খুলনা ব্যুরো অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

দেশেরপত্রের খুলনা ব্যুরো অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত (ডান থেকে) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা জেলা ইউনিট কমান্ডার সরদার মাহবুবার রহমান, খুলনা মহানগর ইউনিট আহ্বায়ক অধ্যাপক আলমগীর কবির, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শ্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এম পি, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) আবু দাউদ মোঃ গোলাম মোস্তফা, খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার আনিসুর রহমান পপলু, দৈনিক দেশেরপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী
দেশেরপত্রের খুলনা ব্যুরো অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত (ডান থেকে) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা জেলা ইউনিট কমান্ডার সরদার মাহবুবার রহমান, খুলনা মহানগর ইউনিট আহ্বায়ক অধ্যাপক আলমগীর কবির, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শ্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এম পি, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) আবু দাউদ মোঃ গোলাম মোস্তফা, খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার আনিসুর রহমান পপলু, দৈনিক দেশেরপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী

৯ এপ্রিল ২০১৪ খুলনার শেরে বাংলা রোড এলাকায় দৈনিক দেশেরপত্রের বিভাগীয় ব্যুরো কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এম.পি.। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশেরপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী, উপদেষ্টা মসীহ উর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা জেলা ইউনিট কমান্ডার সরদার মাহবুবার রহমান, খুলনা মহানগর ইউনিট আহ্বায়ক অধ্যাপক আলমগীর কবির, শিল্পাঞ্চল ইউনিট কমান্ডার মো: শাহজাহান, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) আবু দাউদ মো: গোলাম মোস্তফা, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড. সরদার আনিসুর রহমান পপলু, মহানগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু প্রমুখ।
শুরুতেই যৌথভাবে ফিতা কেটে ব্যুরো কার্যালয় উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শ্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও দেশেরপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী। দেশেরপত্রের খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান ডা. মাকসুদে মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।

খুলনা ব্যুরো অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের একাংশ
খুলনা ব্যুরো অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের একাংশ

দেশেরপত্রের বিশেষ প্রতিনিধি মাহমুদা কফিল দীপা এবং আঁখি আক্তারের সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত ছিল পুরো অনুষ্ঠানটি। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. মাকসুদে মাওলা। প্রতিমন্ত্রী শ্রী নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘বর্তমান সমাজে মোসলেম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্রভৃতি ধর্মের নামে বিভক্তি সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। সমাজে প্রতি ধর্মের অনুসারীগণ শুধুমাত্র তাদের ধর্মের লোকদেরকে ভাই হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তারা বলে এক মোসলেম-মোসলে ভাই ভাই। এক হিন্দু আরেক হিন্দুর ভাই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা হওয়া উচিত নয়। কারণ সমগ্র মানবজাতি এক পিতা-মাতা আদম-হাওয়া থেকে সৃষ্টি হওয়ার কারণে সবাই সবার ভাই। এখানে ধর্মের নামে বিভেদ টানার কোন সুযোগ নেই। কতিপয় রাজনৈতিক দল এদেশে ধর্মের নামে বিভিন্ন অপকর্ম ও গুজব ছড়িয়ে এদেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এমনকি মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় পোশাক টুপিকে নিকৃষ্ট জীব কুকুরের মাথায় পরিয়ে নোংরা রাজনীতি করা হয়। আমি বলতে চাই টুপি একটি পবিত্র জিনিস, একে যারা কুকুরের মাথায় চাপিয়েছে তারা অন্যায় করেছে কিন্তু যারা এটি প্রচার করেছে তারাও অপরাধী।’ শ্রী নারায়ণ চন্দ্র এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত এবং যারা এ জাতীয় সংবাদ প্রচার করে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সেসব মিডিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন এবং প্রকৃত আলেমদের এ ধরনের ঘৃণিত ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যপারে সাধারণ জনগণকে সতর্ক করার আহ্বান জানান। তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ড নিরসনে আলেম শ্রেণির ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই যে বুকের মধ্যে বোমা বেঁধে মানুষ আত্মঘাতী হোচ্ছে, নিজেও মরছে অন্যকেও মারছে, এর বিরুদ্ধে আলেম সাহেবরা নিশ্চুপ। ইরাকে, সিরিয়ায়, লেবাননে এমন কি আমাদের দেশে ৭১ এ এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে হত্যা করছে সেটা ধর্মের দৃষ্টিতে কত অন্যায় সেটা আলেম সাহেবরা বলেন না কেন?’ মানবতার কল্যাণে দৈনিক দেশেরপত্রের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দৈনিক দেশেরপত্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য দেশব্যাপী যে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ তিনি ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য দেশেরপত্রের উদ্যোগের সাথে সমাজের সর্বস্তরের নাগরিককে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উপস্থিত আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকেও যামানার এমামের অনুসারীদের কাজে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশেরপত্রের উপদেষ্টা মসীহ্ উর রহমান বলেন, ‘দৈনিক দেশেরপত্র ১৬ কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এই অনুপ্রেরণা লাভ করেছি ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের পন্নী পরিবারে সন্তান এমামুযযামান জনাব মোহাম্মাদ বায়াজীদ খান পন্নীর মাধ্যমে। আমরা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা প্রাপ্ত হয়ে, তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে জীবনের সর্বস্ব কোরবান করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা দেশেরপত্রের একার পক্ষে অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ কাজ। এত বড় কাজের জন্য সকল দেশপ্রেমিক জনতার সহযোগিতা প্রয়োজন। কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ কোরে ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে পরিচালিত করে কিভাবে ধর্মব্যবসায়ীদের মোকাবেলা করা যায় এবং ধর্মের নামে অপ-রাজনীতি বন্ধ করা যায়, সেই উপায় দেশেরপত্রের কাছে, যামানার এমামের অনুসারীদের কাছে আছে।’ তিনি এ ব্যাপারে সমাজের সর্বস্তরের জনতার পাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দেশেরপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রফায়দাহ পন্নী বলেন, ‘দেশেরপত্রের স্লোগানের মধ্যেই এর কার্যক্রমের পরিচিতি নিহিত রয়েছে। দেশেরপত্র যে সত্য প্রচার করে যাচ্ছে তা প্রতিষ্ঠিত হলে সারা পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসবে। বর্তমানে এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী মোল্লা ইসলামের জায়গা দখল করে নিয়েছে। দেশেরপত্র সাধারণ জনগণকে সেই সকল ধর্মব্যবসায়ীদের কালো থাবা থেকে উদ্ধার করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে।’

গতকাল সকালে দৈনিক দেশেরপত্রের খুলনা ব্যুরো অফিস উদ্বোধনের আগে একটি আনন্দ র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে
গতকাল সকালে দৈনিক দেশেরপত্রের খুলনা ব্যুরো অফিস উদ্বোধনের আগে একটি আনন্দ র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ