মানবতার মুক্তি কোন পথে?

রাকীব আল হাসান:
প্রকৃতি আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। প্রতিনিয়ত সে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। আমি কেন জন্মগ্রহণ করলাম, আমার কাজ কী, আমার জীবনের সার্থকতা কিসে- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই প্রকৃতিতেই। একটি চারাগাছ জন্ম নিল, বেড়ে উঠল প্রকৃতির আলো-বাতাসে, তারপর সে ফুলে-ফলে সুশোভিত হলো, বিলিয়ে দিল নিজেকে অন্যের তরে। ফুল-ফল কিছুই সে নিজে ভোগ করল না। আবার দেখি একটা গরু জন্মগ্রহণ করল, বেড়ে উঠল, দুগ্ধ ও গোস্ত দিয়ে অন্যকে পুষ্ট করল, নিজে ভোগ করল না কিছুই। এভাবেই প্রকৃতি আমাকে আমার জীবনের সার্থকতা শেখালো, অন্যের তরে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মন্ত্র শেখালো। আমাদের জীবন, আমাদের সম্পদ, আমাদের সর্বস্ব মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়ে যদি মানবসমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি তবেই তো আমাদের জীবন সার্থক হলো। এ যেমন প্রকৃতিরি শিক্ষা তেমনি সকল ধর্মেরও শিক্ষা। মানবজাতির মুক্তির জন্য কাজ করে যাওয়াই আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য, সারাক্ষণ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা কখনো মানুষের কাজ হতে পারে না। এই হলো মহান মানবতাবোধ।
“মানবজাতির দুঃখকে যে ধারণ করতে পারে তার নিজের দুঃখ থাকে না” – এটি একটি চিরন্তন সত্য কথা। কিন্তু অপরের দুঃখ, মানবজাতির দুঃখ দূর করার জন্য সঠিক পথ পাওয়াটাই কঠিন। যেমন আপনি একজন শরণার্থীকে আশ্রয় দিলেন, তার দুঃখ দূর করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু আশ্রয় কি তার দুঃখকে দূর করবে? তার মাতৃভূমি থেকে সে বিতাড়িত হয়েছে, সেখানে তার আত্মীয় বন্ধুদের অনেকে মারা গেছে এবং পূর্বপুরুষের বসতভিটা আগুনে পুড়ে গেছে – এর ক্ষতিপূরণ করবেন কী দিয়ে? তাকে আবার তার বাড়িঘর ফিরিয়ে দিতে হবে, তাকে সেখানে পূর্ণ মানবিক অধিকার ও সম্মান নিয়ে বাঁচার বন্দোবস্ত করে দিতে হবে। হয়তো বলবেন সেটা আপনার সাধ্যের বাইরে। অর্থাৎ আপনি এক বা একাধিক দুর্গতকে আশ্রয় দিয়ে তার দুঃখ দূর করতে পারবেন না, এটা হচ্ছে বাস্তবতা। সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নতুন করে নির্যাতিত হচ্ছে, ধর্ষিত হচ্ছে, উদ্বাস্তু হচ্ছে। আপনি কী করে সেটা বন্ধ করবেন? আপনি চাইলেও এসব অন্যায় বন্ধ করতে পারবেন না কারণ আপনার ‘সভ্য’ উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থাটাই এমন। এখানে ক্ষমতাবানেরা শাসন করবে, শোষণ করবে আর দুর্বলেরা শাসিত হবে, শোষিত হবে, বঞ্চিত, নির্যাতিত হবে। আপনি কোনো উদ্বাস্তুর পাশে, ধর্ষিতার পাশে দাঁড়াতে চাইতে পারেন কিন্তু যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন না যে যুদ্ধ তাকে উদ্বাস্তু করল। আপনি ধর্ষণ বন্ধ করতে পারেন না। সে উপায় আপনার জানা নেই। সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সুশীল পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানাতে পারেন, কিন্তু পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার মাধ্যমে গোটা পৃথিবীর প্রকৃতিতে উন্নত ‘সভ্য’ রাষ্ট্রগুলো হুমকি সৃষ্টি করছে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদি সেগুলো মানুষের উপর ফেলা হয় তাহলে সুন্দরবন তো দূরের কথা, কিছুই তো থাকবে না। সে চিন্তা করেছেন? চিন্তা করেও লাভ নেই কারণ আপনার সামর্থ নেই সেটা বন্ধ করা।
ধান্ধাবাজির রাজনীতি প্রতিদিন তরুণ-যুবসমাজকে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দুর্বলের উপর অত্যাচার চালানোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, প্রতিদিন সিস্টেমেটিক ওয়েতে জন্ম নিচ্ছে আধুনিক সন্ত্রাসী। এই সিস্টেম না পাল্টিয়ে কেবল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়ে কী লাভ? ধরলাম আপনি খুব সাহসী মানুষ, হয়তো কোনো ব্যক্তিকে তার সন্ত্রাসী কর্মকা- থেকে বিরত করলেন, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, একটি দেশের উপর আরেকটি দেশের আগ্রাসনকে রুখতে পারবেন? পারবেন না। সুতরাং দুর্গতকে মানবিক সহায়তা করা খুব ভালো কাজ, ত্রাণ বিতরণ করুন, শীতবস্ত্র দিন। কিন্তু সেটা চূড়ান্ত সমাধান নয়। পুঁজিবাদী অর্থনীতি প্রতিদিন হাজারো মানুষকে শোষণ করে বস্ত্রহীন করে দিচ্ছে, যতদিন সেই অর্থনীতি ধরে রাখবেন ততদিন অন্নহীন বস্ত্রহীন নিরাশ্রয় মানুষের মিছিল দীর্ঘতর হবে, আপনার মানবতাবোধ মানুষের কার্যত কোনো উপকারে আসবে না, নিজে হয়তো নিজেকে একটা কিছু মনে করে আত্মতৃপ্তি লাভ করবেন। গল্পের শুরু আর শেষ সেখানেই। ক্রন্দন বন্ধ হবে না।
কিন্তু আমরা হেযবুত তওহীদ বলছি- যাবতীয় সমস্যার সমাধান মহান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন। ইনশাল্লাহ হেযবুত তওহীদ সমগ্র মানবজাতিকে একজাতিতে পরিণত করে যাবতীয় সমস্যার সমাধান করবে, পৃথিবী থেকে যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, অশান্তি, হত্যা, দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি দূর করে ন্যায়, সুবিচার, শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। আমরা আল্লাহর রহমে মানবতার মুক্তির সেই পথ পেয়ে গেছি, এখন চেষ্টা করছি নিজেদের জীবনকে মানবতার মুক্তির জন্য বিলিয়ে দিয়ে জীবনকে সার্থক করতে।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ