জঙ্গিবাদ

মোহাম্মদ আসাদ আলী

বিকৃত ধর্মবিশ্বাস যে বৃহৎ সমস্যাগুলি সৃষ্টি করে তার মধ্যে অন্যতম হলো জঙ্গিবাদ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জঙ্গিবাদ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বিরাট সঙ্কট। আমাদের দেশও এই সঙ্কটে আক্রান্ত। বরাবরই আমাদের দেশে জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করার জন্য শক্তি প্রয়োগের পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষিতে শক্তি প্রয়োগের অসারতা ক্রমেই প্রকাশ হয়ে পড়ছে। আমরা বলি না যে শক্তি প্রয়োগের দরকার নেই, প্রয়োজন হলে অবশ্যই শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, কিন্তু এটা মূল প্রক্রিয়া নয়। শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগ করে এই সঙ্কট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
এটা কারও অজানা নয় যে, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের মতো সুপার পাওয়ার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে, অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ব্যবহার করে, লক্ষ লক্ষ সুশিক্ষিত সৈন্যবাহিনী কাজে লাগিয়েও জঙ্গিবাদীদের নির্মূল করতে পারে নি। তাদের এই পথ সফল হয় নি। তারা প্রচুর রক্তক্ষয় করেছে কিন্তু জঙ্গিবাদের প্রকোপ আরও বেড়ে গেছে। আজকে তারা জঙ্গিদের সাথে আপসের রাস্তা বেছে নিয়েছে। কাজেই আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সফলতার আশা করা যায় না।
কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে, তারা জঙ্গিতে পরিণত হচ্ছে একটি বিকৃত ধর্মীয় আদর্শের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে। এক শ্রেণীর স্বার্থবাজ ধর্মব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তাদেরকে সেই ভ্রান্ত আদর্শ শিক্ষা দিচ্ছে। তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে এটা জেহাদ, এটা করলে তুমি জান্নাতে যাবে, এই কাজে নিহত হলে তুমি শহীদ হবে। এভাবেই ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে, প্রভাবিত হয়ে মানুষ জঙ্গি হচ্ছে, সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। তাই দেখা যাচ্ছে- শক্তি প্রয়োগ করে একজনকে নির্মূল করতে গেলে আরও দশজন সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে, তারা আরও সতর্ক, নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে, কোনো কিছুতেই তাদের উত্থান ঠেকানো যাচ্ছে না।
যামানার এমাম, এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী কোর’আন-হাদীস, ইতিহাস থেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, যারা জঙ্গি হচ্ছে তারা ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। এই পথে তারা দুনিয়াও হারাবে, আখেরাতও হারাবে। তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, এদেশের অধিকাংশ লোক বিশ্বাসগতভাবে মুসলমান। তারা বিশ্বাস করে আল্লাহ-রসুলকে। তারা ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের কথায় প্রভাবিত হয়। ধর্মব্যবসায়ীদেরকে যদি শুধুমাত্র বল প্রয়োগে দমনের চেষ্টা করা হয় তখন তাদের অনুসারীরাই জঙ্গিতে রূপান্তরিত হয়। এখন অধিকাংশ জনগণকে যদি ইসলামের যুক্তি প্রমাণ দিয়ে এটা বোঝানো যায়, তাদের এই পথ ভুল, এই পথে তারা দুনিয়াও হারাচ্ছে এবং আখেরাতও হারাবে তাহলে আর ধর্মব্যবসায়ীরা কাউকে জঙ্গিতে রূপান্তরিত করতে পারবে না।
কোর’আন, হাদীস থেকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে বোঝানোর পরও অপরাধী চরিত্রের কিছু মানুষ থাকবে, তারা সংখ্যায় হবে অল্প, তখন তাদেরকে নির্মূল করার জন্য রাষ্ট্রশক্তির প্রয়োজন। তখন দরকার পড়বে বল প্রয়োগের। প্রকৃত সত্য যখন মানুষ জানতে পারবে, ধর্মজীবীদের করা অপব্যখ্যা যখন তারা বুঝতে সক্ষম হবে তখন আর জঙ্গিবাদীরা, অপরাজনীতিকারীরা মানুষকে প্রভাবিত করার মতো ধর্মীয় যুক্তি খুঁজে পাবে না। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাদেরকে সহজেই নির্মূল করা সম্ভব হবে, এতে অধিকাংশ জনগণ আর বিক্ষুদ্ধ হবে না। এই অধিকাংশ জনগণকে ধর্মব্যবসায়ীদের থেকে যতক্ষণ না বিচ্ছিন্ন করা যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই শক্তি প্রয়োগের পন্থা কার্যকরী হবে না।
আমরা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি প্রকৃত ইসলাম কী তা মানুষ বুঝতে পারলে এনশা’আল্লাহ কেউ আর জঙ্গি হবে না। তারা সত্যের পথে আত্মনিয়োগ করবে, তারা সম্পদ বিক্রি করে এসে মানবতার কল্যাণে কাজ করবে, মানবতার ক্ষতি করবে না। যেমন আমরা আজকে করছি। গত ১৯ বছর যামানার এমামের একজন অনুসারীও একটি সামাজিক অন্যায় পর্যন্ত করে নি, কোনো একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আক্রমণের নজির নেই। আমাদের বিরুদ্ধে হাজারো অপপ্রচার করা হয়েছে। আমরা যে আদর্শ প্রচারের কাজ করছি, প্রকৃত ইসলাম মানুষের সামনে তুলে ধরছি সেটা এমামুযযামানের শিক্ষার প্রতিফলন।
তবে হ্যাঁ, অতীতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোর’আন-হাদীস দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় নি, তা নয়। অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু এই কাজ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের দিয়ে। জঙ্গিবাদ যেমন অবৈধ তেমনি ধর্মব্যবসাও অবৈধ, বিকৃত ইসলামের দু’টি শাখা- জঙ্গিবাদ ও ধর্মব্যবসা। ধর্মব্যবসায়ীদের কোনো নৈতিক বল থাকে না, আর যাদের নৈতিক চরিত্র সবল নয়, তাদের পক্ষে এই মহান কাজ করা সম্ভব নয়। তাদের কথা কেউ শুনবে না, জনগণের মধ্যে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বললে, ওয়াজ করলে মানুষ বিশ্বাস করবে না। মনে রাখতে হবে, একটি মিথ্যা দিয়ে কোনোদিন আরেকটি মিথ্যাকে প্রতিহত করা যায় না। আমরা যামানার এমামের অনুসারীরা ধর্মব্যবসা করি না এবং সত্য পথে আছি। কাজেই সমাধান একমাত্র আমাদের হাতেই রয়েছে।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ