চেতনার অপচয় বন্ধ হোক

রিয়াদুল হাসান
চেতনা একটি আগুন – সেটা দেশপ্রেমের চেতনা হোক বা ধর্মের। আগুন সভ্যতার ভিত্তি আবার আগুনই বিনাশের কারণ। কীভাবে তার ব্যবহার হবে সেটা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর শুভবুদ্ধি বা দুষ্টবুদ্ধির উপর এবং তার সামর্থ্যের উপর। সব মানুষের মধ্যেই দেশপ্রেমের চেতনা আছে- কারো জোনাকি, কারো বা মশাল। এই সবার আগুনকে জড়ো করে একটি আলোকিত স্বদেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজন জাতির উদ্দেশ্যের একতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। অন্যথায় এই দেশপ্রেমের চেতনা ক্ষয়ে ক্ষয়ে নষ্ট হবে।
৪৪ বছরে সেটাই হয়েছে, দেশপ্রেম একপ্রকার ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জাতির এখন সংকটকাল। এটা জাতিকে বুঝতে দিচ্ছে না জাতিরই অযোগ্য নেতৃবৃন্দ যারা দেশপ্রেমের চেতনাকে হাইজ্যাক করে নিজেদের ফরমেটে ফেলে মনমর্জি মতো ব্যবহার (অপচয়) করছে। কিছুদিন আগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেওয়ার মাধ্যমে অবশ্যই একটি ঐতিহাসিক অপরাধের প্রতিকার আমরা পেলাম। কিন্তু একে কেন্দ্র করে উল্লাসের বাড়াবাড়িতে যদি জাতির মূল সংকট দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় তবে সেটা জাতিকে ধ্বংসের পথে একধাপ এগিয়ে দেবে।
কেউ কি আছেন যিনি জাতিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবেন যে, সংকট কোনদিকে? এখনো অধিকাংশ মানুষই কোনো সংকট দেখছেন না।
একদিনের জন্য ফেসবুক বন্ধ করে দিলে সেটাই যেন অনেক বড় সংকট হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘনিয়ে এসেছে।
এক লাদেনকে খুঁজতে গিয়ে কতজন আফগান কলাটেরাল ড্যামেজ বলে মাটিচাপা পড়েছে? আই.এস-কে দমন করতে গিয়ে কত কোটি মানুষ মরলো ও মরছে? বাংলাদেশের কী হবে? বাঙালির কী হবে? বাঁচার চেষ্টা করবে নাকি নিয়তির গতি মেনে নিয়ে বসে থাকবে? বিপিএল – নিয়ে নাচানাচি করতে থাকবে? নাকি রাজনীতিক অপেরা চালিয়ে যাবে? বাংলাদেশ কি পারবে আফগান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া থেকে কিছুমাত্র শিক্ষা নিতে? যদি নিতে হয় তাহলে দেশপ্রেমের ঠিকাদারি যারা নিয়েছেন তাদেরকে হুজুগে নাচা বন্ধ করে দেশপ্রেমকে সঠিক জায়গায় কাজে লাগাতে হবে। তাদেরকে দেশের মানুষকে আসন্ন সংকটের ব্যাপারে সচেতন করতে হবে, ১৬ কোটি মানুষকে জঙ্গিবাদ নিয়ে তাবৎ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একজন ক্যান্সারের রোগীর চুলকানি ভালো হলে অত খুশি হওয়ার কারণ নেই।
ইসলামের বিকৃত চেতনাও চেতনা। সেটাও আগুন। সেটা নিয়ে খেলছে দেশি-বিদেশী জঙ্গিবাদী, ধর্ম দিয়ে স্বার্থসিদ্ধিকারী ও ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী। পাগলের হাতে যখন রাম দা তখন যে তাকে মুখ ভেংচি দেয় সেও সুস্থ নয়, সে আরো বড় পাগল। আগে পাগলকে নিরস্ত্র করতে হবে, তারপর সুস্থ করতে হবে। একইভাবে ধর্মবিশ্বাসকে যেন কোনো ধর্মোন্মাদ শ্রেণি মানবতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য তাদের হাতে ধর্মের কর্তৃত্ব রেখে দেওয়া যাবে না। আর তারা ধর্মের কর্তৃপক্ষও নয়, তারা ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে। তাদের এই ভুয়ামি ভণ্ডামি জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিলে তারা ব্যবসা গুটাতে বাধ্য হবে।
প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও প্রকৃত ধার্মিকের কাজ এখন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতিকে আদর্শিকভাবে এক করা। এটা যারা করবে তারাই বাংলা মায়ের সুসন্তান।
(লেখক: সাহিত্য সম্পাদক, দৈনিক বজ্রশক্তি, fb.com/riyad.hassan.ht)

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ