ণ এক। নুহ (আ:) সম্পর্কে কোর’আন ও হাদিসে যে বিবরণ পাওয়া যায় তার সারসংক্ষেপ হোচ্ছে এমন:

আবুল বাশার সানী বা মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা বলে খ্যাত নবী নুহ (আ.) ছিলেন পিতা আদম (আ.) এর দশম অধঃস্তন প্রজন্ম। তিনি ছিলেন দুনিয়াতে প্রথম কেতাবপ্রাপ্ত বার্তাবাহক অর্থাৎ রসুল [আবু হোরায়রা (রা.) ও আনাস (রা.) থেকে বোখারী ও মোসলেম]। তিনি ৯৫০ বছর নিজের জাতির উদ্দেশ্যে তওহীদের আহ্বান জানান। জাতি যখন তাঁর আহ্বান অস্বীকার করে তখন তিনি আল্লাহর কাছে জাতির জন্য ধ্বংস কামনা করেন। বলেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি পৃথিবীতে কোন কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না। যদি আপনি তাদেরকে রেহাই দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট কোরবে এবং জন্ম দিতে থাকবে কেবল পাপাচারী, কাফের (সুরা নুহ ২৬-২৭)। এরপর আল্লাহ তাঁকে জানালেন আসন্ন গজবের সংবাদ এবং তাঁকে একটি বড় নৌকা নির্মাণ কোরতে বোললেন। নৌকা নির্মিত হোলে আল্লাহ হুকুম দিলেন প্রতিটি প্রাণীর মধ্য থেকে এক জোড়া কোরে সেই নৌকায় তোলার জন্য। এরপর এলো ঘোষিত সময়। জমিন থেকে প্রবল বেগে পানি উৎক্ষিপ্ত হোতে থাকলো এবং আকাশ ভেঙে অবিরাম বর্ষণ শুরু হোল।

আল্লাহ মহাপ্লাবনের মাধ্যমে সকল কাফেরকে ধ্বংস কোরে দেন। নুহ (আ.) এর চার পুত্র ছিল: সাম, হাম, ইয়াফেছ ও ইয়াম অথবা কেনান (Bible G Shem, Ham, Japheth and Canaan)। প্রথম তিনজন ঈমান আনেন। কিন্তু শেষোক্তজন কাফের হয়ে প্লাবনে ডুবে মারা যায়। নুহ (আ.) এর আহ্বানে তাঁর কওমের হাতেগোনা মাত্র কয়েক ব্যক্তি সাড়া দেন এবং তারাই প্লাবনের সময় নৌকায় আরোহণের মাধ্যমে মুক্তি পান। তাদের দ্বারাই আবার পৃথিবীতে মানবজাতির বিস্তার ঘটে। ফলে ইহুদি-খ্রিস্টানসহ সব ধর্মমতের লোকেরা নুহ (আ.)-কে তাদের পিতৃপুরুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়ে থাকে। নুহ (আ:) স¤পর্কে পবিত্র কোরআনের ২৮টি সুরায় ৮১টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। বন্যার পরে তিনি ইরাকের মসুল নগরীতে স্বীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাস কোরতেন বোলে গবেষকদের অভিমত। তিনি প্রায় দু হাজার বছর ধরাপৃষ্ঠে ছিলেন।
হিন্দু ধর্মগ্রন্থে নুহ (আ:) এর ঘটনা
মহাভারত ও মৎস্যপুরাণে মহর্ষি বৈবস্বত মনু নামে একজন রাজার উল্লেখ রোয়েছে যার জীবনের ঘটনা নুহ (আ:) এর ঘটনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। বাংলা মানব বা মানুষ শব্দটির উৎপত্তি এই মনু শব্দ থেকেই (সংসদ বাঙ্গালা অভিধান, পৃ: ৫৭২-৫৭৩)। হিন্দু শাস্ত্রমতে ভগবান বিষ্ণুর দশটি অবতারের মধ্যে একটি অবতার “মৎস্য বা মাছ অবতার”-এর কথা বলা হয়েছে। মৎস্যঅবতার আবির্ভাবের যে প্রেক্ষাপট বর্ণিত আছে, তা সংক্ষিপ্ত করে বোললে-
পুরাকালে মহাবল-পরাক্রান্ত অতি তেজস্বী অসামান্য-রূপসম্পন্ন বৈবস্বত মনু নামে এক মহর্ষি রাজা ছিলেন। তিনি পুত্র ইক্ষাকুর প্রতি রাজ্যভার অর্পণ কোরে মলায়চলের একদেশে গিয়ে বিপুল তপস্যা করেন। বহু বর্ষ অতীত হোলে ব্রহ্মা (স্রষ্টা) তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোয়ে বরদানে উদ্যত হোলেন এবং বোললেন, ‘রাজন! বর গ্রহণ করো। ব্রহ্মার কথায় তাঁকে প্রণিপাত কোরে মনু বোললেন, ‘হে পিতামহ! আমি আপনার নিকট একটিমাত্র বর ইচ্ছা কোরি। যখন প্রলয়কাল উপস্থিত হবে, তখন আমি যেন জীবসকলসহ সমগ্র জগতের রক্ষা কোরতে সমর্থ হই।’ বিশ্বাত্মা ব্রহ্মা ‘তথাস্তু’ বোলে অদৃশ্য হোলেন। কিছু পরেই মনু চারিণী নদীতে নেমে তপস্যা কোরছিলেন। পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনার মানসে তিনি এক অঞ্জলি পানি হাতে নেন আর হাতে একটি ছোট মাছ উঠে আসে। মাছটি বলে, ‘ভগবান! বড় মাছেরা ক্ষুদ্র মাছদের ভক্ষণ কোরবে এটাই বিধাতার বিধান। কিন্তু আমি অতি ক্ষুদ্র মৎস্য, মহাবল মৎস্য দ্বারা অতিশয় ভীত হোয়েছি। আমাকে রক্ষা কোরুন।’ মহর্ষির দয়া হোল। তিনি মাছটিকে মাটির পাত্রে রেখে সন্তানের ন্যায় যতেœ পালন কোরতে লাগলেন।
মাছটি এক দিন না যেতেই ষোল আঙ্গুল পরিমাণ বড় হোয়ে গেল। সে রাজাকে বোলল, ‘হে রাজন! আজি আমাকে স্থানান্তর কোরে রক্ষা কোরুন।’ মনু তৎক্ষণাৎ মাছটিকে একটি মাটির জালার মধ্যে রাখলেন। সেখানে মাছটি এক রাতেই তিন হাত পরিমাণ বড় হোয়ে গেল। তখন মাছ পুনরায় আর্তস্বরে মনুকে বোলল, ‘আমি আপনার শরণাপন্ন হোয়েছি। আমাকে রক্ষা কোরুন।’ মনু তাকে দুই যোজন লম্বা, একযোজন চওড়া দিঘীতে নিক্ষেপ কোরলেন। মাছটি বহু বৎসর সেখানে অবস্থান কোরে বড় হোয়ে উঠলো। ক্রমে ক্রমে অতি বৃহৎ সেই দিঘিও তার পক্ষে নিতান্ত সঙ্কীর্ণ হোয়ে উঠলো। তখন মনু তাকে গঙ্গায় নিক্ষেপ কোরলেন। সেখানে কিছুকাল বাস কোরে সে আরও পরিবর্ধিত হোয়ে মনুকে বোলল, ‘ভগবন্! আমার দেহ আরও বিস্তীর্ণ হোয়েছে; এখন এই স্থানেও আমি আর নড়াচড়া কোরতে পারি না। অবিলম্বে আমাকে সাগরে নিক্ষেপ কোরুন।’ অতঃপর মহর্ষি মনু তাকে নিয়ে সমুদ্রের অভিমুখে চোললেন। বিশালবপু মাছটিকে বহন কোরতে তাঁর কোনই কষ্ট হোল না। তিনি সাগরতীরে উপস্থিত হোয়ে তাকে পানিতে নিক্ষেপ কোরলেন। সে নিজের দেহে যখন সমগ্র সমুদ্র পরিব্যাপ্ত কোরল, তখন মনু ভীত হোয়ে তাঁকে বোললেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই স্বয়ং বাসুদেব (বিষ্ণু) মৎস্যরূপে অবতীর্ণ হোয়েছ। তোমায় আমার নমস্কার।’ তখন মৎস্যরূপী বিষ্ণু বোললেন, ‘হে নিষ্পাপ! আপনি আমায় সত্যিই চিনতে পেরেছেন। শুনুন, এখন একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটার সময় উপস্থিত। পাহাড়, বনসহ সমস্ত পৃথিবী অচিরেই জলমগ্ন হবে। আপনি সুদৃঢ় একখানি নৌকা নির্মাণ করাবেন আর সপ্তর্ষীগণসহ যাবতীয় জীবের বীজ নিয়ে ঐ নৌকায় আরোহণ কোরে আমার জন্য প্রতীক্ষা কোরবেন। পরে আমি শিংবিশিষ্ট মাছ হোয়ে আবির্ভূত হবো। আমাকে ছাড়া আপনি সেই দুস্তর সলিলরাশি থেকে কিছুতেই রক্ষা পাবেন না।’

এরপর শুরু হোল শতবর্ষব্যাপী প্রবল খরা। দারুণ দাবদাহে পৃথিবী ছাইবর্ণ হোয়ে গেল। কোথাও এক ফোটা পানি নেই। এরপর এলো সেই প্রচণ্ড ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ মহাপ্লাবন। বিশ্বচরাচর প্লাবিত হোয়ে এক মহাসমুদ্রের রূপ নিলো। শিংবিশিষ্ট মৎস্যরূপে ভগবান বিষ্ণু আসলেন। মনু তাঁর শৃঙ্গে রজ্জু বন্ধন কোরলেন। তিনি তখন মহাবেগে নৌকাকে টেনে নিয়ে সমুদ্রে বিচরণ কোরতে লাগলেন। মহাপ্লাবনে সকল মানুষ বিলীন হোয়ে গেলো, কেবল সপ্তর্ষিগণ, মনু ও মৎস্যই দৃশ্যমান থাকলেন। মৎস্য এইভাবে অনেক বৎসর সাগরসলিলে নৌকাসহ বিচরণ কোরতে লাগলেন। অতঃপর একটি পর্বতের চূড়া দৃশ্যমান হোলে মৎস্য সেদিকে নৌকা নিয়ে চোললেন। সেখানে নৌকা বাঁধা হোল।
এরপর মৎস্য নৌকারোহীদের বোললেন, ‘হে মহর্ষিগণ! আমি প্রজাপতি ব্রহ্মা; মৎস্যরূপ নিয়ে এই বিপদ থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার কোরলাম। এখন এই বৈবস্বত মনু সকল প্রকার জীবজন্তু ও মানুষ সৃষ্টি কোরবেন।’ বন্যার পানি কমতে লাগলো। পৃথিবী পুনর্নিমাণের জন্য মনু ও তার পরিবার পাহাড় থেকে ভূমিতে নেমে এলেন এবং পুনরায় পৃথিবীতে বংশবিস্তারের মাধ্যমে মানব প্রজাতি টিকিয়ে রাখলেন।
কোর’আনের বর্ণনার সঙ্গে মহাভারত ও মৎসপুরাণের বর্ণনার বিশেষ সামঞ্জস্যগুলি খেয়াল কোরুন:

সুতরাং বৈবস্বত মনুই যে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থসহ কোর’আনে বর্ণিত নুহ (আ:) সে ব্যাপারে আর কোন সন্দেহ থাকে না। মানবজাতি ধ্বংস হোয়ে আবার মনু (আ:) থেকে শুরু হোয়েছিল, তাই হিন্দুধর্মশাস্ত্রে মনুকে মানবজাতির আদিপিতা বোলে অভিহিত করা হয়। ঋগে¦দে এবং প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে নানা প্রসঙ্গে মনুকে মনুষ্যজাতির জনক আদিপিতা, পুরাতন ঋষি, অগ্নিদেবের সংস্থাপক, অর্থশাস্ত্রের প্রণেতা, কৃতযুগের রাজা প্রভৃতিরূপে উল্লেখ করা হোয়েছে। ছান্দোগ্য উপনিষদে ঋষি বোলছেন- “প্রজাপতি (ব্রহ্মা) মনুকে উপদেশ দিয়েছিলেন এবং মনুই প্রজাদের মধ্যে তা প্রচার করেন।”- “প্রজাপতির্মনবে মনুঃ প্রজাভ্যঃ” (৩.১১.৪)। তৈত্তিরিয় সংহিতায় মনু থেকেই প্রজা সৃষ্টি হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পণ্ডিত শ্রী হীরেন্দ্রনাথ দত্তের মতে- “মনু ব্যক্তিবিশেষের নাম নয়। প্রত্যেক মূল জাতির আদি পিতা এক এক জন মনু এবং তাঁদের নামানুসারেই সেই জাতির জীবিতকালকে ‘মন্বন্তর’ বলা হয়।” প্রসিদ্ধ মত হোচ্ছে মোট মনু ছিলেন চৌদ্দজন। এই চতুর্দশ মনুর মধ্যে বৈবস্বত মনুকেই বর্তমান মনুষ্যজাতির আদিপুরুষ বোলে বিশ্বাস করা হয় (বাঙ্গালা ভাষার অভিধান পৃ: ৫৫৮)। আর মাননীয় এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী এই বৈবস্বত মনু এবং নুহ (আ:)-কে একই ব্যক্তি এবং আল্লাহর রসুল বোলে উল্লেখ কোরেছেন। তাঁর এ প্রস্তাবনার পক্ষে আরও যুক্তি ও প্রমাণ রোয়েছে তবে উন্মুক্ত হৃদয়ের যতটুকু আজ উল্লেখ করা গেলো ততটুকুই আশা কোরি যথেষ্ট।
লেখক: প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট ও যামানার এমামের অনুসারী

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ