কেমন ছিলেন মাদায়েনের প্রশাসক সালমান ফারসি (রা.)

শাকিলা আলম
নির্বাচন আসলেই আমরা আমাদের নেতাদের সাক্ষাৎ পাই, তাদের মুখে অনেক আশার বাণী শুনতে পাই। বিনিময়ে তারা আমাদের কাছ একটি ভোট ভিক্ষা চান। আমরা বারবার বিগলিত হই। প্রার্থীরা গরীব মানুষের বাড়ি বাড়ি যান, দু একজন দরিদ্র মানুষকে বুকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলে সেটা পত্রিকায় প্রচার করেন। কিন্তু নির্বাচনের পর আর ভোটারদের বাড়ির পথ মাড়ান না। আমরা তাদের এই লোকদেখানো ভালোবাসায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই এর নাম দিয়েছি নির্বাচনপূর্ব গণসংযোগ। এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ামাত্র। এই প্রতারণাকে মেনে নিয়ে আমরা অনেকেই আবার ইসলামের শাসনব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে বলি, ১৪শ’ বছর আগে ফিরে যেতে চান নাকি? তাদেরকে বলব, ১৪ শ বছর আগে ফেরার দরকার নেই, বরং আপনারা এই সময়ে থেকেই সেই অকপট নেতৃত্ব আমাদেরকে উপহার দিন। একটি সমাজের মানুষগুলোর মধ্যে সাম্য, সহযোগিতা, সেবাপরায়ণতা, আমানতদারী আমরা হাজার হাজার বছর আগেও যেমন কামনা করতাম, তেমনি হাজার বছর পরেও করব। আপনারা তেমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন যেমন করে গেছেন রসুল ও তাঁর আসহাবগণ।
সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন মাদায়েনের প্রশাসক (আমীর)। একবার বনি তায়মুল্লাহ গোত্রের এক সিরিয় ব্যক্তি লোক সেখানে আসে। তার কাছে এক বস্তা ভুষি ছিল। পথিমধ্যে সালমান ফারসির (রা.) সঙ্গে তার দেখা হয়। তিনি তখন ছোট পায়জামা ও জোব্বা পরিহিত ছিলেন। সিরিয় লোকটি তাঁকে চিনত না বলে সে সালামান ফারসিকে (রা.) দিনমজুর বলে ধারণা করে এবং বস্তাটি তাঁকে মাথায় তোলার নির্দেশ দেয়।
সালমান ফারসি (রা.) বস্তাটি মাথায় তুলে নেন এবং লোকটির পেছন পেছন চলতে থাকেন। পথে চলা লোকজন তাঁকে এ অবস্থায় দেখে খুব অবাক হচ্ছিল। তারাই একজন সিরিয় লোকটিকে বলল, “ইনি তো আমাদের আমীর।”
এতে লোকটা একদম বিব্রত ও ভীত হয়ে পড়ল এবং ক্ষমা চেয়ে বলল, “জনাব, আমি তো আপনাকে চিনতে পারিনি।” সালমান ফারসি (রা.) বললেন, “তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তুমি চলো, আমি এই বস্তা তোমার ঘরে পৌঁছে দিয়ে আসি।”
লোকটি খুব আপত্তি করল। তখন সালমান ফারসি (রা.) বললেন, “আমি তোমার খেদমতের নিয়ত করেছি। তাই এ বস্তা তোমার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েই আমি মাথা থেকে নামাবো।” [হেকায়াতে সাহাবা- মওলানা জাকারিয়া]
তাদের এই আচরণ নির্বাচনকালীন আচরণ নয়, কারণ তারা প্রতারণার রাজনীতি করে নেতা হননি। তারা একটি মহান আদর্শে দীক্ষিত হয়েছিলেন বলেই তারা “জনসেবার সুযোগ চাই বলে” জনগণের বোঝা হয়ে তাদের মাথায় চেপে বসেন নি, বরং জনগণের বোঝাকেই নিজেদের মাথায় তুলে নিতে পেরেছিলেন। সেই আদর্শ কালান্তরে বিকৃত হয়ে গেছে। এখন ইসলামের নামে যেটা চলছে সেটা আল্লাহ রসুলের প্রকৃত ইসলামের ঠিক বিপরীত। এই বিকৃতির বেড়াজাল থেকে জাতি যত দ্রুত বেরিয়ে আসবে তত দ্রুত তারা শত শত বছর ধরে চলমান গোলামীর জীবন থেকে মুক্তির পথে যাত্রা শুরু করতে পারবে।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ