মুমূর্ষু রোগী এবং একজন ডাক্তার

আতাহার হোসাইন

ধনে জনে সমৃদ্ধ রোগীটি। আজ রোগীটির ভয়াবহ অবস্থা, যে কোন দিন সে মারা যাবে। তার এই অসুস্থতা বহু বছরের। প্রথমে তার মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তীব্র মস্তিষ্ক পীড়ায় প্রায়ই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলত সে। এক সময় সে স্থায়ীভাবে বিকারগ্রস্ত হোয়ে পড়ে, কি কোরবে, কি কোরবে না তার কোন কিছুই ঠিক থাকে না। ভালোমন্দের জ্ঞানও লুপ্ত প্রায়। মস্তিষ্কের এই রোগের জন্য একটা ঔষধ খেল কিন্তু সেটা ছিল ভুল ওষুধ, ফলে রোগ সারে না, সঙ্গে যোগ হয় পাকস্থলিতে ক্যানসার। বিদেশে গিয়ে উচ্চমাত্রার থেরাপি নিলো, কিন্তু ক্যানসার তো ভালো হোলই না, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে একটি কিডনী নষ্ট হোয়ে গেল। কয়েকদিন পর তার হার্টে অনেকগুলি ব্লক ধরা পড়ল, ফুসফুসে পানি জমেছে। এই সব রোগের প্রভাবে চামড়ার উপরে ফোস্কা পড়েছে। মাথার চুল সব ঝরে গেছে, পেশাব পায়খানা বন্ধ। পায়ে পানি জমে হাটাচলার ক্ষমতা চোলে গেল। প্রতিটা রোগের জন্য উচ্চমাত্রার ঔষধ প্রয়োগ কোরে চোলেছে। কিন্তু কোন রোগতো ভালো হোচ্ছেই না বরং দিনকে দিন অবস্থা আরও জটিল আকার ধারণ কোরছে। সুস্থতার জন্য দিন রাত কান্নাকাটি কোরছে। বিশ্বের বড় বড় সব হাসপাতাল ঘোরা হোয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বোর্ড বসিয়েছে একাধিকবার কিন্তু সব ডাক্তারই ব্যর্থ, সব ওষুধই ব্যর্থ। রোগী হাল ছেড়ে দিয়ে কেবল মৃত্যুর প্রহর গুণছে আর সবার থেকে বিদায় নিচ্ছে। এমন সময় সাধারণ মলিন পোশাক পরিহিত, সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষ রোগীর কাছে আসলেন। বোললেন, ‘হে মৃত্যুপথযাত্রী। তোমার বাঁচার জন্য আমার কাছে এমন এক মহৌষধ আছে যেটা সেবন কোরলে তুমি সুস্থ হোয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, তুমি এমন সুস্থ হবে যেমন সুস্থ তুমি কোন কালেও ছিলে না। আমার কাছে যে ঔষধ আছে তা খেয়ে অনেক রোগী সুস্থ হোয়েছে।’ রোগী অবজ্ঞাভরে বোলল, ‘কত বড় বড় ডাক্তার ব্যর্থ হোয়ে গেল আর তুমি এসেছো ওষুধ নিয়ে। তোমাকে দেখে তো মনে হয় না তুমি কোন ডাক্তার। তোমার কোন হাসপাতালও দেখছি না। তোমার নিশ্চয়ই অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে। তোমার ওষুধ আমি খাবো না।’ তখন সেই আগন্তুক বোললেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করো। আমার শেষ কথা হোচ্ছে, এমনিতেও তোমার সময় প্রায় শেষ হোয়ে এসেছে। বহু ওষুধ তো খেয়ে দেখেছো। আর একটা ওষুধ পরখ কোরে দেখতে অসুবিধা কি? যদিও আমার কোন হাসপাতাল নেই, তবুও আমার ওষুধটা খাও, আমি হলফ কোরে বোলছি তুমি সুস্থ হবে। এখন খাওয়া না খাওয়া তোমার ইচ্ছা।’
এখন দেখার বিষয়, রোগী কি শেষ পর্যন্ত সেই ওষুধ খাবে, নাকি নিজের ধন-সম্পদ, জ্ঞান-গরিমার অহঙ্কার বশত সেই আগন্তুককে অবজ্ঞাই কোরে যাবে।
এই গল্পে-
১। রোগী: মানবজাতি,
২। রোগ: দুনিয়াময় চলমান বিপর্যয়, অন্যায় অবিচার, অশান্তি, রক্তপাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ।
৩। ভুল চিকিৎসা: মানবরচিত সকল তন্ত্র মন্ত্র হোচ্ছে ভুল চিকিৎসা যা রোগকে আরো জটিল কোরে ফেলেছে।
৪। আগন্তুক: যামানার এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
৫। অব্যর্থ সেই ওষুধ: আল্লাহর তওহীদ এবং তওহীদ-ভিত্তিক শেষ জীবনব্যবস্থা ইসলাম।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ