শহীদ কাজী আরেফ হাইস্কুল মাঠে জনসভা

২৮ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার ওয়ারীতে অবস্থিত শহীদ কাজী আরেফ আইডিয়াল হাই স্কুল মাঠে হেযবুত তওহীদের আয়োজনে এক বিশাল জনসভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় উদ্বোধক ও মুখ্য আলোচক হিসাবে চলমান সঙ্কট থেকে জাতিকে উদ্ধারের জন্য দিকনির্দেশনামূলক প্রাঞ্জল বলিষ্ঠ বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। কানায় কানায় পূর্ণ স্কুল মাঠের দর্শক-শ্রোতাগণ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার আলোচনা উপভোগ করেন।
বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ পৃথিবীকে এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছে। বাংলাদেশেও একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতে জাতি ও দেশকে নিরাপদ রাখতে ষোল কোটি মানুষ সকল প্রকার সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-ধর্মব্যবসা-অপরাজনীতি এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। সে লক্ষ্যে বিগত বিশ বছর যাবৎ দেশের জনগণকে সঠিক আদর্শের ভিত্তিতে ধর্মীয় কর্তব্যবোধ এবং দেশপ্রেমের প্রেরণায় উজ্জীবিত করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল “বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সন্ত্রাস দমনে জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই” শীর্ষক এ জনসভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে শহীদ কাজী আরেফ আইডিয়াল হাই স্কুল। মিডিয়া পার্টনার ছিল ‘দৈনিক বজ্রশক্তি’, ‘বাংলাদেশেরপত্র.কম’ ও ‘জেটিভি অনলাইন’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ময়নুল হক মনজু, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেযবুত তওহীদের আমীর মসীহ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে ভিডিও

 

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত বিশ্বের বহু দেশ। আমাদের প্রিয় জন্মভূমি এই বাংলাদেশকে নিয়ে ভেতরে বাইরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। যদি কোনোভাবে এই দেশকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেওয়া যায় তবে ষড়যন্ত্রকারী স্বার্থান্বেষীদের উদ্দেশ্য সফল হবে। তাই এই মুহূর্তে করণীয় হলো আগে এই সঙ্কট অনুধাবন করা এবং দেশের আপামর জনগণকে সঙ্কটের বিরুদ্ধে ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ করা। এ জন্য প্রয়োজন একটি সঠিক আদর্শের। আমাদের প্রিয় জন্মভূমির পবিত্র মাটিকে যাবতীয় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সামাজিক অপরাধ ও হানাহানির কবল থেকে রক্ষার জন্য দেশের জনগণকে সেই সঠিক আদর্শের ভিত্তিতে ঈমানী চেতনা এবং দেশপ্রেমের প্রেরণায় উজ্জীবিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানামুখি ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আজ সমগ্র পৃথিবী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসেছে, বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশগুলো ১৬ হাজারের বেশি পারমাণবিক বোমা ও হাইড্রোজেন বোমা মজুদ করেছে মানবজাতিকে ধ্বংস করার জন্য। অন্যদিকে পৃথিবীব্যাপী চলছে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ। এই জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়েছে ঐ পশ্চিমা পরাশক্তিধর দেশগুলো। অস্ত্রব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য একদিকে তারা জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে অন্যদিকে সন্ত্রাস দমনের নামে সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এখন তারা পৃথিবীকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। এখন যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয় তবে সমগ্র মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এদিকে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থাও ভয়ানক। একদিকে সামাজিক অন্যায়-অবিচার জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে, অপর দিকে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটানোর নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। এই অবস্থায় শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই জঙ্গিবাদ ও সামাজিক অপরাধ দূর করা সম্ভব নয়, শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন একটি নির্ভুল আদর্শ। সেই আদর্শ মহান আল্লাহ দয়া করে হেযবুত তওহীদকে দান করেছেন। এখন এই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সামাজিক অপরাধ দূরীকরণে জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই। জনগণের কাছে এই সঠিক আদর্শটি তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সর্বোপরি জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে দেশরক্ষার এই মহতী কাজে।
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় আমাদেরকে বুঝতে হবে যে, ধর্ম হলো ধারণ করা অর্থাৎ দয়া, মায়া, মমতা, ভালোবাসা, মনুষ্যত্ব, অন্য মানুষের ব্যথায় ব্যথিত হওয়া, ন্যায়-অন্যায় বুঝতে পারা ইত্যাদি গুণ হৃদয়ে ধারণ করা। অন্যের দুঃখ, দুর্দশা দেখার পর হৃদয়ে অনুভব করা এবং সেটা দূর করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা করা। স্বার্থপর মানুষ কখনোই ধার্মিক হতে পারে না। আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপর ব্যক্তি কখনও মু’মিন-মুসলিম হতে পারে না। আল্লাহর হুকুমের পরিপন্থী অর্থাৎ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন-সম্পদকে মানবতার কল্যাণে উৎসর্গকারী ব্যক্তিই হলো প্রকৃত মো’মেন। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আকিদা সহিহ না হলে ঈমানের কোনো মূল্য নেই আর ঈমান না থাকলে আমল অর্থহীন। সেই মহামূল্যবান আকিদা যদি জনগণকে শিক্ষা দেওয়া না হয় তবে ঈমান ভুল পথে প্রবাহিত হবেই। ঈমানের মূল বিষয় হলো কলেমা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম ছাড়া অন্য কিছু না মানা, এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা আর আকিদা হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে সঠিক ও সম্যক ধারণা। আর আমল হলো সালাহ (নামাজ), যাকাত, হজ্ব, সওম (রোজা) ইত্যাদি এক কথায় সেই সমস্ত কাজ যা মানুষের কল্যাণ করে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে তা সবই আমল। কিন্তু নিজের জীবন-সম্পদ উৎসর্গ করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা না করলে কারও আমলই কবুল হবে না। আজ পৃথিবীজোড়া আমল হচ্ছে কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে সঠিক আকিদা না থাকার কারণে ইমান ও আমল সবই অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব ময়নুল হক মনজু বলেন, নানা অজুহাতে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণিটি দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে দেশের সম্পদ ধ্বংস করে। ইতঃপূর্বে আমরা দেখেছি সাইদিকে চাঁদে দেখা গেছে বলে তারা একটা মিথ্যা হুজুগ তুলে একশ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী মহল সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) চাঁদে দেখা গেল না অথচ সাইদিকে চাঁদে দেখা গেল, এগুলো মিথ্যা হুজুগ। আবার হেফাজতে ইসলামের ঘটনা আপনারা সকলেই জানেন, তারা নারীদেরকে কর্ম করতে দিতে চায় না কিন্তু ইসলাম তো নারীদের কর্ম করতে নিষেধ করে না। তারা কথায় কথায় যাকে তাকে নাস্তিক বলে গালি দিতে থাকে। নাস্তিক কাকে বলে তারা তা জানেই না। যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্বীকার করে, কলেমা পড়ে তাকে কীভাবে নাস্তিক বলা যায় তাদের কাছে আমার প্রশ্ন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জনাব কাজী মাসুদ আহাম্মেদ বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অন্যায়ের পক্ষে যারা কাজ করেছিল তারা সেদিন পরাজিত হয়েছে, সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা আজও তৎপর। তারা বিভিন্নভাবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে কিন্তু তারা কখনোই সফল হবে না, তারা পরাজিত হবেই। তিনি হেযবুত তওহীদের জঙ্গিবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং একাত্মতা পোষণ করেন।
ঢাকা দক্ষিণের ৩৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ইয়াহিয়া মাহমুদ খোকন বলেন, আমি এতক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে হেযবুত তওহীদের এমামের বক্তব্য শুনছিলাম, খুবই সময়োপযোগী বক্তব্য। আমি দোয়া করি হেযবুত তওহীদ যেন তাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে, তাদের সার্বিক সফলতা কামনা করি। তিনি আরও বলেন, একাত্তর সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপামর জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করেছিলাম অন্যায়, অবিচার, শোষণ-বঞ্চনা, দুর্নীতি ইত্যাদির বিরুদ্ধে, সেই লক্ষ্য আজও পূরণ হয়নি। আজও আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি।
বিশেষ অতিথি হিসাবে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ ৩৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম (তৈয়ব আলী), গোলাপবাগ জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, শহীদ কাজী আরেফ আইডিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ রাজবংশীসহ আরও অনেকে।
বক্তারা দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান করে বলেন, স্বার্থপরের সমাজ নাই, নামাজ নাই, জান্নাত নাই। বর্তমানে আমাদের দেশে যে ষড়যন্ত্র চলছে, দেশ যে সঙ্কটে পতিত হয়েছে তা থেকে দেশকে বাঁচানো আমাদের ঈমানী দায়িত্ব ও সামাজিক কর্তব্য।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ শহীদ কাজী আরেফ আইডিয়াল হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অভিনয়, আবৃত্তি ও নৃত্যে ছাত্র-ছাত্রীরা অসাধারণ পরিবেশনার মাধ্যমে সকলকে মুগ্ধ করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের আগামী ৩০ জানুয়ারি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে “ধর্মবিশ্বাস: এক বৃহৎ সমস্যার সহজ সমাধান” শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ