চিঠিপত্র বিভাগ – আকিদা ভুল হলে ঈমান অর্থহীন

মোহাম্মদ ইয়ামিন খান
একটি বিষয় আমাদের জানা অবশ্যই প্রয়োজন যে ইসলামের তিনটি পরিভাষা: আকিদা, ঈমান, আমল। আকিদা, ঈমান, আমল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে লেখাপড়া না জানা সত্ত্বেও নিরক্ষর ব্যক্তিও ইসলামকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন যেমনি আল্লাহর রসুলের (সা.) সাহাবিরা হয়েছিলেন। আকিদা হলো ইসলাম সম্পর্কে সম্যক ধারণা, সমষ্টিগত ধারণা বা Overall idea, comprehensive সত্যনিষ্ঠ আলেমরা বলেছেন, আকিদা ভুল হলে ঈমানের কোন দাম নেই, ঈমান ভুল হলে আমলের কোনো মূল্য নেই। ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি। ইসলাম কেন এসেছে, সমগ্র পৃথিবী থেকে অন্যায়, অবিচার, অশান্তি, যুদ্ধ, রক্তপাত বন্ধ করে ন্যায়, শান্তি, সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্যই ইসলামের আগমন। ইসলাম অশান্তিপূর্ণ সমাজকে শান্তিপূর্ণ করে। আল্লাহ পৃথিবীতে আমাদেরকে কেন পাঠিয়েছেন, পৃথিবীতে আমাদের কী কাজ, কী করলে আমরা মো’মেন, মুসলিম, উম্মতে মোহাম্মদী হতে পারবো, আল্লাহ কেন কোর’আন নাজিল করেছেন যে কোর’আন দিয়ে মানবজাতির ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক জীবন পরিচালিত করলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণাই হচ্ছে ইসলামের প্রকৃত আকিদা। ঈমানের মূল কথা হচ্ছে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারো হুকুম মানবো না)” এই কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।” অর্থাৎ সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটাই হচ্ছে আল্লাহর হুকুম বা ঈমানের দাবি। কারণ ন্যায়, সত্য এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। সালাহ (নামাজ), সওম (রোজা), হজ্ব, যাকাত হচ্ছে আমল। এক কথায় সেই সমস্ত কাজ যা মানুষের কল্যাণ করে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে তা সবই আমল। কিন্তু নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার সর্বাত্বক সংগ্রাম না করলে কারও ব্যক্তিগত আমল কবুল হবে না যেমন এখন কারও ব্যক্তিগত আমল কবুল হচ্ছে না।
আজ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ আমরা ১৯৭১ সালে লাখো বাঙালির রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছিলাম তা হুমকির সম্মুখীন। গত ৪৭ বছর ধরে একদিকে যেমন ধর্মের নামে বিভিন্ন ফেরকা-মাজহাব, ধর্মের নামে অপরাজনীতি পক্ষান্তরে পাশ্চাত্যের ধার করা বিভিন্ন মতবাদের উপর ভিত্তি করা স্বার্থ ও হানাহানির রাজনীতি একটি দিনের জন্য এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে দেয়নি বরং বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করেছে। গণতন্ত্রের নামে জাতিবিনাশী ঐক্যনষ্টকারী সিস্টেম চর্চা করে একদিকে সরকারি দল বস্তুগত উন্নতি করেছে আর অন্যদিকে বিরোধীরা সরকার পতনের আন্দোলনের নামে জাতির সম্পদ ধ্বংস করেছে। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সরকার ও বিরোধীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছে। সামনে সরকার বিরোধী আন্দোলনের একটা বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা দেখেছি, সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ইস্যু করেই বহু দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া ইত্যাদি। অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়েই সাম্রজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো অস্ত্রব্যবসার বাজার বসায় এবং সেসব দেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। আমাদের দেশটিও একটি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এই দেশকে নিয়েও চলছে ভিতরে বাইরে ষড়যন্ত্র। সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে ১৬ কোটি বাঙালির ৩২ কোটি হাতকে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহর তওহীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা এখন অপরিহার্য। এই ঐক্যবদ্ধ করার কাজটিই হলো এখন সবচেয় গুরুত্বপূর্ণ আমল।

শ্যামলী, ঢাকা।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ