‘ধর্মের অপব্যবহার, প্রগতির অন্তরায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত কাল বিকেলে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর চন্দনকোঠা কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য ছিল, “ধর্মের অপব্যবহার প্রগতির অন্তরায়”। সভার আয়োজন করে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের প্রায় সবকটি জেলা, থানা এমনকি গ্রামে-গঞ্জে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনামূলক কাজ করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ। এরই অংশ হিসেবে উক্ত সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির পাঁচ পঞ্চায়েতের বড় সর্দার আলহাজ্ব আইয়ুব আলী, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থি ছিলেন দৈনিক বজ্রশক্তির প্রকাশক ও সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা, হেযবুত তওহীদের সাহিত্য সম্পাদক রিয়াদুল হাসান, ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. আলী হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সাবের হোসেন সর্দার, জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মো. নাজমুল হাসান মিলন, গ্রেট ওয়াল হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক এস এ সেলিম, ঢাকা দক্ষিণ হেযবুত তওহীদের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, একতা আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মনোয়ার হোসেন, এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক মসীহ উর রহমান। অনুষ্ঠানে অত্র অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে ভিডিও

 

হেযবুত তওহীদের এমাম বলেন, আমাদের প্রতিটা আলোচনার বিষয়বস্তু এ সমাজের আর দশটা অনুষ্ঠান থেকে ভিন্ন। আমরা কথা বলি মানবজাতির সঙ্কট নিয়ে, এটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ভয়ঙ্কর বিষয়, কাজেই অতি মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আজ মানবজাতি যে মহা সঙ্কটে পড়েছে তা থেকে উদ্ধারের কোনো পথ কারো জানা নেই, মানুষ আজ এটম বোমার কাছে সারেন্ডার করেছে, কিন্তু মহান আল্লাহ দয়া করে সেই পথ আমাদেরকে দান করেছেন। আমি যখন কথা বলি তখন আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরওয়া করি না, তখন আমি অন্য মানুষ হয়ে যাই। তিনি বিশ্বপরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সমগ্র বিশ্ব আজ শয়তানী শক্তির হাতে বন্দী, মানুষ আজ ত্রাহী সুরে চিৎকার করছে বাঁচার জন্য, ১৬ হাজার এটম বোম তৈরি করে রাখা হয়েছে, সীমান্তে সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, প্রতিটা দেশ সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে দামামা বাজছে। মানবজাতিকে এখন এই আসুধ্বংসের হাত থেকে কে উদ্ধার করবে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ তৈরি করা হয়েছে কিন্তু যুদ্ধ কি বন্ধ হয়েছে? ন্যাটো তৈরি হয়েছে কিন্তু হামলা কি বন্ধ হয়েছে? বিশ্বব্যাংক কি অর্থনীতিক অবিচার দূর করতে পেরেছে? সমস্ত কিছু ব্যর্থ। আজ এটা প্রমাণিত যে, কারো কাছে এই সঙ্কটের সমাধান নেই।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে পড়েছে মুসলিম নামক এই জাতি, আমিও যে জাতির সদস্য। ঔপনিবেশি যুগে ইউরোপীয়রা সমগ্র মুসলিম বিশ্ব দখল করে মুসলমানদেরকে গোলাম বানিয়ে কয়েক শতাব্দী শাসন, শোষণ, নিপীড়ন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মুসলিম দেশগুলো ভৌগোলিকভাবে স্বাধীনতা পায় কিন্তু ইউরোপীয়রা যাবার সময় তাদের আদর্শ আমাদের উপর চাপিয়ে রেখে যায়, এখনো আমরা অর্থাৎ মুসলিম নামক জনগোষ্ঠী তারেদ আদর্শিক গোলাম। আমরা আল্লাহর হুকুম প্রত্যাখ্যান করে তাদের হুকুম, তাদের আদর্শ, তাদের শিক্ষাব্যবস্থা, তাদের সংস্কৃতি, তাদের পোশাক, তাদের সমস্ত কিছু গ্রহণ করেছি কিন্তু তাতেও আমাদের রক্ষা হচ্ছে না। এখন তারা টর্গেট করেছে মুসলিম নামক এই জাতিকে। ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে স্বাধীনতা পাবার জন্য এ জাতির লক্ষ লক্ষ প্রাণ গিয়েছে কিন্তু তাতে কী লাভ হলো, এখন তো আবার আমরা তাদের গোলাম হলাম। একটার পর একটা মুসলিম দেশ তারা দখল করে নিচ্ছে, ধ্বংস করে দিচ্ছে, আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করছে, শিশুরা পর্যন্ত প্রাণ হারাচ্ছে, কোটি কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে, তাদের দেশে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করছে। বাংলাদেশ যেহেতু মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশ, কাজেই আমরাও তাদের এই টার্গেটের বাইরে নয়। তারা আমাদের দেশকে নিয়েও ষড়যন্ত্র করছে। ইস্যু হিসাবে নিয়েছে জঙ্গিবাদকে। আমাদের দেশকে যদি কোনোভাবে জঙ্গিরাষ্ট্র প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমাদের দেশেও আক্রমণ করতে পারবে তারা। এখন বাঁচতে হলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাবতীয় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতিসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের আল্লাহ এক, রসুল এক, কেতাব একটা তাহলে আমরা কেন এত ভাগে বিভক্ত? আমাদেরকে আজ যাবতীয় বিভেদের দেওয়াল চ‚র্ণ করে সীসাগলোনো প্রচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আমাদেরকে মুসলিম পরিচয় ধারণ করেই বাঁচতে হবে, আমাদেরকে আল্লাহর হুকুম তথা তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শিয়াদেরকে বলতে হবে- ভই, তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে, সুন্নীদেরকেও বলতে হবে, তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে, শাফেয়ী, হানাফি, হাম্বলী, মালেকী, আহলে হাদিস সকলকে বলতে হবে ভাই তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে এভাবে তর্ক-বিতর্ক আর বাহাস করতে থাকলে, এখন এসো ঐক্যবদ্ধ হই। গণতান্ত্রিকদেরকে বলতে হবে এসো দেশ রক্ষা করি, সমাজতন্ত্রীদেরকে বলতে হবে এসো মাটি রক্ষা করি, সনাতনদেরকে বলতে হবে এসো একসাথে হই, ভাই-ভাই হই, না হলে আমাদের কিছুই থাকবে না। সকলে আজ ঐক্যবদ্ধভাবে ধর্মের অপব্যবহার রোধ করতে হবে। ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা আর চলবে না, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি চলবে না, ধর্মকে ব্যবহার করে জঙ্গিবাদী তাণ্ডব আর চলবে না। এই সত্য মানুষের মাঝে প্রচার করাই এখন আমাদের জেহাদ, আদর্শিক জেহাদ। এটাই কাউন্টার ন্যারেটিভ।
তিনি বলেন, আজ মুসলমানদেরকে আবার কলেমার উপরে, এক আল্লাহর হুকুমের উপরে তথা যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, অন্যায় যে-ই করুক তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, এর পর জীবন-সম্পদ দিয়ে মানুষের কল্যাণে সংগ্রাম করতে হবে। যদি আমরা এটা করতে পারি তবেই আমরা হবো মো’মেন। আর মো’মেনদের সাথে আল্লাহর ওয়াদা- তিনি মো’মেনদেরকে খেলাফত, কতৃত্ব দিবেন, তিনি মো’মেনদেরকে রক্ষা করবেন, তিনি মো’মেনদেরকে বিজয় দান করবেন, তিনি মো’মেনদেরকে হাতাশ হতে নিষেধ করেছেন, তিনি মো’মেনদেরকে পরকালে জান্নাত দিবেন। কাজেই এখন আমাদেরকে সত্যিকারের মো’মেন হতে হবে। হেযবুত তওহীদ কেবল সেই মো’মেন হবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইনশাল্লাহ আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারও পরওয়া করি না, কেউ আমাদেরকে রুখতে পারবে না। আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।
তিনি কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন এবং হেযবুত তওহীদের মূলনীতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হেযবুত তওহীদের সদস্যরা কখনোই অবৈধ অস্ত্রের সংস্পর্শে যাবে না, কর্মক্ষম সকলেই বৈধ পন্থায় উপার্জন করবে, ধর্মের কাজ করে কোনো বিনিময় নেবে না এবং স্বার্থের এই রাজনীতির সাথে জড়াবে না কারণ এগুলো হেযবুত তওহীদের মৌলিক নীতি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আলহাজ্ব আইয়ুব আলী তার বক্তব্যে বলেন, আজ পৃথিবীব্যাপী মুসলমানদেরকে নিয়ে যেভাবে ষড়যন্ত্র চলছে তাতে আমাদেরকে সজাগ ও সচেতন হতে হবে, না হলে আমাদের উপরও এ ষড়যন্ত্র আপতিত হবে। রসুলাল্লাহ (সা.) আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সমাজে এসে যাবতীয় সন্ত্রাস, হানাহানি, অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে সমাজ থেকে সেগুলো দূর করেছেন কাজেই ইসলামে সন্ত্রাস থাকতে পারে এমন কথা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। রসুলাল্লাহর একটি উপধি ছিল আল-আমিন তথা বিশ্বাসী, সত্যবাদী কিন্তু আমরা আজ আল-আমিন হতে পারিনি, আমরা কেবল মিথ্যা বলি। আমাদেরকে মিথ্যা ত্যাগ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। হেযবুত তওহীদ এই বাংলাদেশ থেকে যে মহান আদর্শ নিয়ে কাজ করছে এটা আমি দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি। তাদের উদ্যোগ অত্যন্ত মহৎ ও বিরাট। আমরা অধিকাংশ মানুষই “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থ সঠিকভাবে জানি না, এর অর্থ জেনে আমাদেরকে এর উপর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আল্লাহর হুকুম মান্য করতে হবে।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ