হেযবুুুুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তরায় জনসভা

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সকাল থেকেই ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হিজবুত তাওহীদের  সদস্য ও শুভাকাক্সক্ষীদের বহনকারী মটরসাইকেল, বাস ও গাড়িবহর এসে উত্তরা ১৪নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির মাঠের পাশে জমতে থাকে। দুপুর ৩টার আগেই লোকসমাগমপূর্ণ হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান চত্বর, উৎসব মুখর হয়ে ওঠে মাঠ। প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল সবাই। মাঠে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল সিসি ক্যামেরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা ও হিজবুত তাওহীদের  নিজস্ব শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাঠে বিরাজ করছিল কঠোর নিরাপত্তা ও চূড়ান্ত শৃঙ্খলা। বিকেল ৪টায় উপস্থাপকের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো প্রধান অতিথি হিজবুত তাওহীদের  এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের নাম। হিজবুত তাওহীদের  এমাম গাড়িবহর নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতেই মুহুর্মুহু করতালি ও শুভেচ্ছা শ্লোগানের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। প্রধান অতিথিসহ একে একে অতিথিবৃন্দ নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন। শুরু হয় জনসভা। বিশ্বব্যাপী এক মহাযুদ্ধের আয়োজন চলছে। ইস্যু হিসাবে নেওয়া হয়েছে জঙ্গিবাদ। পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে আছে। সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় তারা মত্ত। আমাদের দেশেও একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতিতে দেশকে নিরাপদ রাখতে ষোলো কোটি মানুষ সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। গত বিশ বছর ধরে দেশের আপামর জনগণকে ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদ ও যাবতীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস করে যাচ্ছে হিজবুত তাওহীদ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হিজবুত তাওহীদ ২১ বছরে পদার্পণ করে। এ উপলক্ষে গতকাল “বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সন্ত্রাস দমনে জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই” শীর্ষক শ্লোগান নিয়ে জনসভার মাধ্যমে মহা-সমারোহে পালিত হয় হিজবুত তাওহীদের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। উত্তরা ১৪নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির মাঠে এ অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে সহযোগিতা করে ‘দৈনিক বজ্রশক্তি’, ‘বাংলাদেশেরপত্র.কম’ ও ‘জেটিভি অনলাইন’। অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ও প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন হিজবুত তাওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হিজবুত তাওহীদের আমীর মসীহ উর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হিজবুত তাওহীদের সাহিত্য সম্পাদক রিয়াদুল হাসান, দৈনিক বজ্রশক্তির সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা, জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বরকত খান, ৩৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইয়াহিয়া মাহমুদ খোকন, কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মাসুদ আহম্মেদ, মতিঝিল থানা শ্রমিকলীগের কার্যনির্বাহী সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহিদুল ইসলাম মামুন ও তানজীদ ইমাম তিতুমির। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার সদস্য ও শুভাকাক্সক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।

‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত বিশ্বের বহু দেশ। বিকৃত ধর্মীয় আদর্শ থেকে উদ্ভূত এই জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে বিশ্বময় শক্তি প্রয়োগের পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সকলেই স্বীকার করছেন যে, শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি ধর্মীয় দলিল ভিত্তিক নির্ভুল আদর্শ দিয়ে জঙ্গিবাদ যে ভুল পথ তা প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মবিশ্বাসী সাধারণ মানুষের ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে দেশে সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটাতেই থাকবে। ফলে আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিকেও ইরাক-সিরিয়ার মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন একটি সঠিক আদর্শের।’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে হিজবুত তাওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘পাশ্চাত্য সা¤্রাজ্যবাদীরা এই বলে অপপ্রচার চালায় যে, ইসলাম জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। আমি বলছি- ইসলাম থেকে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয় নি। তোমরাই জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছ ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য। রসুল জেহাদ করেছেন, যুদ্ধ করেছেন, সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন মানুষকে শান্তিময় জীবন উপহার দেওয়ার জন্য। আর তোমরা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছ ইসলামকে কলঙ্কিত করে স্বার্থ হাসিল করার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘আফগান যুদ্ধের সময় আমেরিকা মুসলমানদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদের সূচনা ঘটায়। তখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ঈমানদার মুসলিম জনসাধারণকে উদ্দীপ্ত করে আফগানিস্তানের ভূমিতে নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করানো হয়। তাদেরকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেয় আমেরিকা ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা। পরবর্তীতে এই জঙ্গিবাদকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়ে অস্ত্রব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করে পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো। আফগানের ওই যুদ্ধ মোটেও জেহাদ ছিল না। সেটা ছিল আমেরিকা-রাশিয়ার স্বার্থের দ্বন্দ্ব। আর সেই দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হয়েছে আফগানিস্তানকে। আমার জাতির হাজার হাজার তরুণের জীবন গেছে বিপথে। ওখান থেকে জঙ্গিবাদকে সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটাও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা করেছে যা তাদের জমজমাট অস্ত্রব্যবসার বাজার তৈরির জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। আজ সেই সাম্রাজ্যবাদীরাই তাদের নিজেদের তৈরি করা জঙ্গিবাদকে ইসলামের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। আমরা যদি এখনও সজাগ না হই, সচেতন না হই, সাম্রাজ্যবাদীদের এইসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ না হই তাহলে তারা কখনোই এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করবে না। তারা সফল হয়ে যাবে। আর ইসলামকে মানুষ ঘৃণা করবে সন্ত্রাসী ধর্ম অভিযোগ দিয়ে। আজকে তাদের ষড়যন্ত্রের রঙ্গমঞ্চ সিরিয়ার মাটি লাল হয়ে যাচ্ছে মুসলমানের রক্তে। যে ইরাক-সিরিয়ার মাটিতে রসুলের সাহাবারা রক্ত দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই ইরাক-সিরিয়া এখন বধ্যভূমি। মরে মুসলমান, ঘাস খায় মুসলমান, ভিক্ষা করে মুসলমান, তেল লুট হয় মুসলমানের, ব্রিজ কালভার্ট ধ্বংস হয় মুসলমানের, আর সা¤্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলো বসে বসে নিজেদের মধ্যে সন্ধিচুক্তি করে, ভাগ বাটোয়ারা করে।’
হিজবুত তাওহীদের এমামের বক্তব্য চলাকালে প্যান্ডেলের চতুর্দিকে ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভীড়, প্রত্যেকে যেন চাতক পাখির মতো চেয়ে বক্তব্য শুনছিল। হিজবুত তাওহীদের নিজস্ব শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়ে মাঠের চতুর্দিকে। মিডিয়ার ক্যামেরাগুলো ঘুরে ঘুরে জনসভা কাভার করছিল।
অনুষ্ঠানে দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান করে বলা হয়, ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রচারিত ধর্মের অপব্যাখ্যা থেকে বের হয়ে আমাদের ধর্মের প্রকৃত চেতনা দ্বারা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মানুষের ধর্ম হলো মানবতা, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বোঝা, অন্যের দুর্দশা দেখার পর হৃদয়ে দুঃখ অনুভব করা এবং সেটা দূর করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা করা। আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপর মানুষ কখনোই ধার্মিক বা মো’মেন-মুসলিম হতে পারে না। প্রকৃত মো’মেন হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর হুকুমের পরিপন্থী অর্থাৎ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার জীবন-সম্পদকে মানবতার কল্যাণে উৎসর্গ করেন। সুতরাং স্বার্থপরের নামাজ নেই, স্বার্থপরের সমাজ নেই, স্বার্থপরের জান্নাত নেই। বর্তমানে আমাদের দেশে যে ষড়যন্ত্র চলছে, দেশ যে সঙ্কটে পতিত হয়েছে তা থেকে দেশকে বাঁচানো আমাদের ঈমানী দায়িত্ব ও সামাজিক কর্তব্য। সভায় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জেটিভি অনলাইন জনসভাটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

অনুষ্ঠানে ভিডিও

 

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ