রাজধানীর উত্তরায় হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজধানীর উত্তরায় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত কাল বিকেলে উত্তরা ৩ নং সেক্টরের ফ্রেন্ডস ক্লাব ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য ছিল, “ধর্মের অপব্যবহার প্রগতির অন্তরায়”। সভার আয়োজন করে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ।
জঙ্গিবাদকে ইস্যু করে একটির পর একটি মুসলিম দেশকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশকে নিয়েও সেই একই ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতিতে দেশকে নিরাপদ রাখতে ষোল কোটি মানুষকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতাসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের প্রায় সবক’টি জেলা, থানা এমনকি গ্রামে-গঞ্জে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনামূলক কাজ করে যাচ্ছে এ আন্দোলন। এরই অংশ হিসেবে উক্ত সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বজ্রশক্তির প্রকাশক ও সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা, হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর সভাপতি আলী হোসেন, খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আসলাম উদ্দিন এম এ, ডন বসকো স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাহার চৌধুরী, হেযবুত তওহীদের সাহিত্য সম্পাদক রিয়াদুল হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভাপতিত্ব করেন হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক মসীহ উর রহমান। অনুষ্ঠানে অত্র অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে ভিডিও

 

হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, মানুষ অন্য সৃষ্টির মতো নয়, মানুষের মধ্যে আল্লাহর রুহ রয়েছে, আল্লাহ মানুষকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, অন্য সমস্ত সৃষ্টি মানুষের জন্য নিরন্তর সেবা দিয়ে যাচ্ছে, মানুষের মধ্যে অসম্ভব চিন্তাশক্তি দান করা হয়েছে, কাজেই মানুষকে ভাবতে হবে, চিন্তা করতে হবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত বিশ্বের বহু দেশ, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো। এখন আমাদেরকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে, সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। মুসলমানদেরকে ধ্বংস করে দেবার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, একটির একটি মুসলিম দেশ ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। পাশ্চাত্য পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে এটা দিয়েই আমাদেরকে ধ্বংস করে দিতে চায়। এই কাজে আমার জাতির সাধারণ ধর্মবিশ্বাসী মানুষকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন তাদেরকে ফেরাতে হলে ধর্ম দিয়েই ফেরাতে হবে। ধর্ম এখন সমগ্র পৃথিবীতে এক নাম্বার ইস্যু। ধর্মকে আপনি মুছে দিতে পারবেন না, এটা অবজ্ঞা করে ফেলে রাখতেও পারবেন না কারণ তাতে ধর্মব্যবসায়ীরা এটাকে ব্যবহার করে মানুষে ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করবে। কাজেই এখন উপায় হলো- ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা দিয়েই মানুষের মুক্তির পথ খুঁজে বের করতে হবে। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে মানুষকে যেমন সন্ত্রাসের পথ থেকে ফেরানো যাবে তেমনি তাদেরকে দিয়ে এক উন্নত, সমৃদ্ধ জাতি গঠন করা যাবে। আমাদের দুনিয়ার জীবনও সুন্দর করা যাবে, আমাদের আখেরাতেরও মুক্তি মিলবে। সেই আদর্শ, সেই পথ মহান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন।
তিনি বলেন, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদি দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে, কেউ রক্ষা করতে পারেনি কারণ সেখানে এই আদর্শ ছিল না। কিন্তু এই বাংলার মাটিতে মহান আল্লাহ সেই আদর্শ দান করেছেন, কাজেই এই বাংলাকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। আমরা বলেছি, এই মাটিতে আমরা জীবন দেব তবু উদ্বাস্তু শিবিরে যাব না। এটা আমার রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটা পকেট ভর্তী টাকা নেওয়ার জন্য ওয়াজ-মাহফিলও নয়, এটা আমাদের আত্মার কথা। আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি ঘোষণা দিচ্ছি- বাংলার মানুষ যদি এই আদর্শ গ্রহণ করে নেয় তবে এই ভুখা-নাঙা বাংলার জনগণই এই সত্য দিয়ে পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেবে, পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ হবে একমাত্র পরাশক্তি।
তিনি সেই আদর্শ সম্পর্কে বলেন, আমাদের সৃষ্টিকর্তা একজন, আমাদের শেষ নবী একজন, আমাদের কেতাব একটা, রসুলাল্লাহ জাতি রেখে গেছেন একটা (উম্মতে মোহাম্মদী) আজ মুসলমানদেরকে আবার কলেমার উপরে, এক আল্লাহর হুকুমের উপরে তথা যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, অন্যায় যে-ই করুক তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, এর পর জীবন-সম্পদ দিয়ে মানুষের কল্যাণে সংগ্রাম করতে হবে। যদি আমরা এটা করতে পারি তবেই আমরা হবো মো’মেন। আর মো’মেনদের সাথে আল্লাহর ওয়াদা- তিনি মো’মেনদেরকে খেলাফত, কর্তৃত্ব দিবেন, তিনি মো’মেনদেরকে রক্ষা করবেন, তিনি মো’মেনদেরকে বিজয় দান করবেন, তিনি মো’মেনদেরকে হাতাশ হতে নিষেধ করেছেন, তিনি মো’মেনদেরকে পরকালে জান্নাত দিবেন। কাজেই এখন আমাদেরকে সত্যিকারের মো’মেন হতে হবে। হেযবুত তওহীদ কেবল সেই মো’মেন হবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইনশাল্লাহ আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারও পরওয়া করি না, কেউ আমাদেরকে রুখতে পারবে না। আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।
তিনি হেযবুত তওহীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, মানবজাতির মধ্য থেকে যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, অনৈক্য, ভেদাভেদ দূর করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য রসুলাল্লাহ (সা.) এর প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরে মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ। এটা করার জন্য হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তাদের জীবন ও সম্পদ মানবতার কল্যাণে উৎসর্গ করে যাচ্ছেন। এই কাজের পুরস্কার তারা মহান আল্লাহর নিকট আশা করেন, তারা এর বিনিময়ে পার্থিব কোনো স্বার্থ আশা করেন না। তাদের কোরবানীর বিনিময়েই হেযবুত তওহীদ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। কাজেই হেযবুত তওহীদের কোনো আর্থিক ও রাজনীতিক স্বার্থ নেই। তিনি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে যাবতীয় অপপ্রচারের জবাব দেন, হেযবুত তওহীদের মূলনীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হেযবুত তওহীদ যে গত ২৩ বছরে একটিও আইন ভঙ্গ করে নি তার স্বপক্ষে আদালতের রাইয়ের শত শত কপি আমাদের কাছে আছে। দেশবাসীর প্রতি তিনি ঐক্যবদ্ধ হবার আহŸান করে বলেন, ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রচারিত ধর্মের অপব্যাখ্যা থেকে বের হয়ে আমাদের ধর্মের প্রকৃত চেতনা দ্বারা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আসলাম উদ্দিন এম এ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ