রাজধানীর পান্থপথে বিশাল জনসভা ও র‌্যালি

গত ০৯ আগষ্ট ২০১৬ তারিখে রাজধানীর পান্থপথে জঙ্গিবাদ বিরোধী এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকাল ৩ ঘটিকায় মানবতার কল্যাণে নিবেদিত অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ও সন্ত্রাস দমনে জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই’ শীর্ষক এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেযবুত তওহীদের আমীর মসীহ উর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ভিডিও

 

অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সভায় যোগ দেওয়ার জন্য গাড়ি বহরে আসতে থাকে নারী-পুরুষসহ আপামর জনতা, সভাস্থল পরিপূর্ণ হয়ে যায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার সাধারণ জনতার উপস্থিতিতে। উপস্থিত জনতার হাতে দেখা যায় জঙ্গিবাদ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। জঙ্গিবাদ বিরোধী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হচ্ছিল সভাস্থল। মানুষের চোখে মুখে ফুটে উঠেছিল জঙ্গিদের প্রতি তীব্র ঘৃণা। প্রত্যেকেই যেন অতি মনোযোগের সাথে প্রধান বক্তার বক্তব্য শুনছিল। আশেপাশের দোকানগুলোতেও মানুষ ভীড় করে প্রধান অতিথির বক্তব্য শুনছিল। জ্যামে আটকা পড়া বাস, প্রাইভেট কার, রিকসার যাত্রীদেরও বক্তব্য শোনায় মনোযোগী হতে দেখা যায়। সমস্ত পান্থপথ জুড়ে ও গ্রীন রোডের কাঁঠাল বাগান পর্যন্ত ছিল জনসভার মাইক যা সভার বক্তব্য দূরদূরান্তে পৌঁছে দিচ্ছিল। সভাস্থলের পাশেই ছিল তওহীদ প্রকাশনের স্টল যেখানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক যুক্তি সংবলিত হেযবুত তওহীদের যাবতীয় প্রকাশনা সামগ্রী ছিল। দর্শক শ্রোতাগণ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি হেযবুত তওহীদের নিজস্ব শৃঙ্খলা কর্মীদের সজাগ উপস্থিতি দেখা যায়। সভা শেষে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে হেযবুত তওহীদের এমামসহ সভায় আগত প্রায় সকলেই অংশ গ্রহণ করে। র‌্যালিটি পান্থপথ সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হয়ে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সভাস্থলে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান বক্তা, সভাপতিসহ হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগরীর আমীর আলী হোসেন বক্তব্য দেন। এছাড়াও বক্তব্য দেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা বলেন, জঙ্গিবাদকে ইস্যু করে মধ্যপ্রাচ্যে একটির পর একটি দেশ যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশকে নিয়েও সেই নোংরা খেলা শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র কেবল এই দেশের বিরুদ্ধেই নয়, ইসলামের বিরুদ্ধে বলেও তারা মন্তব্য করেন। তারা বলেন, ইসলাম ধর্ম, মহান আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে প্রশ্নবিদ্ধ ও কালিমালিপ্ত করা জঙ্গিবাদের বিশ্বায়নের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের তরুণ, যুুবকেরাও সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়েছে। তাদের ঈমানকে বিপথে পরিচালিত করা হচ্ছে। আর সম্পূর্ণ কাজটি করা হচ্ছে কোর’আন হাদিসকে উদ্দেশ্যমূলক ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে।

 

[huge_it_slider id=”1″]
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, “আজকে দেশ যখন জঙ্গিবাদের করাল থাবায় আক্রান্ত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ধ্বংসাবশেষ যখন আমাদের চোখের সামনে জলজ্যান্ত সাক্ষী হয়ে আছে, তখন এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রতিটি মোমেনের জন্য অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন, তোমরা ঐক্যবদ্ধ হও, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না। যেহেতু জঙ্গিবাদ একটি আদর্শিক বিষয়, মতবাদগত সন্ত্রাস, তাই একে মোকাবেলা করার জন্য শুধুমাত্র শক্তিপ্রয়োগ যথেষ্ট নয়। একে নির্মূল করার জন্য শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন একটি সঠিক আদর্শ যা দিয়ে বাস্তবিক অর্থেই জঙ্গিবাদকে ভ্রান্ত ও অসার মতবাদ হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব। আর সেই আদর্শটি প্রস্তাব করছে হেযবুত তওহীদ।” এটা জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা যদি এই মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি, তবে আমাদেরকেও শীঘ্রই ইরাক-সিরিয়ার ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে।” তিনি বলেন, “এই সংকটকালে হেযবুত তওহীদ সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি রসুলাল্লাহর জীবনী ও কোর’আন-হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করে দেন যে, জঙ্গিদের ইসলাম আর আল্লাহ-রসুলের ইসলাম এক নয়। তিনি বলেন- আজকে সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য। আমরা অত্যন্ত আশান্বিত। কেননা আমরাই সবার আগে বলেছি, জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করতে জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভাষণে বারবার জঙ্গিবাদের বিষয়টি উঠে এসেছে। এক, এই সমস্যার গোড়া খুঁজে বের করা হবে। দুই, মানুষকে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিতে হবে। তিন, সমগ্র জাতিকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই কথার সাথে ঐক্যমত্ব পোষণ করে তিনি কিছু প্রস্তাবনা দেন। তিনি প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনা করে দেখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রস্তাবনাগুলো হলো-
১. ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সকলের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে প্রতিটা ধর্মবিশ্বাসী মো’মেনদের।
২. প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। বহুমুখী শিক্ষা বাদ দিয়ে এক ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে যেখানে একই সাথে নীতি-নৈতিকতা, ধর্মের সঠিক শিক্ষা, দেশপ্রেমের চেতনা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত শিক্ষা সবই থাকবে।
৩. শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগ করে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব হবে না, কাজেই শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি একটি নির্ভুল আদর্শ প্রচার করতে হবে। এই কাজে মিডিয়াকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
৪. সরকারকে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, ন্যায়ের দ- ধারণ করতে হবে। এটাই রাষ্ট্রের ধর্ম।
৫. যারা জঙ্গিবাদী মতবাদে বিশ্বাসী তাদেরকে কাউনসেলিং করে ভ্রান্ত এই আদর্শের ব্যাপারে ডিমোটিভেটেড করতে হবে অর্থাৎ তাদের আকীদা সহিহ্ করার অনুষ্ঠান করতে হবে। তাদের ওই পন্থা যে ভুল তা যথেষ্ট যুক্তি-প্রমাণসহ উল্লেখ করতে হবে।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ