আদাবর শেখেরটেকে হেযবুত তওহীদের জনসভা

সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদকে কেন্দ্র করে দেশ ও জাতি যে সঙ্কটে পতিত হয়েছে এ সঙ্কট থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সকলকে উদ্যোগী হতে হবে, আমাদেরকে ইসপাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কারণ এটি একদিকে আমাদের ঈমানী দায়িত্ব, অপরদিকে আমাদের সামাজিক কর্তব্য। ধর্মবিশ্বাসের অপব্যবহারকে ধর্মের প্রকৃত আদর্শ দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। গত ১৫-০২-২০১৬ রাজধানীর আদাবর শেখেরটেক এলাকায় হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। “বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ও সন্ত্রাস দমনে জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই” শীর্ষক ওই জনসভায় উদ্বোধক ও মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম এবং প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তরের ১০০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হান্নান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১০০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সানাউল্লা।
মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দানকালে হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, ‘মানুষের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আল্লাহ অন্য কাউকে প্রদান করেন নি। ওই বৈশিষ্ট্য বা গুণগুলোর কারণে মানুষের মর্যাদা অনন্য। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার খলিফা হিসেবে। তারপর আদমকে সেজদা করার মাধ্যমে মালায়েকদের নিযুক্ত করেছেন মানুষের সেবায়, মানুষের কল্যাণে। তিনি তার নিজের রূহ থেকে মানুষকে ফুঁকে দিয়েছেন। এই রূহের মাধ্যমে তিনি মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দান করেছেন, অর্থাৎ মানুষ তার ইচ্ছামত যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে যা অন্য কোনো সৃষ্টিকে আল্লাহ দেন নি। সে তাকে বোঝার ক্ষমতা দান করেছেন। সে ন্যায় ও অন্যায় বুঝতে পারে, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারে, তারপর সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে কোন পথে চলবে, সত্য নাকি মিথ্যা? মিথ্যার পথে চললে তাকে দুনিয়ার জীবনে অশান্তি ভোগ করতে হবে, আর পরকালে থাকবে জাহান্নামে। অন্যদিকে সত্যকে ধারণ করলে তার ইহকাল যেমন শান্তিপূর্ণ হবে, পরকালেও জান্নাত লাভ করবে। এই যে অনন্য মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত নেবার স্বাধীন ক্ষমতা আল্লাহ মানুষকে দান করলেন সেটা লাভ করার পরও মানুষ যদি কেবল পশুর মত আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর জীবনযাপন করে তাহলে তার চেয়ে নিকৃষ্ট কিছু আর হতে পারে না। আমরা যদি নিজেদেরকে আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে চাই তাহলে আমাদেরকে ভাবতে হবে পাঁচটি বিষয়ে। নিজেকে নিয়ে, পরিবার নিয়ে, সমাজ নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে ও বিশ্ব নিয়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে পৃথিবীতে মুসলমানদের হাতে বিশাল ভূ-খণ্ড, প্রাকৃতিক সম্পদের সিংহভাগও তাদের হাতে। তারা সংখ্যায় ১৫০ কোটি। অথচ তারা পৃথিবীর সর্বনিকৃষ্ট জাতিতে পরিণত হয়েছে। সারা পৃথিবীতে মার খাচ্ছে মুসলমান, ধর্ষিত হচ্ছে মুসলমান, গৃহহীন হয়ে সাগরে ভাসছে মুসলমান, ইউরোপের রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করছে মুসলমান, নিজেরা নিজেরা হানাহানি করে রক্তারক্তি সৃষ্টি করছে মুসলমান। কেন এদের এত করুণ পরিণতি? কোথায় সমস্যা তাদের? এর কারণ, এরা হচ্ছে ওই মুসলমান যাদের ব্যাপারে আল্লাহর রসুল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, এমন সময় আসবে মানুষ রোজা রাখবে কিন্তু সেটা উপবাস হবে অর্থাৎ রোজা কবুল হবে না, তাহাজ্জুদ পড়বে কিন্তু সেটা ঘুম নষ্ট করা হবে অর্থাৎ আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না। কেন কবুল হবে না? কারণ, তারা আমল করে দুনিয়া ভরে ফেললেও তাদের আকীদায় সমস্যা।’
আকীদা ও ঈমানের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সত্যনিষ্ঠ আলেমরা একমত ছিলেন আকীদা সহিহ না হলে ঈমানের কোনো মূল্য নেই আর ঈমান না থাকলে আমল অর্থহীন। আমল হলো সালাহ (নামাজ), যাকাত, হজ্ব, সওম (রোজা) ইত্যাদি- আর আকীদা হলো- এসব কেন করব, কার জন্য করব, এতে আমার কী কল্যাণ হবে, জগতের কী কল্যাণ হবে ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা। কোনো ব্যাপারে আকীদা ভুল থাকলে অর্থাৎ ওই জিনিস সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা না থাকলে তাকে যে কোনোভাবে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। আজকে ঠিক সেটাই হচ্ছে, আকীদা না থাকার কারণে ধর্মবিশ্বাসী মানুষকে দিয়ে যা খুশি করাচ্ছে ধর্মব্যবসায়ীরা। তাদের ঈমানকে হাইজ্যাক করে নিজেদের ইচ্ছেমত ব্যবহার করা হচ্ছে। ঈমান যদি তসবীহর দানা হয় আকীদা হলো তার সুতো। সুতো যদি কেটে যায় তাহলে দানাগুলো মুহূর্তেই খসে পড়ে, ওটা আর তসবীহ থাকে না। আমাদের ঈমানের সুতো কেটে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে এদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে আমরা একটি ভূখণ্ড পেয়েছি। কিন্তু পরবর্তী ৪৪ বছর এ জাতিটিকে আর ঐক্যবদ্ধ থাকতে দেয়া হয় নি। এ জন্য দায়ী প্রধানত বৈদেশিক ষড়যন্ত্র আর অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও রাজনীতিক বিভক্তি। পাশ্চাত্যের বিভিন্ন মতবাদের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রাজনীতিক দলগুলো এ জাতিটিকে বহুভাগে ভাগ করে ফেলল। আর ধর্মীয়ভাবে জাতির মধ্যে মাজহাব ফেরকার বিভক্তি আগে থেকেই ছিল, উপরন্তু বিভিন্ন ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী সাধারণ ধর্মবিশ্বাসী মানুষের ধর্মচেতনাকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে রাজনীতিক, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে শুরু করল। এইসব অপশক্তি না থাকলে আমরা প্রিয় জন্মভূমির ষোল কোটি মানুষ একটা শক্তিশালী জাতিসত্তা গঠন করতে পারতাম।’
হেযবুত তওহীদের এমাম আরও বলেন, আমাদেরকে সমাজ ও বিশ্ব নিয়ে ভাবতে হবে আমাদেরই অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে। সবকিছুর ব্যাপারে দায় এড়ানো চলে না। জঙ্গিবাদ হচ্ছে, সন্ত্রাস হচ্ছে, অপরাজনীতি হচ্ছে- সরকার বুঝুক গে, রাষ্ট্রে পুলিশ আছে, র‌্যাব আছে, এছাড়াও আরও অনেক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, তারা সমাধান করবে- এমন মনোভাব নিয়ে বসে আছেন যারা তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- ইরাকের কি পুলিশ ছিল না? সুপ্রশিক্ষিত শক্তিশালী সেনাবাহিনী ছিল না? তারা না জাতিকে রক্ষা করতে পেরেছে, না সরকারকে রক্ষা করতে পেরেছে না নিজেদেরকে রক্ষা করতে পেরেছে। সিরিয়ায় গত পাঁচ বছর ধরে রক্তপাত চলছে। তিন-চার লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে নারী-শিশু-তরুণ-তরুণী-যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে। কী করতে পেরেছে সে দেশের সেনাবাহিনী? কী করতে পেরেছে পুলিশ? লিবিয়ারও একই অবস্থা। লিবিয়া ছিল আফ্রিকার ত্রাতা। কোথায় সেই লিবিয়া? এখন দেশটি কে চালাচ্ছে কোনো খবরই নেই। কাজেই পুলিশ-র‌্যাবের উপর ভরসা করে থেকে লাভ নেই। সবচাইতে বড় কথা হলো- একটা জাতিতে কোটি কোটি মানুষের সবাই যখন আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপর হয়ে যায়, তখন লাখ লাখ পুলিশ দিয়েও কোনো লাভ হয় না।
তিনি আসন্ন সঙ্কট মোকাবেলায় আদর্শিক লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করে বলেন- ‘ধর্মকে ধর্মহীনতা দিয়ে মোকাবেলা করার চেষ্টা বোকামী হবে। ইউরোপ গত প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে চেষ্টা করেও এ কাজে সফল হতে পারে নি। এক সময় তারা পৃথিবীর অধিকাংশ ভূ-খণ্ডে উপনিবেশ গেড়েছিল, তারপর তাদের ওই ধর্মহীনতাকে শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। ওইসকল দেশে এখনও পাশ্চাত্যের শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে কিন্তু জাতিগুলো মোটেও ধর্মহীন হয় নি। মুসলমানদেরকেও ধর্মহীন করার প্রয়াস কম হয় নি। পশ্চিমা আল্লাহ-আল্লাহর রসুলের বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে অবিশ্রান্ত অপপ্রচার চালিয়েছে এবং এখনও চালাচ্ছে। কিন্তু আমার আল্লাহকে কেউ ভুলিয়ে দিতে পারে নাই, আমার প্রাণের প্রিয় রসুলকে কেউ ভুলিয়ে দিতে পারে নাই, ইসলামের প্রতি মানুষের আবেগ-অনুভূতি নষ্ট করে দিতে পারে নাই। বরং যত দিন যাচ্ছে মানুষ বেশি করে ধর্মমুখী হচ্ছে। সমস্যা হলো- এই ধর্মবিশ্বাসী মানুষগুলোর ঈমান ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি বিধায় তাদের ঈমান সঠিক পথে প্রবাহিত হতে পারছে না, ধর্মব্যবসায়ীরা তাদেরকে দিয়ে আল্লাহ-আল্লাহর রসুলের নাম ভাঙ্গিয়ে যাচ্ছেতাই করাচ্ছে, সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করছে। সুতরাং এখন আমাদেরকে যেটা করতে হবে তা হলো- ইসলামের সঠিক আদর্শটি তুলে ধরতে হবে। সত্য আদর্শের ভিত্তিতে মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তাদেরকে আকীদা শিক্ষা দিতে হবে। তাহলে আর কেউ তাদের ব্যবহার করে খারাপ অভিসন্ধী বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আবদুল হান্নান বলেন, হেযবুত তওহীদের এমাম আজকে প্রকৃত ইসলাম ও বিকৃত ইসলামের তুলনা করে যে কথাগুলো বললেন তা আমার খুবই ভাল লেগেছে। আমি মনে করি তার এই ভাষণটি সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, সমস্ত পৃথিবীতে জঙ্গিবাদের নামে যা চলছে তা মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি মহাষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা-ব্রিটিশ, তারপর মুসলমানদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে যাতে করে কোনোদিন এই জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। তারা বাংলাদেশকেও টার্গেট করেছে। আমাদের সবাইকে তাই সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে হবে।
তিনি হেযবুত তওহীদের কার্যক্রমের ব্যাপারে বলেন, হেযবুত তওহীদ আন্দোলন নিঃস্বার্থভাবে দেশের সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছে। তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, দেশের আনাচে-কানাচে, গ্রাম-গঞ্জ, হাটে-বাজারে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যেভাবে ছুটে বেড়াচ্ছে তাদেরকে সাধুবাদ না জানিয়ে পারি না। এ কাজ করার কথা ছিল আমাদের সকলের। কারণ, বাংলাদেশ যদি সিরিয়া-ইরাকের মত আক্রান্ত হয় তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হেযবুত তওহীদের আমীর মসীহ উর রহমান। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদকে ইস্যু করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে গড়াচ্ছে বিশ্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে না। এমতাবস্থায় আমাদের কী করা উচিত, কী করলে আমরা ১৬ কোটি মানুষ নিরাপদে থাকব তার সন্ধান দিচ্ছে হেযবুত তওহীদ। আল্লাহ হেযবুত তওহীদকে এমন মহাসত্য দান করেছেন যার ভিত্তিতে এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করলে পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই এই জাতির দিকে চোখ তুলে তাকায়। তখন আমরাই সমস্ত পৃথিবীকে ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত করব ইনশা’আল্লাহ। আমাদেরকে বুঝতে হবে- পরিবারে যখন অশান্তি চলে তখন ওই পরিবারের কোনো সদস্যই ব্যক্তিগতভাবে শান্তিতে থাকতে পারে না, একইভাবে বিশ্বে যখন অশান্তি চলে তখন কোনো জাতিই শান্তিতে থাকতে পারে না, আর জাতি অশান্তিতে থাকলে আমরা এই জাতির সদস্যরাও কেউ শান্তিতে থাকতে পারব না। তাই আমাদেরকে যেমন ব্যক্তি ও পরিবার নিয়ে ভাবতে হবে, তেমনি রাষ্ট্র ও বিশ্ব নিয়েও ভাবতে হবে।
অনুষ্ঠানে হেযবুত তওহীদের সাহিত্য সম্পাদক রিয়াদুল হাসান বলেন, অসংখ্য ইটকে পাশাপাশি সাজিয়ে, একে অপরের সাথে জুড়ে দিয়ে ইমারত তৈরি হয়। যদি ওই ইটগুলো আলাদা-আলাদা হয়ে যায়, একে অপরের সাথে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে, তাহলে আর ইমারত টিকে থাকতে পারে না। একটি জাতি যদি ইমারত হয় তাহলে ওই জাতির প্রতিটি সদস্য হলো তার ইট। জাতির সদস্যরা যত ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে ততই জাতি শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে সদস্যদের মধ্যে যত অনৈক্য থাকবে, সংঘাত থাকবে, সদস্যরা যত ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থপর হয়ে যাবে ইমারত ততই ভঙ্গুর হবে। আমাদেরকে শক্তিশালী জাতিসত্তা গঠন করতে হলে ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে হবে।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে ভাষণ দানকালে ১০০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সানাউল্লা বলেন, আজকের অনুষ্ঠান যারা আয়োজন করেছেন ও যারা আলোচনা করছেন তাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য এরকম আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কিছু ধর্মব্যবসায়ী আছে যারা ইসলামের নাম করে বোমা মারে, রগ কাটে তারপর স্লোগান দেয় যে- তারা আল্লাহর আইন চায়। এদের মুখোশ উন্মোচন করতে হলে প্রকৃত ইসলামের প্রসার ঘটাতে হবে। হেযবুত তওহীদ এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী হেযবুত তওহীদের তেজগাঁও-আদাবর এলাকার আমীর মোস্তাফিজুর রহমান টিটু। জনসভায় মিডিয়া পার্টনার হিসাবে সহযোগিতা করে দৈনিক বজ্রশক্তি, বাংলাদেশেরপত্র.কম ও জেটিভি অনলাইন।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ