ব্যক্তির চেয়ে সিস্টেমের পরিবর্তনই এখন জরুরি

মোফাজ্জল হোসেন সর্দার

প্রকৃত শান্তিময় সমাজ পেতে হলে ব্যক্তি পরিবর্তন না করে সিস্টেম পরিবর্তন করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন হেযবুত তওহীদের সিলেট বিভাগের আমীর মোফাজ্জল হোসেন সর্দার। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি আফ্রিকা থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত মুসলিম নামক এই জাতিতে এক অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন, আন্দোলন, ভাংচুর, হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও, সন্ত্রাস, সহিংসতা, জঙ্গিবাদ, গৃহযুদ্ধ, যুদ্ধ ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি যা কিছু হচ্ছে – তা এ জাতিরই হচ্ছে। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। স্বাধীনতার পর বিগত ৪৪ বছর যাবত আমরা দেখে আসছি ক্ষমতাসীন কোন একটা সরকারকে প্রবল আন্দোলনে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে টেনে হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হয়। আবার আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানো হয়। তারা এসে আবার পূর্ববর্তী সরকারের মতই দুর্নীতি, লুটপাট, স্বজনপ্রীতি, অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার ইত্যাদির মাধ্যমে জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে ফেলে। শুরু হয় আবার তাদের নামানোর প্রক্রিয়া। কিন্তু তারাও ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে চলে কঠিন হাতে দমনাভিযান। অন্তরালে চলে বৈদেশিক প্রভুদের সাথে হাত মেলানো। এই প্রভুদের কে কতটা খুশি করতে পারে শুরু হয় তার প্রতিযোগিতা। এটাই এই জাতিগুলির চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি। দীর্ঘদিন যাবত এভাবেই চলে আসছে।
তিনি বলেন, রাজনীতির উপর ত্যাক্ত-বিরক্ত মানুষ রাজনীতিকদের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়, বার বার ভোটের মাধ্যমে শাসন ক্ষমতায় দল বদল করে। কিন্তু সিস্টেমের আবর্তে ঘুরে ফিরে আবার আসে সেই পুরনো দৃশ্যপট। ঘুরে ফিরে সেই দলগুলোই ক্ষমতার পালা বদল করে। কারো প্রতিই আজ সাধারণ মানুষের আস্থা নেই, কিন্তু আস্থা না থাকলেও কিছু করার নেই। জনপ্রিয়তা হারানো ক্ষমতাসীন দলকে নামিয়ে যাদেরকে আবার ক্ষমতায় আনার প্রক্রিয়া চলে তারাও একই অভিযোগে অভিযুক্ত। জাতি একবার চুলা থেকে কড়াইতে লাফ দিয়ে ওঠে, আরেকবার কড়াই থেকে চুলোয় লাফ দিয়ে নামে। যন্ত্রণা দিন দিন বাড়ে।
ইসলামের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা জানি নবী করিম (সাঃ) এর সমকালীন সময়ে অর্থাৎ যাকে আমরা আইয়ামে জাহেলিয়াত বলি, সেই অন্ধকার সময়ে আরব জাতির অবস্থা একই রকম ছিল। তাদের অবস্থা আর আমাদের অবস্থা হুবহু মিলে যাচ্ছে। তারাও পরস্পর নানা গোত্রে বিভক্ত হোয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা, সামান্য তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে পুরুষাণুক্রমে শত্র“তা, যুদ্ধ, প্রতিশোধ ইত্যাদিতে লিপ্ত ছিল। অভাব ও দারিদ্রে গোটা জাতি ছিল জর্জরিত। তাদের এই দুরবস্থার কারণে বিশ্বের বুকে তাদের কোন সম্মান ছিল না। মানুষ তাদের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞার চোখে তাকাত। এই অবস্থায় আরবে আবির্ভাব ঘটে শেষ রসুলের। তিনি জাতিকে আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার (সিস্টেম) দিকে আহ্বান করলেন। যখনই আরবরা আল্লাহর দেওয়া সিস্টেমকে গ্রহণ করে নিল তখন তারা অল্প দিনের মধ্যে পরিবর্তিত হয়ে দুনিয়ার বুকে সর্বদিকে সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ জাতিতে রূপান্তরিত হয়ে গেল। রসুলের আনীত সিস্টেম পরস্পর শত্র“ভাবাপন্ন মানুষগুলোকে ভাই বানিয়ে ফেললো। মিটে গেল সমস্ত অনৈক্য, প্রতিশোধ নেওয়ার স্পৃহা। বরং রূহামা ও ভ্রাতৃত্বের বেলায় তারা অন্যকে নিজের চাইতে প্রিয় জ্ঞান করতে শিখল। সেই সাথে আধ্যাত্মিক উন্নতির ফলে প্রতিটি মানুষ একেক জন সোনার মানুষে রূপান্তরিত হোয়ে গেলেন। চুরি, ডাকাতি বন্ধ হোয়ে গেল। অভাব, অনটন, দারিদ্র্য দূর হোয়ে সমাজে সমৃদ্ধি আসলো। আজ আমরা যাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসেবে জানি, জীবন চলার পথে যাদেরকে অনুসরণ করি- তাঁদের অধিকাংশই বর্তমানে আমরা তাঁদেরকে যেমন জানি তেমন ছিলেন না। আজ দীর্ঘ চৌদ্দশত বছর পরেও আমরা তাদের নাম মুখে উচ্চারণ কোরলে বলি ‘রাদি আল্লাহু আনহুম’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ তাঁর প্রতি খুশি এবং তিনিও আল্লাহর উপর খুশি’।
কিসে তাঁদের এই পরিবর্তন এনেছিল? রসুলাল্লাহর (দ:) আনীত আল্লাহর দেওয়া সিস্টেম, জীবন ব্যবস্থা।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষসহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আমাদের আহ্বান- আপনারা বার বার বীতশ্রদ্ধ হয়ে একজনের পর আরেকজনকে শাসন ক্ষমতায় বসাচ্ছেন, আন্দোলন করছেন, সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন, সরকারী সম্পত্তির ক্ষয়-ক্ষতি করছেন, এতে কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বরং দিন দিন সমস্যা বেড়েই চলছে। একের প্রতি অন্যের ক্রোধ, হিংসা-প্রতিহিংসা চূড়ান্ত অবস্থায় উপনীত হয়েছে। তারাও সমান প্রতিশোধ নিতে অপেক্ষা করছে। প্রতিশোধ-পাল্টা প্রতিশোধ কোন সমাধান নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দাজ্জালের বস্তুবাদী, স্রষ্টাহীন এই জীবনব্যবস্থা অর্থাৎ সিস্টেমটাই মানুষগুলিকে এমন করে দিয়েছে। আসুন সিস্টেমটাই পাল্টাই। নতুবা সামনে জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়বে বৈ কমবে না। এই সিস্টেমে একের পর এক ঘুরে ফিরে যারা আসছে তাদের চরিত্রও একই রকম। খুব তাড়াতাড়ি অতীত ভুলে যাওয়ার খারাপ একটি রোগ আমাদের আছে। এটা উচিত নয়। আসুন আমরা বার বার মানুষের পরিবর্তন না করে এমন একটি সিস্টেম গ্রহণ করি যে সিস্টেম সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার ও পাপাচারের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। সেই সিস্টেমের দিকেই মানব জাতির প্রতি হেযবুত তওহীদের আহ্বান। এই সিস্টেম বাস্তবায়নের ফলে আজকের এই ঘুঁণে ধরা সমাজের অসৎ মানুষগুলিই একেকজন সোনার মানুষে পরিণত হবে ইনশা’আল্লাহ।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ