যামানার এমাম এমামুযযামান তোমায় জানাই মোরা হাজার সালাম

Untitled-4-রিয়াদুল হাসান

সমগ্র মানবজাতি আজ বহুমুখী সংকটে পতিত। প্রতিটি মানুষ যেমন দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত, ভীত-সন্ত্রস্ত, তেমনি বিশ্বজুড়ে চলছে যুদ্ধ, হানাহানি, রক্তপাত। প্রতিটি মানবাত্মা ত্রাহিসুরে চিৎকার করছে- শান্তি চাই শান্তি চাই। কিন্তু শান্তি কোথায়?…
শান্তির জন্য বহু ধরনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৈরি করা হয়েছে, তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘ। কিন্তু সবই ব্যর্থ। এমনই দুর্যোগঘন মুহূর্তে, এই ভয়াবহ সংকটজাল থেকে মানবজাতিকে পরিত্রাণ করার জন্য অসীম করুণাময়, পরম দয়ালু আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে সত্যের পথনির্দেশ দান করলেন। তিনিই হচ্ছেন হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। তিনি ভারত উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সন্তান যাঁদের কীর্তির সঙ্গে আবহমান বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এক সূত্রে গাঁথা।
এমামুযযামানের সম্মানিত পূর্বপুরুষগণ……………………………….
এমামুযযামান রসুলাল্লাহর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রা.) এর বংশধারায় জন্মগ্রহণ করেছেন। সেই সূত্রে তাঁর ধমনীতেও রসুলে পাক (দ.) এর পবিত্র রক্তও প্রবাহিত হয়েছে। ১৪০০ বছর আগে আরবভূমি থেকে সত্যদীন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বহির্গত উম্মতে মোহাম্মদীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষগণও। এ বংশধারায় একদিকে যেমন জন্ম নিয়েছেন অনেক সুফি, দরবেশ, আধ্যাত্মিক পুরুষ, অপরদিকে বহু যুদ্ধজয়ী বীরপুরুষ ও শাসকও পৃথিবীর বুকে তাদের অক্ষয় কীর্তি রচনা করে গেছেন।
ইমাম জাফর সাদিক ইবনে মোহাম্মদ (র.), হজরত শাহ রাজু কাতাল হোসাইনী (র.), হযরত সৈয়দ মুহম্মদ হোসাইনী খাজা বন্দে নেওয়াজ গেসু দরাজ (র.) প্রমুখ সুফি সাধকগণ তাঁরই সম্মানিত পূর্ব পুরুষ যাঁদের মাজার শরীফগুলো আজও লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষের তীর্থক্ষেত্র।
সুলতানী যুগে এমামুযযামানের পূর্বপুরুষগণ ছিলেন বৃহত্তর বঙ্গের সুলতান। তাঁদের শাসনামল ইতিহাসের পাতায় কররানি যুগ বলে আখ্যায়িত কারণ আফগানিস্তানের কাররান প্রদেশে ছিল তাঁদের আদিনিবাস। তাজ খান পন্নী (কররানি) ১৫৬৩ সনে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। কররানি যুগে বাংলার সীমানা ত্রিপুরা থেকে ভারতের উত্তর প্রদেশ, দক্ষিণে পুরী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ইতিহাসখ্যাত কালাপাহাড় ছিলেন তাদের সেনাপতি। দাউদ খান পন্নী ১৫৭৬ সনে রাজমহলে তিনি আকবরের সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে যুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেন। তিনিই ছিলেন স্বাধীন বাংলার শেষ সুলতান। দাউদকান্দি উপজেলার নামটি আজও তাঁর স্মৃতি বহন করছে। সোনারগাঁওয়ের ঈসা খাঁ লোহানী, ওসমান খাঁ লোহানী, যশোরের মহারাজা প্রতাপাদিত্য, চাঁদ রায়, কেদার রায় প্রমুখ বারো ভুঁইয়াগণ ছিলেন কররানি সুলতানদেরই সেনানায়ক বা রাজকর্মচারী। ঢাকার কেরানিগঞ্জের নামকরণ এই কররানি থেকেই হয়েছিল।

শিকার করা বাঘের পাশে কিশোর এমামুযযামান
শিকার করা বাঘের পাশে কিশোর এমামুযযামান

এরপরও পন্নী বংশীয়রা মোঘল সুবা বাংলার শাসক ছিলেন। সুলতান বায়াজীদ খান পন্নীর পুত্র সাইদ খান পন্নী ছিলেন ময়মনসিংহ, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শাসক। তিনিই ঐতিহাসিক আতিয়া মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দৌহিত্র সলিম খান পন্নী ছিলেন চট্টগ্রাম এলাকার সুবেদার। পরবর্তী সময়ে সমগ্র ভারতবর্ষই ব্রিটিশ শাসনের পদানত হয়। তখনও উক্ত এলাকায় আমাদের ক্ষয়িষ্ণু রাজপরিবারের জমিদারি বজায় থাকে। প্রজাহিতৈষীতা ও ধর্মপরায়ণতার জন্য তারা ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এমামুযযামানের প্রপিতামহ হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী ছিলেন ঐতিহাসিক মাহমুদিয়া প্রেসের প্রতিষ্ঠাতা যা ছিল উনিশ শতকে মুসলিম সাহিত্য আন্দোলন ও সাংবাদিকতা জগতের সূতিকাগার। তাঁরই উদ্যোগে ১৮৮৪ সনে ঐতিহাসিক ‘আখবারে ইসলামিয়া’- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়, তিনিই পবিত্র কোর’আনের প্রথম বঙ্গানুবাদের প্রকাশ করেন। নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন তাঁর জামাতা যিনি ছিলেন সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অপর যে মহান ব্যক্তিত্বের বিরাট অবদান রয়েছে তিনি এমামুযযামানের মায়ের নানা ধনবাড়ির জমিদার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী। তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন”-টি তাঁরই কীর্তির স্বাক্ষর।
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করতে পন্নী জমিদারগণ ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। মাননীয় এমামুযযামানের দাদাজান প্রখ্যাত সুফি সাধক মোহাম্মদ হায়দার আলী খান পন্নীর ভাই আটিয়ার চাঁদ ওয়াজেদ আলী খান পন্নী তার জমিদারি ওয়াকফ করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অর্থ যুগিয়েছিলেন এবং জেলও খেটেছিলেন।
এ ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান মাননীয় এমামুযযামানও ছিলেন আধ্যাত্মিক ও মানবিক চরিত্রে বলিয়ান এমন এক মহান পুরুষ যাঁর ঘটনাবহুল ৮৬ বছরের জীবনে একটি মিথ্যা বলার বা অপরাধ সংঘটনের দৃষ্টান্ত নেই। তাঁর পিতৃনিবাস টাঙ্গাইল করটিয়া জমিদার বাড়ির দাউদমহল। পিতা মোহাম্মদ মেহেদী আলী খান পন্নী। তিনি ১৯২৫ সালের ১১ মার্চ, পবিত্র শবে বরাতে জন্মগ্রহণ করেন।

শৈশবে এমামুযযামান
শৈশবে এমামুযযামান

শিক্ষাজীবন……………………………….
তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রোকেয়া উচ্চ মাদ্রাসায়, দু’বছর তিনি সেখানে পড়াশুনা করেন। তারপর এইচ. এম. ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৪২ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর বাংলার আলিগড় নামে খ্যাত সা’দাত কলেজে কিছুদিন পড়াশুনা করেন। এ সবগুলো প্রতিষ্ঠানেরই প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ব্রিটিশ বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী খান পন্নী।
এরপর তিনি ভর্তি হন বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে। নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর পৌত্র নওয়াবজাদা মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ছিলেন এমামুযযামানের খালু, যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এমামুযযামান তাঁর এই খালুর বাড়ি বগুড়ার নওয়াব প্যালেসে থেকে প্রথম বর্ষের পাঠ সমাপ্ত করেন। বাড়িটি এখন জাদুঘরে রূপন্তরিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় বর্ষে তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এমামুযযামান……………………………….
কলকাতায় শিক্ষালাভের সময় ভারত উপমহাদেশ ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উত্তাল। তরুণ এমামুযযামানও এ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই সুবাদে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের বহু কিংবদন্তী নেতার সাহচর্য লাভ করেন। যাঁদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধী, কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্, অরবিন্দু ঘোস, শহীদ হোসেন সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী অন্যতম। তিনি যোগ দিয়েছিলেন আল্লামা এনায়েত উল্লাহ খান আল মাশরেকী প্রতিষ্ঠিত ‘খাকসার’ আন্দোলনে। ছাত্র বয়সে একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগদান করেও তিনি দ্রুত জ্যেষ্ঠ নেতাদের ছাড়িয়ে পূর্ববাংলার কমান্ডারের পদ লাভ করেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে দুঃসাহসী কর্মকাণ্ড ও সহজাত নেতৃত্বের গুণে Special Assignment  -এর জন্য ‘সালার-এ-খাস হিন্দ’ মনোনীত হন।

ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলন খাকসার এর কর্মীদের স্যালুট গ্রহণ করছেন এমামুযযামান
ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলন খাকসার এর কর্মীদের স্যালুট গ্রহণ করছেন এমামুযযামান

দেশবিভাগের পর……………………………….
দেশবিভাগের অল্পদিন পর তিনি গ্রামে প্রত্যাবর্তন করেন এবং দাদার অনুপ্রেরণায় হোমিওপ্যাথ নিয়ে পড়শুনা করেন। তিনি দরিদ্র রোগীদের থেকে কখনোই ফি নিতেন না। টাঙ্গাইলে বসন্ত রোগের মহামারীর সময় অধিকাংশ মানুষ যখন ভয়ে রোগীদের কাছে যেত না, তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা করেছেন, হাজার হাজার মানুষকে প্রতিষেধক দিয়েছেন।
এমামুযযামান শৈশব থেকেই একজন শিকারি ছিলেন। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে মির্জাপুরের গোড়াই নদীতে কুমির শিকার করেন। শিকারের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে তিনি ‘বাঘ-বন-বন্দুক’ নামক একটি বই লেখেন। বইটি সম্পর্কে অধ্যাপক মুনির চৌধুরী লিখেছিলেন, “বাঘ-বন-বন্দুক এক উপেক্ষিত এবং অনাস্বাদিত জগতের যাবতীয় রোমাঞ্চ ও উৎকন্ঠাকে এমন সরসরূপে উপস্থিত করেছে যে পঞ্চমুখে আমি তার তারিফ করতে কুণ্ঠিত নই।…আমি বিশেষ করে মনে করি এই বই আমাদের দশম কি দ্বাদশ শ্রেণির দ্রুতপাঠের গ্রন্থরূপে গৃহিত হওয়া উচিত।” বইটি পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছিল।
মাননীয় এমামুযযামান ছিলেন একজন দক্ষ ফুটবলার, মোটর সাইকেল স্টান্ট ও রায়ফেল শুটার। ১৯৫৬ সনে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নশিপে রায়ফেল শুটার হিসাবে নির্বাচিত হন। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গেও ছিল পন্নী পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্বন্ধ। বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন আত্মীয়তাসূত্রে এমামুযযামানের দাদী। বেগম সুফিয়া কামালের কাব্যগ্রন্থ “মন ও জীবন” এর প্রকাশক ছিলেন এমামুযযামান নিজেই।

হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে দাউদমহলে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এমামুযযামান
হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে দাউদমহলে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এমামুযযামান

রাজনীতিক জীবন……………………………….
পন্নী পরিবারের অনেকেই ছিলেন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সমসাময়িক রাজনীতিকদের পীড়াপিড়িতে ১৯৬৩ সনে টাঙ্গাইল-বাসাইল নির্বাচনী আসনে স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা অনেকেই চেয়েছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ মওলানা ভাসানীকে দিয়ে ক্যাম্পেইন করাতে, কিন্তু মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, ‘সেলিমের বিপক্ষে আমি ভোট চাইতে পারব না, চাইলেও লাভ হবে না। কারণ তাঁর বিপক্ষে তোমরা কেউ জিততে পারবে না।’ বাস্তবেও তিনি বিপক্ষীয় মোট ছয়জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করে প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য (এম.পি.) নির্বাচিত হন। অসামান্য ব্যক্তিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, ওয়াদারক্ষা, নিঃস্বার্থ জনসেবা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের কারণে আইন পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হয়েও তিনি প্রবীণ রাজনীতিকদের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। ১৯৬৩ সনে তিনি করটিয়ায় হায়দার আলী রেড ক্রস ম্যাটার্নিটি অ্যান্ড চাইল্ড ওয়েলফেয়ার হসপিটাল প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৪ সালে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মুসলিম-হিন্দু, বাঙালি ও বিহারিদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটছিল এবং অবাধে চলছিল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। রাজনীতিক স্বার্থে আইয়ুব সরকার দাঙ্গাকে উৎসাহিত করে। এমামুযযামান এমপি হয়েও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দাঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর ছিল দৃপ্ত পদচারণা। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ হোসেন খসরুর কাছে রাগসঙ্গীতের তালিম নিয়েছিলেন। জাতীয় কবি নজরুলও ছিলেন একই গুরুর শিষ্য। নজরুলের কীর্তি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত নজরুল একাডেমির অন্যতম উদ্যোক্তা ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন মাননীয় এমামুযযামান। তিনি উপমহাদেশের একজন বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক ছিলেন। বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তি তাঁর রোগীদের অন্তর্ভুক্ত।

মির্জাপুরের গোড়াইতে পারিবারিক কবরস্থানে এমামুযযামানের দেহ মোবারক দাফন করা হয়
মির্জাপুরের গোড়াইতে পারিবারিক কবরস্থানে এমামুযযামানের দেহ মোবারক দাফন করা হয়

সত্যের সন্ধান ও প্রকাশ……………………………….
ছোটবেলায় যখন তিনি মুসলিম জাতির পূর্ব ইতিহাসগুলি পাঠ করেন তখন থেকেই তাঁর মনে কিছু প্রশ্ন নাড়া দিতে শুরু করে। তখন প্রায় সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ইউরোপীয় জাতিগুলির দাসত্ব স্বীকার করে জীবনযাপন করছিল। তিনি ভাবতে লাগলেন এ জাতির অধঃপতনের কারণ কী? ষাটের দশকে এসে তাঁর সামনে এ বিষয়টি দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন কোন পরশপাথরের ছোঁয়ায় অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত আরবরা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে অর্ধবিশ্বজয়ী জাতিতে পরিণত হয়েছিল। সেই পরশপাথর হচ্ছে প্রকৃত ইসলাম যা আজ পৃথিবীতে নেই। বর্তমানে ইসলাম হিসাবে যেটা চালু আছে সেটা রসুলাল্লাহর আনীত ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত। এমনকি দীনের ভিত্তি তওহীদ পর্যন্ত হারিয়ে গেছে।
এ মহাসত্য মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য সত্তরের দশকে তিনি ‘এ ইসলাম ইসলামই নয়’ নামে একটি বই লিখতে শুরু করেন। দীর্ঘ সতের বছর সময় লেগে যায় বইটি সমাপ্ত করতে। বইটি প্রকাশের পর তিনি বাংলাদেশের অধিকাংশ স্কুলে কলেজে মাদ্রাসায় ডাকযোগে প্রেরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত রূপটি ব্যাপকভাবে প্রচারের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সনে হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সূচনা করেন। যেদিন তিনি আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সেদিনই আল্লাহ তাঁকে রসুলাল্লাহর একটি প্রসিদ্ধ হাদীস থেকে পৃথিবীতে সত্যভিত্তিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠারসঠিক কর্মসূচির জ্ঞান দান করেন। হেযবুত তওহীদ সেই কর্মসূচি মোতাবেক মানুষকে প্রকৃত ইসলামের দিকে আহ্বান করতে আরম্ভ করে। আমরা পথভ্রষ্ট ছিলাম, গোমরাহ ছিলাম, যে মহামানবের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়াহ দান করলেন, সেই মহামানব, এ যামানার এমাম দ্য লিডার অফ দ্য টাইম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী ২০১২ সনের ১৬ জানুয়ারী প্রত্যক্ষ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেলেন।
সমগ্র পৃথিবীতে মানবজাতি আজ যে মহা সংকটে পতিত তা থেকে পরিত্রাণের উপায় আল্লাহ মাননীয় এমামুযযামানকে দান করেছেন। সেটা মানবজাতির সামনে উপস্থাপন করাই হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের প্রধান দায়িত্ব, আল্লাহ প্রদত্ত আমানত। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী থেকে যাবতীয় অন্যায়, অশান্তি, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর না হবে, যতদিন সমগ্র পৃথিবীর আদম সন্তানেরা আবার এক পরিবারের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হবে ততদিন আমাদের এ সংগ্রাম চলবে এনশা’আল্লাহ।

বঙ্গের সুলতান বায়াজীদ খান পন্নীর পুত্র সইদ খান পন্নী কর্তৃক বাবা আদম কাশমিরি (র.) স্মরণে প্রতিষ্ঠিত আতিয়া মসজিদ (সন ১৬০৮)।
বঙ্গের সুলতান বায়াজীদ খান পন্নীর পুত্র সইদ খান পন্নী কর্তৃক বাবা আদম কাশমিরি (র.) স্মরণে প্রতিষ্ঠিত আতিয়া
মসজিদ (সন ১৬০৮)।

এমামুযযামানের পূর্বপুরুষ দাউদ খান পন্নী ও মোঘল বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত ঐতিহাসিক রাজমহলের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমেই বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয় এবং দিল্লির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। (ছবি: তারিখ-ই-বাদাউনি)
এমামুযযামানের পূর্বপুরুষ দাউদ খান পন্নী ও মোঘল বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত ঐতিহাসিক রাজমহলের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমেই বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয় এবং দিল্লির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। (ছবি: তারিখ-ই-বাদাউনি)

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ