অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে হেযবুত তওহীদের দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমানে পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্মের অনুসারী থাকলেও, অনেক ভাষায় আসমানি কেতাব বিদ্যমান থাকলেও প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাঁর এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসুলের মাধ্যমে একটি ধর্ম, একই পথ, একই আদর্শ পাঠিয়েছেন

নবীগণের বিদায়ের পর স্বার্থান্বেষী মানুষ ধর্মগুলোর শিক্ষাকে বিকৃত করে ফেলায় এসেছেন নতুন নবী। অনেক মানুষ নতুন সেই নবীকে গ্রহণ করে শুদ্ধ পথে ফিরে এসেছে, অনেকে তা না করে স্বার্থপরবশ হয়ে বা অজ্ঞতাবশত নতুন নবীর বিরুদ্ধাচারণ করেছে। তারা পূর্বের ধর্মেই রয়ে গেছে। এভাবে নানা ধর্মমতের সৃষ্টি হয়ে গেছে।

এই সকল উপাসক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে সমগ্র মানবজাতিকে এক জাতিতে পরিণত করতে এসেছে আখেরি নবী মোহাম্মদ (সা.)। তিনি এমন একটি জীবনব্যবস্থা প্রবর্তন করে গেছেন যেখানে সকল ধর্মের মানুষ ধর্মপালনের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা লাভ করেছিল। সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ শত্রুতা দূর করে আদর্শিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল।

কিন্তু সাম্প্রদায়িক ঘৃণাবিদ্বেষ এখন সমগ্র বিশ্বকে একটি মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বহুদেশে সংখ্যাগুরুরা নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বর্বর নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে, স্বদেশ থেকে উৎখাত করছে। প্রতিটি ধর্মেই উগ্রপন্থী গোষ্ঠী অপর ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচার করে এবং রাজনৈতিক ইন্ধনে দাঙ্গাময় পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে চলেছে।

এসবের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিপ্রয়োগের পন্থাই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। আক্রান্ত গোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তাদের উপাসনালয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হামলা হলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করি এগুলো প্রকৃতপক্ষে সাময়িক উপশম মাত্র, সমস্যার সমাধান নয়।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা এই উপমহাদেশে Divide & Rule নীতির প্রয়োগ করে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও শত্রুতার সূত্রপাত ঘটিয়েছিল যার প্রতিক্রিয়া আজও চলমান আছে। হেযবুত তওহীদ বিশ্বনবীর প্রকৃত উম্মত হিসাবে সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি স্থাপনে সকল ধর্মসম্প্রদায়ের নেতৃবর্গের সঙ্গে, অনুসারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে, তাদেরকে নিয়ে সহস্রাধিক সভা-সেমিনার করে কীভাবে মানবজাতি স্ব স্ব ধর্মে থেকেও আবার একজাতিতে পরিণত হতে পারে সেই সূত্র তুলে ধরেছে।

হেযবুত তওহীদ চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে চিরন্তন ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করতে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে, উভয় গোষ্ঠীর ভিতরকার দেওয়ালকে ভেঙে ফেলতে। এ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী কর্তৃক আরোপিত বহু অপবাদ ও সমালোচনার বোঝা মাথায় নিয়েছে, এমনকি নির্যাতনের শিকারও হয়েছে। কিন্তু কখনও পিছপা হয়নি।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ