অপপ্রচারের আড়ালে চাপা পড়ে যায় সত্য

মসীহ উর রহমান:
অপপ্রচার বা প্রপাগান্ডা এমন একটি হাতিয়ার যা যুগে যুগে কালে কালে অপশক্তি ও মিথ্যার ধারক বাহকরা সত্যের বিপক্ষে মিথ্যাগুজব ছড়াতে ব্যবহার করেছে। এ অপপ্রচারের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে বহু সাধারণ মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছে। বহু মানবতার বিপর্যসৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হয়েছে, বহু ঘাত সংঘাত সংঘর্ষ হয়েছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ইরাকে পারমাণবিক অস্ত্র আছে এই মিথ্যা কথাটি প্রচার করে তার ভিত্তিতে সেই দেশটি আক্রমণ করে দশ লক্ষাধিক আদম সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে ফেসবুকের একটি পোস্টকে নিয়ে গুজব ও হুজুগ ছড়িয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, মানুষ হত্যার মত কাজও অহরহ চলছে।
এ প্রসঙ্গে হিটলারের প্রচারমন্ত্রী ভন গোয়েবলস বলেছিলেন, একটা মিথ্যাকে যদি একশবার প্রচার করা হয় তাহলে সেটাই সত্য হিসাবে গৃহীত হয়ে যায়। হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের বেলায় এ উক্তিটি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। হেযবুত তওহীদ গত বাইশ বছরে নিরলসভাবে জাতির কল্যাণে, জাতির প্রতিটি মানুষের মুক্তির জন্য, প্রতিটি ইঞ্চি মাটি রক্ষা করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে যেন এ দেশ সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা অপরাজনীতি, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ইত্যাদি দ্বারা কখনো আক্রান্ত না হয় এবং জাতির প্রত্যেকটি মানুষের জীবন নিরাপদ হয়, সমাজে ন্যায়, সুবিচার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ আন্দোলনের অনন্যা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমরা এই দীর্ঘসময়ে একটিও আইন ভঙ্গ করি নি, একটিও অপরাধমূলক কাজ করি নি। পৃথিবীতে এমন দ্বিতীয় কোনো আন্দোলনের উদাহরণ আশা করি কেউ দেখাতে পারবে না।
প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতানেত্রীদের ঘাড়ে যেখানে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের দায়, শত শত গাড়ি পোড়ানো, হাজার হাজার নির্দোষ মানুষের রক্তে তাদের দু হাত রঞ্জিত।
তারা ব্যস্ত বিদেশে বাড়ি গাড়ি করাতে। বিপরীতক্রমে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তাদের বাড়ি-ঘর, জায়গা জমি, মেয়েদের গহনা, গবাদিপশু পর্যন্ত বিক্রি করে, নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষতি করে জাতির কল্যাণে নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ এই মহান আন্দোলনটিকেই এ পর্যন্ত ব্যাপক অপপ্রচার করে মিথ্যার চাদরে আবৃত করে রাখা হয়েছে। এই অপপ্রচার চালিয়েছে বিশেষত ধর্ম ব্যবসায়ী একটি শ্রেণি এবং ইসলাম বিদ্বেষী গণমাধ্যমকর্মীদের একটি শ্রেণি।
ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণিটি তারা হেযবুত তওহীদকে সাধারণ মানুষের সামনে খ্রিষ্টান, ইহুদির দালাল, খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে টাকা পায়, কাফের, মুর্তাদ ইত্যাদি নানা রকম মিথ্যা গুজব রটিয়ে দিয়েছে যেন মানুষ হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বিভ্রান্তিকর ধারণা নিয়ে থাকে। তাদের হাতে আছে ফতোয়ার অস্ত্র, যে কারওর বিরুদ্ধে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে উত্তেজিত করে তাদের ঈমানকে ভুল পথে নিয়ে জনরোষ সৃষ্টি করতে ও হামলায় প্ররোচিত করতে তারা পটু। এর ফলে বহু জায়গায় হেযবুত তওহীদ অহেতুক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ অপপ্রচারের জন্য জানতেই পারে নাই যে হেযবুত তওহীদ সত্যই মো’মেন, আল্লাহ রসুলের প্রকৃত ইসলামকে নিয়ে তারা কাজ করছে, তারা ইসলামের প্রকৃত কল্যাণকামী, তারা মুসলমানদের দুনিয়াজোড়া দুর্গতি দুঃখ লাঘবের জন্য হেযবুত তওহীদ কাজ করছে। একজন প্রকৃত মো’মেনের কাজ করছে হেযবুত তওহীদ। এই কথাটা আজ পর্যন্ত এই অপপ্রচারের কারণে জনসম্মুখে বলার সুযোগই পাই নি আমরা।
দ্বিতীয়ত ইসলামবিদ্বেষী একটি মহল যাদের হাতে বন্দী রয়েছে গণমাধ্যমগুলো তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করে গেছে বিগত ২২ বছর। আজকে পাশ্চাত্য দুনিয়ার নেতৃত্বে সমগ্র পৃথিবীতে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চলছে, সম্মিলিতভাবে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা ইসলামকে টার্গেট করেছে, মুসলমানকে টার্গেট করেছে। তারা এই প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে যে, মুসলমান সন্ত্রাসী, মুসলমান জঙ্গি, মুসলমান কূপমণ্ডূক , মুসলমান সাম্প্রদায়িক, মুসলমান খারাপ। যারা ইসলামের কথা বলবে তাদের সবাইকে পশ্চিমা ভাবাদর্শের এই শ্রেণিটি এক পাল্লায় মাপার নীতি নিয়েছে, এখানে বিচার-বিবেচনার কোনো বালাই নেই, কোনো প্রয়োজন নেই। মানদণ্ড হচ্ছে ইসলাম চায় কিনা, যারা চায় তারাই জঙ্গিবাদী, তারাই মূর্খ, অন্ধ।
অথচ হেযবুত তওহীদ জঙ্গি তো নয়-ই বরং সর্বশক্তিতে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষাগুলো তুলে ধরে মানুষের বিপথগামী ধর্মবিশ্বাসকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংগ্রামের কথা ঐ ইসলাম বিদ্বেষী শ্রেণিটি তাদের পত্র-পত্রিকায় প্রচার করে না, উল্টো তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা রিপোর্ট পত্রিকায় প্রকাশ করেছ যেখানে তারা এই আন্দোলনকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, নিষিদ্ধ, বিতর্কিত, সন্দেহজনক, উগ্রপন্থী, দেশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি দলের সঙ্গে যোগসাজস আছে ইত্যাদি অপশব্দ ব্যবহার করেছে। যদিও বাংলাদেশে হেযবুত তওহীদ যেভাবে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ জনসভা, পথসভা, মিছিল, র‌্যালি, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বই-হ্যান্ডবিল প্রচার করেছে তার শতভাগের একভাগও কেউ করে নি। অদ্বিতীয় অসাধারণ নজিরবিহীন এ উদ্যোগকে সেই ইসলামবিদ্বেষী গণমাধ্যমগুলো তাদের বাঁ চোখ দিয়ে দেখতে পায় না। তাদের ডানচোখ তো অন্ধ যে কথা আল্লাহর রসুল বলে গেছেন যে, দাজ্জালের ডান চোখ অন্ধ থাকবে।
প্রশাসনও এই সব অপপ্রচারে প্রভাবিত হয়ে হেযবুত তওহীদকে সীমাহীন হয়রানি করেছে। আজ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মিথ্যা মামলার বোঝা হেযবুত তওহীদকে টানতে হয়েছে। প্রশাসনের কেউ যদিও বলেন যে আমরা তদন্ত করে দেখেছি হেযবুত তওহীদ জঙ্গি না, সন্ত্রাসী না, খ্রিষ্টানও না তখন ঐ অপপ্রচারকারীরা সুর পাল্টে বলেন, হ্যাঁ, আজ হয়তো জঙ্গি না, তবে কাল তো হতেও পারে, তাই না? এই যে দেখুন, অমুক অমুক দল শুরুতে ভালোই ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিকই জঙ্গিপনা শুরু করল। যেহেতু হেযবুত তওহীদও ইসলাম ধর্মের কথা বলে, সুতরাং একটা সময় ঠিকই তারা জঙ্গি হবে।
আজকে আমরা আমাদের প্রিয় দেশবাসিকে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে হেযবুত তওহীদকে জানার জন্য বাইশটা বছর কি যথেষ্ট নয়? এই আধুনিক যুগে একটি প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে তাদের গোয়েন্দা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা একটি ছোট আন্দোলনের বিষয়ে সঠিক তথ্য অবহিত হওয়া কি এতটাই দুরূহ? নাকি এটা তাদের ব্যর্থতা? এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে, তথ্য আদান প্রদানের ইলেকট্রনিক গতির যুগে একটি আন্দোলনের মোটিভ, তাদের নীতি, কার্যক্রম বোঝার জন্য, পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষণ করার জন্য প্রায় দুইটি যুগ তারা সময় পেয়েছেন। সময় পেয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকরাও। তারপরও কেন তারা অনুমানপ্রসূত কথা বলবেন, কেন এমন মন্তব্য করবেন যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হবে? এ কোন মূর্খতা, এ কোন অযোগ্যতা?
এই বাইশ বছরে আপনারা নিশ্চয়ই হেযবুত তওহীদের হাজার হাজার জনসচেনতামূলক অনুষ্ঠান দেখেছেন, হাজার হাজার বক্তব্য দেখেছেন, বই পড়েছেন। সেখানে কোনো একটা শব্দও আপনারা কি পেয়েছেন হেযবুত তওহীদ ইসলাম বিরোধী। একটি শব্দও কি পেয়েছেন যে হেযবুত তওহীদ জঙ্গিবাদকে অনুমোদন করছে? কেউ দেখাতে পারবেন না। প্রকৃত সত্য হলো হেযবুত তওহীদ প্রকৃত মোমেন হওয়ার চেষ্টা করছে, ইসলামের প্রকৃত রূপ তুলে ধরছে। এটি প্রকৃত দেশপ্রেমিক, প্রকৃত মানবতাবাদী প্রকৃত পক্ষে মানুষের কথা কল্যাণকামী একটা আন্দোলন।
আমরা যাখন দেশজুড়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, ধর্মবিশ্বাসের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নিয়ে গণমানুষের সঙ্গে লক্ষাধিক অনুষ্ঠান করেছি মানুষ ধীরে ধীরে আমাদের বিষয়ে জানতে পারছে। সত্য প্রকাশিত হওয়ার অর্থই মিথ্যা কেটে যাওয়া। তাই অপপ্রচারের মেঘও কেটে যাচ্ছে ক্রমেই। মানুষ আমাদের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করছে। তবু এখনও যারা আমাদের বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বসে আছে, তাদেরকে অনুরোধ করব আপনার অনর্থক সন্দেহ না করে আমাদের সঙ্গে মিশুন, আমাদের বই পড়–ন, কার্যক্রম দেখুন। এ পর্যন্ত প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তপক্ষ থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত শত শত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করে এই প্রতিদেবন জমা দিয়েছে যে হেযবুত তওহীদের কোনো জঙ্গিবাদী, সন্ত্রাসবাদী, রাষ্ট্রবিরোধী, সমাজবিরোধী, নাশকতামূলক, ধর্মবিরোধী কোনো কার্যক্রম তারা খুঁজে পায় নি। অর্থাৎ হেযবুত তওহীদ নির্দোষ, নিরপরাধ। এত আদালতের প্রতিবেদন, এত জনসমর্থন, এত নৈতিকতার উপর দণ্ডায়মান আন্দোলন দ্বিতীয়টি আর নেই। কাজেই কেউ যেন আর হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে কোনো রকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে না পারে আমরা সর্বসাধারণকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য অনুরোধ করছি।
লেখক: সাধারন সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ