দাজ্জালীয় সভ্যতা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে বিশ্বকে?

মোহাম্মদ আসাদ আলী
আখেরী নবীর ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে সবচাইতে গুরুতর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে দাজ্জাল বিষয়ক, যার ফেতনা থেকে রসুল (সা.) নিজেই পানাহ চেয়েছিলেন আল্লাহর কাছে। কিন্তু এতবড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম জাতির অসচেতনতা ও অন্ধত্বের পরিণতি দাঁড়িয়েছে এই যে, ইতোমধ্যেই দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করে সমগ্র মানবজাতিকে দিয়ে আল্লাহর রব্যুবিয়াত ও উলুহিয়্যাত অস্বীকার করিয়ে নিজেকে রব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে এবং মুসলিম নামধারী জাতিটিসহ সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলেছে। পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী স্রষ্টাষ্টাহীন যান্ত্রিক সভ্যতাই সেই দাজ্জাল যাকে আল্লাহর রসুল রূপকভাবে বর্ণনা করে গেছেন।
১৫৩৭ সালে ইংল্যান্ডের রাজা ৮ম হেনরির রাজত্বকালে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, মানুষের জাতীয় জীবনে আর ধর্মের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, ফলে জন্ম হয় দানব দাজ্জালের। এরপর বিগত কয়েকশ’ বছরের পরিক্রমায় শৈশব কৈশোর পার হয়ে এই দানব এখন যৌবনে উপনীত হয়েছে, সারা পৃথিবী এখন এই স্রষ্টাষ্টাহীন, আত্মাহীন বস্তুবাদী সভ্যতার পায়ে সেজদাবনত হয়ে আছে যেমনটা হাদীসের বর্ণনায় পাই।
হাদীসে দাজ্জাল কেমন হবে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহর রসুল বলেছেন, ‘আদম (আ.) থেকে কেয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় কিছু ঘটবে না (মুসলিম)।’ নিঃসন্দেহে পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী সভ্যতার জন্ম তেমনি বড় একটি ঘটনা যার চেয়ে গুরুতর ও সংকটজনক কিছু আসলে ঘটতেই পারে না। কেননা পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বদাই মানুষ বিকৃতভাবে হলেও আল্লাহর হুকুম মেনে এসেছে, রাজা ও পুরোহিতরা কখনও কখনও নিজেদের মনগড়া বিধান দিয়েছে কিন্তু সেটাকেও আল্লাহর বিধান বলেই চালানো হয়েছে, কখনই মানুষ আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের চলার পথ নিজেরাই রচনা করে নেওয়ার মত চরম ধৃষ্টতা দেখায়নি। কিন্তু পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতার জন্মই হলো আল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে, আল্লাহর হুকুম-বিধানকে বাতিল করে দিয়ে, আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌমত্ব মানুষের নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে। এর চেয়ে বড় ঘটনা আর কী হতে পারে? অবশ্য এর পরিণতিও ইতিহাসের সকল বিপর্যয়কে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অন্য কিছু বাদ দিলেও এই সভ্যতা মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে যে দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটিয়ে ১৩ কোটি বনি আদমের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে সারা পৃথিবীকে ভয়াবহ পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে সেটাকেও কিন্তু মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বা সংকট বললে ভুল হয় না।
এক হাদীসে আল্লাহর রসুল বলেন, ‘দাজ্জাল ইহুদি জাতির মধ্য থেকে উত্থিত হবে এবং ইহুদি ও মোনাফেকরা তার অনুসারী হবে (মুসলিম)।’ এই বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদেরকে পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতার জন্মের ইতিহাস সবিস্তারে জানতে হবে যা ‘দাজ্জাল? ইহুদি খৃষ্টান সভ্যতা!’ বইতে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে পাঠকদের শুধু এটুকু জানিয়ে রাখতে পারি- আজকের পশ্চিমা বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতা আপাতদৃষ্টিতে খৃষ্টীয় সমাজে জন্মগ্রহণ করেছে বলে মনে হলেও আদতে খৃষ্টান ধর্মের গোড়াও ইহুদি ধর্মে প্রোথিত, তাই দাজ্জালের জন্ম সম্পর্কে বলতে গিয়ে একেবারে গোড়ায় গিয়ে আল্লাহর রসুল ইহুদি জাতির কথা বলেছেন, আর মোনাফেক বলতে ঐসমস্ত নামধারী মুসলিমকে বুঝিয়েছেন যারা একদিকে প্রতিনিয়ত সাক্ষ্য দিচ্ছেন আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ (হুকুমদাতা) নেই, অন্যদিকে আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় জীবনে দাজ্জালের তৈরি হুকুম-বিধান মেনে নিয়েছেন। এমন দ্বিমুখী নীতি অবশ্যই মোনাফেকের চরিত্র।
আরেকটি হাদীসে রসুল বলেছেন, ‘দাজ্জাল নিজেকে মানুষের রব বলে ঘোষণা করবে এবং মানবজাতিকে বলবে তাকে রব বলে স্বীকার করে নিতে (বোখারী)।’ বাস্তবিকই তাই হয়েছে। পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী সভ্যতা কার্যত মানবজাতির রবের ভূমিকায় উপনীত হয়েছে। তার দাবি হচ্ছে, ‘তোমরা যে যার মত ধর্মকর্ম কর আমার আপত্তি নাই, কিন্তু সেটা যেন ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে। ভুলেও জাতীয় জীবনে আল্লাহ, রসুল, ধর্মকে টেনে এনো না। সেখানে কেবল আমার হুকুম-বিধান চলবে।’ দাজ্জালের এই দাবি মানুষ মেনে নিয়েছে।
দাজ্জালের পরিচিতি বোঝাতে গিয়ে রসুল বলেছেন, ‘দাজ্জালের বাহনের দুই কানের মধ্যে দূরত্ব হবে সত্তর হাত (বায়হাকী, মেশকাত)।’ আরবিতে সত্তর বলতে অসংখ্য বোঝায়। অর্থাৎ বোঝানো হচ্ছে দাজ্জালের বাহনের দুই কানের মধ্যে অসংখ্য দূরত্ব থাকবে। আসলে কথাটি রূপক অর্থে বলা হয়েছে যা দাজ্জালের শ্রবণক্ষমতার পরিচয় প্রদান করে। মূল ব্যাপার হচ্ছে দাজ্জাল অনেক দূরের কথাও শুনতে পারবে। পাঠকরা একটু ভেবে দেখুন, এর দ্বারা আধুনিক প্রযুক্তির রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ইত্যাদিকে বোঝানো হয়নি কি? পৃথিবীর একপ্রান্তে কিছু হলে মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর অপর প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে আধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে তা তো সবারই জানা।
আরেক হাদীসে রসুল বলেছেন, ‘দাজ্জালের গতি হবে অতি দ্রæত। বায়ুতাড়িত মেঘের মত আকাশ দিয়ে উড়ে চলবে (মুসলিম, তিরমিযি)।’ বলা বাহুল্য, পাশ্চাত্য সভ্যতার তৈরি এরোপ্লেন যখন আকাশ দিয়ে উড়ে যায় তখন সেটাকে বায়ুতাড়িত অর্থাৎ জোর বাতাসে চালিত এক খণ্ড মেঘের মতই দেখায়। আরেক হাদীসে আছে, ‘দাজ্জালের আদেশে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হবে (প্রাগুক্ত)।’ এটাও পাশ্চাত্য সভ্যতার বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি করে দেখিয়েছে বহু পূর্বেই। মেঘে রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে বৃষ্টি বর্ষণের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে- ‘দাজ্জালের গরু-গাভী, মহিষ, বকরি, ভেড়া, মেষ ইত্যাদি বড়বড় আকারের হবে এবং সেগুলোর স্তনের বোটা বড় বড় হবে (যা থেকে প্রচুর দুধ হবে) (প্রাগুক্ত)।’ তথ্যাভিজ্ঞ প্রতিটি লোকই জানেন যে, ইউরোপ, আমেরিকায় অর্থাৎ পাশ্চাত্য জগতের ঈধঃঃষব অর্থাৎ গরু-মহিষ-বকরি ইত্যাদির আকার বাকি দুনিয়ার ঐসব গৃহপালিত পশুর চেয়ে অনেক বড়, চার-পাঁচগুণ পর্যন্ত বেশি দুধ দেয়। বলা বাহুল্য, পাশ্চাত্য সভ্যতার বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি দিয়েই তা সম্ভব হয়েছে। আরেক জায়গায় রসুল বলেন, ‘দাজ্জাল মাটির নিচের সম্পদকে আদেশ করবে ওপরে উঠে আসার জন্য এবং সম্পদগুলো ওপরে উঠে আসবে এবং দাজ্জালের অনুসরণ করবে (প্রাগুক্ত)।’ এই হাদীসের ব্যাখ্যা বোঝার জন্য সাধারণ জ্ঞানই যথেষ্ট নয় কি? এক শতাব্দী পূর্বেও যেখানে মানুষ মাটির নিচের সম্পদ তুলে আনা তো দূরের কথা, এই সম্পর্কে খুবই সীমিত ধারণা রাখত, আজকে এই সভ্যতা আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই সেই সম্পদকে হস্তগত করছে ও সুবিধামত ব্যবহার করছে। আরেক হাদীসে দাজ্জালের ডানচোখ অন্ধ হবে বলতে (বোখারী, মুসলিম) রসুল বুঝিয়েছেন, পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী স্রষ্টাহীন আত্মাহীন সভ্যতার ‘স্রষ্টা আত্মা ও পরকাল’ বিষয়ে সীমাহীন অন্ধত্বকে। কেননা দেহ-আত্মার মধ্যে এই সভ্যতা কেবল দেখতে পায় দেহ, ইহকাল ও পরকালের মধ্যে দেখতে পায় কেবল ইহকালকে, যা স্পষ্টত অন্ধত্ব। এই সভ্যতা তার আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতি দিয়ে সৃষ্টির প্রতিটি অণু-পরমাণু পর্যন্ত দেখতে পায়, কিন্তু এক চোখ অন্ধ বলে এই সৃষ্টির যিনি স্রষ্টা তাকে দেখতে পায় না।
এখানে প্রশ্ন আসতে পারে আমরা কি তবে পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতার তৈরি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, যন্ত্রপাতি, যানবাহন, তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি ইত্যাদিকে দাজ্জাল বলছি? মোটেও কিন্তু তা নয়। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিই দাজ্জাল নয়, দাজ্জালের বাহনমাত্র। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি নিজে ভালো বা মন্দ হতে পারে না, ভালো বা মন্দ হতে পারে সেগুলোর ব্যবহার। একটি অস্ত্র দিয়ে নিরীহ মানুষ খুন করা যায়, আবার নিরীহ একজন মানুষকে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচানোও যায়, এতে অস্ত্রের কোনো দায় নেই, দায় সেই অস্ত্রের ব্যবহারকারীর। পাশ্চাত্য সভ্যতা বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে বলে তো আর বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিই নাজায়েজ হয়ে যেতে পারে না। এক হাদীসে আল্লাহর রসুল বলেছেন ‘দাজ্জালের সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের মত দুইটি জিনিস থাকবে। সে যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা হবে জাহান্নাম আর যেটাকে জাহান্নাম বলে সেটা জান্নাত (প্রাগুক্ত)।’ এর ব্যাখ্যায় প্রথম কথা হচ্ছে পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের মত সাম্যবাদী মতাদর্শও কার্যত দাজ্জালেরই তৈরি বস্তুবাদী একটি মতবাদ যা ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করার পর গড়ে ওঠে। গত শতকের ইতিহাস যারা ভালোমত জানেন তারা হয়ত খেয়াল করে থাকবেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনে সমাজতান্ত্রিক মতবাদ গৃহীত হবার পর তাদের প্রচারযন্ত্রের মাধ্যমে লক্ষ কোটি বার বলা হয়েছে যে সাম্যবাদী দেশে থাকা স্বর্গসুখের সমান। তারা তাদের সমাজটাকে সর্বদাই স্বর্গ (Paradise) বলে বাকি পৃথিবীকে সাম্যবাদ গ্রহণ করতে আমন্ত্রণ জানাত এবং বিশ্বনবী ঠিক ঐ জান্নাত অর্থাৎ চধৎধফরংব শব্দটাই ব্যবহার করেছেন। কিন্তু রসুলের ভবিষ্যদ্বাণী মোতাবেক দাজ্জালের সেই জান্নাত যে আদতে জাহান্নাম ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেখা গেল কিছুদিন যেতেই সেই স্বর্গ থেকে প্রাচীর টপকে বা ভেঙ্গে, নৌকায় করে জানের ঝুঁকি নিয়ে দলে দলে মানুষ পালানো শুরু করল। অন্যদিকে দাজ্জাল অর্থাৎ পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতা দিবারাত্রি যেই ধর্মকে অশান্তি (জাহান্নাম) ও নিপীড়নের কল বলে অপপ্রচার চালায় সেই ধর্মের শাসন এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিল যে মানুষ দরজা খুলে ঘুমাত, স্বর্ণের দোকান খোলা রেখে মসজিদে নামাজ পড়তে যেত, কেউ অপরাধ করলে নিজেই নিজের বিচার দাবি করত! এগুলো ইতিহাস। অর্থাৎ দেখা গেল পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতা যেটাকে বলল স্বর্গ সেটা আসলে নরক, আর যেটাকে বলা হলো নরক, সেটাই যুগ যুগ ধরে মানুষকে স্বর্গসুখ দিয়ে এসেছে, আজও দিতে সক্ষম।
দাজ্জালের শক্তি ও প্রতিপত্তি সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘দাজ্জালের শক্তি, প্রভাব ও প্রতিপত্তি পৃথিবীর সমস্ত মাটি ও পানি আচ্ছন্ন করবে। সমস্ত পৃথিবী চামড়া দিয়ে জড়ানো একটি বস্তুর মত তার করায়ত্ত হবে (মুসনাদে আহমদ)।’ এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয় যে, পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতা আজকে সমস্ত পৃথিবীর স্থলভাগ ও সমুদ্র আচ্ছন্ন করে আছে। সারা পৃথিবীকে এই সভ্যতা তার হাতের মুঠোয় পুরে রেখেছে। তার ইচ্ছার বাইরে যায় এমন কোনো শক্তি নেই। এই যদি দাজ্জাল না হয় তবে দাজ্জাল কে? অন্যত্র রসুল বলেছেন, ‘দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে কাফের লেখা থাকবে। কেবল মো’মেনরাই তা দেখতে ও পড়তে পারবে। মো’মেন না হলে পড়তে পারবে না (বোখারী, মুসলিম)।’
এখানে লক্ষণীয় যে, দাজ্জাল যদি কোনো দৈত্য দানবই হবে, যার একহাতে জান্নাত আরেক হাতে জাহান্নাম, যার করায়ত্ত হবে সমস্ত পৃথিবী, যার বিরাট একটি বাহন থাকবে, যে মেঘের মত আকাশ দিয়ে উড়ে বেড়াবে এবং মানুষকে বলবে তাকে রব বলে মেনে নিতে, অবাক করা ব্যাপার হলো- তার কপালে আরবি হরফে কাফের শব্দটি পর্যন্ত লেখা থাকবে- তবে তো তাকে দেখেই কেবল মুসলিমরাই নয়, অমুসলিমদেরও চিনে ফেলার কথা যে এই হচ্ছে আখেরী নবী বর্ণিত দানব দাজ্জাল, তাই নয় কি? কিন্তু আল্লাহর রসুল বললেন তা হবে না। তাকে কেবল মো’মেনরাই চিনতে পারবে যদিও তারা নিরক্ষরও হয়, অন্যদিকে সারা পৃথিবীর মানুষ তাকে রব বলে মেনে নিবে, নামধারী মুসলিমরাসহ। এ থেকেও প্রমাণিত হয় দাজ্জাল আক্ষরিক অর্থেই কোনো দৈত্য-দানব নয়, এটি একটি রূপক বর্ণনা যা দিয়ে আল্লাহর রসুল বর্তমানের পাশ্চাত্য যান্ত্রিক সভ্যতাকে বুঝিয়েছেন। আর সেই সাথে এও বোঝা যায় যতই অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণ হাজির করা হোক, দাজ্জালকে চাক্ষুষ দেখিয়ে দেওয়া হোক, কেউ যদি মো’মেন না হন তাহলে ইসলামের অনেক বড় পণ্ডিত হলেও দাজ্জালকে দাজ্জাল বলে চিনতে পারবেন না। যেহেতু চিনতে পারবেন না সেহেতু এত অকাট্য যুক্তি ও স্পষ্ট প্রমাণের পরও অনেকেই বসে থাকবেন এক চোখ কানা একটি বিরাট দানবের আশায়, এতে অবাক হবার কিছু নেই। বিতর্ক করা যাদের স্বভাব তারা প্রশ্ন তুলবেন, ‘দেশ বিদেশে এত মাদ্রাসাপড়–য়া ওলামা, মাশায়েখ, মোহাদ্দিস, মোফাসসির, স্কলাররা আছে, তারা কেউ দাজ্জাল চিনতে পারল না, তোমরা চিনে ফেললে?’ ধর্মকে যারা রোজগারের মাধ্যম বানিয়েছেন তারা দাজ্জাল নিয়ে নিজেরা মাথা ঘামাবেন না এবং অন্য কেউ মাথা ঘামালে তাতে বিরক্ত ও শঙ্কিত হবেন এও জানা কথা।
তবে যে যা-ই মনে করুন বাস্তবতা হচ্ছে পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতা ইতোমধ্যেই আমাদের সকলকেই এক ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। এখন তাকে আপনি দাজ্জাল বলবেন নাকি অন্যকিছু বলবেন সেটা মূল প্রশ্ন নয়। মূল প্রশ্ন হচ্ছে, একে প্রতিরোধ করবেন কিনা? এই সভ্যতা ইতোমধ্যেই দুইটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটিয়ে তেরো কোটি বনি আদমের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আর এবার বাজি একেবারে অস্তিত্বের! এবার যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, যদি এই সভ্যতার বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সবচাইতে ভয়াবহ অপব্যবহারটি অর্থাৎ পরমাণু অস্ত্রগুলো একের পর এক আছড়ে পড়তে থাকে আমাদের এই ধরিত্রীর বুকে, তবে পুরো মানবজাতি এখনই বিনাশ হয়ে যাবে। পৃথিবী নামক গ্রহটিই ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা বসে আছেন কোনো দানবের আশায়, পৃথিবীই যদি না থাকে তাহলে সেই দানব আসবে কোথায়?
ধর্মহীন, স্রষ্টাহীন ও বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতা অর্থাৎ দাজ্জালের সৃষ্ট ফেতনার ভয়াবহতা কতখানি তা বুঝতে এটুকু জানাই যথেষ্ট যে, নুহ (আ.) থেকে শেষ নবী পর্যন্ত কোনো নবীই বাদ যাননি যাঁরা তাদের নিজ নিজ উম্মাহকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেন নি। উপরন্তু যে মহামানব মাত্র ২৩ বছরের নবুয়্যতি জিন্দেগীতে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে বড় বিপ্লবটি ঘটালেন সেই বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.) যখন নিজে আল্লাহর কাছে দাজ্জালের ফেতনা থেকে পানাহ চাইলেন (বোখারী) তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না- এই দাজ্জালের সঙ্কট কত তীব্র সঙ্কট, এই দাজ্জালের ভয়াবহতা কত অকল্পনীয় ভয়াবহতা!
আল্লাহর রসুল আদম (আ.) থেকে কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের ইতিহাসের সবচাইতে বড় ঘটনা বলেছেন দাজ্জালের জন্মকে। কেন বলেছেন তা এখন বোঝা যাচ্ছে। অন্য কিছু বাদ দিলেও গত শতাব্দীতে এই সভ্যতা মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে যে দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটিয়ে ১৩ কোটি বনি আদমের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে সারা পৃথিবীকে ভয়াবহ পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে- সেটাই কি মানব ইতিহাসে অতীতে কখনও ঘটেছে? তবে শুধু যুদ্ধের মধ্যেই দাজ্জালের সঙ্কট সীমাবদ্ধ নয়, মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গনে, প্রতিটি অধ্যায়ে এই দাজ্জালীয় অপশক্তিটি ‘মারণঘাতি’ ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
দাজ্জাল তথা বস্তুবাদী স্রষ্টাহীন সভ্যতা কী চায়? সে চায় মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে যার ইচ্ছা উপাসনা করুক, যে দেবতার ইচ্ছা পূজা করুক, যত খুশি নামাজ-রোজা করুক, অর্থাৎ ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মচর্চা করে আসমান-জমিন ভরিয়ে ফেলুক তাতে দাজ্জালের আপত্তি নেই। কিন্তু ভুলেও যেন মানুষ জাতীয় জীবনে ধর্মকে টেনে না আনে! জাতীয় জীবনে আল্লাহর কোনো স্থান নেই, সে স্থান দাজ্জাল তার নিজের জন্য পাকাপোক্ত করে নিয়েছে। মানুষ সব বলতে পারবে শুধু আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা বলতে পারবে না, কারণ সার্বভৌমত্ব কেবল দাজ্জালের। মানুষ যার ইচ্ছা হুকুম মানতে পারে- সে রাজার হুকুম মানতে চাইলে মানুক (রাজতন্ত্র), একনায়কের হুকুম মানতে চাইলে মানুক (স্বৈরতন্ত্র), সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের হুকুম মানতে চাইলে মানুক (গণতন্ত্র), সমাজের বিশেষ কোনো শ্রুেণির হুকুম মানতে চাইলে মানুক (সমাজতন্ত্র), দাজ্জালের তাতে আপত্তি নেই, শুধু আপত্তি আল্লাহর হুকুম মানতে চাইলে। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষ বরাবরই আল্লাহর হুকুম মেনেই জীবনযাপন করে এসেছে। ধর্মের হাত ধরেই রচিত হয়েছে মানুষের ইতিহাসের সোনালী অধ্যায়গুলো। দাজ্জাল সেই ধর্মকেই সেকেলে ও কুসংস্কার আখ্যা দিয়ে জাতীয় জীবন থেকে নির্বাসন দেওয়ার ফল হলো এই যে, পৃথিবীতে সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, বৈধ-অবৈধ’র কোনো পার্থক্য আর রইল না। আজ পৃথিবীতে ন্যায়-অন্যায়ের স্বীকৃত কোনো মানদণ্ড নেই। কোনটা ন্যায় তা ঠিক করে দিচ্ছে কোথাও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ, কোথাও সমাজের বিশেষ একটি শ্রুেণি, কোথাওবা কেবলই শাসকের পেশীশক্তি। ফলাফল? অন্যায়, অবিচার, অশান্তি ও অনিরাপত্তা।
হাদীসে এসেছে, দাজ্জাল যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা হবে জাহান্নাম, আর যেটাকে জাহান্নাম বলবে সেটা হবে জান্নাত- যেন বর্তমান পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখে দেখে রসুল কথাগুলো বলেছেন। দাজ্জালের জাহান্নামে যাওয়ার সাহস কার আছে? সমস্ত পৃথিবীর মানুষ এখন তাই দাজ্জালের জান্নাতে যেতে উদগ্রীব। কিন্তু বাস্তবে যে সেটা জাহান্নাম তা পৃথিবীর দিকে এক নজর তাকালেই বোঝা যায়। এই মুহূর্তে পৃথিবীর ছয় কোটি মানুষ উদ্বাস্তু। খাবারের অভাবে প্রাণের ঝুঁকিতে ধুকছে কোটি কোটি বনি আদম। অথচ পৃথিবীতে সম্পদের অভাব নেই। এই গ্রহেরই এমন রাষ্ট্র আছে যার রাষ্ট্রপ্রধানরা টাকা খরচ করবেন কোথায় তা ভেবে পাচ্ছেন না। শুধু ২০১৬ সালে বিশ্বে সামরিক খাতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, হিসাব করে দেখা যাচ্ছে এই টাকায় ৩৮৩ বার আফ্রিকার দুর্ভিক্ষ দূর করা সম্ভব হত। একদিকে মানুষ না খেতে পেয়ে প্রাণ হারাচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে হাজার হাজার কোটি ডলার দিয়ে মানুষকেই মারার অস্ত্রপাতি তৈরি করা হচ্ছে, এই হচ্ছে দাজ্জালের জান্নাত!
অন্যদিকে দাজ্জাল অর্থাৎ পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতা দিবারাত্রি যেই ধর্মকে অশান্তি (জাহান্নাম) ও নিপীড়নের কল বলে অপপ্রচার চালায় সেই ধর্মের শাসন এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিল যে মানুষ দরজা খুলে ঘুমাত, স্বর্ণের দোকান খোলা রেখে মসজিদে নামাজ পড়তে যেত, কেউ অপরাধ করলে নিজেই নিজের বিচার দাবি করত! ইসলামের স্বর্ণযুগে মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মানুষ যাকাত দেবার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াত, কিন্তু গ্রহণ করার মত লোক পাওয়া যেত না। শহরে-বন্দরে লোক না পেয়ে অনেকে উটের পিঠে মালামাল চাপিয়ে মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াত যাকাত গ্রহণকারীর সন্ধানে। এগুলো ইতিহাস। অর্থাৎ দেখা গেল পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতা যেটাকে বলল স্বর্গ সেটা আসলে নরক, আর যেটাকে বলা হলো নরক, সেটাই যুগ যুগ ধরে মানুষকে স্বর্গসুখ দিয়ে এসেছে, আজও দিতে সক্ষম, যদিও দাজ্জাল তা হতে দেবে না।
দাজ্জালের ডান চোখ অন্ধ বলে এই সভ্যতা জীবনের আত্মা ও পরকালের দিকটি একেবারেই দেখতে পায় না। কেবল বাম চোখ দিয়ে সে জীবনের একটি দিক, দেহের দিক, বস্তুর দিক, ভোগের দিক দেখতে পায়। তাই বস্তু ও দেহ নিয়েই এই সভ্যতার যত মাথা ব্যথা, অথচ কিনা একই সময়ে মানুষের আত্মিক জগতে চলছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। মানুষের আত্মা মরে যাচ্ছে। সমাজে এক ফোঁটা দয়া নেই, মায়া নেই, ভালোবাসা নেই। একের দুঃখে দশের সাড়া নেই। ত্যাগ নেই, উৎসর্গ নেই। অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা নেই। ন্যায়ের প্রতি শ্রুদ্ধা নেই। সত্যের কদর নেই। সততার মূল্য নেই। কিন্তু আফসোস! দেহ নিয়ে যে সভ্যতার এত টেনশন, আত্মার এই ত্রাহী অবস্থার দিকে একপলক চেয়ে দেখার ফুসরতও তার নেই। মানুষ এখন দেহের দাস, ভোগের দাস, প্রবৃত্তির দাস, অর্থের দাস। অর্থ ও ভোগের পেছনে নিরন্তর ছুটে চলাই যেন তার ‘ধর্ম’। আবার স্রষ্টাকে যেহেতু ভুলে যাওয়া হয়েছে, পরকালের জবাবদিহিতার ভয় গেছে কেটে, সুতরাং এই ছোটা-ছুটিতে ন্যায়-অন্যায় বা নৈতিকতা-অনৈতিকতার বালাইও আর থাকছে না।
আজ দার্শনিকরা বলছেন- অর্থনৈতিক সমস্যাই মানুষের মূল সমস্যা। শিশুকে শেখানো হচ্ছে, লেখাপড়া করে যে/গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে। তরুণ-তরুণীদেরকে শেখানো হচ্ছে, পরিশ্রুম কর, ক্যারিয়ার গড়, যত পারো টাকা কামাও, সঞ্চয় করো, গাড়ি-বাড়ি কেন, জীবনকে উপভোগ করো। মানুষ এই পাশবিক জীবনযাপনকেই ‘মানবজীবন’ মনে করছে, যার মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘স্বার্থ’। একটি কুকুরও সমাজের কিছু না কিছু উপকারে লাগে। কিন্তু এই পৃথিবীতে লক্ষ-কোটি মানুষ জন্মাচ্ছে, খাচ্ছে-দাচ্ছে, বংশবিস্তার করছে, জৈবিক চাহিদা মিটিয়ে মরে যাচ্ছে- সমাজের কোনো উপকারে লাগছে না। এভাবে দাজ্জাল আত্মিকভাবে, চারিত্রিকভাবে, নৈতিকভাবে সমগ্র মানবজাতিকে ধ্বংস করে ফেলছে। কিন্তু তাতে কি, মানবতার শত্রæ হলেও দাজ্জালকেই মানুষ প্রভু বলে মেনে নিয়েছে। তার অবাধ্য হবার সাধ্য কারো নেই। যদি পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র বা কোনো গোষ্ঠী দাজ্জালের হুকুম মানতে অস্বীকার করে, যেমন ধরা যাক মুসলিম জনগোষ্ঠীর কথা, এদের মধ্যে কোনো রাষ্ট্র দাজ্জালের অবাধ্য হলে তার বিরুদ্ধে প্রথমত দাজ্জাল তার মিডিয়া ও অর্থবল প্রয়োগ করে, প্রয়োজনে ঐ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তাতেও কাজ না হলে সামরিক হামলা করে ঐ রাষ্ট্রটিকে দখল করে তার পছন্দসই ও তল্পিবাহক সরকার ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়। এমনটা যে হবে তা আল্লাহর রসুল বলে গেছেন, শুধু আক্ষরিকভাবে ‘অবরোধ’ ও ‘নিষেধাজ্ঞা’ শব্দ দুইটি ব্যবহার না করে।
কিছু বিপথগামী মানুষের সন্ত্রাসী হামলার সূত্র ধরে দাজ্জাল তার মিডিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে বোঝাচ্ছে, ‘দ্যাখো দ্যাখো, মুসলমানরা কত সন্ত্রাসী জাতি! এরা কত রক্তপিপাসু।’ মানুষ সেটাই বিশ্বাস করছে। কিন্তু অন্যদিকে দাজ্জালীয় তাণ্ডবে সিরিয়া ধ্বংস হলেও, ইরাক ধ্বংস হলেও, আফগানিস্তান ধ্বংস হলেও, লিবিয়া ধ্বংস হলেও, ইয়েমেন ধ্বংস হলেও, লক্ষ লক্ষ মুসলিমের রক্ত ঝরলেও, লক্ষ লক্ষ মুসলিম নারী সম্ভ্রম হারালেও, কোটি কোটি মুসলিম উদ্বাস্তু হলেও- কেউ সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিদেরকে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি বলছে না। সবাই চেয়ে চেয়ে ধ্বংসযজ্ঞ দেখছে শুধু। কারণ আর কিছু নয়, ‘গরমযঃ রং জরমযঃ’ শক্তিমানের কথাই ঠিক।
তবে এই দানব দাজ্জাল চিরস্থায়ী নয়, এরও ধ্বংস আছে, পরিণতি আছে। ক্রমশই দাজ্জাল তার সেই পরিণতির দিকে এগিয়ে চলছে। কিন্তু এগিয়ে চলছে পুরো মানবজাতিকে সঙ্গে নিয়ে। কারণ মানুষ তাকে তাদের রব বলে মেনে নিয়েছে, তার পদতলে সেজদায় প্রণত হয়ে আছে। এই মানুষকে এখন উপলব্ধি করতে হবে তারা কোথায় যাচ্ছে, দাজ্জাল তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কার পিছুপিছু হেঁটে চলেছে তারা।
এই সময়টি আসবে বলেই সেই নুহ (আ.) থেকে শেষ রসুল (সা.) পর্যন্ত প্রত্যেক নবী-রসুল দাজ্জালের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করেছেন। আখেরী নবী তো রূপকভাবে দাজ্জালের খুঁটি-নাটি পর্যন্ত বর্ণনা করে গেছেন যাতে এই ক্রান্তিকালে তাঁর উম্মাহ কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নেয়, তারা যেন দাজ্জালকে চিনতে পারি ও তার অন্ধ অনুসরণ করা থেকে বিরত হতে পারে। তারপরও যদি আমরা দাজ্জালকে ‘দাজ্জাল’ হিসেবে চিনতে না পারি এবং মানবতার এই মহাশত্রুর অন্ধ অনুসরণ থেকে বিরত না হই তাহলে এ কথা বলাই যায় যে, দাজ্জালের সাথে সাথে ‘মৃত্যু’ হবে এই মুসলিম নামধারী জনগোষ্ঠীরও। তার পূর্বেই যেন আল্লাহ সবাইকে দাজ্জালকে চেনার ও প্রতিরোধ করার তওফিক দান করেন সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ