মোঘল আমলে বঙ্গভূমির উন্নয়নে মহামান্য এমামুযযামান এর পূর্বপুরুষ সইদ খান পন্নীর অবদান

সইদ খান পন্নী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আতিয়া মসজিদ (সন ১৬০৯)
সইদ খান পন্নী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আতিয়া মসজিদ (সন ১৬০৯)
প্রায় চারশত বৎসর পূর্বে এক মহিমান্বিত বীরপুরুষ, তদানীন্তন মোঘল সাম্রাজ্যের পূর্বপ্রান্তে সুশাসন ও সুব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে জনশূন্য এক বিস্তৃত প্রদেশে লোক-নিবাস স্থাপন করেছিলেন। আজ আমরা সেই মহাত্মার কথা বলব।
ইতিহাসে সইদ খাঁর নাম বিশেষভাবে কীর্তিত না হলেও যে আটিয়া পরগণায় তাঁর সংখ্যাতীত কীর্তিচিহ্ন রয়েছে, সেই বিস্তৃত প্রদেশের প্রত্যেক অধিবাসী আজিও তাঁর নাম, ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারণ করে। আজও গ্রাম্য বৃদ্ধগণ স্নিগ্ধ ছায়া-তরু-তলে উপবেশন করে যুবক ও বালকদের কাছে সইদ খাঁর চরিতকথা কীর্তন করে থাকে। সইদ খাঁর আমল আটিয়া পরগণার সত্য যুগ। সে যুগ কেবলই ধন-ধান্যপূর্ণ, কেবলই পূণ্য প্রতিষ্ঠায় পবিত্র ও সুখ শান্তিতে স্নিগ্ধ। সে যুগে গোশালায় মধুর দুগ্ধ ধারাধ্বনি, মাঠে বৃষের গম্ভীর গর্জন-শব্দ , দেবালয়ে শঙ্খঘণ্টা নিনাদ ও আরতির ধূপগন্ধ বিরাজ করতো । সে যুগের কথা বলে বৃদ্ধের চক্ষু অশ্রুপূর্ণ হয়, সে আমলের বর্ণনা শুনে যুবক বিস্ময়ে আপনার পিতৃভূমির দিকে একবার চেয়ে দেখে। প্রাচীনকালের নির্দেশ করতে হলে আটিয়া পরগণার নিরক্ষর কৃষক বলে- ‘ ও ! সেই সইট্ খাঁর আমলের কথা ‘। সইদ খাঁ কে ? তা অনেকেই জানে না, কিন্তু ‘ সইট্ খাঁর আমল ‘ বলিলে সকলেই বোঝে উহা স্মরণাতীত অতীত কাল।
১০ টাকার নোটে সইদ খান পন্নী প্রতিষ্ঠিত আতিয়া মসজিদের ছবি ।
১০ টাকার নোটে সইদ খান পন্নী প্রতিষ্ঠিত আতিয়া মসজিদের ছবি ।

পাঠান কররানি রাজবংশ বাঙ্গালা তথা বাংলার ইতিহাসে বিখ্যাত। এই বংশের তাজ খাঁ কররানি, সোলেমান কররানি, বায়াজীদ খান পন্নী, দাউদ খান কররানি গৌড় তথা বাংলার তখতে বসে স্বাধীন সুলতানরূপে শাসন করে গেছেন। এর মধ্যে সোলেমান ও তদীয় কনিষ্ঠ পুত্র দাউদই বিশেষ প্রসিদ্ধ। দাউদ বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান। দাউদের ছিন্ন মস্তক আগ্রায় প্রেরিত হওয়ার পরেই বাংলা মুল্লুক কাগজে কলমে মোঘলের অধীন হয়, যদিও কররানিদের সেনাপতিগণ মোঘলদেরকে শাসকরূপে স্বীকার করেন নি। বরং তারা প্রায় দুই যুগ ধরে মোঘল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এই সেনাপতিদেরকে ইতিহাসে বাংলার বারো ভুইঞা বলে আখ্যা দেওয়া হয়। দাউদের পরাজয়ের পরে তাাঁর অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুুত্র কন্যা আগ্রায় প্রেরিত হয়। বাদশাহ আকবর তার নিহত শত্রুর সন্ততিগণের ভরণপোষণের সুব্যবস্থা করেছিলেন বলে ‘আকবর নামাতে’ লিখিত আছে।
সুবিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ তারিখ-ই-বাদাউনিতে দাউদ খান কররানির সঙ্গে মোঘল সেনাবাহিনীর যুদ্ধের দৃশ্য।
সুবিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ তারিখ-ই-বাদাউনিতে দাউদ খান কররানির সঙ্গে মোঘল সেনাবাহিনীর যুদ্ধের দৃশ্য।

কররানি বংশের এই বিবরণ পাঠ করে মনে হতে পারে, দাউদের সন্তানগণের আগ্রায় গমনের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার সাথে কররানি-পন্নী-পাঠানদিগের সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। সোলেমান কররানির জ্যেষ্ঠ পুত্র বায়াজীদ খান পন্নীর বংশ এখনও বাংলাদেশে বিদ্যমান আছে। দাউদের পুত্র-কন্যাদের মতোই বায়েজীদের পুত্রও আকবর বাদশাহের অনুগ্রহ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। আমরা এই লেখায় যে সইদ খাঁর নাম উল্লেখ করেছি, ইনিই সোলেমান কররানির জ্যেষ্ঠপুত্র বায়াজীদ খান কররানির কনিষ্ঠ পুত্র। বায়েজীদের জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম শেখ মোহাম্মদ। উড়িষ্যায় মোঘলবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে শেখ মোহাম্মদের মৃত্যু হয়। শেখ মোহাম্মদের পুত্র বা কন্যা কেউ ছিল কি না জানা যায় না। সইদ খাঁ বাল্যকাল থেকে আটিয়া পরগণায় ছিলেন, তার বংশ বাংলায় আধিপত্য প্রাপ্তির সাথে সইদ খাঁর বিবরণ, আকবর নামা প্রভৃতি ইতিহাস, আটিয়া পরগণার প্রচলিত লোকপ্রবাদ ও আটিয়ার পাঠান জমিদারগণের শাহী ফরমান ও বিভিন্ন ইতিহাসগ্রন্থ থেকে অবগত হওয়া যায়।
বাংলায় কররানি বংশের আবির্ভাব:
তাজ খাঁ, সোলেমান খাঁ, এমাদ খাঁ ও ইলিয়াস খাঁ চার সহোদর ছিলেন। এরা পাঠান জাতির পন্নী বংশোদ্ভূত। আফগানিস্তানের কাররাণ অঞ্চলে বাস করার জন্যে তাঁদের পূর্বপুরুষ কররানি বলে পরিচিত হতেন। এরা কররানি বংশীয় হলেও এই সহোদর চার ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র সোলেমান খাঁ-ই কররানি বলে ইতিহাসে উল্লেখিত হয়েছেন। অপর তিন ভাই খাঁ উপাধিতেই পরিচিত। সোলেমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বায়াজীদ, বায়াজীদ খাঁ বা বায়াজীদ খান পন্নী নামে পরিচিত ছিলেন। সোলেমানের কনিষ্ঠ পুত্র দাউদ কেবল দাউদ বলেই ইতিহাসে উল্লেখিত। বায়েজীদের জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম ইতিহাসে শেখ মোহম্মদ বলে অভিহিত হয়েছেন। এই নামাবলী হতে দেখা যায় এই কররানি পাঠানদিগের সাধারণ উপাধি ছিল ‘খান’, কেউ কেউ খান উপাধির সাথে স্বীয় বংশ পরিচায়ক ‘পন্নী’ শব্দও লিখিতেন। কেউ কররান-বাসী (কররানি) পরিচয়ও দিতেন, কেউবা ‘শেখ’ বলেও আপনাকে অভিহিত করতেন।
কররানি চার ভাই অশ্বারোহী সৈনিক বা অশ্ববিক্রেতা রূপে আফগানিস্তান হতে ভারতবর্ষে আগমন করেন। আকবর নামায় লিখিত আছে, যাত্রাকালে তাঁদের পিতা বলেছিলেন, ‘যদি হিন্দুস্থানে বাদশাহের দরবারে ভাগ্য প্রসন্ন না হয়, তা হলে অশ্ব বিক্রয় করে দেশে ফিরে এসো।’ তখন শের শাহের পুত্র সেলিম শাহ শুর দিল্লীর বাদশাহ। শের শাহ ও তার পুত্রের পাঠানদের প্রতি আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের কথা ইতিহাসে সর্বজনবিদিত। পাঠান বলেই তাজ খাঁ ও তাঁর ভাইয়েরা বাদশাহের আশাতীত অনুগ্রহ প্রাপ্ত হলেন। সেলিম শাহ এই নবাগত পাঠানদেরকে এক এক প্রদেশের শাসনভার প্রদান করলেন। পন্নী কররানিদের আর অশ্ব বিক্রয় করে দেশে ফিরে যেতে হলো না।
কররানি রাজত্বের বিস্তার ও পরিসীমা:
এর পর দিল্লির মসনদ থেকে শুর বংশের অধঃপতনের সময়ে তাজ খাঁ শক্তিবলে ও কৌশলে গৌড়রাজ্য অধিকার করেন। তাজ খাঁ বুদ্ধিমান ও কৌশলী সমরবিদ ছিলেন। বাদশাহ আকবর পাঠানদের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার উচ্ছেদ করতে উদ্যোগী হলে তিনি উপঢৌকন পাঠিয়ে বাদশাহকে সন্তুষ্ট করলেন। সুতরাং দিল্লী ও আগ্রা নিয়ে ব্যস্ত মোঘল বাংলার দিকে আর ফিরে চাইলেন না। তাজ খান কররানির মৃত্যুর পরে তাঁর ভাই সোলেমান খান কররানি বাংলার স্বাধীন সুলতান হন। সোলেমান, উড়িষ্যা, কামরূপ ও কোচরাজ্য আক্রমণ করেছিলেন কিন্তু মোঘল অধিকারে হস্তক্ষেপ করেন নাই। অধিকন্তু উপঢৌকন পাঠিয়ে আকবরের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সম্প্রীতি রক্ষা করতেন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতেন। সুতরাং সোলেমানের অধিকারে আকবর বাদশাহ হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী হন নি।
সোলেমানের রাজত্ব পূর্বদিকে বাংলার সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রবাদ আছে, পশ্চিম দিকে মোঘল অধিকারের সীমা স্বীয় রাজধানীর নিকটবর্তী বলে সোলেমান, বাংলার পূর্বপ্রান্তে যে লাল রঙের পাহাড়ি এলাকার ঢাকা হতে মধুপুর দিয়ে আসামের কড়াইবাড়ী পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত , যা মুসলমান ইতিহাসে ‘কোহেস্তানে ঢাকা’ নামে আখ্যায়িত, তারই কোনো এলাকায় নিজ রাজধানী স্থাপন করতে ইচ্ছা করেছিলেন। বর্তমান ঢাকার উত্তর অংশ থেকে শুরু করে সাভার, গাজিপুর, শ্রীপুর, মধুপুর গড়সহ সমগ্র এলাকাই উঁচু লালমাটির বনভূমি অঞ্চল ছিল, যার কিছু বনভূমি এখনো বিদ্যমান আছে।
এ প্রবাদের সত্যতা সম্বন্ধে ঐতিহাসিক প্রমাণ না থাকলেও পূর্বে বর্ণিত রক্ত মৃত্তিক-ভূমির মধ্যে ‘কররানির চালা’ নামে এক বহু বিস্তৃত সমতল ভূমি এবং তার মধ্যস্থ প্রাচীন দীঘি প্রভৃতি উক্ত প্রবাদের অনুকূলে প্রমাণ দেয়। কররানি চালার উত্তর দিকে ‘শহর গোবিন্দপুর’। এখন তা জনশূন্য ও অরণ্যে পরিণত হলেও নাম শুনলেই বোঝা যায় যে এক সময় তা সমৃদ্ধ নগররূপে বর্তমান ছিল।
কররানি সুলতানদের রাজধানী ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত নেপালের সীমান্তবর্তী গঙ্গাবিধৌত তাণ্ডা নগরিতে যা বর্তমানে ফইজাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত। বায়াজীদ খান পন্নী (কররানি) তার পিতার শাসনামলে বাংলাদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
কররানি সুলতানদের রাজধানী ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত নেপালের সীমান্তবর্তী গঙ্গাবিধৌত তাণ্ডা নগরিতে যা বর্তমানে ফইজাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত। বায়াজীদ খান পন্নী (কররানি) তার পিতার শাসনামলে বাংলাদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।

যে কারণেই হোক ‘কোহেস্তানে ঢাকার’ কররানি চালায় সোলেমানের রাজধানী স্থাপনের কল্পনা ও উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গতা পায় নি বলেই মনে হয়। তিনি স্বীয় জ্যেষ্ঠপুত্র বায়াজীদ খান পন্নীকে পূর্বদেশের শাসন কর্তৃত্ব প্রদান করে তান্ডায় গমন করেন। বায়াজীদ ‘কররানি চালা’-র অনতিদূরে আপনার যে আবাসবাটী নির্মাণ করেন, উহার ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান আছে। নিরক্ষর পাহাড়বাসী লোকে উহাকে বাইজ খাঁ (বায়াজীদ খান) রাজার বাড়ি বলে।
‘কোহেস্তানে ঢাকা’ বসবাসের জন্য নানাবিধ কারণে অসুবিধাজনক বোধ হওয়ায় বায়াজীদ খান পন্নী উচ্চভূমির (গড়) আবাস পরিত্যগ করে নিম্বভূমিতে (ভড়) আগমন করেন; এবং বর্তমান টাঙ্গাইল শহরের অদূরে স্বনামে বায়াজীদপুর গ্রাম স্থাপন করে সেখানে নিজের আবাসস্থল নির্মাণ করেন। বায়াজীদ খান পন্নীর এই বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ও দীঘি প্রভৃতি এখনও বায়াজীদ পুরে (বাজিতপুর) বিদ্যমান আছে। লোকে তাকে বাইজ খাঁ চৌধুরীর বাড়ী বলে। বায়াজীদ খান পন্নী পূর্বদেশের রাজস্ব সংগ্রহ করতেন বলে এ দেশের লোকে তাহাকে চৌধুরী বলত।
আটিয়ার জঙ্গলে বুনো মহিষ শিকার করেন এমামুযযামানের পিতামহ করটিয়ার জমিদার মোহাম্মদ হায়দর আলী খান পন্নী ।
আটিয়ার জঙ্গলে বুনো মহিষ শিকার করেন এমামুযযামানের পিতামহ করটিয়ার জমিদার মোহাম্মদ হায়দর আলী খান পন্নী ।

পূর্বেই উক্ত হয়েছে, বায়াজীদ সোলেমান কররানির জ্যেষ্ঠপুত্র। সোলেমানের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে বায়াজীদ গৌড়ের রাজধানী তান্ডায় গমন করেন। ৯৮১ হিজরি সনে পিতার মৃত্যুর পরে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু তিনি বেশি দিন এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন নি। সিংহাসন লাভের এক মাস যাওয়ার পূর্বেই (অন্য বিবরণে দেড় বছর পর) নিজের চাচাতো ভাই ও ভগ্নিপতি হাঁসু কর্তৃক দরবারকক্ষেই ছুরিকাঘাতে নিহত হন। রাজ্যলোভ হাঁসুকে এই নিষ্ঠুর কাজে প্রবৃত্ত করে। তাজ খাঁ বাংলা অধিকার করেন, এ জন্য হাঁসু বাংলার সিংহাসন নিজের জন্য প্রাপ্য বলে মনে করতেন।
হাঁসু রাজ্যলোভে বায়াজীদকে বধ করলেও সিংহাসন গ্রহণ করতে পারেন নি। অবিলম্বে বায়েজীদের কনিষ্ঠ ভাই দাউদ হাঁসুকে বধ করে ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধের সাথে সিংহাসন গ্রহণ করলেন।
বায়েজীদের জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ মোহাম্মদ, তান্ডায় পিতামহ সোলেমান কররানির কাছে থাকতেন। পিতার অপঘাত মৃত্যুর পরে তিনি পিতৃব্য দাউদের সঙ্গে তিনিও মোঘলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান দাউদের মতোই মোঘল-পাঠান সংঘর্ষকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বায়াজীদ তান্ডায় গমনকালে স্বীয় কনিষ্ঠ পুত্র সইদ খান ও তার মাতাকে বায়াজীদপুরে রেখে যান। তাঁর গমনের পর পরই গৌড়রাজ্যে রাষ্ট্রবিপ্লব উপস্থিত হয়। দাউদ মোঘল সম্রাটের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে স্বনামে খোৎবা ও শিক্কা (মুদ্রা) প্রচলিত করেই সন্তুষ্ট হন নি। পিতার রেখে যাওয়া বিরাট সৈন্যবলের দ্বারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে তিনি মোঘল সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় আক্রমণ করেন। ফলে মোঘল ও পাঠানে বাংলার অধিকার লইয়া বহুবর্ষব্যাপী যুদ্ধ আরম্ভ হয়। এই সময়ে সইদ খান অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। পিতৃব্য দাউদ বা জ্যেষ্ঠ ভাই শেখ মোহাম্মদ এই যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধ নিয়েই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। সুতরাং বায়েজীদের বিধবা পত্নী বালক সইদকে নিয়ে বেশ হিমশিম খাচ্ছিলেন।
দাউদ খান কররানির পরাজয়ের পরে বাদশাহ আকবর অত্যন্ত দুঃখিত হন, কারণ দাউদ খানের শিরোচ্ছেদ তার কাম্য ছিল না। উপরন্তু বাংলায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দূরদর্শী বাদশাহ আকবর উপলব্ধি করলেন যে, সেখানে কররানি বংশের কোনো ব্যক্তিকেই শাসকরূপে রাখা সমীচীন হবে। কারণ তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে বাংলার মানুষ আস্থা ও আনুগত্য সমর্পণ করে আছে। তিনি বায়াজীদপুরে (টাঙ্গাইল) অবস্থানরত কররানি বংশের শেষ প্রদীপ সইদের সংবাদ অবগত হয়ে তাঁকে মোঘলাধীন বাংলার পূর্বোত্তর প্রান্তে জায়গীর প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তরক্ষক শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত করেন। সইদ খান পন্নী, করতোয়া হতে পূর্বদিকে ব্রহ্মপূত্র পর্যন্ত স্থানের শাসন ও সংরক্ষণ করতে থাকেন।
সইদ খান পন্নীর শাসন ও কীর্তি:
দাউদের পতনের পরেও মোঘল-পাঠানের যুদ্ধের বিরাম হয় নি। পাঠানেরা উড়িষ্যা হতে পরাভূত হয়ে কোহেস্তানে ঢাকা ও ভাটি প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ঘোড়াঘাট হতে দক্ষিণ ও পূর্বদিগবর্তী স্থানসমূহের মধ্যে বারংবার যুদ্ধ হতে থাকে। ধামরাই অঞ্চলে ওসমান লোদি খাঁ, ভাটি প্রদেশে ঈসা খাঁ পাঠানদের নেতা হয়ে মোঘলদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকেন। এই বিপ্লবে সমগ্র পূর্ববঙ্গ ও ভাটি অঞ্চলে অরাজকতা উপস্থিত হয়। দেশে অরাজকতা হলে যেটা হয়, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ লুটপাট করে দেশকে আরো অস্থিতিশীল করে তোলে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই ঘোর বিপ্লবের সময়েও সইদ খাঁর প্রতাপে তাঁর শাসনাধীন প্রদেশে কেউ কোনো অত্যাচার করতে পারে নাই। তবে তিনি কোহেস্তানে ঢাকার অন্তর্গত সন্তোষপুরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
আতিয়া মসজিদের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন এমামুযযামান ।
আতিয়া মসজিদের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন এমামুযযামান ।

পরগণা বিভাগ হলে আলেপশাহী (বৃহত্তর ময়মনসিংহ) ও বড়বাজু (বর্তমানের সিরাজগঞ্জ-পাবনা) প্রভৃতি পরগণা সইদ খাঁর শাসনাধীন থাকে। এই সময়ে সইদ খান বায়াজীদপুর পরিত্যগ করে আটিয়াতে আপনার আবাস নির্মাণ করেন। এর পর তিনি আটিয়ার প্রসিদ্ধ মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে আলম নদীর ভাঙ্গনে সইদ খান পন্নীর মনোরম ভবন নদীগর্ভে হারিয়ে গেলেও সইদের কীর্তি একবারে বিলুপ্ত হয় নাই। এখনও আটিয়ার মনোহর মসজিদ, সইদ খান পন্নীর সৌন্দর্যানুরাগ, আল্লাহপ্রেম ও শক্তি সামর্থের পরিচয় দিতেছে। এই মসজিদের প্রবেশদ্বারের উপরে শিলাফলকে লিখিত আছে:
‘ব দৌরে শা নুরউদ্দীনে জাঁহাঙ্গীর,
বেনাশোদ্ বশ্ মস্জেদ হাএ আলা।
সইদ খাঁনে পন্নী হাম্ মসজেদে সাখ্ত্,
কে ইয়াবদ্ আজ্রে আ র্দদারে ওক্বা।
চু তারিথস্ ব জোস্তম্ আজ্ খেরদ্ গোফ্ত
কে আয় সৈয়দ জ্বজা কল্লাহো খয়রা।
মসজিদে সইদ খাঁনে পন্নি, এব্নে বায়াজীদ খানে পন্নী ব আন্জন রসিদ।’
অনুবাদ: নূর উদ্দীন জাঁহঙ্গীর শাহের রাজত্বকালে, অনেক উত্তম উত্তম মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হলো। (সেই সময়ে) সইদ খান পন্নীও পরকালে ফল প্রাপ্তির আশায় একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন। (লেখক বলেন) যখন তার নির্মাণের তারিখ আমার বুদ্ধির কাছে অন্বেষণ করলাম, তখন বুদ্ধি বলিল, হে সৈয়দ, পরমেশ্বর তোমাকে উত্তম ফল প্রদান করুন।
বায়াজীদ খান পন্নীর পুত্র সইদ খান পন্নীর মসজিদ নির্মিত হলো।
সইদ খাঁর একশত বৎসর পূর্বে ‘বাবা আদম শহীদ কাশ্মীরি’ নামে একজন মুসলমান তপস্বী আটিয়া গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেন। শাহেন শাহ বাবা আদম কাশ্মীরির পূণ্য প্রভাবে আটিয়া তৎকালে হিন্দু ও মুসলমানের কাছে পূণ্য ক্ষেত্র রূপে পরিণত হয়েছিল। এক্ষণে সইদ খাঁর বসবাসের কারণে আটিয়া প্রাদেশিক রাজধানী হয়ে আরও বিখ্যাত হলো। যদিও বাদশাহ আকবর আটিয়া পরগণা নামে কোন মহালের সৃষ্টি করেন নাই, তথাপি আটিয়া গ্রামের প্রসিদ্ধি এবং সইদ খান ও তাঁর বংশধরগণের প্রতাপে আলেপশাহীর পশ্চিমার্ধ আটিয়া পরগণা নামে বিখ্যাত হয়ে উঠে।
আতিয়া গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা বাবা আদম কাশ্মীরির (র.) মাজার শরীফ ।
আতিয়া গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা বাবা আদম কাশ্মীরির (র.) মাজার শরীফ ।

আলেপশাহীর পশ্চিমার্ধ সে সময় জনবিরল ও শ্বাপদ সঙ্কুল বন-জঙ্গলে পূর্ণ ছিল। এই ভূমির অধিকাংশ স্থানে, সইদ খাঁর সময়ে নিচুভূমি ও বিল ছিল। সইদ খান এই ‘ভড়’ প্রদেশে গ্রাম ও নগর প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্যোগী হলেন। প্রচুর পরিমাণে নিষ্কর, ব্রহ্মত্র, দেবত্র, পীরপাল প্রভৃতি প্রদান করে তিনি এই প্রদেশে ব্রাহ্মণ বৈদ্য প্রভৃতি উচ্চ শ্রেণীর হিন্দু এবং সৈয়দ, পাঠান প্রভৃতি সম্ভ্রান্ত মুসলমান ভদ্র লোকদিগকে স্থাপন করেন। সাধারণ প্রজাও তার অনুগ্রহে বঞ্চিত হয় নি। জাতিবর্ণ নির্বিশেষে তিনি প্রজা মাত্রকেই স্বীয় কর্ষিত ভূমির ১.৫ পঞ্চমাংশ বিনা খাজানায় ভোগ করতে দিয়েছিলেন। এই নিষ্কর ১.৫ পঞ্চমাংশের নাম- ‘সরকমী’। আজও আটিয়ার প্রজাগণ সইদ খান পন্নীর প্রদত্ত এই সরকমী ভোগ করে আতেছে। এমন উদার দানের দৃষ্টান্ত সেই অবদানের যুগেও বঙ্গদেশে আর নেই। বাস্তবিক, সইদ খান পন্নীই ‘আটিয়া পরগণা গয়রহের’ লোকস্থিতি ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মূল।
সনাতন ধর্মীদের প্রতি উদারতা:
মুসলমান সমাজে সইদ খাঁর প্রভাব সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। হিন্দু সমাজের উপর তাঁর ও তাঁর বংশধরগণের গভীর প্রভাব ছিল এবং ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি পর্যন্ত ছিল, আমরা সেটাই বলছি। ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ও বৈদ্য সমাজে বল্লালী ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। পন্নী জমিদারগণ এই জাতি ত্রয়ের সামাজিক বিষয়ে কোনো কর্তৃত্ব করেন নাই। কিন্তু এই তিন জাতি ব্যতিত, তাঁরা হিন্দু সমাজের অন্য সমুদয় জাতির সমাজপতি ছিলেন। এখনও নবশাক, নমশূদ্র, মালি প্রভৃতি জাতির সমাজ সম্বন্ধে আটিয়ার জমিদারগণই কর্তৃত্ব করে থাকেন। সইদ খান ও তদীয় বংশধরগণই এই সকল জাতির মধ্যে নুতন কৌলিন্য মর্যাদা প্রদান করতেন। এই কৌলিন্যের নাম ‘প্রাধান্য’। নবশাক প্রভৃতি মধ্য ও নিচু শ্রেণীর হিন্দু তাদের দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। সেই দুই ভাগের নাম ‘প্রধান’ ও ‘জন’। প্রধানেরাই কুলীন। ‘পরধানী’ লাভ করতে হলে পাঠান চৌধুরীকে নজর দিতে হতো। পাঠান চৌধুরীগণ সন্তুষ্ট হয়ে কাউকে বিনা নজরেও প্রাধান্য মর্যাদা প্রদান করতেন। নমশূদ্র সমাজে প্রধানের উপরেও আরও একটি পদবি আছে। উহার নাম ‘তেরাই’। ‘তেরাই’র অনুমতি ভিন্ন অশৌচান্তের পর নমশূদ্রেরা মৎসাহার করতে পারে না। তেরাই পদবি বিশেষ নজর দিলে মিলিত। পাঠান চৌধুরীগণের পূর্ব সমৃদ্ধি ধ্বংসের সাথে, তারা এক্ষণে হিন্দু সমাজের উপর কর্তৃত্ব করতে যেন শিথিল হয়েছেন বলে বোধ হয়। এখন কোন ‘জন’ প্রাধান্য প্রার্থী হয়ে জমিদার সরকারে উপস্থিত হয়েছে- এরূপ কচিৎই দেখা যায়। ‘প্রাধান্য’ প্রথা প্রবর্তন সইদ খান পন্নীর এক বিশেষ কীর্তি।
সইদ খান পন্নী আটিয়াতে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন, একথা পূর্বেই বলা হয়েছে। আটিয়াতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। সইদ খান এর পুত্র ফতেহ খানও আটিয়াতে বাস করেন, কিন্তু পৌত্র সলিম খান চৌধুরী আটিয়ার আবাস পরিত্যাগ করে ‘কোহেস্তানে ঢাকা’ তথা ঢাকার সন্নিকটে সলিমনগর নামে এক গ্রাম প্রতিষ্ঠা করে তখন বসতি করেন। সলিম খান পন্নী প্রথমে আটিয়া ও আলেপশাহীর চৌধুরী ছিলেন, শেষে চট্টগ্রামের সুবেদার হয়ে তথায় গমন করেন এবং অবশিষ্ট জীবন চট্টগ্রামেই যাপন করেন। তাঁর সম্বন্ধে এই প্রবাদ প্রচলিত আছে ;
‘সলিম পন্নী বাঘমার, চাটগাঁওকা সুবেদার।’
জেলার উপর দিয়ে প্রবহমান যমুনার শাখা গোড়াই নদীতে এমামযযামানের প্রথম শিকার করা কুমির। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এখন সেই নদীটি মৃতপ্রায় ।
জেলার উপর দিয়ে প্রবহমান যমুনার শাখা গোড়াই নদীতে এমামযযামানের প্রথম শিকার করা কুমির। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এখন সেই নদীটি মৃতপ্রায় ।

সলিম পন্নীর পুত্র মইন খান চৌধুরী, সলিমনগরের অদূরে স্বনামে মইননগর গ্রাম প্রতিষ্ঠিত করে তথায় আপনার দেওয়ানখানা ও আবাসবাটী নির্মাণ করেন। মইননগরের পুরাতন নাম গোড়াই, মইন খান চৌধুরী স্বীয় নামে উহার নতুন নামকরণ করলেও উহার পুরাতন নাম বিলুপ্ত হয় নাই। সইদ খান পন্নীর বংশধরগণ বহুকাল পর্যন্ত এই মইন নগর বা গোড়াই গ্রামে বসতি করেন। তখন গোড়াই হয়ে ওঠে ময়মনসিংহ ও উত্তর বঙ্গের বিরাট এলাকার কেন্দ্রভূমি। এখানে গড়ে ওঠে বিরাট সমৃদ্ধ নগর। গোড়াই নদীর বন্দরে এসে ভিড়ত দূর দূরান্ত থেকে আসা বড় বড় বজরা ও নৌযান। সইদ খাঁর অধস্তন ৯ম পুরুষ সা’দত আলী খান পন্নী গোড়াই পরিত্যগ করে টাঙ্গাইলের করটিয়া গ্রামে নিজ বসতি স্থাপন করেন। সেই থেকে গোড়াই তার জৌলুস হারাতে থাকে। কালের প্রবাহে বর্তমানে গোড়াই রাজবাড়ির ভগ্নস্তূপগুলোর ইট-সুড়কি পর্যন্ত লোপাট হয়ে গেছে। জমিদারবাড়ির মহলগুলো অধিকাংশই মাটির নিচে চলে গেছে। এখন শুধু পারিবারিক কবরস্থানটুকু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
গোড়াইতে পূর্বপুরুষের স্মৃতিচিহ্নের সামনে এমামুযযামান। বর্তমানে এই ভবনটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে অথচ এককালে এই গোড়াইতে বসেই বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন মহামান্য এমামুযযামানের পূর্বপুরুষগণ।
গোড়াইতে পূর্বপুরুষের স্মৃতিচিহ্নের সামনে এমামুযযামান। বর্তমানে এই ভবনটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে অথচ এককালে এই গোড়াইতে বসেই বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন মহামান্য এমামুযযামানের পূর্বপুরুষগণ।

বর্তমানে সা’দত আলী খাঁর পৌত্র (সইদ খাঁর অধস্তন ১১শ পুরুষ) শ্রীযুক্ত ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (এর অন্য নাম চাঁদ মিয়া) করটিয়াতেই বাস করেছেন, পন্নী বংশের কেউ কেউ এখনো করটিয়াতেই বাস করছেন। আটিয়া আর সইদ খাঁর বংশধরদের হাতে নেই। জমিদারি প্রথা অতীত হয়ে গেছে। গৃহবিবাদে ও বংশবিস্তারে তাঁদের জমিদারির অধিকাংশ বহুধা বিভক্ত ও নানা বিভিন্ন বংশীয়ের হস্তগত হয়ে পড়েছে।
এমামুযযামান এই সাইদ খান পন্নীর ত্রয়োদশতম উত্তরপুরুষ। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরে উত্তরাধিকারসূত্রে তিনিই হন ওয়াকফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী। করটিয়া জমিদারবাড়ির ছোট তরফ দাউদ মহলেই তিনি হেযবুত তওহীদের সূচনা করেন। এখানে বসেই তিনি বহু বছর সাধারণ গ্রামবাসী ও জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরেছেন। সত্যের সঙ্গে মিথ্যার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মব্যবসায়ী, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতিকারীদের ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতা এক সময় চরমে ওঠে। এমনকি এক সময় ধর্মব্যবসায়ীদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা দাউদ মহলে আক্রমণ করে অগ্নিসংযোগ পর্যন্ত করে। এ কারণে মাননীয় এমামুযযামান অভিমানবশত আর আজীবনের স্মৃতিবিজড়িত করটিয়াতে যান নি। তিনি বর্তমানে তাঁর অন্যান্য মহান পূর্বপুরুষদের সান্নিধ্যে মইননগরের গোড়াইতে পারিবারিক গোরস্তানে শায়িত আছেন। বাংলার বুকে মাননীয় এমামুযযামানের পূর্বপুরুষগণ ;
(সুলতানী আমল, মোঘল আমল, ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল)
১. হজরতে আলা মিঞা সোলেমান কররানি (তাজ খান কররানির জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা)
২. সুলতান বায়েজীদ খান কররানি (সুলতান দাউদ খান কররানির জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা)
৩. সাইদ খান পন্নী
৪. ফতেহ খান পন্নী
৫. সলিম খান পন্নী (চৌধুরী)
৬. মুঈন খান পন্নী (চৌধুরী)
৭. মুনায়েম খান পন্নী (চৌধুরী)
৮. খোদা নেওয়াজ খান পন্নী (চৌধুরী)
৯. আলেপ খান পন্নী (চৌধুরী)
১০. ফয়েজ আলী খান পন্নী
১১. সা’দত আলী খান পন্নী
১২. হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী
১৩. মোহাম্মদ হায়দর আলী খান পন্নী
১৪. মোহাম্মদ মেহদী আলী খান পন্নী
১৫. মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ