জাতিকে ধর্মব্যবসায়ীদের করালগ্রাস থেকে মুক্ত করার এখনই সময়

শামসুয্যামান মিলন:

গত শনিবার পাবনার ডিসি রোড, কৃষ্ণপুরে উদ্বোধন করা হয় দৈনিক দেশেরপত্রের জেলা ব্যুরো কার্যালয়। কার্যালয়টি উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সরকারের মাননীয় ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, এম.পি। এ উপলক্ষে ব্যুরো কার্যালয়ের পার্শবর্তী স্থানে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক দেশেরপত্রের পাবনা ব্যুরো প্রধান শামসুয্যামান মিলন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ধর্মব্যবসায়ীরা আজ দেশ ও জাতিকে চরম সঙ্কটে নিপতিত করেছে, এখনই সময় জাতিকে ধর্মব্যবসায়ীদের করালগ্রাস থেকে মুক্ত করার। আমরা বাঙালি। আমাদের জাতির শত শত বছরের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। সেই ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সোপানে বিশেষ স্থান দখল কোরে আছে জাতির ঐক্য। আমরা যখনই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি তখনই নতুন ইতিহাস রচনা করতে সক্ষম হয়েছি। সর্বশেষ আমরা সাত কোটি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম ১৯৭১ সালে। সাত কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হোয়ে পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তার সামনে হানাদার শক্তি টিকতে পারে নি। বাঙালি জাতি সেদিন প্রমাণ করেছিল যে, একটি জাতি যতই দরিদ্র হোক, অবহেলিত হোক, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তারা অবশ্যই বিজয়ী হবে। কিন্তু সেই ঐক্য আমরা ধরে রাখতে পারি নি। গত ৪২ বছরে ধর্মকে ব্যবহার কোরে জাতির ঐক্যকে ধ্বংস কোরে জাতিকে বহুভাগে বিভক্ত কোরে দেওয়া হয়েছে। এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। তারা ওয়াজ মাহফিল কোরে, বিভিন্নরকম ফতোয়া দিয়ে জাতির অর্ধেক জনসংখ্যা নারীকে জাতীয় অঙ্গন থেকে বহিষ্কার করতে চেষ্টা করেছে। কেউ তাদের স্বার্থবিরোধী কাজ করলেই এই ধর্মজীবীরা তার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে তাকে নাস্তিক, কাফের বলে ফতোয়া প্রদান করে। দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ। তারা এও বিশ্বাস করে যে, এই লেবাসধারী তথাকথিত আলেম-মোল্লারা ধর্মের কথা বলে, তারা যা বলে সবই ধর্মের কথা। তাদের ধর্মীয় অনুভূতিকে মিথ্যা ফতোয়া দ্বারা প্রভাবিত করে, এমন কি মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পর্যন্ত পাল্টে দেয়। এটা আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ জান্নাত, আখেরাত ইত্যাদি ধর্মীয় কথায় বিভ্রান্ত হয়ে ধর্মব্যবসায়ীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সাহায্য করে। ধর্মের কথা বলে অধর্ম করার সুযোগ পেয়ে যায় ধর্মব্যবসায়ীরা। একটি সরকার তাদের মেয়াদকালে দেশের যতই উন্নতি করুক, যতই ভালো ভালো কাজ করুক, তাদেরকে যদি ফতোয়া দিয়ে নাস্তিক বানিয়ে দেওয়া যায় তাহোলে তাদের সব অবদানই ম্লান হয়ে যায়। এমনই একটি অবস্থা বর্তমানে আমাদের সামনে উপস্থিত। কিছুদিন আগে আমাদের দেশে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সেটা সৃষ্টি করা হয়েছিল ধর্মকে পুঁজি কোরে। এই মুহূর্তে আমরা যদি যাবতীয় ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, তাহোলে ধর্মব্যবসায়ীরা আবারও একটি বানোয়াট ইস্যু সৃষ্টি কোরে দেশের পরিস্থিতিকে সঙ্কটাপন্ন কোরে ফেলতে পারে। দেশকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা লোটার জন্য বৈদেশিক পরাশক্তিগুলিও গোপনে ও প্রকাশ্যে ধর্মব্যবসায়ীদেরকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ১৬ কোটি চরম ঐক্যহীন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা কি এত সহজ? প্রত্যেকেই একবাক্যে বোলবে যে, রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে হাজারো দল ও মতবাদে বিচ্ছিন্ন এই জাতিকে আর ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু জাতির সামনে যে হুমকি আসছে এমতাবস্থায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি মাত্র পথ আছে। এবং সেই পথ আছে আমাদের কাছে। সেই পথ হোচ্ছে, ১৬ কোটি মানুষের সামনে ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোস উন্মোচন কোরে দিতে হবে। সেটা কিভাবে? এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে আল্লাহ সত্যদীনের জ্ঞান দান করেছেন। তিনি ধর্
মব্যবসায়ীদের স্বরূপ প্রকাশ করে দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ধর্মব্যবসায়ীরা যে এসলাম নিয়ে ব্যবসা করে খাচ্ছে তা আল্লাহর-রসুলের এসলাম নয়। পাশাপাশি প্রকৃত এসলামকে তিনি মানবজাতির সামনে পেশ করেছেন। যে এসলাম চরম দরিদ্র, ঐক্যহীন, দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত আরব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, সামরিক শক্তিতে বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করিয়েছিল। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, ধর্মের নামে যারা ব্যবসা করে, রাজনীতি করে ও জঙ্গিবাদ করে তারা আল্লাহর-রসুলের প্রকৃত এসলামে নেই। এটা এসলাম তো না-ই, উপরন্তু, এটাকে আল্লাহ আগুন খাবার সমতুল্য বলে ঘোষণা করেছেন এবং ধর্মব্যবসায়ীদেরকে আল্লাহ পবিত্রও কোরবেন না, তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না। আখেরি যুগের আলেমদের আল্লাহর রসুল আসমানের নিচে সর্বনিকৃষ্ট জীব বলেছেন। আমরা দুইটি ডকুমেন্টরি ফিল্ম নির্মাণ করে পুরো জাতির সামনে এই মহাসত্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যেই আমরা প্রায় ২০ হাজার প্রদর্শনী অনুষ্ঠান করেছি যেখানে লক্ষ লক্ষ লোক আমাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। দেশের অধিকাংশ লোক যদি বুঝতে পারে যে, এই ধর্মব্যবসায়ীরা- যারা ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করে খাচ্ছে, অপরাজনীতি করছে, এদের কাছে থাকা এসলাম আল্লাহর-রসুলের প্রকৃত এসলাম নয়, তাহলে মানুষ আর তাদের দ্বারা প্রভাবিত হবে না, তাদের কথা বিশ্বাস করবে না। আমরা জাতির সামনে প্রমাণ করে দেবো যে, ধর্মব্যবসায়ীরা মিথ্যাবাদী। তারা প্রকৃত এসলামে নেই। আমরা এটা প্রমাণ করে দেবো যে, তারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মানুষকে মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে প্রভাবিত করে। আর এটা প্রমাণ করতে না পারলে জাতির সামনে সমূহ বিপদ, আমাদের এই দেশটি ধর্মব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে, ধর্মের নামে অধর্ম প্রচলিত হবে, মোল্লাতান্ত্রির রাষ্ট্র (ঞযবড়পৎধপু) কায়েম হবে। সেই সুযোগে পরাশক্তিগুলি আমাদের দেশকেও ইরাক বা আফগানিস্তানে পরিণত করতে চেষ্টা করবে। কাজেই আর দেরি নয়, এখনই সময় দেশ ও জাতিকে ধর্মব্যবসায়ীদের করালগ্রাস থেকে মুক্ত করে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার।’

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ