কলেমার ভুল অর্থ করার ফল

এম. আমিনুল ইসলাম

বর্তমানে মুসলিম বলে পরিচিত জাতিটি কলেমা থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এই কলেমা ইসলামের আত্মা, ভিত্তি, মূলমন্ত্র। এই কলেমা ছাড়া কোনো ইসলাম নেই। এই কলেমা সঠিক অর্থে অন্তরে বিশ্বাস না করে, মুখে প্রচার না করে এবং এর উপর আমল না করে অর্থাৎ একে মানবজীবনে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্ট, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, সংগ্রাম না করে কেউ মুমিন বা মুসলিম হতে পারে না। পৃথিবীময় কলেমার আজ ভুল অর্থ করা হয়। আজ সর্বত্র শেখানো হয় এবং বিশ্বাস করা হয় যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য অর্থাৎ মা’বুদ নাই। কলেমা হচ্ছে – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। ইলাহ অর্থ মা’বুদ নয়। ইলাহ হচ্ছেন তিনি সেই সত্তা যার আদেশ শুনতে হবে, মানতে হবে, পালন করতে হবে অর্থাৎ সার্বভৌম। আর উপাস্য, মা’বুদ হচ্ছেন তিনি সেই সত্তা যাকে উপাসনা করা হয়। দু’টো ভিন্ন অর্থ। ইসলামের কলেমার সঠিক অর্থ হচ্ছে শুধু আল্লাহকে ইলাহ হিসাবে, একমাত্র আদেশদাতা হিসাবে বিশ্বাস করা, মেনে নেওয়া অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম ছাড়া অন্য সকল হুকুম বিধান প্রত্যাখ্যান করা।
কলেমার এই ভুল অর্থের পরিণাম হয়েছে এই যে, পৃথিবীর মুসলিম বলে পরিচিত এই জনসংখ্যা অর্থাৎ আমরা আল্লাহকে হুকুমদাতা, আইনদাতা হিসাবে ভুলে গিয়ে তাঁকে শুধু উপাস্য, মা’বুদ বিশ্বাস করে আপ্রাণ তাঁর উপাসনা করে, নামায, যাকাত, হজ্ব, রোযা করে আসমান যমীন ভর্তি করে ফেলছি, কিন্তু আমাদের সমষ্টিগত জীবনে কেউ তাঁর আদেশ, হুকুম শুনি না, পালন করি না। আল্লাহর দেওয়া জীবন-ব্যবস্থা (দীন) কে বাদ দিয়ে আমরা সমষ্টিগত জীবনে ইহুদি খ্রিষ্টানদের তৈরি জীবন-ব্যবস্থা গ্রহণ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ থেকে অর্থাৎ কলেমা থেকে বের হয়ে কার্যতঃ মুশরিক ও কাফের হয়ে গেছি। আজ জাতীয় জীবনে, সমষ্টিগত জীবনে, রাষ্ট্র্রীয় জীবনে পৃথিবীর কোথাও আল্লাহর আদেশ পালন করা হচ্ছে না, মুসলিম বলে পরিচিত দেশগুলোতেও না। সর্বত্র মানুষের নিজেদের তৈরি এবং পাশ্চাত্য প্রভুদের তৈরি জীবন-ব্যবস্থাকে মেনে নেয়া হয়েছে আল্লাহর দেওয়া জীবন-ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে। এই কাজ করে আমরা কলেমা থেকে, ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছি। আজ পৃথিবীর ‘অতি মুসলিমরা’ নামাযে, রোযায়, হজ্বে, তাহাজ্জুদে, তারাবীতে, দাড়ি, টুপি-পাগড়ীতে, পাজামায়, কোর্তায় নিখুঁত। শুধু একটিমাত্র ব্যাপারে তারা নেই, সেটা হলো তওহীদ, কলেমা–একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কাউকে সামগ্রিক জীবনের বিধানদাতা, আদেশদাতা হিসাবে মানি না। যে আংশিক অর্থাৎ ব্যক্তিগত ঈমান (যা প্রকৃতপক্ষে শেরক) তাদের মধ্যে আছে তা আল্লাহ আজও যেমন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে রেখেছেন, হাশরের দিনেও তেমনি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবেন।
একেবারে কলেমা থেকে বিচ্যুতি ছাড়াও আল্লাহ তাঁর শেষ নবীর মাধ্যমে যে ইসলাম পৃথিবীর মানুষের জন্য পাঠিয়েছিলেন তা নানা কারণে ক্রমে ক্রমে বিকৃত হয়ে বর্তমানে যে অবস্থায় এসে পৌঁছেছে তাতে এই ইসলাম আর সেই ইসলামই নেই। আল্লাহর সেই প্রকৃত ইসলাম যেটা আল্লাহ নবীর মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন যারা সেটা গ্রহণ করল তাদের উপর তিনি দায়িত্ব দিয়েছিলেন যে তারা কঠিন চেষ্টা, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, সংগ্রামের মাধ্যমে সেটাকে সমস্ত পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করবে। এই জাতি ৬০/৭০ বছর আল্লাহর আদেশ মোতাবেক সংগ্রাম চালিয়ে অর্ধেক পৃথিবীতে এই সত্যদীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর দুর্ভাগ্যক্রমে আকিদার বিকৃতির কারণে আল্লাহর সাবধানবাণী অগ্রাহ্য করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম পরিত্যাগ করে অন্যান্য রাজা বাদশাহদের মতো রাজত্ব বাদশাহী উপভোগ করতে আরম্ভ করল। আল্লাহর সাবধানবাণী কখনও মিথ্যা হতে পারে? পারে না। তাই তিনি ইউরোপের খ্রিষ্টান জাতিগুলি দিয়ে মুসলিম জাতিটিকে সামরিকভাবে পরাজিত করে তাদের গোলাম বানিয়ে দিলেন। সেই গোলামি আজও চলছে।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ