দুনিয়া ত্যাগ করা নয় দুনিয়া সুন্দর করাই ইসলাম

এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী:

দীন এবং দুনিয়া এই দুটি শব্দের সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত। বিশেষ কোরে পরিচিত তাদের কাছে যারা মসজিদে যাতায়াত করেন তাদের কাছে, কারণ অধিকাংশ মসজিদেই লেখা থাকে, “মসজিদ এবাদতের জায়গা, এখানে দুনিয়ার কথা বলা নিষেধ” অথবা “মসজিদে দুনিয়ার কথা বলা হারাম”। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ কোরে যারা সওয়াবের আশায়, পরকালে জান্নাতের আশায় মসজিদে যান তাদের জন্য। এজন্যই দীন ও দুনিয়ার প্রকৃত অর্থ কি তা অবশ্যই আমাদের ভালভাবে বুঝে নিতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত বিকৃত ইসলামে দীনের অর্থ করা হয় ধর্ম সেই অর্থে মসজিদ হোল শুধু ধর্ম, কর্মের জায়গা। আর এখন অবস্থা এমন হোয়ে দাঁড়িয়েছে যে মসজিদ শুধু নামায, জিকির, কোর’আন পাঠ করার জায়গা এখানে অন্য কিছু করা হারাম।
প্রায়ান্ধত্বের কারণে, দৃষ্টির সংকীর্ণতার ফলে আকীদার, দীনের উদ্দেশ্যের সাংঘাতিক বিকৃতি এই দীনকে, এই দীনের প্রকৃত উদ্দেশ্যই ধ্বংস কোরে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আকীদার, উদ্দেশ্যের এই বিকৃতি দীনকে শুধু ধ্বংসই করে নি, উদ্দেশ্যকেই উল্টো কোরে দিয়েছে। এই বিকৃতি দীনের শুধু ছোট ছোট ব্যাপার নয়, এর একেবারে মূল, বুনিয়াদী বিষয়গুলিকেও পাল্টে দিয়েছে। যে তওহীদের উপর শুধু এই শেষ দীন নয়, আদম (আ:) থেকে মোহাম্মদ (দ:) পর্যন্ত প্রতিটি দীন প্রতিষ্ঠিত, সেই তওহীদ পর্যন্ত আকীদার (ঈড়হপবঢ়ঃ) বিকৃতির ফলে শুধু আংশিক অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ হোয়ে গেছে। অথচ আংশিক তওহীদ যে তওহীদই নয়, সেটা যে খাঁটি শেরক এবং সেই শেরকের মধ্যে বাস কোরে শুধু যে কোন এবাদতই যে আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না তাই নয়, এই শেরক মাফ না করার জন্য আল্লাহ প্রতিশ্র“তিবদ্ধ সে উপলব্ধিই হারিয়ে গেছে এবং সারা দুনিয়াময় এই জাতি মহা সমারোহে নিষ্ফল নামায, রোজা, হজ্জ্ব যাকাত এবং আরও বহু নফল এবাদত কোরে যাচ্ছে। বুনিয়াদী বিষয়গুলি সম্বন্ধেই যেখানে আকীদা বিকৃত সেখানে ছোট ছোট বিষয়গুলি সম্বন্ধে তো কথাই নেই। এমনিভাবে কোর’আনের কতকগুলি শব্দের অর্থ পর্যন্ত আল্লাহ যে অর্থে ও উদ্দেশ্যে ব্যবহার কোরেছেন তা থেকে অন্য অর্থে ব্যবহৃত হোচ্ছে। মূল বিষয় সম্বন্ধে যখন ধারণা বিকৃত হয় তখন ঐ বিকৃতি ঐ সমগ্র বিষয়টির ছোট বড় সব কিছুকেই বিকৃত কোরে দেয়। এমনি একটি শব্দ ‘দুনিয়া’। কোর’আনে আল্লাহ ‘দুনিয়া’ শব্দটি যে অর্থে ব্যবহার কোরেছেন, মহানবী (দ:) যে অর্থে ব্যবহার কোরেছেন আজ সে অর্থে ব্যবহার হয় না। এই পরিবর্তন আরম্ভ হলো তখনই যখন এই দীনে ভারসাম্যহীন সুফীবাদ প্রবেশ করলো। সুফীবাদের সব কিছু শুধু আত্মার বিষয় নিয়ে অর্থাৎ ভারসাম্যহীন, পক্ষান্তরে আল্লাহ ও তার রসূলের (দ:) শেখানো ইসলাম হলো দীনে ওয়াসাত (কোর’আন- সূরা আল-বাকারা-১৪৩) দুনিয়া ও আখেরাতের, দেহের ও আত্মার, শরীয়াহ ও আধ্যাত্মিকতার এক বিষ্ময়কর ভারসাম্যযুক্ত মিলন। সুতরাং এই দীনের যে কোন একটাকে এমন কি আংশিকভাবেও ছেড়ে দিলে এর ভারসাম্য নষ্ট হোয়ে যায়। পূর্ববর্তী ‘ধর্ম’গুলির যে বিকৃত রূপ আজ পৃথিবীতে বর্তমান, সেগুলিতে শুধু আত্মার ও আধ্যাত্মিক উন্নতির দিকটাই আছে। সূফীবাদ ঐগুলির মত আত্মার শুদ্ধির প্রক্রিয়াকেই একমাত্র কর্তব্য বোলে মনে করে, এবং এটা তাদের ধর্ম-কর্মের উদ্দেশ্য, আকীদা। ঐ বিকৃত ‘ধর্ম’গুলির ও সূফীবাদের আত্মার উৎকর্ষ ও কেরামত করার শক্তি জন্মালেই হলো, বাকি পৃথিবীর মানুষ যত খুশী অন্যায়-অবিচার করুক, দুর্বলের উপর সবল যত পারে অত্যাচার করুক, মানুষে মানুষে যত রক্তপাত হোক অর্থাৎ সমস্ত দুনিয়ার সকল মানুষ যদি চুড়ান্ত অশান্তির মধ্যেও থাকে তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। কিন্তু শেষ ইসলাম এসেছে সমস্ত দুনিয়াময় শান্তি (ইসলাম) প্রতিষ্ঠা কোরতে, সকল মানুষকে শান্তি দিতে এবং তাও সংগ্রামের মাধ্যমে। যেখানে এই দুনিয়াতেই একটি জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, সেখানে সেই দুনিয়াকেই ত্যাগ বা তার গুরুত্ব কমিয়ে দেয়া কি কোরে সম্ভব হোতে পারে? আল্লাহ কোর’আনে মো’মেনদের প্রতিশ্র“তি দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি তাদের পৃথিবীর জমিন ও ক্ষমতা দান কোরবেন, যেমন তিনি পূর্ববর্র্তী মো’মেনদেরও দান কোরেছিলেন (কোর’আন- সূরা আন-নূর-৫৫)। মো’মেনদের যে তিনি পৃথিবীর উপর আধিপত্য, শক্তি দিতে প্রতিশ্র“তি দিচ্ছেন এ ব্যাপারে একটিমাত্র আয়াত উদ্ধৃত করা হোল, কোর’আনে এ প্রতিশ্র“তি অনেক বার আছে। পৃথিবীর জমিন ও ক্ষমতার সোজা অর্থ সে রাষ্ট্রীয় শক্তি ও আধিপত্য তা বুঝতে কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নাই। যে জাতির উদ্দেশ্যই হলো পৃথিবীর রাষ্ট্রশক্তি অধিকার কোরে আল্লাহর দেয়া আইন-কানুন প্রতিষ্ঠা করা- সে জাতির কাছে দুনিয়া শব্দের অর্থ এবং অন্
যান্য বিকৃত ধর্ম ও সুফিবাদের কাছে দুনিয়া শব্দের অর্থ অবশ্যই একই অর্থ হোতে পারে না এ কথা সাধারণ জ্ঞানেই (Common Sense) বোঝা যায়। শেষ ইসলামের উদ্দেশ্য ও বিকৃত ধর্মগুলির ও সুফীবাদের উদ্দেশ্য একেবারে বিপরীতমুখী। বর্তমানে এই উম্মাহ তার অস্তি ত্বের অর্থ ও উদ্দেশ্যের ঠিক বিপরীত দিকে চোলছে, তাই দুনিয়া শব্দের অর্থও তার কাছে পূর্ববর্তী অন্যান্য বিকৃত ধর্মগুলির মতই হোয়ে গেছে। কোর’আনে আল্লাহ ও হাদীসে তার রসুল (দ:) দুনিয়া শব্দ বোলতে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছেন। সেটা হলো এই- আল্লাহ ও তার রসুল (দ:) এই জাতির, উম্মাহর জন্য যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্থির কোরে দিয়েছেন অর্থাৎ সংগ্রামের মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীতে আল্লাহর তওহীদ ভিত্তিক দীন, দীনুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের পথে এই পৃথিবীতে, পার্থিব জীবনে যা কিছু বাধা হোয়ে দাঁড়াবে তাই দুনিয়া। আল্লাহ এই দুনিয়াকে প্রত্যাখ্যান বা ত্যাগ কোরতে বলেন নি, যদি ত্যাগ কোরতে বোলতেন তাহোলে তিনি কখনই আমাদেরকে এই দোয়া কোরতে বোলতেন না যে, “হে আমাদের পালনকারী! আমাদের এই দুনিয়াকে সুন্দর কোরে দাও এবং আখেরাতকেও সুন্দর কোরে দাও” (কোর’আন- সূরা আল-বাকারা-২০১) শুধু তাই নয়, আল্লাহ আমাদের যে দোয়া শিখাচ্ছেন সেটাতে আখেরাত অর্থাৎ পরজীবনকে আগে বোলে দুনিয়া জীবনকে পরে বোলতে পারতেন। বলেন নি, আগে দুনিয়া তারপর আখেরাত বোলেছেন এবং সঠিক বোলেছেন। কারণ দুনিয়ার এই জীবন আমাদের পরীক্ষা ক্ষেত্র, কর্মক্ষেত্র। এই জীবনেরই প্রতিফলন হবে আমাদের আখেরাত অর্থাৎ দুনিয়াতে আমরা তা কোরব তাই আখেরাতে পাব। কর্মক্ষেত্রই যদি আমাদের অসুন্দর হয়, ব্যর্থতাময় হয় তবে অবশ্যই আখেরাতও হবে অসুন্দর, ব্যর্থ। আজকের ‘মুসলিম’ দাবীদার এই জাতির ইহজীবন, দুনিয়ার জীবন যেমন অশিক্ষায়, কুশিক্ষায়, দারিদ্র্যে, ক্ষুধায় জর্জরিত, পরজীবনও হবে তেমনি কুৎসিত, ইহকালে যেমন অন্যান্য জাতির ঘৃণার, অবজ্ঞার পাত্র, পরকালেও হবে তেমনি ঘৃণার পাত্র, এই জীবনে যেমন অন্যের অনুকরণ, নকলকারী- ঐ জীবনেও দাঁড়াতে হবে তাদেরই সাথে। কাজেই আল্লাহ প্রথমে দুনিয়া বোলছেন। ‘ধার্মিকরা’ যে আকীদায় দুনিয়া দেখেন তাই যদি ঠিক হতো অর্থাৎ এ দুনিয়া কিছু নয় এর কোন দাম নেই, এটা অত্যন্ত ঘৃণ্য জিনিস, আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা, তবে দুনিয়াকে সুন্দর করার জন্য আল্লাহ দোয়া করতে নিশ্চয়ই বোলতেন না, বোলতেন দুনিয়া ত্যাগ করো। আরও একটা বিষয় লক্ষ্য করার আছে। দুনিয়া ও আখেরাতকে সুন্দর করার দোয়া শিখিয়ে তারপর আল্লাহ বোলছেন, “এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো।” অর্থাৎ যার দুনিয়া ও আখেরাত দুটোই সুন্দর, শুধু সেই রক্ষা পাবে আগুনের শাস্তি থেকে। আবার সেই ভারসাম্য, সেই পুলসেরাতের কথা এসে যাচ্ছে। পুলসেরাত যে পার হোতে পারবে না, যার ভারসাম্য নেই, সে পড়বে কোথায়? অবশ্যই আগুনে, কারণ পুলসেরাত জাহান্নামের উপর থাকবে।
সুতরাং সত্যনিষ্ঠ মো’মেনের নিকট দুনিয়া শব্দের অর্থ ও আকীদা হলো, সে এই পার্থিব জীবনকে যতটুকু সম্ভব সুন্দর কোরতে চেষ্টা কোরবে। এই পৃথিবীতে সে যত কাজ কোরবে তা যত সম্ভব সুন্দর কোরে, নিখুঁত কোরে কোরতে চেষ্টা কোরবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, যার যে পেশা, বৃত্তি, দায়িত্ব সেগুলোতে সে তার পক্ষে যতদূর সম্ভব সুষ্ঠুভাবে সুন্দরভাবে কোরতে চেষ্টা কোরবে। এটা দুনিয়া নয় দীনদারী। বরং কেউ যদি তার পেশায়, দায়িত্বে গাফলতি করে, তার কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না করে তবে সেটাই হবে দুনিয়াদারী, গোনাহ। নবী করীম (দ:) বোলেছেন- যখন এই দুনিয়ার কাজ কোরবে তখন এমনভাবে কোরবে যেন তুমি অমর, চিরঞ্জীব, আর যখন দীনের কাজ কোরবে তখন এমনভাবে কোরবে যেন তুমি পরের দিন মারা যাবে। আবার সেই ভারসাম্য, ওয়াসাত। যতক্ষণ একটা মানুষ অন্যকে না ঠকিয়ে, মিথ্যা না বোলে সততার সাথে তার পেশা কোরে যাবে, উপার্জন কোরবে ততক্ষণ সে এবাদত কোরছে, দীনের কাজ কোরছে। আর যে মুহূর্তে সে কোন কাজে মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নেবে সেই মুহূর্র্তে সে দুনিয়ায় পতিত হবে। একদিন ফজরের নামাযের পর মহানবী (দ:) মসজিদে বসা ছিলেন, এমন সময় দেখা গেলো এক যুবক রাস্তা দিয়ে হন্ হন্ কোরে বাজারের দিকে যাচ্ছে। একজন সাহাবা (রা:) বোললেন- যুবকটা দুনিয়ার কাজে যাচ্ছে, কত না ভালো হতো যদি সে এখানে এসে বসতো। এ কথা শুনে রসুলাল্লাহ (দ:) প্রতিবাদ কোরে বোললেন- যদি সে তার পরিবার পোষণের জন্য হালাল উপার্জনের জন্য, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বাজারের দিকে যেয়ে থাকে তবে তার প্রতি পদক্ষেপে সওয়াব লেখা হোচ্ছে। লক্ষ্য কোরুন মহানবী (দ:) হালাল উপার্জন উল্লেখ কোরলেন। যদি সে ঐ ব্যবসা-বাণিজ্য বা যে কোন পেশায় মিথ্যার আশ্রয় নেয় তবে আর তা এবাদত রোইল না, দুনিয়া হোয়ে গেলো। ঐ হালাল উপার্জন দিয়ে ভালোভাবে থাকায়, ভালোভাবে খাওয়া-পরায় ইসলামে বাধা নেই, কোন নিষেধ নেই। কিন্তু ঐ উপার্জন ঐ সম্পদ যদি তাকে আল্লাহর রাস্তায় কোন কাজ থেকে বিরত করে, দীনের কাজে ব্যয় করা থেকে বিরত করে তখন তা দুনিয়া। শুধু সম্পদ নয়, এই পৃথিবীর যা কিছু আল্লাহর রাস্তায় বাধা হবে তাই দুনিয়া। সেটা সম্পদ হোক, স্ত্রী-পুত্র-পরিজন হোক, যাই হোক। ঐ দুনিয়াকে আল্লাহ রসুল (দ:) ত্যাগ কোরতে বোলেছেন। শুধু যে ভালোভাবে থাকা, ভালো খাওয়া-পরা তাই নয়, সাজ-সজ্জা, আড়ম্বর, জাঁক-জমক পর্য্যন্ত আল্লাহ মুসলিমদের নিষিদ্ধ করেন নাই। যিন্ত শব্দের অর্থ হলো সাজ-সজ্জা, জাঁক-জমক, আড়ম্বর ইত্যাদি। আল্লাহ তার রসুলকে বোলছেন- বলো, আল্লাহ তাঁর উপাসকদের, আবেদদের (মানবজাতি) জন্য যে সাজ-সজ্জা, জাঁক-জমক দান কোরেছেন, এবং যে হালাল ও পবিত্র সম্পদ (জীবিকা) দান কোরছেন, তা কে নিষিদ্ধ করলো? (আরও) বলো- ঐগুলি (সাজ-সজ্জা, জাঁক-জমক, আড়ম্বর ইত্যাদি) এই পৃথিবীর জীবনের জন্য (সবার জন্য) এবং কেয়ামতের দিনে শুধু মো’মেনদের জন্য (কোর’আন- সূরা আল-আ’রাফ-৩২)। আবার ঐ যিনাত সম্বন্ধেই অন্য সূরায় বোলছেন- জেনে রাখ, এই পৃথিবীর জীবন আমোদ-প্রমোদ, জাঁক-জমক, দম্ভ ও সম্পদ, সন্তান বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কি (কোর’আন- সূরা আল-হাদীদ-২০)? আপাতঃ দৃষ্টিতে দু’রকমের কথা মনে হয়। কিন্তু আসলে দু’রকমের নয়। আল্লাহ বৈরাগ্য নিষিদ্ধ কোরেছেন তাই পার্থিবভাবে উন্নত জীবন-যাপন, এমন কি আড়ম্বর, জাঁকজমকও নিষিদ্ধ করেন নি। কিন্তু জেনে রাখতে হবে এবং সর্বদা মনে রাখতে হবে যে আসলে এগুলি মূল্যহীন, আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহর রসূলের দীনের কাজে ওগুলি বিনা দ্বিধায় কোরবানী কোরতে হবে। প্রয়োজনের সময় যদি ওগুলি ত্যাগ, কোরবানী না করা যায় তবেই তা দুনিয়া হোয়ে গেলো।

(চোলবে)
[সমস্ত পৃথিবীময় অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ ও রক্তপাত ইত্যাদি নির্মূল করে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সনে এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদ নামক আন্দোলনটি প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ তাঁকে প্রকৃত ইসলামের যে জ্ঞান দান কোরেছেন তা তিনি যতটা সম্ভব হোয়েছে বই-পুস্তক লিখে, বক্তব্যের মাধ্যমে প্রচারের চেষ্টা কোরেছেন। এই নিবন্ধটি যামানার এমামের বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্য থেকে সম্পাদিত।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ