গল্প নয়, সত্যি: বড় দাতা কে?

ন্যায় বিচারের মানদণ্ড
বিচারাসনে হায়দর আলী
মহীশুরের সুলতান হায়দর আলী বেড়াতে বের হয়েছেন। হঠাৎ একটি বুড়ী এসে তাঁর পায়ে পড়ল এবং ফুঁসে কেঁদে উঠল।
হায়দার আলী বুড়ীকে সস্নেহে তুলে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী হয়েছে, মা?” বুড়ী বলল, “আমাকে অসহায় পেয়ে জাহাঁপনার শহর কোতওয়াল আগা মুহম্মদ আমার মেয়েকে হরণ করে নিয়েছে।” হায়দর আলীর চক্ষু জ্বলে উঠল; তিনি বললেন, “বটে! আগা মুহম্মদ এখন তার দেশের বাড়ীতে তবে কি তোমার মেয়েকে সেখানে নিয়ে গিয়েছে?” বুড়ী বলল, “হুজুর, তাই।’ হায়দার আলী ফের বললেন, “কিন্তু হায়দর শাকে বল নাই কেন? সেইত এখন আগা মুহম্মদের জায়গায় কাজ কচ্ছে।” বুড়ী বলল, “তাঁকেও বলেছি, জাহাঁপনা, কিন্তু তিনি কিছু করলেন না।”
হায়দার আলী তখনই প্রাসাদে ফিরে অনুসন্ধান শুরু করলেন। দেখলেন, অভিযোগ সত্য।
তিনি হুকুম দিলেন, “জল্লাদ, এক্ষুণি হায়দর শাকে দুইশ’ বেত মারবে; আর একদল সৈন্য গিয়ে মেয়েটাকে উদ্ধার করে আনবে।”
বেত মারা হল। সৈন্যদল ফিরে আসল তাদের সঙ্গে বুড়ীর মেয়ে আর হাতে আগা মুহম্মদের মাথা।
আবদুল কাদের
শিক্ষা: প্রকৃত শাসকের কাজই হচ্ছে অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করা। অপরাধ করলে সে যেই হোক না কেন তাকে ক্ষমা করা যাবে না। ন্যায়-বিচার প্রকৃত শাসকের একটি মহৎ গুণ। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমার ফারুক (রা.) তার নিজ পুত্রকে মদ্যপানের অপরাধে শাস্তি প্রদান করেছিলেন। আবার তিনিই গরীবদের রাতের আধারে খাদ্য পৌঁছে দিতেন। ইসলামি শাসন ব্যবস্থায় সবাই ন্যায় বিচার লাভ করত। আমাদের যারা বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন সকলের উচিত সবার প্রতি ন্যায় বিচার করা।

বিজিতের প্রতি বাইয়াজীদ

তুর্ক সুলতান বাইয়াজীদের ক্রমবর্ধমান শক্তি দর্শনে খ্রিষ্টীয় ইউরোপ শঙ্কিত। সময় থাকতে এ দৈত্যের বিনাশ সাধন শ্রেয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের দেশে দেশে সাজ সাজ রব পড়ে গেল। ফ্রান্স, জার্মানী, হাঙ্গেরি প্রভৃতি বিভিন্ন দেশ হতে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক নাইকোপলীসের ময়দানে হাযির হল। বাইয়াজীদও তাঁর তুর্ক বাহিনীসহ অগ্রসর হলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী যোদ্ধাদের রণ-হুঙ্কারে যুদ্ধভূমি কেঁপে উঠল।
খৃস্টান যোদ্ধারা ঘোষণা করল: “সুলতান বাইয়াজীদ তুচ্ছ কথা; আকাশ ভেঙ্গে পড়লেও তাকে আমরা বর্শার ফলকে ঠেকিয়ে রাখব।” কিন্তু তুর্ক বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে সমবেত খ্রিষ্টান বাহিনী প্রভঞ্জন মুখে তৃণখণ্ডের মতো উড়ে গেল।
বিজয়ী বিজিতদের মধ্যে একটি সন্ধিপত্র স্বক্ষরিত হল: সন্ধির একটি শর্ত লেখা হলো এই যে, ফরাসি ও জার্মান বন্দীরা আর কখনও সুলতানের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে না। বিদায়ের আগে ফ্রান্স ও জার্মানীর বন্দিগণকে সুলতানের সম্মুখে হাজির করা হলো: এরা সকলেই অভিজাতঘরের সন্তান ছিল।
সুলতান বললেন, “আমার বিরুদ্ধে আর কখনো অস্ত্রধারণ করবেন না এ শর্ত হতে আমি স্বেচ্ছায় আপনাদেরকে মুক্তি দিচ্ছি। আপনারা বয়সে তরুণ, সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান, আপনাদের সম্মানবোধ ও দেশপ্রেম আছে, এ পরাজয়ের কলঙ্ককালিমা দূর করার একটি মহৎ আকাক্সক্ষা আপনাদের হওয়া বিচিত্র নয়। যদি কখনো তা হয়, তবে আবার আপনারা সমবেত হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন, আমি সানন্দে আপনাদের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে সাক্ষাৎ করব।”
গীবন

শিক্ষা: ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। কেউ অন্যায় করে আল্লাহ্ তা’য়ালার কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।
সুলতান বায়জীদ প্রতিপক্ষের তুলনায় শক্তিমান এবং প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেও তিনি তাদের সসম্মানে মুক্ত করে দেন এবং তাদের আত্মসম্মানবোধ ও সাহসের প্রশংসা করেন। ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা:) তার শত্রুদের এত কাছে পেয়েও ক্ষমা করে দেন। ক্ষমা করার মাধ্যমে পরম শত্রুকে বশে আনা যায়। তাই আমাদের উচিত কেউ ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করা।
তাহের মারুফ

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ