মুসলিম জনগোষ্ঠীর মূল সংকট কী?

মসীহ উর রহমান:
বর্তমানে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবন অন্যায়-অত্যাচার, হানাহানি-রক্তপাত ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ। এর পিছনে অনেকে অনেক ধরনের কারণ দেখালেও সেগুলো মূলত আনুষঙ্গিক। এই অশান্তির মূল কারণ হচ্ছে আমরা আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে ইহুদি-খ্রীষ্টান সভ্যতা অর্থাৎ দাজ্জালের তৈরি স্রষ্টাহীন, বস্তুবাদী, ভোগবাদী, ভারসাম্যহীন জীবনব্যবস্থাকে গ্রহণ করে নিয়েছি।
এই অশান্তির মেঘ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। চেষ্টা করছি এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার। কিন্তু আমরা এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আসল কাজটিই করতে পারছি না। ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দিব কোথা?’ বাগধারাটির মতই আমরা হয় হাত পা গুটিয়ে বসে রয়েছি নতুবা নিজেদের ইচ্ছেমতো অনুমানের উপর ভিত্তি করে এর থেকে পরিত্রাণের জন্য নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। কোন রোগের ভুল ওষুধ সেবন করলে যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে নতুন রোগের সৃষ্টি হয় তেমনি অশান্তির মূল কারণ না জেনে অনুমানের ভিত্তিতে যে সকল পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তার ফলে সমাজে অশান্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যারা নিজেদের ধর্মহীন বলে দাবী করেন, যারা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী নন তাদের কাছে আমার কোন দাবী  নেই। ধোঁয়া থাকলেই যে আগুন থাকবে তা এ সকল নিরেট, জড়বুদ্ধির অধিকারীরা বিশ্বাস করলেও একই সূত্রানুসারে সৃষ্টি থাকলে তার স্রষ্টা থাকা যে অবশ্যম্ভাবী তা তারা মানতে নারাজ। আমাদের কথা হলো তাদের জন্য যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ্জ করে। আমরা সবাই এ সকল আমল করি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমরা বিশ্বাস করি এ সকল আমল আল্লাহ যে শেষ দীন অর্থাৎ ইসলামে দিয়েছেন তা আমাদের জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পেতে সহায়তা করবে। তাহলে আল্লাহ আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য কী এই শেষ দীন অর্থাৎ ইসলামে কোন পথ দেন নি? অবশ্যই দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান মুসলিম জাতি সে বিষয় নিয়ে কোন মাথা ঘামাচ্ছে না। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ তেরশ বছরের বিকৃতির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ইসলামটি অন্যান্য ধর্মের মতই আচারসর্বস্ব ও পরকালমুখী একটি আনুষ্ঠানিক ধর্মের রূপ নিয়েছে। আর দাজ্জাল (পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতা) মিডিয়ায়, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনবরত এই কথা প্রচার করেছে এবং করছে যে, ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিষয় জাতীয়ভাবে এটা কোনো সমাধান দিতে পারে না।
দাজ্জালের এ কথা বর্তমানের অন্য সকল ধর্মগুলোর ক্ষেত্রে সত্য হলেও ইসলামের ক্ষেত্রে এ কথার কোন ভিত্তি নেই। ইসলাম শুধু ব্যক্তিজীবনে পালন করার মত ধর্ম নয়, ইসলাম পূর্ণাঙ্গ ও শাশ্বত একটি জীবনব্যবস্থা। ইসলামে সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। তাই আমাদের এখন এই কথার বাস্তবায়ন করতে হবে। এ কথার বাস্তবায়ন করার পথে সবচেয়ে বড় কাটা হিসেবে পথ রোধ করে দাঁড়াবে ধর্মব্যবসায়ীরা। কিন্তু আমাদের এই ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণির অনৈক্য, হানাহানি, ফতোয়াবাজী ইত্যাদি দেখে হতাশ হওয়া চলবে না। মনে রাখতে হবে এই ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণিটি যে ইসলাম চর্চা করছেন সে ইসলাম তারা ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা থেকে শিখেছে। ব্রিটিশরা প্রকৃত ইসলাম শিক্ষা দেয় নি। তারা মুসলিমদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার জন্য নতুন একটি ইসলামের শিক্ষা দিয়েছে যার মাধ্যমে শুধু ধর্মব্যবসাই সম্ভব।
আমরা হেযবুত তওহীদ যামানার এমাম, এমামুয্যামান জনাব মোহম্মাদ বায়াজীদ খান পন্নীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আল্লাহর রসুলের সেই প্রকৃত ইসলাম যা জাতীয়, সামাজিক, পারিবারিক সকল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে, যে ইসলাম মানবজাতিকে আবার ঐক্যবদ্ধ করে শান্তি দিতে সক্ষম, সেই ইসলামকে মানবজাতির সামনে তুলে ধরছি। অনেকেই আমাদেরকে নানা প্রকার সন্দেহ করেন। তাদের প্রতি কথা হলো, আমরা কোন রাজনীতি করি না, অর্থনৈতিক স্বার্থও আমাদের নেই। মানুষকে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা ছাড়া আমাদের অন্য কোন অভিপ্রায় নেই। মানবতার কল্যাণই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য, আমরা আমাদের এ কাজের বিনিময় মহান আল্লাহ থেকে কামনা করি। মিথ্যার অন্ধকারে আচ্ছাদিত এই পৃথিবীকে সত্যের আলোয় আলোকিত করার দৃঢ় প্রত্যয়কে বুকে ধরে আমরা কিছু লোক একত্রিত হয়েছি। যাদের হৃদয় থেকে মানবতা বিলুপ্ত হয়নি, দাজ্জালের থাবা যাদের বিবেককে পুরোটা গ্রাস করেনি তাদের কাছে আমাদের আহ্বান, “ধর্ম আজ ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে কুক্ষিগত; রাজনীতি আজ সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি; ব্যবসা আজ জিম্মি মজুদদার, কালোবাজারী, ভেজাল মিশ্রণকারীর হাতে; শিক্ষা আজ পণ্য বাণিজ্যের কাছে। এক কথায় বললে সত্য কোথাও নেই, সত্য আজ নির্বাসিত, সত্যবাদীরা পরাজিত। এমনি এক সময়ে আমরা আপনাদের সত্যের পথে আহŸান করছি- মানবতার কল্যাণে সত্যে প্রকাশে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন, এই আমাদের কাম্য।”
লেখক: সাধারণ সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ