মক্কার তৎকালীন মোশরেকদের সঙ্গে বর্তমানের বিকৃত ইসলামের মিল

Untitled-1রিয়াদুল হাসান

বর্তমানে বিকৃত ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাস অর্থাৎ আকিদা হচ্ছে এই যে, বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.) যাদের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন অর্থাৎ তদানীন্তন আরববাসীরা আল্লাহকে বিশ্বাস করত না, তাদের আল্লাহর ওপর ঈমান ছিল না। এই ধারণা সম্পুর্ণ ভুল। তখনকার আরবরা বিশ্বাস করত যে তারা আল্লাহর নবী ইব্রাহীমের (আ.) উম্মাহ। তারা নিজেদের ‘হানীফ’ বলত। হানীফ অর্থ একাগ্র। অর্থাৎ তারা তওহীদ এবং ইব্রাহীমের (আ.) একাগ্র অনুসারী। সুতরাং তদানীন্তন আরববাসীরা আল্লাহকে তেমনই বিশ্বাস করত যেমন বর্তমানের পৃথিবীময় মুসলিম বলে পরিচিত লোকেরা এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরা বিশ্বাস করে। ঐ আরবরা আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা বলে, পালনকারী বলে বিশ্বাস করত, নামাজ পড়ত, কাবা শরীফকে আল্লাহর ঘর বলে বিশ্বাস করত, ঐ কাবাকে কেন্দ্র করে বাৎসরিক হজ্ব করত, কোরবানি করত, রোযা রাখত, আল্লাহর নামে কসম করত, নিজেদের সন্তানদের নাম আব্দুল্লাহ (আল্লাহর দাস) রাখত, এমনকি বর্তমান সময়ের ‘মুসলিমদের’ মতো খাত্নাও করত। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় দলিল, বিয়ে শাদীর কাবিন ইত্যাদি সমস্ত কিছু লেখার আগে আমরা যেমন বিসমিল্লাহ লেখি তেমনি তারাও আল্লাহর নাম লিখত। তারা লিখত বিসমিকা আল্লাহুম্মা, অর্থাৎ তোমার নাম নিয়ে (আরম্ভ করছি) হে আল্লাহ। নবুয়াত পাবার আগে মহানবীর সঙ্গে আম্মা খাদীজার (রা.) বিয়ের যে কাবিন লেখা হয়েছিল তা লিখেছিল আরবের লোকেরা যাদের আমরা এখন কাফের মোশরেক বলি এবং তা তারা শুরু করেছিল আল্লাহর নাম দিয়ে। তওহীদের ডাক দেবার ‘অপরাধে’ আল্লাহর রসুলকে তাঁর পরিবার পরিজন ও আসহাবসহ মক্কার বাইরে উত্তপ্ত উপত্যকায় নির্বাসন দেবার জন্য যে বিজ্ঞপ্তি মোশরেক কোরায়েশ নেতারা সর্বসাধারণের জানার জন্য পবিত্র কাবার দরজার ওপর ঝুলিয়ে দিয়েছিল সে বিজ্ঞপ্তির প্রথমেই তারা লিখেছিল- বিসমিকা আল্লাহুম্মা। হুদায়বিয়ার সন্ধিপত্র লেখার সময় আলী (রা.) যখন ‘বিসমিল্লাহের রহমানের রহিম’ দিয়ে আরম্ভ করলেন তখন মোশরেক কোরায়েশদের প্রতিনিধি সুহায়েল বিন্ আমর প্রতিবাদ করে বললো, আমরা এ রকম করে লেখি না, আমরা যে ভাবে আল্লাহর নাম লেখি ঐ ভাবে লিখতে হবে, অর্থাৎ বিসমিকা আল্লাহুম্মা। তখন আল্লাহর রসুলের আদেশে আলী (রা.) ঐ ভাবেই লিখলেন। এগুলো ঐতিহাসিক প্রমাণ।
আরবের মোশরেকরা যে আমাদের মতই আল্লাহয় বিশ্বাসী ছিল এ কথায় সাক্ষ্য দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। কোর’আনে তিনি তাঁর রসুলকে বলছেন- তুমি যদি তাদের (আরবের মোশরেক, কাফের অধিবাসীদের) জিজ্ঞাসা করো, আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই জবাব দেবে- সেই সর্বশক্তিমান, মহাজ্ঞানী (আল্লাহ) (কোর’আন- সুরা যুখরুফ- ৯)। অন্যত্র বলেছেন- তুমি যদি তাদের প্রশ্ন করো আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন এবং কে সূর্য ও চন্দ্রকে তাদের (কর্তব্য কাজে) নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণ করছেন, তবে তারা নিশ্চয়ই জবাব দেবে- আল্লাহ (কোর’আন- সুরা আনকাবুত- ৬১)। আল্লাহ আবার বলছেন- যদি তাদের প্রশ্ন করো, কে এই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তবে তারা নিশ্চয়ই জবাব দেবে আল্লাহ (কোর’আন- সুরা লোকমান- ২৫)। আল্লাহ তাঁর নবীকে আবার বলছেন ঐ মোশরেকদের প্রশ্ন করতে (পানির অভাবে শুকিয়ে, ফেটে যেয়ে) মাটি যখন মরে যায়, তখন আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে কে তাকে পুণর্জীবন দান করেন- তবে তারা অবশ্যই জবাব দেবে- আল্লাহ (কোর’আন- সুরা আনকাবুত- ৬৩)। আল্লাহ তাঁর নবীকে আবার বলছেন, ‘এই পৃথিবী এবং পৃথিবীতে যারা আছে তারা কার? যদি তোমরা জানো তবে বলো। তারা বলবে, ‘সবই আল্লাহর।’ (সূরা মুমিনুন ৮৪-৮৫)। ইতিহাস ও আল্লাহর সাক্ষ্য, দু’টো থেকেই দেখা যায় যে, যে মোশরেকদের মধ্যে আল্লাহর রসুল প্রেরিত হলেন তারা আল্লাহকে গভীর ভাবে বিশ্বাস করত অর্থাৎ আল্লাহর ওপর তাদের ঈমান ছিল। সে সময় বৃহত্তর জনসাধারণকে ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মের কর্তৃপক্ষ সেজে একদল লোক জনসাধারণের মধ্যে ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করে নিজেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত। যেমন আবু জাহেল ছিল আরবের মধ্যে একজন প্রখ্যাত ‘আলেম’। এজন্য তাকে ডাকা হতো আবুল হাকাম অর্থাৎ জ্ঞানীদের পিতা। বর্তমানেও পৃথিবীর সর্বত্র মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ধর্মকে জীবিকা উপার্জনের পুুঁজি হিসাবে ব্যবহারকারী একটি শ্রেণি রয়েছেন যারা নিজেদের নামের সাথে ধর্মীয় নানা উপাধি ব্যবহার করে থাকেন, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীও ধর্মীয় যে কোনো বিষয়ে তাদের উপর নির্ভর করে থাকে। একেবারে মক্কার অবস্থা।
তাহলে আজ মুসলিম বলে পরিচিত এই জনসংখ্যাটি (কোন উম্মাহ নয়) যে দীনটাকে পালন করে নিজেদের মো’মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদী বলে বিশ্বাস করে এবং মৃত্যুর পর জান্নাতে অর্থাৎ বেহেশতে যাবার আশা করে ঐ জনসংখ্যাটি এবং আরবের ঐ মোশরেকদের জাতিটি যার মধ্যে তাদের হেদায়াহর জন্য আল্লাহ তাঁর রসুল প্রেরণ করলেন এ দু’টোর মধ্যে প্রভেদ কোথায়? কথাটা আরও পরিষ্কার করছি। বর্তমানের এই দীন পাঁচটি রোকনের (স্তম্ভ) ওপর দাঁড়িয়ে আছে, এ কথায় কোনো সন্দেহ আছে কি? অবশ্যই নয়; এবং সেগুলি হলো- ১) কলেমা, ২) সালাহ (নামায), ৩) যাকাহ, ৪) হজ্ব, ৫) সওম (রোযা)। যারা এগুলির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে ওগুলি পালন করেন তাদের বলা হয় মো’মেন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদী। এখন দেখা যাক তদানীন্তন আরবদের সাথে অমিল কোথায়।
১) কলেমা। বর্তমানের এই মুসলিম বলে পরিচিত জনসংখ্যা বিশ্বাস করে আল্লাহ এক, তিনি উপাস্য, তিনি স্রষ্টা, তিনি রক্ষাকর্তা, তিনি রব অর্থাৎ ভরণ-পোষণকারী, তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। ঐ সময়ের আরবরাও ঠিক এই কথাই বিশ্বাস করত যার প্রমাণ উপরে দিয়ে এসেছি।
২) সালাহ (নামায)। মুসলিম বলে পরিচিত বর্তমানের এই জনসংখ্যার মতো ঐ মোশরেক আরবরাও আল্লাহর ঘর কাবার দিকে মুখ করে সালাহ কায়েম করত এ কথা ইতিহাস। আল্লাহর রসুলের ক্রীতদাস, পরে মুক্ত ও তাঁর সন্তান হিসাবে গৃহীত যায়েদকে (রা.) খুঁজতে খুঁজতে তার বাপ-চাচারা যখন শুনতে পেলেন যে যায়েদ (রা.) মক্কায় মোহাম্মদ (সা.) নামের একজন লোকের কাছে আছে যিনি আল্লাহর নবী হবার দাবী করছেন। এ খবর শুনে তারা উত্তর আরব থেকে মক্কায় এসে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেন- আমরা মোহাম্মদ (সা.) নামের একজন লোককে খুঁজছি, তাঁকে কোথায় পাওয়া যাবে। লোকজন বললো- নামাযের সময় কাবায় যাবেন, দেখবেন একজন লোক অন্য সব নামাযী থেকে বিচ্ছিন্ন, আলাদা হয়ে একা নামায পড়ছেন, তিনিই আপনারা যাকে খুঁজছেন তিনি, মোহাম্মদ (সা.); অর্থাৎ মক্কার মোশরেকরা কাবার দিকে মুখ করে জামাতে সালাহ (নামায) কায়েম করত। অবশ্য ঐ সালাহ আল্লাহর নবী ইবরাহীমের (আ.) শেখানো পদ্ধতির ছিল, শেষ রসুলাল্লাহর পদ্ধতিতে ছিল না। বর্তমানের সালাতের এই নিয়ম পদ্ধতি পরে এসেছে। আরবের কাফের মোশরেকরা বিকৃতভাবে হলেও সালাহ (নামাজ) করত তার প্রমাণ আল্লাহ পবিত্র কোর’আনেও দিচ্ছেন, “তাদের (জাহেলী যুগের) নামায তো কিছু শিষ দেয়া ও তালি বাজানো ছাড়া কিছুই ছিল না” [সূরা আল আনফাল ৮-৩৫]।
৩) যাকাহ। যে উদ্দেশ্যে যাকাহ দেওয়া অর্থাৎ নিজের উপার্জিত অর্থ থেকে সমাজের অন্য দুঃস্থ, গরিব বা অন্যের প্রয়োজন পূর্ণ করতে সাহায্য দেয়া সে অর্থে ঐ মোশরেকরাও তাদের উপার্জিত সম্পদ থেকে বহু দান-খয়রাত করত, এটাও ইতিহাস। তাদের মধ্যে হাতেম তাঈ’র মত আরো অনেক দানশীল ছিল। আল্লাহ তাঁর শেষ রসুলের মাধ্যমে সেই অনিয়মিত, ইচ্ছাকৃত দানকে একটা শৃংখলার (উরংপরঢ়ষরহব) মধ্যে এনে এটাকে শতকরা আড়াই (২১/২) ভাগে নিবন্ধন করেছেন।
৪) হজ্ব। এ কথা ইতিহাস যে তদানীন্তন মোশরেক আরবরা বছরে একবার কাবাকে কেন্দ্র করে হজ্ব পালন করত। হজ্বের প্রচলন শুরু হয় ইব্রাহীম (আ.) এর মাধ্যমে। তাদের হজ্বের সময়, মাস, তারিখ, নিয়ম কানুন প্রায় বর্তমানের হজ্বের মতই ছিল। পার্থক্য হলো, তারা উলংগ হয়ে হজ্ব করত কারণ হাশরের ময়দানে সমস্ত নারী-পুরুষ উলংগ থাকবে। ইসলাম এসে দু’টুকরো সেলাইহীন কাপড় দিয়ে সেটাকে শালীন করেছে। নবী করীম (সা.) কাফেরদের এই হজ্বের সময় হাজীদের তাবুতে তাবুতে গিয়ে তওহীদের বালাগ দিয়েছেন।
৫) সওম (রোযা)। তখনকার মোশরেকরাও বর্তমানের দীনের মতই রমাদান মাসেই একমাস সওম (রোযা) পালন করত।
তাহলে যাদের মধ্যে আল্লাহর রসুল তওহীদ অর্থাৎ আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আসলেন তাদের সাথে বর্তমানের মুসলিম বলে পরিচিত এই জনসংখ্যার তফাৎ কোথায়? যদি বলেন যে তারা মূর্তিপূজা করত তবে তার জবাব হচ্ছে এই যে ঐ মোশরেক আরবরা ঐ মূর্তিগুলোকে আল্লাহ বলে বিশ্বাস করত না, তাদের স্রষ্টা বলেও বিশ্বাস করত না, তাদের প্রভু (রব) বলেও বিশ্বাস করত না। একটু আগেই কোরানের যে আয়াতগুলির উদ্ধৃতি দিয়েছি যেগুলোয় আল্লাহ তাঁর রসুলকে বলছেন তাদের প্রশ্ন করতে, মোশরেকদের জবাব থেকেই, যে জবাবগুলি আল্লাহ স্বয়ং দিচ্ছেন মোশরেকদের পক্ষ থেকে তা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়। তাহলে আরবদের কাছে ঐ মূর্তিগুলি কী ছিল? তাদের কাছে ঐ মূর্তিগুলি আল্লাহ ছিল না, তারা বিশ্বাস করত ওগুলি আল্লাহর নিকটবর্তী, ঘনিষ্ঠ এবং প্রিয়জন। তারা ওগুলির পূজা করত দু’টো কারণে এক) যেহেতু ওগুলো আল্লাহর ঘনিষ্ঠ সেহেতু তারা পূজারীদের পক্ষ হয়ে কোনো ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করলে আল্লাহ তা মঞ্জুর করবেন। যেমন রোগ শোক থেকে মুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যে সাফল্য, কোনো বিপদ থেকে উদ্ধার ইত্যাদি। এ কথার প্রমাণ এই যে, স্বয়ং আল্লাহ বলছেন তারা আল্লাহ ব্যতীত যার এবাদত করে তা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, ‘এইগুলি আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী’ (সুরা ইউনুস, আয়াত ১৮)। দুই) তারা বিশ্বাস করত যে যেহেতু ঐ মূর্তিগুলি, ঐ দেব-দেবীগুলি আল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় কাজেই তাদের পূজা করে তাদের সন্তুষ্ট করতে পারলে তারা পূজারীদের আল্লাহর সান্নিধ্য (কুরবিয়াহ্) এনে দেবে। এ ব্যাপারেও আল্লাহ বলেছেন যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা বলে, ‘আমরা তো এদের পূজা এ জন্যই কোরি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দিবে’ (সুরা যুমার, আয়াত ৩) দেখা যাচ্ছে আরব মোশরেকদের মূর্তিপূজার পেছনে দু’টো উদ্দেশ্য ছিল, একটি দুনিয়াদারী, অন্যটি আখেরাত- অনেকটা আমাদের সমাজে পীরদের কাছে মানুষ যে উদ্দেশ্যে যেয়ে থাকে। সুতরাং ঐ মূর্তিগুলিকে আরবের মোশরেকরা কখনই আল্লাহর স্থানে বসায় নাই।
মূল কথা হলো আরবের মোশরেকরা সমাজ পরিচালনা করত লাত, মানাত, ওজ্জা ইত্যাদির নামে নিজেদের তৈরি করা হুকুম বিধান দিয়ে আর বর্তমানের মোসলেম জাতি রাষ্ট্র পরিচালনা করে নানা তন্ত্র-মন্ত্রের নামে পাশ্চাত্য ইহুদি খ্রিষ্টান সভ্যতার তৈরি করা হুকুম বিধান, সিস্টেম দিয়ে। এজন্যই তৎকালিন আরবের মতোই আমাদের সমাজও অন্যায়, অবিচারে পরিপূর্ণ। সুতরাং আখেরাতেও ঐ কাফের-মোশরেকদের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে এটা স্বাভাবিক জ্ঞানেই বোঝা যায়।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ