ধর্মব্যবসায়ীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, ষড়যন্ত্র রুখে দিন

মসীহ উর রহমান:
প্রিয় দেশবাসী,
আস্সালামু আলাইকুম। কিছুদিন পর পরই মানবতার কল্যাণে নিবেদিত, অরাজনৈতিক ধর্মীয় আন্দোলন হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ধর্মব্যবসায়ী একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী হাজারো মিথ্যা, বানোয়াট অপবাদ রটনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষের ধর্মানুভূতিকে উস্কানি দিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা ও তাণ্ডব সৃষ্টি করে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের উপরে হামলা চালানো। তাদের এই মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের সচেতন করার জন্য আমাদের মূল বক্তব্য কী তা তুলে ধরছি:
১. সমগ্র মানবজাতি বর্তমানে যে যুদ্ধ-রক্তপাত, অন্যায় অশান্তিতে নিমজ্জিত তা থেকে মানুষকে রক্ষা পেতে হলে তাদেরকে এক আল্লাহর সৃষ্টি ও এক পিতা-মাতার সন্তান হিসাবে আল্লাহর হুকুম মেনে নিতে হবে। আমরা হেযবুত তওহীদ ইসলামের সেই প্রকৃত শিক্ষাকেই সর্বসাধারণের সামনে তুলে ধরতে মাঠে ময়দানে কাজ করছি।
২. আমরা মুসলমান জাতি সংখ্যায় ১৬০ কোটি হয়েও পৃথিবীর সর্বত্র লাঞ্ছিত, অপমানিত, নির্যাতিত ও উদ্বাস্তু। এর মূল কারণ আমরা নামাজ, রোজাসহ বহু আমল করে গেলেও জাতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ নেই। আমরা শিয়া সুন্নী, হানাফি, হাম্বলি, আহলে হাদিস, ওয়াহাবি, সালাফি, লা মাজহাবি ইত্যাদি হাজার হাজার ফেরকা-মাজহাব, তরিকা, দল-উপদলে বিভক্ত। ফলে পৃথিবীতে আমরা শক্তিহীন, প্রভাবহীন ও দুর্বল হয়ে পড়েছি। এ দুরবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পাওয়ার একটাই পথ – তওহীদ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মোহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ (সা.) এই পাক কলেমার উপর দল-মত, ফেরকা-তরিকা নির্বিশেষ সকল মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
৩. সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলো পৃথিবীময় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদির বিস্তার ঘটিয়ে সেগুলোকে ইস্যু করে আগ্রাসন চালিয়ে একটার পর একটা দেশ ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের দেশেও জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করেছে। এই মতবাতগত সন্ত্রাস কেবল শক্তি প্রয়োগে নির্মূল করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন এমন একটি আদর্শ যা দিয়ে ধর্মের নামে চলমান এই সকল জাতিবিনাশী মতবাদকে অসার ও ইসলামবিরোধী বলে প্রমাণ করা যায়। আমাদের দেশটিও সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত না হয় সে লক্ষ্যে আমরা সেই আদর্শটি তুলে ধরে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।
৪. ইসলাম এসেছে মানবতার কল্যাণে। ইসলামের যে কোনো কাজ করে অর্থ গ্রহণ করা আল্লাহ হারাম করেছেন (সুরা বাকারা ১৭৪, সুরা ইয়াসিন ২১ সহ পবিত্র কোর’আনের বহু আয়াত)। আল্লাহর অভিপ্রায় হচ্ছে ইসলামের যে কোনো কাজ করতে হবে নিঃস্বার্থভাবে, এর বিনিময় (সওয়াব) গ্রহণ করবে আল্লাহর কাছ থেকে।
৫. আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে যাবতীয় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, দুর্নীতি, মাদক, অপসংস্কৃতি, সামাজিক অপরাধ, অপরাজনীতি, ধর্মব্যবসা, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন সবকিছু থেকে নিরাপদ রাখতে হলে সমগ্র জাতিকে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের পক্ষে, হকের পক্ষে ইসপাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই অর্থেই আমরা বলেছি – একজাতি একদেশ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। মাটি বাঁচলে মসজিদ-মাদ্রাসা বাঁচবে, স্কুল কলেজ ঘরবাড়ি থাকবে। আর মাটি না থাকলে উদ্বাস্তু শিবিরে বাস করতে হবে নয়তো মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গাদের লক্ষ লক্ষ মানুষের মত করুণ মৃত্যুবরণ করতে হবে।
৬. হেযবুত তওহীদের এই যে সংগ্রাম এর পেছনে আমাদের কোনো জনপ্রিয়তার মোহ, অর্থনৈতিক স্বার্থ বা রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই। ঈমানী চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এ আন্দোলনটির ব্যয়ভার বহন করে এর দরিদ্র খেটে খাওয়া সদস্যরা। বাইরের কারো থেকে আমরা একটি পয়সাও গ্রহণ করি না।
৭. আমাদের এক আল্লাহ, এক রসুল (সা.), এক কেতাব। কাজেই আমরা বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত থাকতে পারি না, হানাহানি করতে পারি না।  আমাদের জাতিও হওয়া উচিত অখণ্ড, লক্ষ্য হওয়া উচিত অভিন্ন। হাশরের দিন আমাদেরকে এই জীবন সম্পর্কে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণ করাই হচ্ছে একজন প্রকৃত মো’মেনের জীবনের লক্ষ্য আর সেই শান্তির নামই হচ্ছে ইসলাম। আল্লাহর কাছে এই ইসলামই হচ্ছে গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা। আমাদের জাতি হবে একদিকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, প্রগতিতে, নতুন নতুন আবিষ্কারে, আর্থিক ও সামরিক শক্তিতে বলীয়ান, অন্যদিকে ন্যায়, নীতি, আদর্শে শক্তিশালী, দেহ-আত্মার সমন্বয়ে এক ভারসাম্যপূর্ণ জাতি।
শেষ কথা হলো, আল্লাহ কোর’আনময় বলেছেন, পড়ো, জানো, শোনো- তারপর সিদ্ধান্ত নাও। তিনি বলেন, “হে মো’মেনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে তোমরা সেটার সত্যমিথ্যা পরীক্ষা করবে, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও। এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও (সুরা হুজরাত ৬)। আমাদের নিয়েও বহু অপপ্রচার চলছে, সন্দেহ সৃষ্টি করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিবেকবান মানুষেরা কখনও একপক্ষের কথা শুনেই কারো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। তারা উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনেন। দেশের অধিকাংশ জেলাতেই আমাদের কার্যালয় রয়েছে, বই-পত্রিকা, অনলাইনের মাধ্যমে আমাদের বক্তব্য এখন সবার হাতের নাগালে। আমাদের একটাই চাওয়া, আমাদের বক্তব্য কী আপনারা জানুন। এটুকুই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ