প্রচলিত ‘ইসলাম’ ইসলাম নয় কেন?

হেযবুত তওহীদ:

বর্তমানে সারা দুনিয়াতে ইসলামের যে বিভিন্ন রকম রূপ আমরা দেখছি তার কোনটিই আল্লাহর প্রেরিত ইসলাম নয়। এর সবগুলিই বিকৃত। কিভাবে এই বিপুল বিকৃতি সাধিত হল সেই ব্যাপক আলোচনা আমার আলোচ্য নয়, এটা যে আল্লাহ ও রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয় তা সন্দেহাতীতভাবে এবং অকাট্যভাবে (Irrefutably) তুলে ধরাই আমার আলোচনার পরিসীমা। এটা সহজ সূত্র যে, ইসলামের অনুসারীই হচ্ছে মোসলেম, সুতরাং আমি অতি সংক্ষেপে শুধু এটাই প্রমাণ করব যে- বর্তমানে প্রচলিত ইসলাম আল্লাহর নাযেলকৃত ‘ইসলাম’ নয়, তাহলে এটাও স্বতঃপ্রমাণিত হবে যে, বর্তমান প্রচলিত ‘ইসলাম’-এর যারা অনুসারী তারাও প্রকৃত মোসলেম নয়, প্রকৃত মো’মেনও নয়।

১. ফলেন পরিচয়তে
বৃক্ষকে চেনার সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হল তার ফল। একইভাবে ইসলাম চেনার উপায় হল- সে ইসলামের অনুসারীদের সার্বিক জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিনা তা বিবেচনা করা। কেননা ইসলাম শব্দের আক্ষরিক অর্থই শান্তি। অর্থাৎ যেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকবে সেখানে অবশ্য অবশ্যই শান্তি প্রতিষ্ঠিত থাকবে। অথচ আজকের মোসলেম নামধারী জাতিটিই পৃথিবীতে সবথেকে বেশি অশান্তিতে আছে।
২. দীনের ভিত্তিই যখন অদৃশ্য
ইসলামের ভিত্তি হল তওহীদ, অর্থাৎ এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন এলাহ (হুকুমদাতা) নেই। ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে যেখানে আল্লাহ ও রসুলের কোন বক্তব্য আছে, বিধান আছে, সেখানে অন্য কারওটা না মানা। কিন্তু আজ মোসলেম নামধারী এই জাতিটি ব্যক্তিজীবনে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, ঈদ, কোরবানি ইত্যাদি উপাসনা-এবাদত করলেও তাদের জাতীয় জীবন পরিচালনা করে মানবরচিত তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে। এটা স্পষ্ট শিরক, মহাপাপ, যে পাপের কোন ক্ষমা নেই।
৩. আল্লাহর ওয়াদা-
মো’মেনরা দুনিয়ার কর্তৃত্ব পাবে:
মহান আল্লাহ মোসলেমদেরকে ওয়াদা দিচ্ছেন, “তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও আমলে সালেহ করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি ও নিরাপত্তা দান করবেন (সুরা নূর ৫৫)।” প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমানের মোসলেম নামধারী জাতিটির হাতে কি এই পৃথিবীর কর্তৃত্ব আছে? রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, পৃথিবীর কর্তৃত্ব তো দূরের কথা এরা পৃথিবীর সর্বত্র অন্য সব জাতি দ্বারা পরাজিত, অপমানিত, অবহেলিত, নিগৃহীত এবং প্রতিটি জাতির লাথি খাচ্ছে, সব জাতি তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখছে।
৪. মোসলেম দাবিদার জনসংখ্যা
কর্তৃক কাফেরের সংজ্ঞাপূরণ
আল্লাহ বলছেন, ‘আল্লাহ যা নাযেল করেছেন সে অনুযায়ী যারা হুকুম (বিচার ফায়সালা) করে না তারা কাফের, জালেম, ফাসেক (সুরা মায়েদা ৪৪, ৪৫, ৪৭)। এই আয়াতগুলিতে ‘হুকুম’ শব্দটি দিয়ে কেবল আদালতের বিচারকার্যই বোঝায় না, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক অর্থাৎ সামগ্রিক জীবন তাঁর নাযেল করা বিধান অর্থাৎ কোর’আন (এবং সুন্নাহ) মোতাবেক পরিচালনা করাকেও বোঝায়। কিন্তু বর্তমানের মোসলেম জাতি তাদের সামষ্টিক কার্যাবলী আল্লাহর নাযেলকৃত বিধান দিয়ে ফায়সালা করে না। আল্লাহ প্রদত্ত বিধানগুলিকে অপাংক্তেয় করে রেখে তারা ইহুদি-খ্রিস্টানদের আইন, কানুনগুলি নিজেদের দেশে প্রবর্তন করে তা দিয়ে সামষ্টিক কার্যাবলী পরিচালনা করছে। ফলশ্র“তিতে তারা ফাসেক (অবাধ্য), জালেম (অন্যায়কারী) এবং কাফেরে (প্রত্যাখ্যানকারী) পরিণত হয়েছে।
৫. কাফেরদের কোন রক্ষাকারী নাই,
কোন অভিভাবক নাই
আল্লাহ তাঁর কোর’আনে বলেছেন, “কাফেরদের সাথে তোমাদের যুদ্ধ হলে অবশ্যই তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে (অর্থাৎ পলায়ন করবে বা পরাজিত হবে)।” (সুরা ফাতাহ ২৩)। এই উম্মাহর প্রথম ৬০-৭০ বছরের অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেই আমরা আল্লাহর এই প্রতিশ্র“তির বাস্তবায়ন দেখতে পাই। কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মো’মেন হওয়ার দাবিদার এই জনসংখ্যাটি অন্যান্য জাতিগুলির হাতে একের পর এক যুদ্ধে পরাজিত হচ্ছে এবং তাদের পদানত গোলামে পরিণত হচ্ছে, তাদের দ্বারা শাসিত এবং শোষিত হচ্ছে, লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হচ্ছে।
৬. মো’মেনদেরকে সাহায্য করা আল্লাহর কর্তব্য
আল্লাহ আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে তাঁর কেতাবে বলছেন, “তোমরা হীনবল হোয়ো না, সাহস হারিও না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মো’মেন হও” (সুরা এমরান ১৩৯)। কিন্তু আমরা বিগত কয়েক শতাব্দীতে কোন যুদ্ধেই বিজয়ী হতে পারি নাই। সুতরাং আল্লাহর কালাম যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আমাদের মো’মেন হওয়ার দাবি মিথ্যা? আর আমরা মো’মেন নই মানেই আমরা কাফের কিংবা মোশরেক কারণ আল্লাহ বলেছেন আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে হয় কেউ কাফের অথবা কেউ মো’মেন (সুরা তাগাবুন- ২) অর্থাৎ এর মাঝখানে থাকার কোন সুযোগ নেই।
৭. এ জনসংখ্যা মো’মেনের সংজ্ঞা থেকে বহি®কৃত
পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ মো’মেনের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে, “তারাই মো’মেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের উপর ঈমান আনার পর আর কোন সন্দেহ পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ (সুরা হুজরাত ১৫)। এখানে আল্লাহর ওপর ঈমান অর্থ হল আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ওপর ঈমান। অর্থাৎ মো’মেন তারাই যারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিয়ে তাঁর দেওয়া বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করে এবং পৃথিবীব্যাপী সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবন-সম্পদ দিয়ে সংগ্রাম করে।
৮. জাতীয় বৈশিষ্ট্যের কেবল অনুপস্থিতি নয়
একেবারে বিপরীতমুখিতা
কোর’আনের বহু স্থানে আল্লাহ মো’মেনদের বৈশিষ্ট্য বা চিহ্ন উল্লেখ করেছেন যা দিয়ে মো’মেনদেরকে চেনা যায়। যেমন তিনি মো’মেনদের সম্পর্কে বলছেন, “তারা কাফেরদের প্রতি কঠিন, কঠোর এবং নিজেদের পরস্পরের প্রতি কোমলহৃদয়, দয়ার্দ্র (সুরা ফাতাহ ২৯)। অথচ এই জাতির দিকে তাকালে আমরা এর বিপরীত দৃশ্য দেখতে পাই। আমরা দেখি এই জনসংখ্যাটি কাফেরদের প্রতি নিখাদ ভালোবাসায় আপ্লুত, কাফেরদের ডাকে নিজ জাতির বিরুদ্ধেই যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে, সর্ববিষয়ে শত্র“পক্ষের আনুগত্য করছে। অন্যদিকে আল্লাহ যে বললেন, মো’মেনরা কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের পরস্পরের প্রতি বিগলিত হৃদয় (রুহামা), বাস্তবে এর কোন নজির দেখা যাচ্ছে না। যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা এর ঠিক বিপরীত।
৯. ভুল উদ্দেশ্যে ‘ধর্ম পালন’ করা হচ্ছে
আল্লাহ যখন মানুষ সৃষ্টি করতে চাইলেন, তখন সকল মালায়েক মানুষ সৃষ্টির বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেছিল যে, ‘তোমার প্রশংসা ও গুণকীর্তণ করার জন্য আমরাই কি যথেষ্ট নই। তোমার এই সৃষ্টি পৃথিবীতে গিয়ে ফাসাদ (অন্যায়-অশান্তি) ও সাফাকুদ্দিমা (রক্তপাত, যুদ্ধ বিগ্রহ) করবে (সুরা বাকারা ৩০)। আল্লাহ তাদের এই মৃদু আপত্তি সত্ত্বেও আদম (আ:) কে সৃষ্টি করলেন। সকল মালায়েক আদমকে সেজদা করলেও এবলিশ সেজদা করল না, বরং সে আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করল যে, তোমার এই নতুন সৃষ্টি তোমার আনুগত্য করবে না, আমি তাকে বিপথে পরিচালিত করব, অন্যায়-অশান্তিতে পতিত করব। (সুরা আরাফ ১৭) আল্লাহ জানিয়ে দিলেন যে, তিনি প্রতি যুগে প্রতি জনপদে তাঁর নবী রসুল পাঠিয়ে হেদায়াহ ও দীন প্রেরণ করবেন। সেটাকে অনুসরণ করলেই তারা দুনিয়াতে একটি শান্তিময় ও প্রগতিশীল সমাজে বসবাস করতে পারবে। (সুরা বাকারা ৩৮) সেখানে কোন ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা অর্থাৎ অন্যায়, অশান্তি, যুলুম, রক্তপাত, যুদ্ধ, ক্রন্দন, হতাশা ইত্যাদি থাকবে না। পাশাপাশি এবলিসের সঙ্গে করা চ্যালেঞ্জে আল্লাহ বিজয়ী হবেন। অর্থাৎ একজন মোসলেমের জীবনের উদ্দেশ্য হবে স্রষ্টার দেওয়া বিধান প্রতিষ্ঠা করে সমাজ থেকে ফাসাদ-সাফাকুদ্দিমা দূরিভূত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, তথা এবলিসের চ্যালেঞ্জ আল্লাহকে বিজয়ী করা।
১০. তোমরাই শ্রেষ্ঠজাতি (?)
আল্লাহ এই জাতিকে লক্ষ্য করে বলছেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি (উম্মাহ) কারণ মানব জাতির মধ্যে থেকে তোমাদিগকে উত্থিত করা হয়েছে এই জন্য যে (তোমরা মানুষকে) সৎকার্য করার আদেশ দান এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত করবে, আল্লাহকে বিশ্বাস করবে (কোর’আন- সুরা আলে-ইমরান ১১০)।” অর্থাৎ এই উম্মাহকে মানব জাতির মধ্য থেকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যসহ উত্থিত করা হয়েছে মানুষকে অসৎ কাজ (আল্লাহর বিধানের বিরোধী কাজই হল অসৎ কাজ) থেকে নিবৃত্ত করা ও সৎ কাজ (আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কাজই হচ্ছে শুধু সৎকাজ) করার আদেশ করার জন্য এবং এই কাজ করার জন্যই সে জাতি শ্রেষ্ঠ জাতি। যাদের এই শ্রেষ্ঠ জাতি হওয়ার কথা সেই জাতির বর্তমান হীনতা ও লাঞ্ছনার বিবরণ পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য আর লিখছি না। শুধু এটুকু বলি, শ্রেষ্ঠত্ব দূরে থাক, এই জাতি এখন অন্য সকলের ঘৃণার বস্তু। বিশ্বের বহু দেশে অবস্থানকারী মোসলেমরা তাদের পরিচয় গোপন করে চলেন, কারণ পরিচয় জানলেই নির্দ্বিধায় মুখের উপরে থু থু দিয়ে দেয়, লাথি দিতেও পরোয়া করে না। সুতরাং তারা যে ১৪০০ বছর আগেই সেই শ্রেষ্ঠ জাতির সদস্য নয় তা বুঝতে সাধারণ জ্ঞানই যথেষ্ট।
১১. ঐক্যহীনতা ‘কুফর’
রসুলাল্লাহ বললেন- কোর’আনের আয়াতের অর্থ নিয়ে যে কোন রকম মতভেদ কুফর। নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তাদের কিতাবগুলির (আয়াতের) অর্থ নিয়ে মতো বিরোধের জন্য ধ্বংস হয়ে গেছে। তারপর তিনি আরও বললেন (কোর’আনের) যে অংশ (পরিষ্কার) বোঝা যায় এবং ঐক্যমত আছে তা বল, যে গুলো বোঝা মুশকিল সেগুলোর অর্থ আল্লাহর কাছে ছেড়ে দাও (মতবিরোধ করোনা) (হাদীস-আব্দাল্লাহ বিন আমর (রা:) থেকে- মোসলেম, মেশকাত)। অথচ এ জাতির ইতিহাস এই যে, যে কাজকে রসুলাল্লাহ (দ:) কুফর বলে আখ্যায়িত করেছেন সেই কাজকে মহা সওয়াবের কাজ মনে করে করা হয়েছে এবং হচ্ছে অতি উৎসাহের সাথে এবং ফলে বিভিন্ন মাজহাব ও ফেরকা সৃষ্টি হয়ে জাতির ঐক্য নষ্ট হয়ে গেছে এবং জাতির শত্র“র কাছে শুধু পরাজিতই হয় নি তাদের ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে। এক নেতার (এমাম) অধীন এক জাতি আজ আর নেই। এরা এখন শিয়া সুন্নি, হাম্বলী, মালেকি, শাফেয়ী, আহমদী, মোহাম্মদী, হানাফি ইত্যাদি শত শত ফেরকা-মযহাব বা তরিকায় খণ্ড-বিখণ্ড, পথভ্রষ্ট একটি জনসংখ্যামাত্র।
১২. কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীনতা অসম্ভব
রসুলাল্লাহর হাতে গড়া জাতিটি তওহীদের ভিত্তিতে লৌহকঠিন ঐক্যবদ্ধ ছিল। এই জাতির সদস্যরা ছিলেন একাধারে মো’মেন, মোসলেম ও উম্মতে মোহাম্মদী এবং সেই জাতির এমাম হোলেন একজন, স্বয়ং আল্লাহর রসুল (দ:)। এইভাবে সমস্ত মানবজাতিকে একটি জাতিতে রূপান্তরিত করে একজন নেতার অধীনের নিয়ে আসার আকিদা নিয়ে জাতির সৃষ্টি হয়েছিল। রসুলাল্লাহর আগমনের পর থেকেই ইসলামের আকিদা হল এই সমস্ত বনী আদম হবে একটা জাতি, তাদের জীবনব্যবস্থা হবে একটি, তাদের এমাম হবেন একজন। এখানে কোন সূত্রমতেই জাতির খণ্ড বা বিভক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু বর্তমানের এই বিকৃত ইসলামে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোন ধারণাই বিদ্যমান নেই, এতে এমাম বলতে শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে মসজিদে যারা নামাজ পড়িয়ে থাকেন তাদেরকেই বোঝানো হয়। যে জাতিকে সৃষ্টিই করা হয়েছে সমস্ত মানবজাতিকে একটি মহাজাতিতে রূপান্তরিত করার জন্য, সেই জাতি কি করে নিজেরা হাজারো ফেরকা, মত, পথ, মাজহাব, তরিকা সৃষ্টি করে লক্ষ ভাগে বিভক্ত হোয়েও মো’মেন, মোসলেম উম্মতে মোহাম্মদী দাবি করতে পারে? তাদের এই দাবি যে সম্পূর্ণ অমূলক তা দুনিয়াময় তাদের অবস্থা দেখলেই প্রতীয়মান হয়।
১৩. বিশ্বনবী (দ:) কোন দাসজাতির নেতা নন:
প্রত্যেক জাতির নেতাও সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত। সে হিসাবে বিশ্বনবী (দ:) এই জাতির অন্তর্ভুক্ত। তাহলে বলতে হয় আল্লাহ নবীদের নেতা, মানব জাতির শ্রেষ্ঠতম মানুষ, স্রষ্টার প্রিয় বন্ধু- তারপরই যাঁর স্থান, তিনি ইউরোপিয়ান খ্রিস্টানদের ঘৃণিত দাসজাতির নেতা? এ অসম্ভব। পৃথিবীর যে কেউ বলতে পারে বলুক, আমরা অন্তত বলি না। কেন বলতে পারি না এর একমাত্র উত্তর হচ্ছে তিনি ঐ দাস জাতির নেতা নন এবং ঐ দাস জাতি তাঁর জাতিও নয়। ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নবী (দ:) বলেও গেছেন। তিনি বলেছেন- সে জাতি কেমন করে ধ্বংস হবে যার প্রথমে আমি মধ্যে মাহদী আর শেষে ঈসা। কিন্তু এদের ফাঁকে (অর্থাৎ মধ্যবর্তী) যারা তারা আমার নয় আমিও তাদের নই (হাদীস- জাফর (রা:) থেকে রাযিন মেশকাত)। যারা মহানবীর (দ:) নয় এবং মহানবী (দ:) যাদের নন তারা যে উম্মতে মোহাম্মদী তো নয়ই, মোসলেমও যে নয় তা তো আর ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না।
১৪. জেহাদ ত্যাগ করার ফলে
উম্মাহ থেকে বহিষ্কৃত
এই দীনের প্রবেশদ্বার (Entrance) হচ্ছে তওহীদ- ‘আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে হুকুমদাতা মানবো না’ এই সাক্ষ্য দেওয়া। আর বহির্গত হবার পথ (Exit) হচ্ছে “জেহাদ ত্যাগ” করা। আল্লাহ কোর’আনে অন্ততঃ তিনবার বলেছেন যে, তিনি (আল্লাহ) তাঁর রসুলকে (দঃ) সঠিক দিক নির্দেশনা ও সত্য দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন এই জন্য যে তিনি এটাকে অন্যান্য সমস্ত দীনের ওপর বিজয়ী করবেন (সুরা ফাতাহ ২৮, সুরা তওবা ৩৩, সুরা সফ ৯)। ইতিহাস সাক্ষী যতদিন রসুলাল্লাহ এই দুনিয়ায় ছিলেন ততদিন তিনি ও তাঁর আসহাব একদেহ একপ্রাণ হয়ে আল্লাহর দেয়া ঐ আদেশ ও দায়িত্ব পালন করে গেছেন এবং তা করতে যেয়ে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে ১০৭টি ছোট বড় যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু আজকের অবস্থা কী তা আলাদা করে বলার দরকার পরে না। এই জাতি যেদিন অন্যায়-অবিচার, আর অশান্তির বিরুদ্ধে জেহাদ অর্থাৎ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ত্যাগ করেছে তখন থেকেই তারা মো’মেনের সংজ্ঞা থেকে বহিষ্কৃত (হুজরাত-১৫) হয়ে গেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় অভিযানে বহির্গত হওয়া বন্ধ করার কারণে কয়েক শতাব্দী আগেই আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্র“তি মোতাবেক (সুরা তওবা ৩৯) তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিয়ে অন্য জাতির গোলাম বানিয়ে দিয়েছেন। কাজেই এরা আর আল্লাহর চোখে মো’মেন না, উম্মতে মোহাম্মদীও না।

পরিশিষ্ট

মো’মেন মোসলেম দাবিদার ১৫০ কোটি এ জনসংখ্যা যে প্রকৃত পক্ষে মো’মেন নয়, আল্লাহ-রসুলে দৃঢ় বিশ্বাস ও বহু আমল সত্ত্বেও তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে মোশরেক এবং কাফের কেন তা বোঝানোর জন্য মাত্র কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করলাম। আমার উপস্থাপিত কথাগুলি আমার নয়, আমি শুধুমাত্র আল্লাহর কোর’আন, তাঁর রসুলের হাদিস এবং বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছি।
তবে এ জাতির জন্য বিরাট আশার কথা ও সুসংবাদ এই যে, ১৩০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সেই প্রকৃত ইসলাম আল্লাহ আবার দয়া করে এ যামানার এমাম, এমামুযযামান, The Leader of the Time জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি আবার এ জাতির উপর আল্লাহর রসুল যে কাজের দায়িত্ব অর্পণ করে গিয়েছিলেন সেই দায়িত্ব একজন উম্মতে মোহাম্মদী হিসাবে নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের প্রতিটি সদস্য-সদস্যাদেরকে আল্লাহর রসুলের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করেছেন। যামানার এমাম আল্লাহর কাছে চলে গেছেন কিন্তু তাঁর প্রতিটি অনুসারী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন এমন এক শান্তিময় বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য যেখানে থাকবে না কোন মারামারি, ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য, জাতিগত বিদ্বেষ! থাকবে না অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাত, এক কথায় অশান্তি। সাদা-কালো, তামাটে সমস্ত বনি আদম হবে একটি জাতি, এক পরিবার। বাক স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতার অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হবে পৃথিবীতে। আল্লাহ মো’জেজা ঘোটিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি হেযবুত তওহীদের মাধ্যমে পৃথিবীতে সেই নতুন সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত করবেন। এনশা’ল্লাহ সে সময় নিকটবর্তী।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ